Terra Soord Moa

Terra Soord Moa সৃজনশীল কল্পনা গল্পের সৌন্দর্য সৃষ্টি, The world is in the beautiful imagination.

 #রক্তাত্ত_অতীত #পর্বঃ ৪ #লেখনীতে :   কপি🚫ছোট কুটির বাসায় হাসি-খুশি যেন শেষ হয়নি। আজ অদ্বিকা ভীষণ খুশি। বাচ্চাটা কেন জান...
16/03/2026

#রক্তাত্ত_অতীত
#পর্বঃ ৪
#লেখনীতে :

কপি🚫

ছোট কুটির বাসায় হাসি-খুশি যেন শেষ হয়নি। আজ অদ্বিকা ভীষণ খুশি। বাচ্চাটা কেন জানি কম হাসে, তবে মাঝে মাঝে তার মুখে খুব করে খুশির ঝিলিক দেখা যায়। আর সেই খুশিতে সে অভ্রকে সামিল করে। কাতুকুতু দিয়ে অভ্রকে খুব হাসায়।

আজ তার খুশির কারণ হলো তার মাম বলেছে সবাইকে নিয়ে বাইরে যাবে। সারাবিকেল বাইরে ঘুরে সন্ধ্যায় অদিতিকে ডাক্তার দেখিয়ে বাইরে খেয়ে তারপর বাসায় আসবে। আর কী লাগে অদ্বিকার খুশির জন্য!

গত তিন মাস ধরে অদিতিকে নতুন ডাক্তার দেখাচ্ছে অদ্রিতা। ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি এবং আংশিক প্যারালাইসিসের জন্য অদিতি আড়াই বছর ধরে এই অবস্থায় আছে।

নতুন চাকরি পাওয়ার পর অদ্রিতা আবার স্বপ্ন দেখে অদিতির সুস্থ হওয়ার। ডক্টর আভিরাজ মির্জা দেশের একজন খ্যাতনামা নিউরোলজিস্ট। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর জটিল রোগ নিয়ে কাজ করার জন্য তার আলাদা সুনাম আছে। অনেক বছর পরও যেসব রোগীর উন্নতির আশা থাকে না, তাদের মধ্যেও তিনি আশার আলো জ্বালাতে পারেন।

তাই অদ্রিতা মনে করে তার অদিতি আবার হাঁটবে। আর না হাঁটুক, অন্তত স্বাভাবিকভাবে কথা বলুক। আর সেই দিন কী হয়েছিল তা বলুক।
সন্ধ্যা তখন সাতটা। ১৪ নম্বর সিরিয়ালটা অদিতির ছিল। চেম্বারে ঢুকতেই আভিরাজের চোখ অদ্রিতার দিকে যায়। মেয়েটাকে আভিরাজের মনে আছে। দেখতে তার মেয়ে আভিরার মতো লাগে—বিশেষ করে চোখ আর কপাল।
তার এটা মনে হওয়ার কারণ কী? দুইজনই চোখ-মুখ কুঁচকে কথা বলে, মনে হয় সেই জন্য।

কিন্তু তার মেয়েটা ছোট, আর এই মেয়ের দুইটা বাচ্চা আছে। সেটাও তার কাছে অবাক লাগে। মেয়েটাকে দেখতে মনে হয় বিশ-বাইশ বছর, কিন্তু মেয়ের বয়সও আট-নয় বছর হবে।

তার এই মেয়েটাকে মনে রাখার কারণ কী?
প্রথম যেদিন মেয়েটা এসেছিল, সেদিন তার যাওয়ার সময় তার দিকে তাকানো দেখে তার এসিস্ট্যান্ট সামি বলেছিল—

সামি :
মেয়েটা দেখতে ভালো হলেও আসলে একটা বেয়াদব।

আভিরাজ :
কেন, কী করেছে?

সামি :
স্যার, এই মেয়ের মেয়ে আমার ছেলের সাথে এক স্কুলে পড়ে। গতকাল দুইজন কেন জানি ঝামেলা করেছে। আমার ছেলে তার মেয়েকে মেরেছে। এসব কারণে গার্ডিয়ান ডাক পড়েছে।
সব তো ঠিকই ছিল, কিন্তু মেয়েটা তার মেয়েকে সবার সামনে একটা থাপ্পড় মেরেছে।

আভিরাজ :
অন্যায় করেছে, তাই হয়তো মেরেছে।

সামি :
না স্যার, তার জন্য না!

