Hold the puzzle

Hold the puzzle আগে নিজে খুশি থাকার চেষ্টা করো , তাহলে পৃথিবীর সব কিছুই ভালো লাগবে

বৃষ্টির চোখে ভালোবাসা✍️ লেখক: জান্নাতুন📘 পেজ: Holdthepuzzle #বৃষ্টিরচোখেভালোবাসা #পর্বঃ৫  বৃষ্টি বাড়ির পথে হাঁটছিল।রাস্ত...
25/11/2025

বৃষ্টির চোখে ভালোবাসা
✍️ লেখক: জান্নাতুন
📘 পেজ: Holdthepuzzle

#বৃষ্টিরচোখেভালোবাসা
#পর্বঃ৫


বৃষ্টি বাড়ির পথে হাঁটছিল।
রাস্তার বাতিগুলো কুয়াশার আলোয় ঝাপসা হয়ে আছে।
পায়ের নিচে ভেজা রাস্তায় তার প্রতিটা পদক্ষেপের শব্দ আজ যেন একটু অন্যরকম—
হালকা, নরম, প্রায় গান হয়ে ওঠা।

মনে মনে হাজারটা প্রশ্ন পাক খাচ্ছে,
“আজ আয়ান আমাকে সত্যিই তার ভিতরে ঢুকতে দিলো…
এটা কি সাধারণ বন্ধুত্ব?
নাকি…?”

বৃষ্টি এই প্রশ্নের উত্তর জানে না।
কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে যে লাজুক হাসি লেগে আছে—
সেটাই বলে দেয়, সে উত্তরটা অনুমান করতে পারছে।

---

বাড়ির দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই মা বললেন,
“এত ভিজে ভিজে এলি? আবার সর্দি হবে।”

বৃষ্টি মুচকি হেসে বলল,
“না মা, আজ একটু বৃষ্টি ভালো লাগছিল।”

মা তাকালেন একবার।
মেয়ের মুখে এভাবে আলো জ্বলে থাকলে
মায়েরা খুব সহজেই বুঝে ফেলে—
কিছু একটা ঘটছে।

“মুখটা কেমন উজ্জ্বল।”
মা বললেন।

বৃষ্টি হেসে পাশ কাটিয়ে গেল,
“আরে না, কিছুই না।”
(কিন্তু তার হৃদয়ের ভেতর যেন পুরো একটা আতশবাজি জ্বলে আছে।)

ঘরে ঢুকে ব্যাগ রেখে আয়নায় তাকাতেই থমকে গেল।
তার চুল, তার চোখ, তার ঠোঁট—
সবকিছুতেই হালকা আভা।

মনে হলো—
সে যেন নিজেও বদলে যাচ্ছে।

এটা কি ভালোবাসার শুরু?
নাকি স্রেফ কোনো উষ্ণ অনুভূতি যা একটু বেশি ধারালো?

---

হঠাৎ ফোন vibrate করল।

Ayaan:
“বাড়ি পৌঁছালে জানিও।”

বৃষ্টি ফোন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েই রইল।
এত সাধারণ একটি মেসেজ—
তবু তার হৃদয়ে ঢেউ তুলল।

সে উত্তর দিল—
“পৌঁছেছি।”

মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মাথায় রিপ্লাই—

Ayaan:
“ভালো। আজকের জন্য… ধন্যবাদ।”
“আমি অনেক দিন পর এমন হালকা লাগছে।”

বৃষ্টির হৃদয়ে গরম একটা শিহরণ উঠল।
সে লিখল—
“আমারও ভালো লেগেছে।”

কিন্তু পাঠানোর আগে কিছুক্ষণ দ্বিধায় রইল।
শব্দগুলো যেন অনেক বেশি প্রকাশ করে ফেলবে।
তবুও সে পাঠিয়ে দিল।

---

কয়েক মুহূর্ত পরে আরেকটা মেসেজ এল—

Ayaan:
“তোমাকে একটা কথা বলি?”

বৃষ্টি—
“হ্যাঁ বলো।”

Ayaan:
“আমি ভয় পাই…
কারণ ভালো অনুভূতিগুলো আমার জীবনে বেশিদিন থাকে না।”

বৃষ্টি ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে রইল।
এই একটা বাক্য—
কত গভীর কষ্ট লুকিয়ে আছে তার মধ্যে।

সে ধীরে লিখল—
“সব অনুভূতি একরকম হয় না, আয়ান।”
“কিছু অনুভূতি আসে ঠিক মানুষকে খুঁজে—মানুষকে হারাতে নয়।”

একটা ডেলিভারড টিক দেখাল।
তারপর typing…

Ayaan:
“জানি না… কিন্তু আজ তুমি ছিলে বলে ভালো লেগেছে।”

বৃষ্টি চোখ বন্ধ করল।
এ যেন চুপচাপ স্বীকারোক্তি

ঘর অন্ধকার।
বৃষ্টি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
রাতে হালকা আবার বৃষ্টি এসেছে।
রাস্তার বাতিতে জলকণা ঝিলমিল করছে।

হঠাৎ মনে পড়ল ছাদের প্রতিটা মুহূর্ত…
আয়ানের ভয়,
তার নরম কণ্ঠ,
তার চোখের ভাষা…

সব মিলিয়ে বৃষ্টি এমনভাবে অনুভব করছে—
যেন তার ভিতরে কিছু জন্ম নিচ্ছে
নরম, লাজুক
কিন্তু খুব শক্তিশালী।

সে নিজের বুকের উপর হাত রাখল।
ধপ-ধপ—
সে অনুভব করছে নিজের হৃদয়ের অনিয়মিত স্পন্দন।

এটা কি সে আগে কখনও এমন অনুভব করেছে?
না। এই অনুভূতি একেবারেই নতুন।

সকাল হলো।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বৃষ্টি বারান্দায় দাঁড়াল।
মেঘলা আকাশ।
হাওয়ায় ঠান্ডা সুবাস।

ফোন vibrate করল।

Ayaan:
“Good morning, rain-girl।”

বৃষ্টি হেসে ফেলল।
সে লিখল—
“তুমি তো কবিতা দিয়ে সকাল শুরু করলে।”

Ayaan:
“তুমি থাকলে কবিতা ভাবনাও জাগে।”

বৃষ্টির হৃদয় আজকে যেন আরও একটু নরম হল।

---

আজ কলেজে যাওয়ার সময় বৃষ্টি চারদিকেই তাকাচ্ছিল—
যেন কেউ তাকে দেখছে।
যেন কেউ তাকে অনুসরণ করছে।

অবচেতন মনে সে আয়ানের কথা ভাবছিল।
সে কি আজ আবার কোথাও দেখা দেবে?

বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকার সময়
হঠাৎ মনে হলো,
কেউ যেন কয়েক ধাপ দূর থেকে তাকিয়ে আছে।

বৃষ্টি চোখ ঘুরিয়ে দেখল—
একটা ছেলে মোবাইল হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু সে আয়ান নয়।

তারপরও
বৃষ্টির বুকের ভেতর হালকা দুরুদুরু অনুভূতি তৈরি হলো।

---
ক্লাসে বসেও সে মনোযোগ দিতে পারছিল না।
রিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।

রিয়া বলল,
“তুই আজ অদ্ভুত লাগছে দেখছি। বলবি কিছু?”

বৃষ্টি বলল,
“না… কিছু না।”

কিন্তু মুখের ভেতরের হাসিটা এত স্পষ্ট
যে রিয়া একদম ধরে ফেলল।

“বৃষ্টির মুখে এমন লাজুক হাসি?
স্পষ্ট… কেউ আছে।”
রিয়া বলল।

বৃষ্টি চুপ।
তার চোখে তাকিয়ে রিয়া বলল,
“ও মাই গড!
তোর চেহারা দেখে মনে হচ্ছে কেউ তোকে প্রেমের গল্পে ফেলে দিয়েছে!”

বৃষ্টি মাথা নিচু করে বলল,
“কিছু না। শুধু… একজনের সাথে কথা হয়।”

“আয়ন?”
রিয়া জিজ্ঞেস করল।

বৃষ্টি চমকে তাকাল।
“তুই কিভাবে জানলি?”

