03/06/2026
সাধারণ ফিশ স্পা চিকিৎসার নির্মম পরিণতিতে নিজের ডান পায়ের পাঁচটি আঙুলই হারাতে হয়েছে ভিক্টোরিয়া কার্থয়েস নামের এক তরুণীকে। ২০১০ সালের এই ঘটনাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং একই সাথে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই সৌন্দর্য চর্চার পেছনের লুকিয়ে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে।
ভিক্টোরিয়া যখন থাইল্যান্ড ভ্রমণ করছিলেন, তখন তিনি সেখানকার একটি জনপ্রিয় ফিশ স্পা কেন্দ্রে যান, যেখানে ছোট ছোট মাছ পায়ের মৃত চামড়া খেয়ে পরিষ্কার করে। তবে স্পা নেওয়ার সময় তার পায়ে একটি ছোট খোলা ক্ষত ছিল, যা তিনি খেয়াল করেননি। আর এই অসচেতনতাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।
চিকিৎসকদের মতে, স্পার পানি থেকে 'শিওয়ানেলা' (Shewanella) নামক এক ধরণের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তার পায়ের সেই ক্ষত দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে এবং দ্রুত গভীর সংক্রমণ তৈরি করে। পরবর্তীতে এই সংক্রমণ হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে 'অস্টিওমাইলাইটিস' (Osteomyelitis) নামক একটি মারাত্মক রোগে রূপ নেয়, যা মূলত হাড়ের ভেতরের প্রদাহ ও সংক্রমণ সৃষ্টি করে।
পরবর্তী কয়েক বছর ধরে ভিক্টোরিয়াকে এই ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক, বারবার জটিল অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পরও তার পায়ের সংক্রমণ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে সংক্রমণ যেন শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে তার ডান পায়ের পাঁচটি আঙুলই কেটে বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
এক সময় বিশ্বজুড়ে ফিশ স্পাকে অত্যন্ত আরামদায়ক এবং নিরাপদ একটি রূপচর্চা হিসেবে বিপণন করা হলেও, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই এর ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। চিকিৎসকদের মতে, খোলা ক্ষত, অপরিষ্কার পানি এবং ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি, এই তিনের সংমিশ্রণ যেকোনো সাধারণ মানুষকে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সংগৃহীত