04/03/2026
জাহেলী যুগের বর্বরতাকে ও হার মানিয়ে দিয়েছে। বিবৃতি:
পাবনার হতভাগা মেয়েটি হাফেজা ছিল। পড়ত আলিয়া মাদরাসায়, দাখিলে। বোরকা পরে আসা-যাওয়া করত। বাড়িতে থাকত দাদির সাথে। রুটি-রুজির জন্য বাবা থাকতেন শহরে, মায়ের সাথে সেপারেশন হয়েছে। তিনি থাকতেন অন্য কোথাও।
জামিলা নামের পনেরো বছরের মেয়েটি ধ^র্ষণ ও নৃশংস হ^ত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তারই চাচার মাধ্যমে। ঘাতক শরিফুল ইসলাম তার দাদির আপন বোনের ছেলে। মাঝেমধ্যে বাজার-সদাই করে দিত। উঠতিবয়সী ভাতিজির দিকে তার কুনজর ছিল আগে থেকেই।
একদিন বাজার দেয়ার নাম করে ঘরে ঢুকে যায় শরীফ। দাদি বাড়িতে ছিল না। জামিলাকে বাজে প্রস্তাব দেয়। না মানলে জবরদস্তি করে। কিন্তু চিল্লাচিল্লি শুরু হলে দৌড়ে পালায়। পরে ২৭ তারিখ রাতে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে আবারও আসে। ঘরে ঢুকতেই দাদি রাগারাগি শুরু করলে তার মাথায় জোরে আঘাত করে শরীফ। বৃদ্ধা মাটিতে পড়ে যান এবং রক্তক্ষরণ হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর জামিলার সাথে হুড়োহুড়ি হয়। সে চিতকার করতে থাকে। বিলের পাশে বাড়ি হওয়ায় আশেপাশের লোকেরা তেমন শুনতে পায়নি। রোজার মাস, সবাই ঘুমিয়েছে। ভোররাতে উঠতে হবে। জামিলাকে থামাতে শরীফ হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় বাড়ি মারে। সে কিছুটা নিথর হয়ে এলে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে পুকুরের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে আধমরা অবস্থায় তার সাথে নিজের কামনা পুরা করে জানোয়ার। দুর্বল দেহে তখন চিৎকার করার শক্তিও ছিল না জামিলার।
তারপর বাঁশের মুথা দিয়ে আরো কয়েকটা আঘাত করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা চেপে ধরে ঘাতক। মারা গেছে বুঝতে পারলে হাত-পা টেনে পাশের সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র করে ফেলে আসে। পরদিন সকালে এলাকাবাসী দাদিকে উঠোনে মরে পড়ে থাকতে দেখে। নাতনিকে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে সরিষা ক্ষেতে যায়। সেখানে তাকে বিকৃত ও উলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের হাতে ধরা পড়বার পর শরীফুল এই জবানবন্দি দিয়েছে। একটা উঠতিবয়সী তরুণী, স্বজনদের কথামতো কুরআনের হাফেজা। নিজের বলতে গেলে আপন চাচার দ্বারা এতটা নৃশংসতার শিকার হবে কোনোদিন কল্পনা করেছিল? ধ^ক্ষণ তো এদেশে ডালভাত হয়ে গেছে, কিন্তু এভাবে একটা মেয়েকে উলঙ্গ করে মেরে ক্ষেতে ফেলে যাওয়া, তার নূন্যতম মর্যাদাটুকুও নষ্ট করা—কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে?
আমি আর কিছু বলতে চাই না। আসলে বলার শক্তিও নেই। নরসিংদীর আমেনার ঘটনাকে ভেবেছিলাম সবচেয়ে নৃশংস, পরে আসল ঢাকার একটি শিশুর ঘটনা, জানলাম সিতাকুণ্ডের ইরামনির গল্প। আজই মেয়েটা মারা গেল। মনে হলো এরচেয়েও ঘৃণ্য কিছু তো হতে পারে না। আজ পবিত্র রমজান মাসে, নিজের চাচার দ্বারা, একটা হাফেজা মেয়েকে এতটা নির্মমভাবে ধ^র্ষিত ও লাঞ্ছিত হতে দেখে ভাবছি—এ ঘটনার চেয়েও বাজে কিছুর জন্য হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
কারণ আমরা বিচারহীন, অবিবেচক একদল অমানুষের দেশে জন্মেছি। এই জন্মই আমাদের আজন্ম অপরাধ। যে অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যুর আগে আমাদের নিস্তার নেই।
~সংগৃহীত