21/08/2025
বাংলার একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করত সাইফুল নামের এক যুবক। সে পড়াশোনায় ভালো ছিল, তবে নামাজের প্রতি খুব একটা যত্নবান ছিল না। গ্রামের মসজিদের আযান শুনলেও তার মনে উদাসীনতা কাজ করত।
প্রতিদিনের মতো এক শুক্রবারও সে সকালের দিকে মাঠে খেলতে বের হলো। পথে দেখল, সবাই পরিষ্কার কাপড় পরে মসজিদে যাচ্ছে। তার বন্ধু মাহমুদ তাকে ডাক দিল—
— “সাইফুল! আজ জুম্মার দিন, চল মসজিদে যাই।”
সাইফুল হেসে বলল,
— “আরে! শুক্রবার মানেই তো ছুটি আর আরাম। আমি পরে যাব।”
কথা শুনে মাহমুদ বলল,
— “বন্ধু, তুমি জানো না জুম্মার দিন কত ফজিলতপূর্ণ! এই দিনে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন। হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এই দিনে, আর কিয়ামতও হবে শুক্রবারে। যারা এই দিনকে গুরুত্ব দেয় না, তারা আসলেই বড় ক্ষতিগ্রস্ত।” কথাগুলো সাইফুলের মনে গেঁথে গেল।
ইমাম সাহেবের খুতবা
মাহমুদের হাত ধরে সাইফুল অবশেষে মসজিদে গেল। মসজিদ ভরা মুসল্লি, সবার মুখে প্রশান্তি। ইমাম সাহেব খুতবায় বলছিলেন—
“হে ঈমানদারগণ! জুম্মার দিন হলো মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদ। এই দিনে গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সুন্দর কাপড় পরা, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, আর নামাজ আদায় করা—এসব কাজ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়।
জুম্মার দিনে একটি বিশেষ সময় আছে, যেদিন বান্দা যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করবেন। তাই এ দিনকে হেলাফেলা কোরো না।”
সাইফুলের হৃদয় কেঁপে উঠল। মনে হলো, এতদিন সে কত বড় নিয়ামত থেকে বঞ্চিত ছিল!
নামাজ শেষে সে চুপচাপ মসজিদের কোণে বসে দোয়া করল—
“হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন। এতদিন আমি অজ্ঞতার কারণে জুম্মার ফজিলতকে অবহেলা করেছি। আমাকে নামাজে স্থির রাখুন।”
সেদিন থেকে সাইফুলের জীবন পাল্টে গেল। প্রতি শুক্রবার সে গোসল করে, সাদা কাপড় পরে, আতর ব্যবহার করে সময়মতো মসজিদে যেত। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেও নিয়মিত হলো।
গ্রামের মানুষ অবাক হয়ে বলত,
— “দেখো! যে সাইফুল নামাজ নিয়ে অবহেলা করত, আজ সে-ই সবার আগে মসজিদে যায়।”
কয়েক বছর পর
সাইফুল বড় হলো, পড়াশোনা শেষ করে গ্রামের শিক্ষক হলো। এখন সে-ই তরুণদের বলে—
“ভাইয়েরা! জুম্মার দিন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক মহামূল্যবান উপহার। যেভাবে ঈদে আনন্দ থাকে, তেমনি জুম্মার দিনেও আছে ইবাদতের আনন্দ। যদি আমরা এই দিনের বরকতকে সঠিকভাবে কাজে লাগাই, তাহলে আমাদের দুনিয়া-আখেরাত দুটোই আলোকিত হবে।”
#জুম্মা_মোবারক