20/09/2024
তোফাজ্জল...
নামটি আজ শুধু শহরের অলিগলিতে ভেসে বেড়ায়, কিন্তু এ শহরের কেউ জানেনা তাঁর ব্যথার কাহিনী। তিনিই সেই নিঃস্ব, একাকী যুবক—পৃথিবীর বুকে যার জন্য কেউই ছিলো না। বাবা-মা, ভাই-বোন—সবাইকে একে একে হারিয়ে এক বিচ্ছিন্ন মানুষের জীবনে বেঁচে ছিলেন তিনি, তবুও হৃদয়ে গেঁথে ছিলো এক বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষত।
কিছু বছর আগেও তোফাজ্জল ছিলেন একজন ছাত্রনেতা, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক, বরগুনার পাথরঘাটার এক গ্রামের ছাত্রলীগের সভাপতি। সেই সময় প্রেমের রঙিন স্বপ্নে ভেসেছিলেন তিনি, কিন্তু সেই স্বপ্ন একদিন ভেঙে পড়লো ভয়াবহভাবে। প্রেমিকার বিশ্বাসঘাতকতায় হৃদয় বিধ্বস্ত হল তোফাজ্জলের, ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন তিনি। তখনো মাঝে মাঝে সুস্থ হতেন, কারণ তাঁর বাবা-মা যত্ন করতেন, তাঁকে ফিরে পাওয়ার আশায়। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় বছর দু’য়েকের মধ্যেই আল্লাহ তার বাবা-মা ও ভাইকেও নিয়ে গেলেন। এরপর আর কখনোই সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেননি তোফাজ্জল।
ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, নিঃশব্দে ঘুরে বেড়াতেন তোফাজ্জল। দিনের পর দিন তাঁর মুখে খাবারের কণা উঠতো না, কখনো পেতেন, কখনো না। তবুও, তাঁর নামে কোনো চুরির অভিযোগ নেই, নেই কোনো ছিনতাইয়ের কালো ছায়া। তিনি ছিলেন সেই নিঃশব্দ পথিক, যার নীরব কষ্টের কাহিনী কেউ জানার চেষ্টা করেনি।
একদিন, ফজলুল হক মুসলিম হলের সামনে ক্ষুধার তাড়নায় হয়তো একটু খাবারের সন্ধানে ঘুরছিলেন। তবে চোর সন্দেহে তাঁকে আটক করা হলো। এবং সেই মেধাবী ছাত্ররা, যাদের পায়ে পৃথিবীকে বদলে দেয়ার দায়িত্ব, সেই রাতে এক মহত্ত্বের কাজ করলো—তোফাজ্জলকে পেটভরে ভাত খাইয়ে দিল। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। এই মহান কাজ তারা করেছিলো তাকে মেরে ফেলার আগে। ক্ষুধার্ত তোফাজ্জল হয়তো প্রতিবার আশায় বুক বেঁধে ভাতের কণা মুখে তুলছিলেন, হয়তো কেউ তাঁর কাঁধে হাত রেখে বলছিলো, “তুই খেয়ে নে ভাই, তোরে আর মারবো না।”
এরপর?
তারপর সেই রাতেই ঘটে গেলো নীরব এক নৃশংসতা। তোফাজ্জল মাটিতে পড়ে থাকলো, প্রাণহীন। জীবনের শেষ আহার যেন তাঁর জন্য হয়ে উঠলো এক বিষাদময় বিদায়ের প্রতীক—দ্য লাস্ট সাপার। কোনো এক অচেনা শহরের অলিগলি তোফাজ্জলের দুঃখকে বয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু এই শহর, এই বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মনে রাখে শুধুমাত্র ভুলে যাওয়ার যোগ্য এক ঘটনা হিসেবে।
আমাদের কী হয়েছে?
আমাদের মানবতা কোথায় হারিয়েছে? 😭💔😭😭😭😭😭😭😭😭😭
(Copied)