22/01/2026
🌼কুরআন এবং হাদিসে অনেকগুলো তওবা ও ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) দোয়া বর্ণিত হয়েছে। তওবা হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া।
🔺নিচে কুরআন ও হাদিস থেকে শ্রেষ্ঠ কিছু তওবার দোয়া, তাদের উচ্চারণ ও ফজিলত দেওয়া হলো:
🔹১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (তওবার শ্রেষ্ঠ দোয়া)
এটি ইস্তিগফারের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দোয়া। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি দিনে বা রাতে এটি বিশ্বাসের সাথে পড়বে এবং ওই দিন বা রাতে মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে। (সহিহ বুখারি)
আরবি: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত’তু। আ’উযুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু। আবু-উ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবু-উ লাকা বিযাম্বি, ফাগফিরলি, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আন্তা।
ফজিলত: এটি তওবার সকল দোয়ার সর্দার। জান্নাত নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করা সুন্নত।
🔹২. হযরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া (দোয়া ইউনুস)
বিপদ থেকে উদ্ধার এবং গুনাহ মাফের জন্য এটি অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া।
আরবি: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন।
ফজিলত: মাছের পেটে থাকা অবস্থায় এই দোয়া পড়ে হযরত ইউনুস (আ.) মুক্তি পেয়েছিলেন। কোনো মুসলিম এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।
🔹৩. হযরত আদম ও হাওয়া (আ.)-এর তওবা (কুরআন থেকে)
মানুষ হিসেবে ভুল করলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এটিই প্রথম দোয়া যা শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরবি: رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
উচ্চারণ: রাব্বানা যলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন। (সূরা আরাফ: ২৩)
ফজিলত: এটি অত্যন্ত বিনয়পূর্ণ তওবা। আল্লাহ আদম (আ.)-কে এই শব্দগুলো শিখিয়েছিলেন যার মাধ্যমে তাঁর তওবা কবুল হয়েছিল।
🔹৪. গুনাহ মাফের ছোট ও শক্তিশালী দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়াটি পড়বে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন, এমনকি সে যদি রণক্ষেত্র থেকেও পালিয়ে আসার মতো বড় গুনাহ করে থাকে। (আবু দাউদ, তিরমিজি)
আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
ফজিলত: বড় গুনাহ (কবিরা গুনাহ) মোচনের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।
🔹৫. নামাজের বৈঠকে পঠিত তওবা
হযরত আবু বকর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নামাজের শেষে পড়ার জন্য একটি দোয়া শিখিয়ে দিতে বললে তিনি এটি শিখিয়ে দেন।
আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি যালামতু নাফসি যুলমান কাসীরাওঁ ওয়া লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আন্তা। ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহীম।
ফজিলত: এটি নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে আল্লাহর দয়া পাওয়ার অনন্য এক দোয়া।
🔴তওবা কবুলের ৩টি শর্ত: ১. গুনাহটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া। ২. কৃতকর্মের জন্য মনে মনে লজ্জিত হওয়া। ৩. ভবিষ্যতে ওই গুনাহ আর কখনও না করার দৃঢ় সংকল্প করা।