04/11/2025
আমি ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে সরাসরি রংপুরের বাসে উঠে পড়লে এক্সাক্টলি ফজরের ঘন্টাখানেক আগে নামিয়ে দেয় রংপুর বাস টার্মিনালে। কিন্তু আমি আবার প্রচন্ড রকমের বাস লাভার, স্পেশালি হানিফ বাসের লাভার। এজন্য ঢাকা হয়ে তারপর আসি হানিফে।
সপ্তাহখানেক আগের কথা — টার্গেট ছিল ওইদিন রাত ১০ টার হানিফ ধরব ঢাকায় গিয়ে, সেই অনুযায়ী বেরিয়ে পড়লাম। রাত ৮ টার ওদিকে এয়ারপোর্টের আগের জায়গা উত্তরার আজমপুর থেকে একটা লোকাল বাসে উঠলাম। গন্তব্য গাবতলি। যেহেতু অনেকদূর রাস্তা, আবার লোকাল বাস, বাস যেন এগোচ্ছেই না।
মুটামুটি যখন মিরপুর সাড়ে এগারোর কাছাকাছি এলাম, শীতের আগমনী বাদলে ভিজতে ভিজতে একজন ছেলে, বয়স হবে ১৪-১৫ বড়জোর বাসে উঠল। মাথায় অনেকগুলো পানির বোতল। বাসে উঠে অনেক কান্নাকাটির সুরে বলতে লাগল, "দেখুন আজকে ঠান্ডা আবহাওয়া, বেশ ভালো বৃষ্টি পড়ছে। আজ গরম কম থাকায় আমার কোনো পানি বিক্রি হয়নি। বিক্রি না হলে আজ আমার পরিবারের সবাই না খেয়ে থাকবে।"
ভাই একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি— অনেক বাস এক্সিডেন্ট হয়। দেখা যায় সবাই খুব আহত বা নিহত কিন্তু ড্রাইভার অক্ষত অবস্থায়। এরকম কেন? কারণ যেই ব্যক্তি সদকাহ করেন, হোক সেটা গোপনে বা প্রকাশ্যে, আল্লাহ তাকে সমস্ত অপ্রত্যাশিত মসিবত থেকে হেফাজত করেন। অনেক মানুষ তাদের এই দানশীলতার কারণে অনেক বালা মসিবত থেকে রক্ষা পান। এটুকু আপনাকে স্বীকার করতেই হবে।
চলুন আসল ঘটনায় যাই।
সারাদিন জার্নিতে থাকায় আপনাদের অনেকেই কয়েন পারচেসের জন্য মেসেজ দিয়ে রেখেছিলেন। মেসেজ তেমন দেখা হয়নি। সেগুলোরই রিপ্লাই করছিলাম জ্যামে বসে বসে। তখনি ছেলেটার এই কথা কানে গেল। মাথা তুলতেই দেখি খুব জরাজীর্ণ অবস্থা। চেহারা দেখে মোটেও ধান্দাবাজ মনে হল না।
খেয়াল করলাম ছেলেটার এই বর্ননা শুনার পরেও কেউ একটুও নড়ল চড়ল না। খুব অবাক হলাম আমি। মানুষ কেন যেন দিন দিন অমানবিক হয়ে যাচ্ছে!
ছেলেটাকে বললাম, "আমাকে একটা পানির বোতল দাও। আর বাকি বোতলগুলা যারা নিতে চায় তাদেরকে দিয়ে দাও আমার পক্ষ থেকে। আর কত টাকা হল হিসাব করে আমার কাছ থেকে নিয়ে নাও।"
ছেলেটাকে এই সহায়তা টুকু করতে পেরে যারপরনাই আনন্দিত হলাম। আমার পাশে বসা মেয়েটা তখন আমার ব্যাপারে জানতে আগ্রহী হল। অথচ বাসে উঠেছে অনেক আগেই। কিন্তু এতক্ষণ আমার প্রতি তার কোন আকর্ষণই ছিল না! কিন্তু এখন কেন যেন কথা বার্তা বলার জন্য ছটফট করতে লাগল। বুঝতে পারলাম আমার এই আচরণ দেখে ইম্প্রেসড হয়েছে।
কিন্তু আমার কি আর এসবের বয়স বা সময় আছে? তাই আর তাকে পাত্তা দিলাম না। নাম জানতে চাইল৷ নাম বলে আবারও মেসেজের রিপ্লাই করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। একবার আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম মেয়েটা আমার দিকেই তাকিয়ে। বুঝার চেষ্টা করছে আমি কী করছি।
অগত্যা নিজেই বললাম, "শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিলাম। এখন নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছি। আসি।" বলে বাস থেকে নেমে এলাম গাবতলির একটু আগেই। 😄
ছবি: AI