02/09/2026
কিছু স্বপ্নের বয়স হয় না…
আজ নিউজফিডজুড়ে Final proff Exam Result এর আনন্দ।
কেউ ফাইনাল প্রফ পাস করেছে, কেউ নতুন পরিচয় পেয়েছে—“ডাক্তার”।
কিন্তু সবার আনন্দের ভিড়ে একজনের গল্প একটু আলাদা করে চোখে পড়ে।
মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ ভাই।
১৯৯৫-৯৬ সেশনের ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র।
যে সময় তাঁর সঙ্গে প্রফ দেওয়া অনেক জুনিয়রের জন্মও হয়নি!২০০২ সালে তাঁর ডাক্তার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতা তাঁকে থামিয়ে দিয়েছিল। থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা, থেমে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা।
কিন্তু একটা জিনিস থামেনি—স্বপ্নটা।
দীর্ঘ ২১ বছর পর, ২০২৩ সালের দিকে তিনি আবার ফিরে এলেন সেই অসমাপ্ত স্বপ্নের কাছে। বয়স তখন অনেক বেড়েছে, ব্যাচমেটরা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন, নিয়ম-কানুনের জটিলতা, বিশাল মোট পরীক্ষার ফি—সবকিছু মিলিয়ে সামনে ছিল অসম্ভব কঠিন একটা পথ।
তবুও তিনি ভাবলেন,
“আরেকবার চেষ্টা করেই দেখি।”
তারপরের গল্পটা আসলে একটা প্রফ পাসের গল্প নয়।
এটা একজন মানুষের নিজের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখার গল্প।আজ তিনি তাঁর ২৫ বছরের জুনিয়রদের সঙ্গে বসে ফাইনাল প্রফ পাস করেছেন।
আজ তাঁর নামের আগে যুক্ত হয়েছে সেই কাঙ্ক্ষিত শব্দটি—
ডাক্তার মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ। ❤
হাবিব ভাইয়ের ব্যাচমেটদের অনেকেই আজ বড় বড় ডাক্তার, কেউ অধ্যাপক। তাঁদের অর্জনের তালিকা হয়তো অনেক দীর্ঘ।
কিন্তু হাবিব ভাই আমাদের অন্য একটা জিনিস শিখিয়ে গেলেন—
জীবনে কতদূর এগিয়েছেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—কতবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন।
বয়সে তিনি আমাদের চেয়ে অনেক বড়।
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, সাহসের বয়সে আমরা তাঁর চেয়ে বহু বছরের ছোট।
হাসপাতালে দেখা সেই হাসিখুশি মানুষটা, কাঁধে স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে যিনি হাসিমুখে বলেন, “ছোটভাই, কেমন আছো?”—
আজ তাঁকে বলতে ইচ্ছে করছে,
হাবিব ভাই, আজ আপনার জন্য সত্যিই অনেক গর্ব হচ্ছে।
আপনি শুধু ডাক্তার হননি,
আপনি একটা অসমাপ্ত স্বপ্নকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার গল্প হয়ে গেছেন।
তথ্যসুত্র : Imran Khan Fahim (লেখা থেকে )