রিয়া মুচকি হাসল।
“চোখ দিয়ে বলছিস।”

বৃষ্টি কিছু বলতে যাচ্ছিল—
ঠিক তখনই ফোন vibrate করল।

Ayaan:
“Lunch time এ কথা হবে?”

বৃষ্টি ফোনটা বুকে চেপে ধরল।

রিয়া বলল,
“হয়ে গেছে।
বৃষ্টি officially প্রেমে পড়ছে।”

বৃষ্টি তাড়াতাড়ি বলল,
“না রে! তেমন কিছু… না!”
(কিন্তু তার গলার কম্পন সব বলে দিল।)

---

লাঞ্চব্রেকে বৃষ্টি কলেজের গেটে এসে দাঁড়াল।
হাওয়া বইছে।
আকাশে হালকা রোদের সাথে মেঘের ছায়া।

ফোন বেজে উঠল।

Ayaan Calling…

বৃষ্টি ধীরে কল ধরল।
“হ্যালো…”

আয়ানের কণ্ঠ নরম।
“খাচ্ছো?”

“না… কথা ভেবেই খিদে লাগেনি।”

আয়ন হেসে ফেলল,
“আমার কথায় খিদে চলে যায় নাকি?”

“কেউ কেউ এমনই প্রভাব ফেলে,”
বৃষ্টি বলল মৃদু স্বরে।

এক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর—

“বৃষ্টি, আজ তোমাকে দেখার খুব ইচ্ছে করছে।”

বৃষ্টির হৃদয় থেমে গেল।
“এখন?”

“হ্যাঁ।
এখনই।”

“কিন্তু কলেজ—”

“গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকো।”
আয়ন হালকা গলায় বলল।
“আমি এসেছি।”

বৃষ্টি স্তব্ধ হয়ে গেল।
তার শ্বাস আটকে গেল।

সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল—
তার চোখ দুটো বড় হয়ে গেল যখন দেখল—

আয়ন ঠিক গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
হালকা হাসি,
নীল শার্ট,
হাওয়ায় উড়তে থাকা চুল…

এমন মনে হচ্ছিল—
যেন পুরো পৃথিবী থেমে আছে,
শুধু তাদের দেখা হওয়ার জন্য।

সকালটা অন্য দিনের মতো হলেও বৃষ্টির মনে আজ অদ্ভুত একটা কম্পন।
জানালার কাচে পানি জমে আছে, আকাশের রঙ হালকা ধূসর, বাতাসে শীতের ছোঁয়া।

কিন্তু বৃষ্টির ভেতরে আজ আরেক ধরনের হাওয়া বইছে—
অপেক্ষার, উৎকণ্ঠার, একটু উত্তেজনার… এবং একটু ভয়ও।

কারণ গতকাল আয়ান তাকে যে কথাটা বলেছিল—

“কাল তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব।
ওই জায়গাটা আমার জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা।”

বৃষ্টি ভাবতেই পারে না, আয়ানের মতো একজন মানুষের এত গভীর রহস্য থাকতে পারে।

তার মাথায় প্রশ্নই প্রশ্ন—

আয়ান কী দেখাতে চায়?

তার অতীত?

কোনো ব্যথা?

কোনো অসমাপ্ত গল্প?

নাকি… কারো স্মৃতি?

চুল বানাতে বানাতে বৃষ্টি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রাখে।
এই চোখ দুটোতেই আজ অদ্ভুত উত্তেজনা।

তার ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমি মেশানো হাসি।

— “আজ যদি সত্যিই কোনো গোপন দরজা খুলে যায়?”

এটা ভাবতে ভাবতেই তার বুক ধড়ফড় করতে থাকে।

---

ঘড়ির কাঁটা যখন আটটা বাজালো, তখন দরজায় হালকা শব্দ।

টুপ… টুপ…

বৃষ্টির বুক থেমে গেল।
সে দরজা খুলল।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আয়ান।
হালকা কালো শার্ট, ডেনিম, চোখে অল্প ক্লান্তি…
কিন্তু সেই ছোট্ট, শান্ত, নিষ্পাপ হাসিটা—যেটা বৃষ্টি দিনের পর দিন মনে গেঁথে রেখেছে।

আয়ান বলল—

— “রেডি?”

বৃষ্টি নিশ্বাস আটকিয়ে বলল—

— “হুম… কিন্তু কোথায় যাচ্ছি?”

আয়ান আবার সেই অর্ধেক হাসিটা দিল—

— “এবার জানবে।”

বৃষ্টির হৃদয় এক লাফে গলায় উঠে আসে।

---

আয়ানের বাইকে বৃষ্টি বসে।
হাওয়া মুখে লাগে।
রাস্তায় গাড়ির শব্দ, হর্ন, মানুষের হাঁটাচলা—সব মিলিয়ে একটা শহুরে সিম্ফনি।

কিন্তু এই ব্যস্ততার মধ্যেও বৃষ্টি টের পায়—

আয়ান আজ একটু নীরব।

বৃষ্টির হাত আয়ানের কাঁধের কাছে।
ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে তার হাত কাঁপে।

আয়ান বলে—

— “ঠাণ্ডা লাগছে?”

— “না… মানে… একটু।”

আয়ান ধীরে ধীরে নিজের এক হাত পিছনে এনে বৃষ্টির হাতটা চেপে ধরল, যেন বলছে—

“আমি আছি।”

বৃষ্টি চোখ বন্ধ করল।
এই এক মুহূর্তে সে পৃথিবীর সব শব্দ হারিয়ে দিল।

---
প্রায় চল্লিশ মিনিট পর শহরের ব্যস্ততা কমতে থাকে।
রাস্তা ফাঁকা।
দুই পাশে লম্বা গাছ, শুকনো পাতা উড়ে যাচ্ছে।
দূরে একটা পুরোনো লাল ইটের বাড়ি দেখা যায়।

বৃষ্টি জিজ্ঞেস করল—

— “এটা কোথায়?”

আয়ান শুধু বলল—

— “আমার পুরোনো বাড়ি।”

বৃষ্টির গলায় আটকে যায় শব্দ।

পুরোনো বাড়ি?
আয়ানের জীবনের এমন কিছু কি আছে, যা সে কারো সঙ্গে ভাগ করত না?

তারা বাইক থেকে নামল।

বাড়িটার সামনে একটা বড় আমগাছ, ডালগুলো নিচে নেমে এসেছে।
মাটিতে শুকনো পাতা, বাতাসে হালকা ধুলো।
বাড়িটা যেন নিজের গল্প বুকের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে।

বৃষ্টি বলল—

— “তুমি এখানে… বড় হয়েছ?”

আয়ানের মুখে ছায়া নেমে এল।

— “হ্যাঁ… কিন্তু এখন কেউ থাকে না।”

বৃষ্টি বুঝতে পারে, কথাটা বলার সময় আয়ানের গলায় ভারী একটা সুর আছে।

---

আয়ান কোমলভাবে বলল—

— “ভিতরে আসবে?”

বৃষ্টি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল, যদিও তার বুকের ভেতর অকারণ ভয়।

আয়ান দরজায় তালা খুলল।

চাবির টিক… টিক… শব্দে মনে হয় যেন বাড়িটা জেগে উঠল।

দরজা খুলতেই একটা পুরোনো ধুলো-মেশানো ঘ্রাণ।

ভিতরে ম্লান আলো।
দেয়ালে পুরোনো রঙ খসে পড়েছে।
ফার্নিচারগুলো কাপড়ে ঢাকা।

বৃষ্টি ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে বলল—

— “এটা তো… সিনেমার দৃশ্যের মতো।”

আয়ান হাসল না। শুধু বলল—

— “এখানে আমি, আমার মা… আর…”

সে থেমে যায়।

বৃষ্টি তাকে দেখছে।
তার চোখে এমন এক ব্যথা, যেটা শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা যায় না।

---

হঠাৎ আয়ান একটি ছোট কাঠের দরজার সামনে দাঁড়াল।

বৃষ্টি লক্ষ্য করে দরজাটার সামনে একটা ভাঙা নামের প্লেট—

“রূপা”

বৃষ্টি ফিসফিস করে বলল—

— “রূপা কে?”

