16/05/2026
১৬ মে। ফারাক্কা দিবস।
বাংলার নদী, মাটি আর মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর স্মৃতির দিন। এই দিনটি শুধু একটি আন্দোলনের ইতিহাস নয়, এটি ছিল পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে মানুষের কণ্ঠ এক হয়ে ওঠার দিন।
১৯৭৬ সালের ১৬ মে, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী-এর নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ রাজশাহী থেকে ফারাক্কার উদ্দেশ্যে লংমার্চে অংশ নিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু অত্যন্ত জরুরি। পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দিতে হবে, বাংলার মানুষকে বাঁচাতে হবে। কারণ নদী শুধু পানি নয়, নদী মানে কৃষকের ফসল, জেলের জাল, গ্রামবাংলার জীবন আর প্রকৃতির ভারসাম্য।
ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে পানির প্রবাহ কমে যায়। শুকিয়ে যেতে থাকে নদী, বদলে যেতে থাকে জনপদের চিত্র। উত্তরাঞ্চলের মাটি ফেটে চৌচির হয়েছে, কৃষক হারিয়েছে তার ফসলের নিশ্চয়তা, নদীভাঙন আর মরুকরণের আশঙ্কা বেড়েছে বহু গুণ। সেই বাস্তবতার প্রতিবাদ থেকেই জন্ম নিয়েছিল ফারাক্কা দিবস।
এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি দেশের নদী কেবল ভূগোলের অংশ নয়, এটি তার ইতিহাস, সংস্কৃতি আর অস্তিত্বের অংশ। নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচে, সভ্যতা বাঁচে। তাই ফারাক্কা দিবস শুধু অতীতের স্মরণ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী ও পরিবেশ রক্ষারও এক নীরব অঙ্গীকার।
আজকের এই দিনে আমরা সেই সব মানুষকে স্মরণ করি, যারা বাংলার নদীর জন্য, পানির ন্যায্য অধিকারের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। তাদের কণ্ঠ আজও পদ্মার ঢেউয়ের মতো আমাদের মনে প্রতিধ্বনিত হয়।