28/09/2026
অসংখ্য বৃদ্ধ বাবা-মার শেষ বয়সের করুণ পরিণতি দেখে বুঝাই যায় আমরা কুরআনে পিতা-মাতার জন্য বলা আল্লাহর কথা ঢেকে ফেলেছি বিভিন্ন দোয়ার বই ও সংকলিত হাদিস দিয়ে।
(সূরাঃ বনী-ইসরাইল ১৭, আয়াত ২৩)"তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়াছেন তিনি ব্যতীত অন্য কাহারও ‘বিধিবিধানমান্য না করিতে ও পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করিতে। তাহাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হইলে তাহাদেরকে ‘উফ্’ বলিও না এবং তাহাদেরকে ধমক দিও না ; তাহাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলিও।"
মসজিদ মাদ্রসায় দানের বিশাল ফজিলত শুনলেও আমরা শুনি না পিতা-মাতার সেবার ফজিলত।
(সূরাঃ বনী-ইসরাইল ১৭ আয়াত ২৪)"মমতাবশে তাহাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করিও এবং বলিও, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাহাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তাহারা আমাকে প্রতিপালন করিয়াছিলেন"
অন্য বক্তার ভুল ধরতে যেয়ে আর কুরআনের কথা বলার সময় হয়ে উঠে না, নাউজুবিল্লাহ কইবেন না?
(সূরাঃ আন-নিসা ৪ আয়াত ৩৬)"তোমরা আল্লাহর ‘বিধিবিধানমান্য করিবে ও কোন কিছুকে তাঁহার শরীক করিবে না; এবং পিতা - মাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট - প্রতিবেশী, দূর - প্রতিবেশী, সঙ্গী - সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পসন্দ করেন না দাম্ভিক, অঅহংকারীকে।"
আলেম-ওলামাদের কেন সম্মান করতে হবে সেই বক্ত্যবের নিচে চাপা পড়ে যায় পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যাবহারের কারন।
(সূরাঃ লোকমান ৩১, আয়াত ১৪)"আমি তো মানুষকে তাহার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়াছি। জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করিয়া গর্ভে ধারণ করে এবং তাহার দুধ ছাড়ান হয় দুই বৎসরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট।"
আল্লাহ যাদের জন্য ব্যয় করতে বলেছেন তাদের মধ্যে প্রথম হল পিতা-মাতা কিন্তু যাকাত ফিতরা কোথায় ব্যয় করবেন তার বিশদ ব্যাখ্যায় এই ব্যয় ঢাকা পড়ে যায়।
(সূরাঃ আল-বাকারা ২ আয়াত ২১৫)"লোকে কি ব্যয় করিবে সে সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে। বল, ‘যে ধন - সম্পদ তোমরা ব্যয় করিবে তাহা পিতা-মাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, মিস্কীন এবং মুসাফিরদের জন্য। উত্তম কাজের যাহা কিছু তোমরা কর না কেন আল্লাহ্ তো সে সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।"
(সূরাঃ লোকমান ৩১ আয়াত ১৫)"তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করে আমার সমকক্ষ দাঁড় করাইতে যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নাই, তুমি তাহাদের কথা মানিও না, তবে পৃথিবীতে তাহাদের সঙ্গে বসবাস করিবে সদ্ভাবে এবং যে বিশুদ্ধচিত্তে আমার অভিমুখী হইয়াছে তাহার পথ অবলম্বন কর, অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট এবং তোমরা যাহা করিতে সে বিষয়ে আমি তোমাদেরকে অবহিত করিব।"
পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে আছেন সে কথা না বলে আল্লাহর পথের নাম দিয়ে পিতা-মাতা থেকেই আমাদের দূরে রাখা হয়।