আয়ানের ঠোঁট শুকিয়ে গেল।

— “আমার বোন…”

বৃষ্টি জমে গেল।

— “তোমার… বোন?”

— “হ্যাঁ। ছোট ছিল। আট বছর বয়সে মারা যায়। এখানে… এই ঘরেই।”

আয়ানের চোখে সেই মুহূর্তে এমন গভীর দুঃখ, যা দেখে বৃষ্টির বুক ব্যথা করে।

বৃষ্টি নিঃশব্দে আয়ানের পাশে দাঁড়াল।

আয়ান বলল—

— “চাইলে ভিতরে যেতে পারো। কিন্তু খুব ভারী… খুব।”

বৃষ্টি ধীরে দরজা ঠেলে দিল।

ঘরের ভিতর ছোট ছোট খেলনা, রঙিন পুতুল, একটা ছোট স্টাডি টেবিল, গোলাপি পর্দা—
সব যেন আট বছর আগের সময়েই আটকে আছে।

বৃষ্টি চোখে পানি ধরে রাখতে পারল না।

— “তুমি… এতদিন একা এই সব স্মৃতির সঙ্গে ছিলে?”

আয়ান তাকাল না।
শুধু মাথা নিচু করে বলল—

— “তাই তো… কাউকে কখনো ভিতরে ঢুকতে দিই না।”

বৃষ্টি ধীর কণ্ঠে বলল—

— “তাহলে আজ আমাকে দিলে কেন?”

আয়ান চোখ তুলে তাকাল।
তার দৃষ্টিতে উত্তর—

“কারণ তুমি আলাদা।”

---

তারা বাইরে এসে বসে।
বর্ষার হাওয়া বাড়ছে।

আয়ান ধীরে বলল—

— “বৃষ্টির রাতে রূপা মারা যায়। আমি তাকে বাঁচাতে কিছুই করতে পারিনি।”

বৃষ্টি শ্বাস নিল।

সে আয়ানের হাত ধরল।

— “তুমি তখন কত বছর?”

— “চৌদ্দ।”

— “চৌদ্দ বছর বয়সে কেউ কাউকে বাঁচাতে পারে না, আয়ান।”

— “কিন্তু আমি মনে করি, এটা আমার দোষ।”

আয়ানের চোখ লাল হয়ে ওঠে।

বৃষ্টি শক্ত করে তার হাত চেপে ধরে—

— “যে ব্যথা তুমি বহন করছ, সেটা তোমার বয়সের কারো নেওয়া উচিত ছিল না।
কিন্তু তুমি নিয়েছ। একা। কোনদিন কারো সঙ্গে ভাগ করোনি।”

আয়ান চোখ বন্ধ করে।

তার বুক থেকে যেন দীর্ঘদিন আটকে থাকা একটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে।

---

বৃষ্টি হঠাৎ বলে—

— “চাও আমি তোমার গল্পটা বয়ে নিয়ে যাই?”

আয়ান চমকে তাকায়।
ধীরে ধীরে বলে—

— “মানে?”

— “তোমার এই ব্যথা, এই স্মৃতি, এই ভাঙা অংশ… সব।
যদি চাও, আমি এগুলো ভাগ করে নেব।”

আয়ান চোখ সরিয়ে নেয়।

— “তোমার কেন এত…”

বৃষ্টি তাকে থামিয়ে দেয়—

— “কারণ তুমি আমার কাছে এখন শুধু একজন মানুষ নও, আয়ান।
তুমি এমন একজন… যাকে আমি হারাতে চাই না।”

আয়ান দম নিয়ে বলে—

— “বৃষ্টি… তুমি জানো না, আমি কেমন মানুষ।”

— “জানি।”
— “তুমি জানো না, আমার অতীত—”
— “জানি।”
— “আমি অন্ধকারে ভরা।”
— “তোমার মধ্যে আলোও আছে।”
— “আমি ভুল করেছি।”
— “সবাই করে।”
— “আমি ভালো নই।”

বৃষ্টি তার দিকে নিবিড় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল—

— “তুমি মানব।”

আয়ান চুপ।

শব্দহীন।

তার চোখের ভেতরে ঢেউ উঠছে।

---

আয়ান মাথা নিচু করে বসে।
বৃষ্টি হালকা কাঁপতে থাকা তার হাত নিজের হাতে তোলে।

তারপর ধীরে ধীরে আয়ানের দিকে ঝুঁকে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে।

এটা কোনো রোমান্টিক আলিঙ্গন নয়—
এটা এমন এক আলিঙ্গন, যেখানে বছরের পর বছর জমে থাকা ব্যথা, শূন্যতা, একাকীত্ব গলে যায়।

আয়ানের হাত প্রথমে নিস্তেজ।
তারপর ধীরে—খুব ধীরে—বৃষ্টির পিঠে উঠে আসে।

সে ফিসফিস করে—

— “বৃষ্টি… তুমি কেন আমার জীবনে এলে?”

বৃষ্টি মৃদু হাসে—

— “হয়তো তোমাকে মেরামত করতে।”

আয়ান—

— “আমি তো ভাঙা।”

বৃষ্টি—

— “ভাঙা জিনিসই সবচেয়ে সুন্দর হয়।”

ধীরে ধীরে আয়ানের শরীরের ভেতর জমে থাকা শীত, ভয়, চাপা কান্না বেরিয়ে আসে।
তার চোখের পানি বৃষ্টির কাঁধ ভিজিয়ে দেয়।

বৃষ্টি ওকে আরও জড়িয়ে ধরে।

---

আয়ান হঠাৎ বলল—

— “একটা জিনিস দেখাবে তোমাকে।”

সে ড্রয়ার খুলে একটি পুরোনো ডায়েরি বের করল।
মলাট ছেঁড়া।
পাতাগুলো হলুদ।
মেয়েদের হাতের লেখা।

বৃষ্টি জিজ্ঞেস করল—

— “কার?”

আয়ান ধীরে বলল—

— “রূপার।”

বৃষ্টি শ্বাস থামিয়ে ফেলে।

আয়ান ডায়েরি বৃষ্টির হাতে দিল।

— “আমি কোনোদিন কাউকে এটা দিইনি।”

বৃষ্টি আঙুল দিয়ে মলাট ছুঁয়ে বলল—

— “আমি রাখব… যত্ন করে।”

আয়ান বসে বসে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে।
তার চোখে অদ্ভুত শান্তি।

যে শান্তি সে অনেক বছর দেখেনি।

---

রাত নামে।
আকাশে মেঘ ঘন।
বৃষ্টিপাত শুরু হবে।

বাইক চালাতে চালাতে আয়ান বলল—

— “আজ তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে গভীর দরজা খুলে ফেললে।”

বৃষ্টি হেসে বলল—

— “আরো দরজা আছে?”

আয়ান—

— “হ্যাঁ… কিন্তু ওইগুলো অতটা অন্ধকার না।”

বৃষ্টি—

— “তাহলে সেগুলোও খুলে দেব।”

আয়ান হেসে ফেলল—

— “দেখি তোমার সামর্থ্য কত।”

বৃষ্টি মুচকি হাসল—

— “চ্যালেঞ্জ নিলাম।”

বৃষ্টির মন ভরে উঠছে।
সে অনুভব করছে…
আয়ান তাকে শুধু পছন্দই করছে না—
বিশ্বাস করছে।
ভরসা করছে।
আশ্রয় দিচ্ছে।

এটাই সম্পর্কের শুরু।

খুব সূক্ষ্ম।
কিন্তু খুব গভীর।

---

বৃষ্টিকে নামিয়ে দিয়ে আয়ান গম্ভীরভাবে বলল—

— “আজকের কথা কাউকে বলো না।”

বৃষ্টি মাথা নেড়ে—

— “আমি কারো জীবনের ব্যথা গল্প বানাই না।”

আয়ানের চোখে ক্ষীণ বিস্ময়।
সে ধীরে বলল—

— “ধন্যবাদ।”

বৃষ্টি বলল—

— “আমাকে ধন্যবাদ দেবে না।
আমাকে শুধু ভুলে যেও না।”

আয়ান থেমে যায়।

তার চোখে এক সেকেন্ডের জন্য এমন গভীর কোমলতা দেখা যায়—
যা বৃষ্টির হৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়।

আয়ান বলল—

— “বৃষ্টি…
যে মানুষ একবার আমার জীবনে আসে, তাকে আমি কখনো ভুলে যাই না।”

বৃষ্টির শ্বাস আটকে যায়।

দরজা বন্ধ হওয়ার আগে আয়ান আরও কিছু বলতে চেয়েছিল, কিন্তু থেমে গেল।

দরজা বন্ধ হলো।

বৃষ্টি দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াল।

তার ঠোঁট কাঁপছে।

— “আমি… বোধহয় ওর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি।”

বাইরে বৃষ্টি শুরু হলো।

---

---

বলবে?

