14/06/2025
মাঝরাতে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেলো।
ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ আমার ভিতরের সময় থেমে আছে—
একটা নীরব শূন্যতা নিয়ে আমি তাকিয়ে আছি অন্ধকার ছাদের দিকে।
ইচ্ছে হলো কিছু লিখি…
কাগজে কলম নয়,
আজকাল আমার শব্দেরা জন্ম নেয় ফোনের এই ছোট্ট স্ক্রিনেই।
আঙুলেই জেগে ওঠে অনুভূতিরা।
আর সত্যি বলতে কী—
মন ভালো করার জন্য লেখার চেয়ে ভালো কোনো ওষুধ আমি আজও খুঁজে পাইনি।
জানো, চারপাশে আমার প্রিয়জনেরা আছে—
বাবা, মা, কিছু বন্ধু…
সব কিছু ঠিকঠাক,
তবুও কোথায় যেন একটা ফাঁকা জায়গা থেকে যায়।
একটা জায়গা—যেখানে কেউ নেই।
কেউ নেই যে বুঝে যাবে আমি ঠিক কেমন করে চুপ করে থাকি,
কেন থাকি।
অনেক সময় ইচ্ছে করে কারো প্রতি ভালোবাসা জন্মাক,
একটা মায়া তৈরি হোক বুকের গভীরে।
আবার নিজেরই মন থামিয়ে দেয় —
কারণ একবার মায়া জন্মালে, তার অনুপস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে।
ভালোবাসার চেয়ে বোধহয় মায়া বেশি কষ্ট দেয়।
এই পৃথিবীটা খুব দ্রুতবেগে ঘুরছে,
সবাই ব্যস্ত, সবাই হিসেবি,
ভালোবাসাও যেন এখন মাপজোখে চলে।
তাই আমি ধীরে ধীরে শিখে ফেলেছি একা থাকা।
একা থাকলে কারো থেকে কিছু পাবার আশাও থাকে না,
হারানোর ভয়ও না।
তবুও, এই মধ্যরাতে, ঘুম ভাঙা চোখে,
মনে হয়…
হয়তো কোথাও একজন আছো তুমি।
একজন, যে আমায় দেখে না — অনুভব করে।
শব্দ শোনে না — নীরবতা বোঝে।
তুমি যদি থেকেও থাকো কোথাও,
জেনে রেখো—আমি আজও অপেক্ষা করছি।
ফোনের স্ক্রিনে আঙুল বুলিয়ে লিখে যাচ্ছি তোমার জন্যই,
যেন এই লেখাগুলো একদিন তোমার হৃদয়ে এসে ঠেকে।
হয়তো তুমি চিনে ফেলবে আমাকে,
চিনে ফেলবে এই নিঃশব্দ অপেক্ষাকে।