12/11/2025
জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ৮০ পার করা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বৃদ্ধ মুহাম্মদ মুছা ৮ সন্তানের কাছে ওমরাহ হজ্বে যাওয়ার ইচ্ছে জানালেন কিন্তু সন্তানেরা জানিয়ে দিলেন তাদের কাছে সেই টাকা নেই। সন্তানেরা মুখ ফেরালেও মুহাম্মদ মুছা দমবার পাত্র ছিলেন না। যেই ভাবা সেই কাজ। সিদ্ধান্ত নিলেন, নিজের জমি বিক্রি করে হলেও আল্লাহর ঘরে যাবেন। বাবার জমি বিক্রির কথা শুনে সন্তানদের ১জন সেটা কিনতে চাইলো, বিক্রিও করলেন বৃদ্ধ। আর এতেই বাঁধল বিপত্তি।
বাবার এই সিদ্ধান্তে অন্য ছেলেরা চরমভাবে খে/পে যায়। তাদের দাবি, কেন ভালো জমিটি এক সন্তান একাই পেল? এই ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় অ/মা/নবিকতা। বৃদ্ধ মুহাম্মদ মুছার জীবন দু/র্বিষহ করে তোলে তারই বাকি সন্তানেরা। শুরু হয় নিজের জন্মদাতা পিতার উপর নানামুখী অ/ত্যা/চা/র, অ-বি-চা-র, এমনকি এক পর্যায়ে আসে জানে মে-রে ফেলার হু/ম/কি/ও।
এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি সমাধানে এগিয়ে আসেন স্থানীয় গণ্যমান্য মুরব্বিরা, বসেন রাজনৈতিক নেতারাও। কিন্তু কোনো কিছুতেই বরফ গলেনি সন্তানদের। সন্তানদের রোষানলে পড়ে অসহায় মুহাম্মদ মুছা যখন কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না, তখনই আশার আলো হয়ে আসলেন ফটিকছড়ির ইউএনও মোজাম্মেল হক চৌধুরী, তিনি ঘটনা জানার পর পরই ছুটে যান ফটিকছড়ি পৌরসভার জব্বারিয়া স্কুলের পাশে বৃদ্ধ মুহাম্মদ মুছার বাড়িতে, উপস্থিত হয়ে সবার উপস্তিতিতে বক্তব্য নেন।
তিনি উপলব্ধি করেন বৃদ্ধ বাবার আর্তি আর সন্তানদের অবহেলা। এরপর তিনি কঠোর ভাষায় ছেলেদের সতর্ক করে দেন। সাফ জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে বাবার প্রতি কোনো অবহেলা, হু/ম/কি বা অযত্ন করা হলে প্রচলিত আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সন্তানদের বাবার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করে বিনয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রশাসনের কর্মকর্তার এমন মানবিক হস্তক্ষেপে এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিনের গুমোট পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
মুহাম্মদ মুছা নিশ্চিত করেছেন, সব বাধা কেটে গেছে। আসছে ১৬ নভেম্বর তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি তিনি দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন। এই স্বস্তির মুহূর্তে মুহাম্মদ মুছা আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সূত্র: একুশে পত্রিকা