বৃষ্টির চোখে ভালোবাসা✍️ লেখক: জান্নাতুন📘 পেজ: Holdthepuzzle #বৃষ্টিরচোখেভালোবাসা #পর্বঃ৪  সকালটা যেন আজ বৃষ্টি ছুঁয়ে গেছ...
18/11/2025

বৃষ্টির চোখে ভালোবাসা
✍️ লেখক: জান্নাতুন
📘 পেজ: Holdthepuzzle

#বৃষ্টিরচোখেভালোবাসা
#পর্বঃ৪


সকালটা যেন আজ বৃষ্টি ছুঁয়ে গেছে।
আকাশে মেঘ নেই, রোদও খুব উজ্জ্বল… তবুও বাতাসে একরকম শান্ত শীতল স্পর্শ।
বৃষ্টি জানলার পাশে দাঁড়িয়ে সেই বাতাসের গন্ধটা গভীরভাবে টেনে নিলো।
আজ তার ভেতরে একটা অদ্ভুত অস্থিরতা…
কারণ গতকাল আয়ান বলেছিল—

“কাল সকালেই কথা বলবো। তোমাকে কিছু জানাতে চাই।”

একটা বাক্য যতটা ছোট, বৃষ্টির মনের ভেতর তার ঢেউ ততটাই বড়।

কী জানাতে চায়?
ভালো কিছু?
খারাপ কিছু?
নাকি… সেই আচ্ছন্ন অন্ধকার অতীতের কোনও অংশ?
চা ঠান্ডা হয়ে গেছে, কিন্তু বৃষ্টি শুধু কাপটা ধরে বসে আছে। চোখ তার জানলার বাইরে, কিন্তু মন অন্য কোথাও—আয়ানের মুখে, আয়ানের কথায়, আয়ানের নীরবতায়।

আয়ান ঘুম থেকে উঠেছিল ভোরবেলাতেই।
ঘুম হয়নি। চোখ বন্ধ করলেও বৃষ্টির মুখই ভেসে উঠছিল।

“আজ বলবো… আর লুকিয়ে রাখবো না,”
আয়ান নিজেকে বলল।

কিন্তু ঠিক কী বলবে সে?
যে তার অতীত এখনও তাকে ছাড়েনি?
নাকি যে বৃষ্টি তাকে বদলে দিচ্ছে—চুপচাপ, ধীরে, নিঃশব্দে?

নিজের বুকের কাছে হাত রেখে আয়ান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।
তবুও আজ সে জানে—
যতই কঠিন হোক, সত্যিটা বলতে হবে।

বৃষ্টি ক্লাসে ঢোকার আগেই সবার দৃষ্টি তার দিকে।
বন্ধুরা—নিশি, রিমা—হাত ধরে টেনে নিলো।

“কি রে? চেহারা এমন ফ্যাকাসে কেন?”
নিশি জিজ্ঞেস করল।

বৃষ্টি অল্প হাসলো, “কিছু না।”

কিন্তু বৃষ্টি হাসলেই বোঝা যায় সেটা সত্যিকারের হাসি কিনা।
আজ সেটা ম্লান, কাগজের মতো শুষ্ক।

রিমা বলল, “আয়ানের সঙ্গে কিছু হয়েছে?”

বৃষ্টি থমকে গেলেও মাথা নেড়ে বলল, “না… মানে… আজ কথা বলবে সে।”

নিশি হেসে উঠল, “এইজন্য এত টেনশন! প্রেমে পড়েছিস, তাই তো?”

বৃষ্টি কিছু বলল না।
কারণ সত্যি সত্যিই সে জানে না—এটা প্রেম, নাকি শুধুই এক ধরনের টান।
কিন্তু বুকের ভেতরে আজ যা চলছে, সেটা কেবল বন্ধুত্বের অনুভূতি নয়… তার চেয়েও অনেক গভীর।

ক্লাস শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে গেল।
রোদটা আজ একটু কোমল, তার আলো ছাদের মেঝেতে একরকম উষ্ণ ছায়া ফেলেছে।

বৃষ্টি ছাদে উঠে দাঁড়াল।
এখানে এলেই সে একা থাকতে পারে, মনটা গুছিয়ে নিতে পারে।

কিন্তু আজ সে একা থাকবে ভাবেনি।

পেছনে পায়ের শব্দ।

বৃষ্টি ঘুরতেই আয়ান দাঁড়িয়ে—
আজ একটু ভিন্ন।
চোখে অস্থিরতা, ঠোঁটে নীরবতা, আর বুকের ওপর দুটো হাত কাঁপছে সামান্য।

“তুমি… আমায় ডাকলে?”
বৃষ্টি জিজ্ঞেস করল।

আয়ান মাথা নেড়ে হালকা হাসল—
“ডাকার দরকার হয়নি। তুমি নিজেই চলে এলে।”

বৃষ্টির বুকটা ধক করে উঠল।
ঠিক এমনই অদ্ভুত ভাবে কথা বলে আয়ান।
শব্দ ছোট, কিন্তু মানে গভীর।

---❖ আয়ান: “তোমাকে কিছু বলতে চাই।”

বৃষ্টি দাঁড়িয়ে।
আয়ানও কিছু সময় চুপচাপ তাকে দেখল।

“বৃষ্টি… আমি কিছুদিন ধরে ভেতরে খুব লড়ছি। তোমাকে বলবো বলবো… কিন্তু সাহস পাই না।”

বৃষ্টির গলা শুকিয়ে গেল।

“কি ব্যাপার, আয়ান?”

আয়ান একটু দূরে গিয়ে রেলিং ধরে দাঁড়াল।
তার কণ্ঠে কেমন যেন ভাঙা সুর—

“আমি আগে কখনও কাউকে বলতে পারিনি।
আজ তুমি শুনবে?”

বৃষ্টি ধীরে এগিয়ে গেল।
“হ্যাঁ, শুনবো।”

আয়ান চোখ বন্ধ করল।
“আমার অতীত… ভালো ছিল না।”

বৃষ্টি থমকে গেল।
তার প্রত্যাশাও ছিল এমন কিছু।

“একটা মেয়ে ছিল…”
আয়ন বলল ধীরে।

বৃষ্টির বুকটা হালকা ব্যথা করল।

“আমি তাকে খুব ভালোবাসতাম। সে-ও আমাকে।
কিন্তু একদিন… সব শেষ হয়ে গেল।
আমার ভুলে।”

বৃষ্টি শুনছে।
একনিমেষে, নিঃশব্দে।

“সায়ন্তনী…”
আয়ান নামটা উচ্চারণ করল।

বৃষ্টির চোখে এক সেকেন্ডের জন্য একটা তীক্ষ্ণ আলো জ্বলে উঠল।
যে আলোতে লুকানো ভয়, কৌতূহল, ঈর্ষা, ব্যথা—সব মিলেমিশে আছে।

আয়ন কথা থামায় না।

“আমার ভুল ছিল তাকে ধরে রাখতে না পারা।
কিন্তু তার থেকেও বেশি ভুল ছিল… আমি সেই ঘটনার জন্য নিজেকে এতটাই দোষ দিতে শুরু করি যে… আমি নিজের ভেতরই হারিয়ে যাই।”

বৃষ্টি আজ প্রথম বুঝল—
আয়নের নীরবতার ভেতর কতটা গভীর ক্ষত লুকিয়ে ছিল।

“তুমি কি এখনও তাকে—”
বৃষ্টি প্রশ্নটা শেষ করতে পারল না।

আয়ন দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে বলল,
“না।
আজকে, এই মুহূর্তে… আমি শুধু তোমাকে বলতে চাই…
যে আমি তোমাকে খুব গুরুত্ব দিই।”

বৃষ্টির মুখ উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
হাওয়াটা যেন এক মুহূর্ত থেমে গেল।

“তাহলে আমাকে কেন দূরে রাখার চেষ্টা করছিলে?”

