03/06/2026
মিরপুরে বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই ঘটনার এক ভিন্ন ও চাঞ্চল্যকর বাস্তবতা সামনে এনেছেন দৈনিক আমার দেশের ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট আবু সুফিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘সন্তানদের চরম অবহেলা’ কিংবা ‘জ্যান্ত শরীরে পোকা ধরা’র মতো দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে তিনি ঘটনার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।
তদন্তকারী এই সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি পারিবারিক অবহেলার চেয়েও বেশি একটি গুরুতর মানসিক অসুস্থতাজনিত জটিলতা।
আবু সুফিয়ান জানান, মৃত নূরজাহান বেগম দীর্ঘ দিন ধরে ‘সিজোফ্রেনিয়া’ (Schizophrenia) নামক জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই অসুস্থতার কারণে তীব্র সন্দেহবশত তিনি নিজের ঘরে কাউকে ঢুকতে দিতেন না। লোকজন তাকে মেরে ফেলবে—এমন আশঙ্কায় তিনি বাসার কাজের লোকদেরও বের করে দিয়েছিলেন।
ভাইরাল হওয়া একাধিক খবরে দাবি করা হয়েছিল মায়ের লাশ ৭ দিন ধরে ঘরে পচে মরছিল। কিন্তু সাংবাদিক আবু সুফিয়ানের তথ্যমতে এই দাবিটি ভুল; ওই বৃদ্ধা গত রবিবার মৃত্যুবরণ করেন।
নেটিজেনদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি এমন নয় যে তার সন্তানরা খোঁজ রাখতেন না। নূরজাহান বেগমের ছোট ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে নিয়মিত দেখাশোনা করতেন এবং শেষ দুই বছর তিনি তার মেয়ের সঙ্গেই ছিলেন। এমনকি গত ঈদের দিনও তার ছেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, নূরজাহানের মৃত্যুর সংবাদ প্রতিবেশীরা পুলিশকে দেয়নি। একজন নার্স ওই বৃদ্ধার রুমের পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশকে খবর দেন।
ইন্টারনেটে ওই বৃদ্ধার মৃতদেহ পচে যাওয়া কিংবা জ্যান্ত শরীরে পোকা জন্মানোর যে লোমহর্ষক গল্প ছড়ানো হচ্ছে, আবু সুফিয়ান তাকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই প্রবণতাকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ আখ্যা দিয়ে সত্যতা যাচাই না করে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।