(সুরাঃ আল-আনআম ৬, আয়াত ১৫১-১৫৩)"বল, 'আস, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যাহা হারাম করিয়াছেন তোমাদেরকে তাহা পড়িয়া শুনাই। উহা এই : ‘তোমরা তাঁহার কোন শরীক করিবে না, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করিবে, দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করিবে না, আমিই তোমাদের ও তাহাদেরকে রিযিক দিয়া থাকি। প্রকাশ্যে হউক কিংবা গোপনে হউক, অশ্লীল কাজের নিকটেও যাইবে না। আল্লাহ্ যাহার হত্যা নিষিদ্ধ করিয়াছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাহাকে হত্যা করিবে না।’ তোমাদেরকে তিনি এই নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা অনুধাবন কর। ইয়াতীম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তম ব্যবস্থা ব্যতীত তোমরা তাহার সম্পত্তির নিকটবর্তী হইবে না এবং পরিমাণ ও ওজন ন্যায্যভাবে পুরাপুরি দিবে। আমি কাহাকেও তাহার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না। যখন তোমরা কথা বলিবে তখন ন্যায্য বলিবে - স্বজনের সম্পর্কে হইলেও এবং আল্লাহ্কে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করিবে। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। এবং এই পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা ইহারই অনুসরণ করিবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করিবে না, করিলে উহা তোমাদেরকে তাঁহার পথ হইতে বিচ্ছিন্ন করিবে। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা সাবধান হও।"
সন্তানদের জন্য পিতামাতার দোয়া আর পিতামাতার জন্য সন্তাদের দোয়ার গুরুত্ব জানলে আমাদের দোয়ার জন্য লোক ভাড়া করতে হতো না।
(সূরঃ ইব্রাহীম ১৪, আয়াত ৪১)"‘হে আমাদের প্রতিপালক! যেই দিন হিসাব অনুষ্ঠিত হইবে সেই দিন আমাকে, আমার পিতা - মাতাকে এবং বিশ্বাসীগণকে ক্ষমা করিও।
শুধুমাত্র নায্য বিচারের ক্ষেত্রে বা নায্য বলার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে যাওয়া যাবে কেননা আল্লাহ নায্য বিচার বা নায্য কথা বলা লোককে ভালোবাসেন কিন্তু শিশু বলৎকার, আরবে গৃহকর্মী নির্যাতন নিয়ে নায্য কথা বলার সময় পাই না, সকালে এখানে, বিকালে ওখানে মাহফিলের চাপে।
পিতা-মাতার ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি নিতে হবে সে কথা ও আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন।
(সুরাঃ আন-নুর ২৪, আয়াত ৫৯)"আর তোমাদের সন্তান - সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে তাহারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করিয়া থাকে তাহাদের বয়োজ্যেষ্ঠগণ। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের নিকট তাঁহার নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। আল্লাহ র্সবজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।"
তেলওয়াত সহিহ, নেকি আর খতমের সোয়াব নিতে গিয়ে জানায় হইনি কথাগুলো, আর যদি কেউ কুরআনের এই স্বাশত সত্য তুলে ধরে তাকে আক্রমণ এই পোস্ট বিভান্তিকর, মনগড়া ব্যাখ্যা, আয়াতের শানে নুযুল জানতে হবে, আলেমের সাথে বসতে হবে! আচ্ছা উপরের কথাগুলো বুঝতে কি সত্যি মদিনা, আলআহযারের ডিগ্রি বা ইসলামে পি এইচ ডি করা লাগবে? নাকি ব্যক্তির গুরুত্ব কমে যেয়ে সত্য প্রকাশ পাচ্ছে তাই? নবী-রাসুল, সাহাবিগনের কোন কোন ডিগ্রি ও টাইটেল ছিল জানা থাকলে জানাবেন প্লিজ।
মজার বিষয় হলো, উপরে পিতা-মাতার জন্য করণীয় কাজগুলোই আমাদের কাছে দোয়া হিসেবে বিক্রি করা হয় যেমন এই সুরাগুলো ঘুমানোর আগে এতবার পড়লে এই ফজিলত। ধরুন আপনি আল ইসরা সুরা মুখস্থ করছেন, এমন সময় আপনার মা বলল "দোকান থেকে ম্যাচ নিয়ে আয়" আপনি বললেন ধুর, আমি পারুম না, যাও তো আমি কোরআন পড়ি।"
তো আপনি কি পড়ছেন, অই যে পিতামাতার সাথে 'উহ' শব্দটি করো না!!!!!!
কুরআন পাঠ করুন নিজ মাতৃভাষা বাংলায় অর্থসহ বুঝে বুঝে, সে অনুযায়ী কাজ করুন, নিশ্চই কুরআনই নিরবিচ্ছিন্ন অনুসরণ অনৈতিক - অন্যায়কাজ হইতে ফিরাইয়া রাখে।
#সংগৃহীত