আয়ন তাকালো তার চোখের গভীরে।
“কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম।
ভেবেছিলাম তোমার জীবনে আবার কোনও অন্ধকার টেনে আনবো।
আমি এখনও পুরোপুরি ভালো নেই, বৃষ্টি।”

বৃষ্টি মাথা নিচু করল।
তার হৃদয়ে তখন এক অদ্ভুত উষ্ণতা কাজ করছে।

“মানুষের অতীত থাকতেই পারে,”
বৃষ্টি বলল নরম স্বরে।
“কিন্তু সে কি ভবিষ্যতকেও আটকে রাখতে পারে?”

আয়নের চোখে বিস্ময়।

“তুমি আমার সঙ্গে… কথা বলা বন্ধ করোনি কেন?”
আয়ন জিজ্ঞেস করল।

বৃষ্টি হালকা হাসলো—
“কারণ তোমাকে ভুলে থাকা সম্ভব ছিল না।”

আয়ন আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
এক পা এগিয়ে এসে বলল—

“বৃষ্টি… তুমি বুঝতে পারো না তুমি আমার সঙ্গে কী করছো।”

“কী করছি আমি?”

আয়ন তার হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে বলল—

“আমার ভেতরে যত অন্ধকার ছিল, তুমি ধীরে ধীরে আলো জ্বালিয়ে দিচ্ছ।
আজকে আমি যে এত কিছু বলছি—
ওটা তোমার জন্যই।”

বৃষ্টির চোখ ভিজে উঠল অজান্তেই।

“কিন্তু তুমি কি প্রস্তুত?”
বৃষ্টি জিজ্ঞেস করল ধীরে।
“কারণ… আমার মন খুব নরম।
আমি কাউকে সহজে ঢুকতে দিই না…
কিন্তু একবার ঢুকলে—আর বেরও করতে পারি না।”

আয়ানের গলা শুকিয়ে গেল।

সে বুঝছে—
বৃষ্টি কোনও সাধারণ মেয়ে নয়।
সে গভীর, সত্যিকারের, দুঃখ লুকানো-অস্তিত্বের মতো।

আয়ন তার হাত আরও শক্ত করে ধরল।
“আমি তোমাকে ভাঙবো না।”

এবার বৃষ্টির বুকের ভেতরে যেন বাজ পড়ল।

ঠিক তখনই আকাশ হালকা অন্ধকার হলো।
রোদ মিলিয়ে গিয়ে ছায়া নেমে এল ছাদে।

বৃষ্টি ঘাড় ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকাল।

“বৃষ্টি নামবে…”
আয়ন বলল ধীরে।

বৃষ্টি মুচকি হাসলো—
“আমার নামও তাই।”

দুজনেই একটু হেসে ফেলল।
নরম, সহজ, শান্ত একটা হাসি।

মুহূর্তটিতে দুজনের চোখই বলছিল—
যে আজকের এই নীরবতা…
এই স্বীকারোক্তি…
এটাই তাদের সম্পর্ককে বদলে দেবে চিরদিনের মতো।

– অংশ ২

ছাদের নরম আলোটা আরও ম্লান হয়ে এলো।
হাওয়ায় ঠান্ডা একটা ঝাপটা।
মেঘের গন্ধে ভিজে উঠছে চারদিক।

আয়ন একটু পেছনে তাকিয়ে বলল,
“চল, নেমে যাই? বৃষ্টি নামবে।”

বৃষ্টি মাথা নাড়ল,
“না… আমি এখানে একটু দাঁড়িয়ে থাকতে চাই।”

আয়ন তাকিয়ে রইল।
হাল্কা বাতাসে বৃষ্টির চুল উড়ে এসে তার চোখে লাগে।
বৃষ্টি আঙুল দিয়ে সরিয়ে নিল।
আয়নের বুকের ভেতর সেই দৃশ্যটা অদ্ভুতভাবে ধাক্কা দিল।
এত সাধারণ একটা মুহূর্তও যেন সিনেমার দৃশ্য হয়ে উঠছে।

---❖ অস্পষ্ট স্বীকারোক্তি

বৃষ্টি নরম গলায় বলল,
“যা বললে… সবটাই সত্যি?”

আয়ন:
“হ্যাঁ। এখন তোমার পালা।”

বৃষ্টি তাকিয়ে রইল,
“আমার অতীত তেমন বড় কিছু নেই।
কিন্তু… আমি কাউকে বিশ্বাস করতে ভয় পাই।
কারণ আমি যাদের বিশ্বাস করেছি, বেশিরভাগই ভেঙে দিয়েছে।”

আয়ন হাত বাড়িয়ে বলল,
“তাহলে এবার একটা সুযোগ দাও।
আমি ভাঙবো না।”

বৃষ্টি চোখ নামিয়ে বলল,
“তুমি কি সত্যি পারবে?”

আয়ন এগিয়ে এল।
দুজনের মাঝে ভেজা হাওয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে।

“যদি না পারতাম, আজ এখানে দাঁড়িয়ে সত্যিটা বলতাম না।”
আয়ন বলল।

বৃষ্টি তার চোখের দিকে তাকাল।
আয়ন জানে না—এই মুহূর্তে বৃষ্টির বুকের ভেতর এমনভাবে ঢেউ উঠছে, যেন একটা নতুন টান জন্ম নিচ্ছে।

---❖ প্রথম নরম স্পর্শ

হঠাৎই আকাশ থেকে প্রথম একটা ফোঁটা পড়ল।
বৃষ্টির গালে গড়িয়ে পড়ল ফোঁটাটা।

“দেখলে? আমার নাম ডাকছে।”
বৃষ্টি বলল মুচকি হেসে।

আয়ন তাকিয়ে দেখল,
ফোঁটার নীচে ঝিলমিল করা তার মুখ—
এমন এক মুহূর্ত যা সে কখনও ভুলবে না।

আরেকটা ফোঁটা।
তারপর আরও কয়েকটা।

বৃষ্টি দাঁড়িয়ে রইল—
“চল না, ভিজি?”

আয়ন চমকে উঠল।
“তুমি বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ কর?”

বৃষ্টি আকাশের দিকে তাকাল।
“আমি বৃষ্টির ভেতর নিজেকে খুঁজে পাই।”

আয়ন গলে গেল।
এই মেয়েটাকে যত জানছে, ততই বুঝছে—
তার মনের সূক্ষ্ম জগতে এক অদ্ভুত কবিতা লুকানো আছে।

---❖ তারা দুজন ভিজতে শুরু করল

ছাদের ওপর টুপটুপ শব্দে বৃষ্টি পড়ছে।
দুজনেই ভিজতে লাগল—
ধীরে, গভীরভাবে।

বৃষ্টির চুল পুরো ভিজে কপালে লেগে গেছে।
আয়ন তাকিয়ে থাকল।
তাকে কখনও এত সুন্দর লাগে নি।

“দেখছো?”
বৃষ্টি বলল,
“বৃষ্টি সব ধুয়ে দেয়।
মনের ভিতরের ভয়ও।”

আয়ন বলল,
“আর আজকে আমিও একটু ধুয়ে নিতে চাই।”

বৃষ্টি তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে বলল,
“থাকো… আমি আছি।”

মুহূর্তটা এমন নরম যে সময় থেমে গেল যেন।

আয়ন একটু কাঁপা গলায় বলল,
“বৃষ্টি… আমি জানি না সামনে কী আছে।
আমার অতীত মাঝে মাঝে আমাকে ধরে টানে।
আমি ভয় পাই—আমি ভালোবাসা ধরে রাখতে পারব তো?”

