23/02/2026
একটু আগে র্যান্ডমলি নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এর একটা ভিডিওতে আটকে গেলাম। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক সমিতির লোকজনদের নিয়ে আলোচনায় বসেছেন। ভিডিওটায় আমি আলোচনার কিছুই দেখিনি। কেবল দেখলাম শিক্ষামন্ত্রী বারবার একটা প্রশ্ন করছেন এবং ওনার সামনে বসা জাতির সো কল্ড শিক্ষকরা কোনোভাবেই সেই প্রশ্নটা ভালোভাবে বুঝে উত্তর দিতে পারছেনা।
জ্বি না, কোনো কঠিন কেতাবি প্রশ্ন ছিলোনা। মন্ত্রীর প্রশ্নটা ছিলো বেশ সিম্পল, "আপনারা আমার কাছে নিজেদের সুবিধার জন্য এতো দাবীদাওয়া করছেন মানলাম, কিন্তু এর বিনিময়ে আপনারা কী দিবেন? এতো দাবীদাওয়ার বিনিময়ে আমি এইদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কল্যানের জন্য আপনাদের থেকে কী পাবো? কী কী প্রমিজ বা প্ল্যান নিয়ে এসেছেন আপনারা?"
এই প্রশ্ন করতে না করতেই সবাই একযোগে হৈহল্লা শুরু করলো। সবাই একসাথে কথা বলে যাচ্ছে। শেষে মন্ত্রী নিজেই বললেন, আপনারা তো শিক্ষক। আপনাদের দেখেই তো সবাই শিখবে। অথচ আপনারা ডিসিপ্লিন মেইন্টেইন করে কথাই বলতে জানেন না। একজনের কথার মধ্যে আরেকজন ইন্টারাপ্ট করেন, কিংবা সবাই মিলে একযোগে চেচামেচি শুরু করেন। এটা তো আপনাদের মানায়না। দয়া করে আপনারা chronologically কথা বলুন এবং এই সিরিয়ালটা সবসময় আমার সাথে কথা বলতে এসে মেইন্টেইন করবেন।
গেজ হোয়াট? সেইসব শিক্ষক নেতারা কেউ এই শব্দটার মানেই বুঝেন নাই। ওনারা একইভাবে হইহট্টগোল করেই গেলেন। শেষে যখন কোনোভাবে সবাইকে থামিয়ে একজনের মাইক অন করা হলো — তিনি উপরের ওই সহজ প্রশ্নের উত্তরে বললেন, "আমরা আপনার কাছে একটা কারিকুলাম চাই এবং সেটা আমরা বাস্তবায়ন করবো"।
অবাক হয়ে গেলাম উত্তর শুনে। এরপর দেখলাম শিক্ষামন্ত্রীই ওনাকে পাল্টা বললেন, "আমি আপনাদের প্রমিজ ও প্ল্যান শুনতে চেয়েছি। আপনারা প্রশ্ন না বুঝেই উত্তর দিলেন। আমি যদি এখন নতুন কারিকুলাম না দেই তাহলে বর্তমান কারিকুলাম থেকে কি আপনারা কোনো আউটপুট আনবেন না?"
পিনপতন নীরবতা। এরপর কয়েকজনের কাছেই সিরিয়ালি মাইক্রোফোন গেলো। এবং তারা কেউই প্রশ্নটার যথাযথ উত্তর দিতে পারেন নি। ওই একই ভাঙ্গা ঢোল বাজিয়ে গেলেন। শিক্ষামন্ত্রী বারবার তাদেরকে ডিসিপ্লিন মেইন্টেইন ও প্রোপারলি উত্তর দিতে বললেন — এবং একজনও সেটা পারেনি।
এই হলো এদেশের শিক্ষক সমিতির নেতাদের অবস্থা। ওনাদের দেখলেই মূলত বোঝা যায় এদেশের এমন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য কারিকুলাম যতোটা না দায়ী তারচেয়ে বেশি দায়ী এই অথর্ব শিক্ষকদের দল। যাদের কাছে অল্পবয়সী শিশুগুলোকে বাবা মা শিক্ষা অর্জনের জন্য তুলে দেন। কিন্তু তাদের নিজেদের ভেতরই যে প্রোপারলি কমিউনিকেট করা, বাচ্চাদের সাইকোলজি বোঝা ও একাডেমিক বেসিকের বিশাল ঘাটতি — তা আসলে অনেকেই মানতে চাইবেন না। তবে আমি মানি। আমি জানি এদেশের প্রাইমারি ও হাইস্কুলের ৯৫% শিক্ষক আনস্মার্ট। এরা জানেনা কীভাবে পড়াশোনাকে একজন স্টুডেন্টের কাছে ইন্টারেস্টিং করে তুলতে হয়। এরা জানে পরীক্ষার হলে বসে কীভাবে চা সিঙ্গারা খেতে খেতে অমুকের বাগানের ঝিঙ্গা, তমুকের বাসার সয়াবিন তেলের আলাপ করতে হয়। এরা জানে কীভাবে ক্লাসে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয়, কিংবা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে টিচার্স রুমে বসে বাচ্চার কাঁথা সেলাই করতে হয়। এর বাইরে এরা জানে কীভাবে কর্কশ গলায় চেঁচাতে হয়। এদের যোগ্যতা অনুযায়ী এরা ৫ হাজার টাকা বেতনও ডিজার্ভ করেনা। বরং এদের পেছনে বেতন ও ট্রেনিং বাবদ যে পরিমান টাকা সরকার খরচ করে তা পুরোটাই অপচয়। কারণ বাচ্চাদের মধ্যে এদেরকে দেখে ক্লাস করতে আগ্রহ জন্মানোর বদলে উল্টা আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়।
অথচ এই সেক্টরটা হওয়া উচিত ছিলো সবচেয়ে প্যাশনেট ও স্মার্ট লোকজনের। আফসোস, আমরা কেবল ভাবি যে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভালোনা। কিন্তু যদি আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা করতাম তাহলে বুঝতাম যে দোষটা আসলে শিক্ষাব্যবস্থার না। একজন ভালো শিক্ষক কয়লা খুড়ে ঠিকই হীরা বের করে আনতে জানে। আর শিক্ষকের আসনে বসা অযোগ্য লোকজনকে স্বর্নের খনির পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে এলেও তারা বাহানা দেয়, "সরকার তো মাটি খোড়ার জন্য আমাকে কোদাল দেয়নাই"।
Collected...