01/09/2026
সোনালী রোদের আলো এসে পড়েছে জানালার কাচে, ঠিক যেমনটা পড়ত নব্বইয়ের দশকের সেই অলস দুপুরগুলোতে। সেকালে একখানা চিঠি পাওয়ার জন্য কেটে যেত দিনের পর দিন। ডাকপিয়নের বাইসাইকেলের সেই চেনা টুংটাং ঘণ্টা বাজলেই বুকের ভেতরটা অজানা এক ব্যাকুলতায় ধড়ফড় করে উঠত। চিঠি তো কেবল গোটাকয়েক শব্দের সমাহার ছিল না, ওটা ছিল পরম মমতায় আগলে রাখা রক্তমাংসের অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল।
কত সহস্র রাত কেটেছে নিভু নিভু মোমের আলোয়, লাল কালির কাটাকুটি আর সুগন্ধি আতরের ঘ্রাণে। নীল খামের এক কোণে আলতো করে লিখে রাখা হতো সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত বার্তা—"উত্তর চাই।" কাটাকুটি হওয়া লাইনগুলোর নিচে চাপা পড়ে থাকত কত ব্যাকুলতা, যা মুখে কখনো বলা হয়ে ওঠেনি। একটি চিঠি লেখা শেষ হতো, আর শুরু হতো এক অমর অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর।
সময় বদলেছে, বদলে গেছে যোগাযোগের মাধ্যমও। যান্ত্রিক এই যুগে এখন আর কোনো খামের জন্য কাঙ্ক্ষিত অপেক্ষা থাকে না, সেকেন্ডের ব্যবধানে বার্তা পৌঁছে যায় পর্দার ওপারে। কিন্তু বার্তা পৌঁছালেও সেই আদিম উষ্ণতা আর খাঁটি আবেগ কি সত্যিই আর পৌঁছায়? কিবোর্ডের ঠান্ডা অক্ষরে হারিয়ে গেছে হাত কাঁপা অক্ষরের সেই শিহরণ, ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা শুকনো শিউলি ফুল আর কালির গন্ধ।
নীল খামের ভাঁজে জমে থাকা যে আকুল অপেক্ষার নাম চিঠি, এই ইট-কাঠের শহরে আজ তার কোনো ডাকপিয়ন নেই।
চিঠিগুলো আর আসে না ঠিকই, লাল ডাকবাক্সগুলোও আজ হয়তো ধুলোবালি মেখে নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক কোণে। তবুও স্মৃতির গভীরে সযত্নে তুলে রাখা সেই পুরনো খামগুলোর ভাঁজে ভাঁজে আজও এক নদী প্রেম জীবন্ত হয়ে বেঁচে থাকে।
বিশ্ব চিঠি দিবসের এই ক্ষণে স্মৃতির নীল খাম আর চিঠি কুড়ানোর সেই সোনালী দিনগুলোকে জানাই গভীর সশ্রদ্ধ ভালোবাসা।