02/06/2026
রৌমারী নান্না বিরিয়ানী হাউজে ব্যাঙ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই “ব্যাঙের মাংস দিয়ে বিরিয়ানী রান্না করা হয়েছে” কিংবা “দোকানদার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ করেছে” বলে পোস্ট করছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঘটনার মূল বিষয় হলো— আশিক হুজুর ও আতোয়ার হুজুর রৌমারী নান্না বিরিয়ানী হাউজ থেকে ৫ প্যাকেট মোরগ পোলাও কিনে আশিক হুজুরের বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর আশিক হুজুরের ভাবী বাচ্চাদের খাবার পরিবেশন করার সময় দ্বিতীয় প্যাকেটে একটি ছোট আকারের ব্যাঙ দেখতে পান। এরপর প্যাকেটগুলো নিয়ে আশিক হুজুর ও আতোয়ার হুজুর বিরিয়ানীর দোকানে আসেন এবং সঙ্গে সঙ্গে দোকানে জানানো হয়।
আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করি। তখন দোকানদার বলছিলেন, “ভাই, হয়তো আমাদের অজান্তে লাফিয়ে পড়েছে, আমরা দেখতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা করবেন না।” উপস্থিত কেউ তখনও বিষয়টিকে “ব্যাঙের মাংস রান্না” হিসেবে বলেননি।
সেখানে উপস্থিত আরিফ ভাই, আতিকুর ভাই ও হাফিজুর ভাই ইতোমধ্যে খাবার অর্ডার করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে হাফিজুর ভাই বলেন, মাহবুব ভাই আসুক, তিনি এমপির প্রতিনিধি— তিনি বিষয়টি দেখবেন। এর মধ্যে শেখ ফরিদ ভাই এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। আমিও বলেছিলাম, বর্ষাকালে রান্নার সময় অসাবধানতাবশত ব্যাঙ, ফড়িং, তেলাপোকা ইত্যাদি পড়ে যাওয়ার ঘটনা অনেক জায়গায় দেখা যায়। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও ইচ্ছাকৃত কিছু নয়।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। দোকানটি মেইন রোডের পাশে হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভিড় জমায়। পরে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ ঘটনায় কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। দোকান কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাঙ দেয়নি, আবার ক্রেতারাও কাউকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এমন কিছু করেননি। এটি মূলত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
তাই যারা “ব্যাঙের মাংস দিয়ে বিরিয়ানী রান্না করা হচ্ছে” এমন অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট করছেন, তাদের কাছে অনুরোধ— দয়া করে সেসব পোস্ট সংশোধন করুন। কারণ এমন গুজব ও অতিরঞ্জিত প্রচারণা একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করে।
আশা করি সবাই বিষয়টি বিবেক ও বাস্তবতা দিয়ে বিচার করবেন।