বৃষ্টি ধীরে কাছে এসে দাঁড়াল।
তার হাতটা তুলল।
আয়নের গালে রাখল।

আয়ন থমকে গেল।
তার নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল।

বৃষ্টি বলল নরম স্বরে—
“মানুষ ভুল করে।
ভালোবাসা ভুল করে না।”

আয়ন চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্তের জন্য।
তার গালে বৃষ্টির হাতের উষ্ণতা…
এ যেন হাজার বছরের বরফ গলে যাওয়ার মতো অনুভূতি।

দুজনই মুচকি হাসল।

বৃষ্টি বলল,
“তাই বলো—তোমার গল্পে আমি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি?”

আয়ন বলল,
“এখনো শুরুর দিক…
কিন্তু আমার মনে হচ্ছে—
তুমি আস্তে আস্তে পুরো গল্পটায় ঢুকে যাচ্ছ।”

বৃষ্টি লজ্জা পেয়ে বলল,
“তোমার কথা শুনলেই মনে হয় তুমি কবিতা লিখতে পারো।”

আয়ন হেসে বলল,
“তুমি থাকলে আমি সব পারি।”

বৃষ্টির হৃদয় লাফ দিয়ে উঠল।
এটা কি… স্বীকারোক্তি?
নাকি ভুল করে বলা কথা?

সে জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কি আমাকে—”

আয়ন মাঝপথে বলল,
“এখনই না বলি।
জলদি বললে গল্প ছোট হয়ে যাবে।”

বৃষ্টি হাসলো—
“গল্প দীর্ঘ হোক, আমি চাই।”

হঠাৎ টিপটিপ বৃষ্টি থেমে এলো।
আকাশের মেঘ দূরে সরে গেল।

বৃষ্টি আকাশ দেখে বলল,
“আমরা নেমে যাবো?”

আয়ন না।
“আরো একটু দাঁড়াই।”

বৃষ্টি অবাক।
“কেন?”

আয়ন বলল,
“এই মুহূর্তটা শেষ করতে চাই না।
এটা… অনেক শান্ত।”

বৃষ্টি চুপ করে রইল।
কারণ সে-ও একই অনুভূতি করছে।

ছাদের ওপর দুজনের ভেজা পায়ের কাছে ছোট ছোট পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে।
আর মাঝে মাঝে হাল্কা বাতাস এসে দুজনের কাছে কাঁপা কাঁপা ঠান্ডা লাগাচ্ছে।
কিন্তু সেই শীতের মাঝেও আজ দুজনের ভেতরে গরম একটা অদ্ভুত অনুভূতি জেগে আছে।

আয়ন গভীরভাবে তাকাল বৃষ্টির দিকে।
“তোমার চোখে কেন এত গল্প থাকে?”

বৃষ্টি মৃদু হেসে বলল,
“কারণ আমি অনেক কথা বলতে ভয় পাই।”

“আমার সঙ্গে?”

“সময়ই বলবে।”

তারপর দুজন আবার নীরব।
নীরবতা–যে নীরবতা কোনো অস্বস্তি নয়…
বরং যে নীরবতা দুজন মানুষকে আরও কাছে টেনে আনে।

আয়ন ধীরে বলল,
“চলো… নিচে যাই।”

বৃষ্টি মাথা নাড়ল।
ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল দুজন।

নামার সময় আয়ান একটু পিছনে পিছনে হাঁটছিল যেন বৃষ্টিকে আড়াল করে রাখছে।
বৃষ্টি সেটা টের পেয়ে ছোট্ট হাসি দিল।

“কেন? ভয় পাচ্ছ?”

আয়ন বলল,
“না।
শুধু… তোমাকে হারিয়ে ফেলতে চাই না।”

বৃষ্টির গালটা উত্তপ্ত হয়ে গেল।

কারও হাত ধরা হয়নি।
কারও মুখে বড় কোনও কথা নেই।

তবুও বিদায়টা অদ্ভুত রোমান্টিক।

বৃষ্টি বলল,
“আজ… ভালো লাগলো।”

আয়ন তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“শুধু আজ?”

বৃষ্টি লজ্জা পেয়ে বলল,
“যতবার তোমার সাথে কথা বলি…
ততবারই ভালো লাগে।”

আয়ন আর কিছু বলল না।
শুধু তাকিয়ে রইল—
একটা দৃষ্টিতে অনেক কথা বলল সে।

বৃষ্টি অবশেষে ঘুরে দাঁড়াল।
কিন্তু কয়েক পা যেতেই আয়ান ডাকল—

“বৃষ্টি!”

বৃষ্টি থামল।
পেছনে তাকাল।
আয়ন বলল—

“ধন্যবাদ… আজ আমাকে শুনে গেলে।”

বৃষ্টি হাসলো।
“শুনতে আমার ভালোই লাগে।”

(চলবে.................................)

#গল্প #পর্বঃ৪

 #বৃষ্টির_চোখে_ভালোবাসা #পর্বঃ৩ অচেনা অনুভূতি #জান্নাতুন ---☁️ অংশ ১ : হঠাৎ না দেখাবৃষ্টি জানালার পাশে বসে আছে।বাইরে আকা...
12/11/2025

#বৃষ্টির_চোখে_ভালোবাসা

#পর্বঃ৩ অচেনা অনুভূতি

#জান্নাতুন


---

☁️ অংশ ১ : হঠাৎ না দেখা

বৃষ্টি জানালার পাশে বসে আছে।
বাইরে আকাশ ধূসর, সূর্যের কোনো হাওয়া নেই।
বৃষ্টি জানে — আজ হয়তো বৃষ্টি নামবে না, কিন্তু তার ভেতরে একধরনের অদ্ভুত অপেক্ষা চলছে।

📱 ফোন বারবার চেক করছে, কিন্তু আয়ানের কোনো মেসেজ নেই।
শেষ দেখা সেই বইয়ের দোকানের পর থেকে দু’দিন কেটে গেছে।

আয়ান বলেছিল—

> “আগামী শুক্রবার Café Mocha-তে দেখা করো, বিকেল ৫টায়। এক কাপ কফির সাথে কিছু কথা বাকি।”

বৃষ্টি ঠিক সেই কথাটা মনে রেখেই বেরিয়েছে।
চুলগুলো হালকা খোলা, আকাশের মতো রঙের ওড়না, ব্যাগের ভেতর একটি নতুন কবিতার বই—যেটা আয়ানকে দেখাতে চেয়েছিল।

ক্যাফের দরজা ঠেলে ঢুকতেই ভেতরের হালকা কফির গন্ধে মনটা শান্ত হয়ে গেল।
একটা কোণে বসে দু’টা কাপের মধ্যে একটায় নিজের কফি রাখল, আর অন্যটা খালি রেখে দিল—আয়ানের জন্য অপেক্ষা করছে।

সময় গড়িয়ে যায়—
৫টা, ৫টা দশ, ৫টা কুড়ি, তারপর ৬টা।
তবু আয়ান আসে না।

😔 বৃষ্টি কফির কাপে আঙুল ছুঁয়েছে, ঠান্ডা কফিতে নিজের প্রতিফলন দেখে।
মনের ভেতরে একটাই প্রশ্ন— সে কি ভুলে গেছে?

ঠিক তখনই ফোনটা হালকা কাঁপল।
অজানা নাম্বার থেকে মেসেজ—

> “আমি কিছু দূরে আছি, কিন্তু দেখছি তোমাকে।”

বৃষ্টি চমকে ওঠে।
চোখে কৌতূহল আর হালকা ভয়।
ক্যাফের বাইরে জানালা দিয়ে কেউ তাকিয়ে আছে?

