19/12/2025
লজ্জা নয় জানতে হবে। সে তুমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হও আর রাজাকারের বাচ্চায় হও...
নিরাপত্তা শঙ্কা না—মূলত লজ্জা আর ঔদ্ধত্যের কারণেই
পাকিস্তান সেনাবাহিনী কখনোই মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণে রাজি ছিল না।তাদের চোখে পরাজয় মানে ছিল ভারতের কাছে হার— কিন্তু বাঙালির কাছে হার মানা ছিল অসম্মানজনক।
১৬ ডিসেম্বর সকালে মিরপুর ব্রিজে পৌঁছে
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়।ক্যান্টনমেন্টে বৈঠক বসে, সিদ্ধান্ত হয় আত্মসমর্পণের—কিন্তু ‘surrender’ শব্দটাই তারা গিলতে পারেনি।
হাসান জহির লিখেছেন,
পাকিস্তানিরা মরিয়া ছিল ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দ এড়াতে।
জে এফ আর জ্যাকব স্পষ্ট করেছেন—
দলিলের খসড়া তিনিই লিখেছিলেন, কোনো পাকিস্তানি না।
নিয়াজি চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কনসালকে দেয়া যুদ্ধবিরতির মতো নরম দলিল।আরেকটা শর্ত ছিল—
বাঙালিদের সামনে নয়,মুক্তিবাহিনীর কাছে কোনোভাবেই নয়।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায়—
তারা ভয় পেত, বাঙালির হাতে পড়লে আর ফিরতে পারবে না।আর সবচেয়ে বড় কথা—
মুক্তিবাহিনীর কাছে হার মানা তাদের কাছে ছিল চরম লজ্জা।
শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা চাপিয়ে দেয় ইতিহাস।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, খোলা আকাশের নিচে
সাদামাটা টেবিল-চেয়ারে
‘Instrument of Surrender’-এ স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয় তারা।
দলিলে স্পষ্ট লেখা ছিল—
পাকিস্তানের সব সেনা, নৌ, বিমান, আধাসামরিক বাহিনী
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর কাছে
নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে।
১৯ ডিসেম্বর ক্যান্টনমেন্টের গলফ মাঠে
অস্ত্র জমা দেয় পরাজিত বাহিনী।
সেদিন ঢাকা হেসেছিল, কেঁদেছিল—
কারণ বিজয়ের পেছনে ছিল অগণিত রক্ত আর প্রাণ।
এই ইতিহাস গৌরবের।
কারণ পাকিস্তান হেরেছিল শুধু ভারতের কাছে না—
হেরেছিল এক রক্তাক্ত, অদম্য বাংলাদেশের কাছে।