20/10/2024
সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা কী ?
কেন সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন হওয়া উচিত ?
বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধানত দুটি ব্যবস্থা বিদ্যমান। প্রথমত, একটি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন। এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’। এ পদ্ধতি বাংলাদেশে চালু রয়েছে। অন্যটি সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা বা প্রপোরশনাল রিপ্রেজেনটেশন (পিআর) পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একটি দল যে পরিমাণ ভোট পাবে, সেই অনুপাতে সংসদে দলটির প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ হবে। অনেক দেশে এ দুটি পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা পৃথিবীর শতাধিক দেশের চালু আছে। উন্নত দেশগুলোর সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনভুক্ত (ওইসিডি) ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টি, অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ দেশই আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ও নেপালে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু আছে। অবশ্য সব দেশ একই পদ্ধতি অনুসরণ করে না। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা তিন ধরনের। এর মধ্যে একটি হচ্ছে দলভিত্তিক, আরেকটি হচ্ছে ব্যক্তিভিত্তিক। আর অন্যটি হচ্ছে মিশ্র পদ্ধতি। দলভিত্তিক ব্যবস্থায় কোনো দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করেন না। নির্বাচন করে দল। সেখানে ভোটাররা দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে থাকেন। ভোটের হার অনুযায়ী দলগুলো সংসদে তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করে। আবার ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচনে দলগুলো আগেই তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের নাম প্রকাশ করে। তারপর আঞ্চলিক ও জাতীয়ভিত্তিক ভোটের হার অনুযায়ী দলগুলো তাদের প্রতিনিধি নিশ্চিত করে। নেদারল্যান্ডসে দলভিত্তিক ও স্পেনে ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা রয়েছে। এ দুই পদ্ধতি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই রয়েছে। তবে পদ্ধতিগত ভিন্নতা আছে। আবার অনেক দেশে ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দুই ব্যবস্থার সংমিশ্রণও আছে। যেমন এশিয়ার নেপাল। দেশটিতে নিম্নকক্ষের মোট আসন ২৭৫টি। এর মধ্যে ১৬৫ আসনে বাংলাদেশের মতো যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, তিনিই বিজয়ী হন। আর ১১০ আসনে আনুপাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। উচ্চকক্ষের মোট ৫৯টি আসনের পাঁচটি সংরক্ষণ করে বাকি ৫৪টিতেও আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হয়।
বাংলাদেশে সংসদীয় আসনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু আছে। এ পদ্ধতিতে যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, তিনি নির্বাচিত হবেন। আবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলে তিনি বিনাভোটে বিজয়ী হবেন। সংসদে মোট ৩৫০ আসনের মধ্যে ৩০০টিতে সরাসরি ভোটে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বাকি ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন, যারা দলগুলোর আসন অনুপাতে নির্বাচিত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা যে দলই পেয়েছে তারা নিজেদের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করেছে। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কোনো দলেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব হবে না বললেই চলে। ফলে জোট সরকার গঠন করতে হবে। এতে করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যাবে। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরাচারী হওয়ার পথ বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা।
তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সারা দেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জনআকাক্সক্ষা তৈরি হয়। দেশের শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা।
স্পষ্ট ধারণা পেতে ইউটিউব থেকে একটি ভিডিও দেখতে পারেন ।
ভিডিও লিঙ্ক ঃhttps://www.youtube.com/watch?v=QGlGSuovE-A&t=1s