না, কেউ নেই।
শুধু বৃষ্টির মতো মেঘলা আলো জানালার কাঁচে লেগে আছে।

বৃষ্টি হালকা ভয় পায়, কিন্তু কৌতূহলও কাজ করে।
মেসেজটা রিপ্লাই দেয়—

> “তুমি কে?”

কোনো উত্তর আসে না।
শুধু বাইরে হালকা হাওয়া বইতে থাকে।

বৃষ্টি উঠে দাঁড়ায়, বিল দেয়, ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে রাস্তায়।
রাস্তার ওপারে বইয়ের দোকানটা বন্ধ।
আয়ানের কথা মনে পড়ে—

> “বইয়ের দোকানে সন্ধ্যা মানেই নতুন গল্পের শুরু।”

বৃষ্টি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাড়ির পথে হাঁটে, কিন্তু মাথার ভেতর একটা প্রশ্ন ঘুরতে থাকে—

> যদি সে আয়ান হয়, তাহলে কেন সে নিজেকে লুকাচ্ছে?

---

🌿 অংশ ২ : অতীতের জানালা

দুই দিন পরও কোনো খোঁজ নেই।
আয়ান যেন হারিয়ে গেছে পৃথিবী থেকে।

বৃষ্টি এক বিকেলে তার বন্ধু রিয়ার সাথে দেখা করে।
রিয়া আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়ানের সাথে পড়তো।

> “রিয়া, তুমি আয়ানকে চিনো না?”
রিয়া চুপ করে থাকে।
“চিনি... কিন্তু ওর কথা এখন কেউ তোলে না বৃষ্টি।”

> “কেন?”
রিয়ার চোখে ঝলক ধরে—
“একটা মেয়ে ছিল ওর জীবনে, খুব ভালোবাসত ওকে। নাম সায়ন্তনী। দু’জনই বৃষ্টির দিনে পরিচিত হয়, একদম তোমাদের মতোই। কিন্তু দুর্ঘটনায় মেয়েটা মারা যায়। তখন থেকে আয়ান নিজের দোষ মনে করে, নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে সবাই থেকে।”

বৃষ্টি স্তব্ধ হয়ে যায়।
তার মনে পড়ে সেই চোখদুটো, যেখানে মাঝে মাঝে একধরনের ছায়া দেখেছিল সে।
সেই হাসির আড়ালে লুকানো এক নীরবতা, যেটা সে তখন বুঝতে পারেনি।

রিয়া বলে,

> “ও এখনও মাঝে মাঝে যায় চন্দ্রবিন্দু বইয়ের দোকানে। একা বসে লিখে। কেউ কাছে যায় না।”

বৃষ্টি কিছু না বলে উঠে দাঁড়ায়।
মনে মনে ভাবছে—
হয়তো আমি ওর গল্পটা শেষ করতে পারব না, কিন্তু আমি ওর একলা বৃষ্টিটাকে আলাদা করে দিতে পারি।

সন্ধ্যায় বৃষ্টি পৌঁছায় চন্দ্রবিন্দু বইয়ের দোকানে।
দরজার পাশে বসে আছে আয়ান, টেবিলে একটা নোটবুক খোলা, তাতে অগোছালো কিছু শব্দ—

> “তুমি নেই, তাই আমি আছি।
তুমি ছিলে, তাই আজও বাঁচি না।”

বৃষ্টি নিঃশব্দে এগিয়ে যায়, পাশে বসে বলে—

> “তোমার গল্পের শেষ লাইনটা ভুল।”

আয়ান তাকায়—চমকে ওঠে।

> “বৃষ্টি? তুমি এখানে?”

> “তোমাকে না পেলে বৃষ্টি কেমন লাগে জানো?
শুধু ভেজা থাকে, কিন্তু গন্ধটা থাকে না।”

আয়ান চোখ নামিয়ে ফেলে।

> “সব কিছু ঠিক আছে, বৃষ্টি। তুমি এসো না এখানে।”

> “না আয়ান, আমি ঠিক আছি, কিন্তু তুমি নয়।”

নীরবতা নেমে আসে দোকানের ভেতর।
দুজনেই শুধু বইয়ের পাতার শব্দ শুনতে পায়।

---

☔ অংশ ৩ : নতুন শুরু

সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে আসছে।
বৃষ্টি ধীরে বলে,

> “সায়ন্তনীকে তুমি ভালোবাসতে, তাই না?”

আয়ান কিছু বলে না, চোখের কোণে জল চিকচিক করে।

> “আমি তাকে রক্ষা করতে পারিনি, বৃষ্টি।
সেদিন আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম — বৃষ্টিতে তার হাত ছাড়ব না। কিন্তু... আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।”

বৃষ্টি চোখ বন্ধ করে শোনে।
তার মনে হয়—আয়ানের বুকে জমে থাকা প্রতিটি শব্দ যেন কাঁদছে।

> “তুমি যদি তাকে ভুলতে না পারো, আমি তোমার ভবিষ্যত হতে চাই,”
বৃষ্টি নিঃশব্দে বলে।

আয়ান তাকায়—অবিশ্বাসে, বিস্ময়ে।

> “তুমি জানো তুমি কী বলছ?”

> “হ্যাঁ। আমি জানি, তোমার অতীতের কোনো জায়গায় আমি দাঁড়াতে পারব না।
কিন্তু তোমার আগামীটা যেন শূন্য না থাকে।”

বাইরে হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করে।
আয়ান ধীরে বৃষ্টির হাত ধরে—

> “এই বৃষ্টিটা... ঠিক সেই দিনের মতো।”

বৃষ্টি হেসে বলে,

> “তফাত শুধু একটাই — এবার কেউ কারও হাত ছাড়বে না।”

দু’জনই দোকান থেকে বেরিয়ে আসে।
রাস্তায় নেমে বৃষ্টির ফোঁটা চুলে, মুখে, চোখে ঝরে পড়ে।

> আয়ান বলে,
“তুমি জানো বৃষ্টি, কখনও কখনও নতুন ভালোবাসা মানে পুরোনো ক্ষতটাকে মুছে ফেলা নয় — বরং তার ওপর ফুল ফোটানো।”

বৃষ্টি বলে,..............................চলবে।

 #বৃষ্টিরচোখেভালোবাসা  #পর্বঃ২ এক কাপ কফির আলাপ #জান্নাতুন ---☕ এক কাপ কফির আলাপবৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু বাতাসে এখনো ভিজে গ...
07/11/2025

#বৃষ্টিরচোখেভালোবাসা
#পর্বঃ২ এক কাপ কফির আলাপ
#জান্নাতুন


---

☕ এক কাপ কফির আলাপ

বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু বাতাসে এখনো ভিজে গন্ধ।
রাস্তার পাশে ছোট্ট কফিশপ, কাঁচের জানালায় জমে থাকা ফোঁটার রেখা গলে নেমে যাচ্ছে নিচে।
বৃষ্টি আজও এসেছে “Café Mocha”-তে।
তার মনে হচ্ছিল, এখানে হয়তো আবার দেখা হবে…
তবে কাকে, সেটি সে নিজেও জানে না—নাকি জানে, শুধু স্বীকার করতে সাহস পায় না।

চুপচাপ এক কোণে বসে সে নিজের মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে ছিল।
কিন্তু মনটা যেন অন্য কোথাও ঘুরে বেড়াচ্ছে—বইয়ের দোকান, বৃষ্টির ছায়া, ছাতার নিচের একজোড়া চোখ...
আয়ানের চোখ।

মনে পড়ে যায়, সেই দিনটা কেমন অদ্ভুতভাবে বদলে দিয়েছিল তাকে।
যেন একদিনেই কেউ তার ভেতরের হালকা আলো জ্বেলে দিয়ে গেছে।

ঠিক তখনই দরজার ঘণ্টা বেজে উঠল।
বৃষ্টি মাথা তুলে দেখল—আয়ান।
একই সেই নরম মুখ, ভিজে চুল, চোখে মৃদু হাসি।

“তুমি আবার?”
বৃষ্টি অবাক হয়ে বলল।

“তুমি তো বলেছিলে কফি খেতে ভালো লাগে। ভাবলাম, আজও খাওয়া যাক।”

বৃষ্টি হাসল।
“তুমি তো খুব সহজেই ফিরে এলে।”

“যাদের ফিরে আসার কারণ থাকে, তাদের জন্য পথ কখনো কঠিন হয় না।”

বৃষ্টির বুক কেমন করে উঠল।
এই ছেলেটা যেন কথা নয়, আবেগ দিয়ে কথা বলে।

ওরা একসাথে জানালার পাশে বসল।
বাইরে এখনো আকাশ মেঘলা, মাঝে মাঝে সূর্যের আলো ফোঁটাচ্ছে।

ওয়েটার এসে বলল, “কফি?”
আয়ান বলল, “দুটো কফি—একটা হালকা, একটা একটু strong।”

“কোনটা কার জন্য?”
বৃষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করল।

“Strong টা তোমার জন্য। কারণ তোমার চোখে শক্ত মেয়ের ছাপ আছে।”

বৃষ্টি তাকিয়ে রইল আয়ানের দিকে।
“তুমি সবসময় এমন কথা বলো?”

