30/11/2025
দামেস্কে এক দরিদ্র ট্যাক্সিচালক ছিলেন। একদিন যাত্রাপথে দুর্ঘটনাবশত তিনি মেডিসিন বিভাগের এক ছাত্রের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন, যার ফলে ছেলেটি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।
ট্যাক্সিচালক অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় শায়খ মুহাম্মাদ আয়ওয়াদ রহিমাহুল্লাহ ও অন্যান্য আলেমগণ একত্র হয়ে ছেলেটির পিতা — যিনি স্বয়ং একজন বিচারপতি ছিলেন — তার কাছে যান। তাঁরা বিনীতভাবে অনুরোধ করেন যেন তিনি ওই দরিদ্র চালককে ক্ষমা করে দেন এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু অর্থ গ্রহণ করেন।
সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিচারপতি পিতা বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি তাকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তার কাছ থেকে এক পয়সাও চাই না। বরং আগামীকাল আমি নিজে কারাগারে গিয়ে তাকে মুক্ত করে আনব।"
তিনি আরও বললেন, "শায়খ আয়ওয়াদ! আপনি আমার ঘরে এসেছেন, আমি কখনোই আপনাকে হতাশ হয়ে ফিরতে দেব না।"
ফলে ট্যাক্সিচালক ক্ষমা পেয়ে মুক্তি লাভ করেন।
বহু বছর পরে, সেই বিচারপতি পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর পরিবার শেষবারের মতো মক্কা শরীফে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁকে স্ট্রেচারে বসিয়ে তাওয়াফ করানো হয়।
তাওয়াফের সময় তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা করেন, "হে আল্লাহ! যেদিন শায়খ আয়ওয়াদ আমার ঘরে এসে হত্যাকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, আমি বলেছিলাম, 'আমি আপনাকে হতাশ করে ফিরতে দেব না।' আজ আমি আপনার ঘরে এসেছি পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায়; আমি আপনাকেও অনুরোধ করছি, আমাকে হতাশ করবেন না।"
তিনি এতক্ষণ দু'আ করতে থাকেন, যতক্ষণ না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'লা তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন। এরপর তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হাঁটতে পুরো তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। (সুবহানাল্লাহ)
সেদিনের এই অলৌকিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এই ঘটনাটি আমাদের একটি মহৎ শিক্ষা দেয়:
যদি কেউ আপনার সাথে অন্যায় করে, তাকে ক্ষমা করুন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'লা আপনাকেও এমন অলৌকিক রহমতের সাক্ষী করবেন।
শায়খ মুহাম্মাদ আয়ওয়াদ রহিমাহুল্লাহ দামেস্কের "মিম্বরের সিংহ" নামে পরিচিত ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলো তিনি মদীনায় অতিবাহিত করেন।
অনুবাদ: ইকরাম হোসাইন
তথ্যসূত্র: শায়খ মুহাম্মাদ আসলাম