25/04/2026
দাবার বোর্ডের ৬৪টি ঘরের রাজ্যে সবাই যখন যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন সেই রাজ্যের এক কোণে থাকা একটি ছোট্ট **বোড়ে (Pawn)** বা সৈন্য নিজের ভাগ্য নিয়ে খুব মন খারাপ করে বসে ছিল।
তার নাম ছিল 'পটু'। পটু দেখছিল, তার পাশের ঘোড়াটি লাফিয়ে লাফিয়ে অনেক দূর চলে যেতে পারে, হাতিটি তেরছাভাবে পুরো বোর্ড দাপিয়ে বেড়ায়, আর মন্ত্রী তো স্বয়ং দাবার বোর্ডের ঈশ্বরী—যেদিকে খুশি যেতে পারেন।
পটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল, *"আমি কতই না তুচ্ছ! শুধু এক ঘর করে এগোতে পারি, পেছনে ফেরার শক্তি নেই, এমনকি সামনে শত্রু থাকলেও তাকে আক্রমণ করতে পারি না।"*
# # # বুড়ো রাজার উপদেশ
একদিন পটু যখন এসব ভাবছিল, তখন পেছনের ঘর থেকে সাদা রাজা তাকে ডেকে বললেন, *"পটু, নিজেকে ছোট ভেবো না। মনে রেখো, দাবার বোর্ডে বোড়েই হলো একমাত্র গুটি, যার ভেতরে নিজেকে বদলে ফেলার এক অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।"*
পটু অবাক হয়ে জিগ্যেস করল, *"সেটা কীভাবে সম্ভব, মহারাজ?"*
রাজা হাসলেন। *"তুুমি যদি সাহস আর ধৈর্য নিয়ে বোর্ডের একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারো, তবে তুমি সাধারণ এক সৈন্য থেকে এই রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী 'মন্ত্রী' হয়ে উঠতে পারবে। তোমার কোনো সীমাবদ্ধতা তখন আর থাকবে না।"*
# # # পটুর যাত্রা
কথাটা পটুর মনে গেঁথে গেল। শুরু হলো তার দীর্ঘ লড়াই।
* **প্রথম বাধা:** মাঝপথে এক বিশাল কালো ঘোড়া তাকে ভয় দেখাল। কিন্তু পটু একচুলও নড়ল না। সে জানত, স্থির থাকাটাই বড় জয়।
* **বন্ধুর ত্যাগ:** তার বাম পাশের আরেকজন বোড়ে নিজেকে বিসর্জন দিল পটুর রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য। পটু বুঝল, এই জয়ের পেছনে অনেকের অবদান থাকে।
* **সাহসের পরীক্ষা:** সামনে যখন ঘোর বিপদ, পটু এক ঘর এক ঘর করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোতে লাগল। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো পিছুটান নেই।
# # # সেই মহেন্দ্রক্ষণ
অবশেষে অনেকগুলো চাল পার করার পর, পটু যখন কাঁপতে কাঁপতে বোর্ডের অষ্টম সারিতে পা রাখল, এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। পুরো দাবার বোর্ডে এক ঝলক আলো ছড়িয়ে পড়ল।
পটু আর সাধারণ এক সৈন্য থাকল না। তার মাথায় উঠল মুকুট, হাতে এল অসীম ক্ষমতা। সে এখন **মন্ত্রী**! তার এক ইশারায় এখন বড় বড় হাতি আর নৌকা রাস্তা বদলে ফেলে।
# # # গল্পের শিক্ষা
পটু সেদিন বুঝতে পারল, শুরুতে কে কতটা শক্তিশালী সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, লক্ষ্য ঠিক রেখে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া। দাবার বোর্ডে যেমন, জীবনের দৌড়েও তেমনই—**ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকলে সামান্য এক সৈন্যও একদিন রাজত্ব শাসন করতে পারে।**