“না, কিন্তু তুমি শুনলে বলতে ইচ্ছে করে।”

কফি এল, ধোঁয়া উঠছে কাপের মুখে।
বৃষ্টি কাপটা হাতে নিয়ে একচুমুক খেল।
“তুমি জানো, বৃষ্টি হলে আমি কফি ছাড়া থাকতে পারি না।”

“তাই তো মনে হলো, তুমি নিজেই কফির মতো। প্রথমে একটু তেতো, তারপর ধীরে ধীরে মিষ্টি।”

বৃষ্টি হেসে ফেলল।
“তুমি খুব smooth, জানো?”

“না, আমি শুধু সত্যি বলি।”

ওরা একটানা কথা বলতে লাগল—ছোট ছোট বিষয়ে, প্রিয় গান, প্রিয় বই, শৈশবের গল্প, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
প্রতিটি কথার মধ্যে অজান্তেই তৈরি হচ্ছিল এক অদৃশ্য সুতোর বাঁধন।

বৃষ্টি জানতে পারল, আয়ান লেখালিখি করে।
ছোট গল্প, কবিতা—তার শব্দে নাকি মানুষ নিজেদের খুঁজে পায়।

“তুমি তাহলে কবি?”
বৃষ্টি জিজ্ঞেস করল।

আয়ান মৃদু হাসল,
“না, আমি কেবল অনুভূতি লিখি। তুমি চাইলে, তোমার নামেও লিখে ফেলতে পারি একটা কবিতা।”

বৃষ্টি বলল,
“না না, আমি কবিতার মতো জটিল নই।”

“তুমি ভাবছো তুমি সহজ, কিন্তু তোমার মধ্যে হাজার রঙ লুকিয়ে আছে। আমি দেখছি, প্রতিটি রঙ আলাদা গল্প বলে।”

বৃষ্টি হেসে মাথা নিচু করল।
তার গাল লাল হয়ে উঠল।
মনে হচ্ছিল, এই মানুষটার চোখের গভীরতা যেন তার মনের সব কথা পড়ে ফেলছে।

কফি শেষ। কিন্তু কথার শেষ নেই।
ওরা বাইরে বেরিয়ে এল।
আকাশে আবার হালকা বৃষ্টি নামছে।

“তুমি ভিজবে?”
আয়ান জিজ্ঞেস করল।

বৃষ্টি হেসে বলল,
“তুমি থাকলে বৃষ্টি ভয় লাগে না।”

দুজনেই ধীরে হাঁটছিল রাস্তার ধারে।
বৃষ্টির গায়ে পড়ছে ফোঁটা, আয়ান হাত বাড়িয়ে ধরল একটা ফোঁটা।

“জানো, আমি ছোটবেলায় ভাবতাম—যখন বৃষ্টি পড়ে, তখন স্বর্গ থেকে কেউ ভালোবাসা পাঠায়।”

“তাহলে আজকার বৃষ্টি আমাদের জন্য?”
বৃষ্টি প্রশ্ন করল।

“হয়তো। অন্তত আমার মনে তাই হচ্ছে।”

ওরা একটা পার্কে গিয়ে থামল।
বেঞ্চে বসে নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।
শব্দহীন সেই নীরবতায়ও কথার চেয়ে বড় অনুভূতি ছিল।

আয়ান পকেট থেকে একটা কাগজ বের করল।
“তুমি কি বিশ্বাস করবে, আমি গতকালই তোমাকে নিয়ে লিখে ফেলেছি কিছু?”

“আমাকে নিয়ে?”

“হ্যাঁ।”

আয়ান কাগজটা খুলে পড়তে লাগল—

> “বৃষ্টি নামে এক মেয়ে,
চোখে তার শান্তির আকাশ।
হাসলে মনে হয়, সূর্য লুকিয়ে পড়ে।
চুপ থাকলে মনে হয়, শব্দ হারিয়ে যায়।
আমি জানি না, ও আমার জীবনের অংশ কি না,
কিন্তু ওর এক চিলতে হাসি,
আমার প্রতিটা রাতের আলো।”

বৃষ্টির চোখে পানি চলে এল।
“তুমি আমাকে একদিনেই এতটা জেনে ফেললে?”

“তোমাকে জানতে সময় লাগে না, শুধু অনুভব লাগে।”

বৃষ্টি হালকা হাসল।
“তুমি খুব অন্যরকম, আয়ান।”

“তুমি-ও।”

ওরা হাঁটছিল একসাথে।
বৃষ্টির ফোঁটা তাদের চুলে, কাঁধে পড়ছে।
বৃষ্টি হঠাৎ বলল,
“তুমি জানো, আমি অনেকদিন ধরে একা হাঁটছি। কিন্তু আজ প্রথমবার মনে হচ্ছে, কেউ আমার পাশে আছে।”

আয়ান বলল,
“আমি এসেছি থাকতেই।”

একটা নরম বাতাস বয়ে গেল,
চুল উড়ে এলো বৃষ্টির মুখে।
আয়ান হাত বাড়িয়ে চুলটা সরিয়ে দিল।

দুজনের চোখে চোখ।
কোনো কথা নেই, কিন্তু পুরো পৃথিবী যেন তাদের জন্য থেমে গেল।

বৃষ্টি চোখ বন্ধ করে নরম স্বরে বলল,
“তুমি যদি এমন করে তাকিয়ে থাকো, আমি বৃষ্টিতে হারিয়ে যাব।”

“তাহলে আমি খুঁজে নেব তোমাকে… প্রতিটা ফোঁটায়।”

একটা গাড়ির হর্ণ তাদের বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনল।
বৃষ্টি হেসে বলল,
“চলো, আজ অনেক কথা হলো।”

আয়ান থামল, তারপর বলল,
“বৃষ্টি, আমি কি কাল তোমাকে আবার দেখতে পারি?”

বৃষ্টি একটু চুপ করে থাকল, তারপর মৃদু হেসে বলল,
“দেখা তো হতেই পারে… তবে তুমি চাও কেন?”

“কারণ আজ আমার পৃথিবীটা তোমাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে।”

বৃষ্টি চোখে হালকা ঝিলিক নিয়ে বলল,
“তুমি যদি এমন বলো, আমি হয়তো আবারও কফি খেতে চাইব।”

আয়ান মুচকি হাসল।
“তাহলে কাল এই একই জায়গায়?”

“হয়তো।”

বৃষ্টি ধীরে ধীরে চলে গেল।
আয়ান দাঁড়িয়ে রইল, তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন কোনো সুরের মতো বাজছিল।
আকাশে হালকা বৃষ্টি পড়ছে।
আয়ান মনে মনে বলল,
“তুমি যদি সত্যিই বৃষ্টি হও, তবে আমি প্রতিদিন এই ভেজা শহরে তোমাকে খুঁজব।”

> বৃষ্টি বাড়ি ফিরে এসে জানালার পাশে দাঁড়াল। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, তার ঠোঁটে একরাশ হাসি।
মনে মনে সে বলল,
“এই মানুষটার

Address

Rangpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hold the puzzle posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share