আভিরাজ :
তাহলে কেন মেরেছে?

সামি :
মারার সময় বলেছে—

“তোকে মারছে, তুইও মারতে পারতি। যা হওয়ার আমি দেখতাম। মার খেয়ে আমার কাছে কেন আসলি?”
মানে মার খেয়েছে, মার দেয়নি কেন—সেই জন্য মেরেছে!

আভিরাজ :
কি বলো! এমনটা হয়েছে?

সামি :
হ্যাঁ স্যার। আমি তো ভাবছি মেয়েকে এমন শিক্ষা দিচ্ছে, তো ছেলেকে কী শিক্ষা দেবে!

আভিরাজ :
ছেলেও আছে? দেখে তো মনে হয় বাচ্চা একটা মেয়ে!

সামি :
না স্যার। মেয়ের বয়স আট বছর। ছেলের বয়স এক বছর হবে মনে হয়। মা হিসেবে বাচ্চাদের ভালো শিক্ষা দিচ্ছে না!

আর সেই থেকে আভিরাজের এই মেয়েকে নিয়ে অদ্ভুত এক ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।

আভিরাজের ভাবনার ছেদ হয় অদ্রিতা অদিতিকে ভিতরে এনে তার পাশে বসানোর সময়।

আভিরাজ :
রিপোর্ট এগুলো তো আগের। আর উনার নেক্সট ভিজিট তো আরো দুই সপ্তাহ পরে?

অদ্রিতা :
আই নো বাট… আসলে ডক্টর, আমি ঠিক জানি না আগে এমন হয়েছে কি না। কিন্তু কালকে ও হাত নাড়িয়েছে এবং চোখগুলোও একধরনের নাড়িয়েছে।

আভিরাজ :
রোগীর শরীর রেসপন্স করছে?

অদ্রিতা :
ইয়েস।

আভিরাজ :
ওকে। আমি কিছু টেস্ট দিচ্ছি। এগুলো করিয়ে আগামীকাল আবার দেখা করবেন।

অদ্রিতা :
ওকে, ডক্টর।

অদ্রিতা বাসায় আসে। অরিশা সহ দুইজনে মিলে অদিতিকে শুইয়ে দেয়। তারপর হঠাৎ অদ্রিতা বলে—

অদ্রিতা :
অরি, আমি ডক্টরকে একটা কথা বলিনি।

অরিশা :
কী কথা?

অদ্রিতা :
দেখ!

বলেই অদ্রিতা টিভি অন করে। একটা ভিডিও চালায়। টিভির পর্দায় তখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল সেই মানুষটার মুখ—যার নাম বহু বছর ধরে এই ঘরে কেউ উচ্চারণ করে না। তা দেখে অদিতি কেমন অস্থির হয়ে ওঠে—তার চোখ কাঁপছে, হাত নাড়াচাড়া করছে।

অরিশা :
এটা ডক্টরকে কেন বলিসনি? তুই এটা জানিস না—ডক্টরের কাছ থেকে কোনো কিছু লুকানো ঠিক না!
জাস্ট একজনকে তুই অপছন্দ করিস, তাই তার মাধ্যমে মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত—এটা তোর সমস্যা?

অদ্রিতা :
কি বললি? অপছন্দ না… অপছন্দ না—ঘৃণা করি!

আর কী বলবো ডক্টরকে? এই যে ডক্টর… আমি বা আমরা যার জারজ সন্তানের অপবাদ নিয়ে সমাজে চলি—তাকে দেখে আমার মা রেসপন্স করছে!
আসলে কথাটা কী জানিস? তোদের সবার কাছে আমাকে পুতুল মনে হয়। তাই তো আমার দাম তোদের কাছে নেই!

বলে অদ্রিতা সেখান থেকে চলে যায়। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে ঘরটা আবার নীরব হয়ে গেল, কিন্তু টিভির আলোয় অদিতির কাঁপতে থাকা চোখ যেন অন্য এক সত্য বলতে চাইছিল।

অরিশা তার দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে।
অরিশা কী করে বোঝাবে—সে নিজেও একজন ইন্টার্ন ডাক্তার হিসেবে সত্যি কথাই বলছে। ডাক্তার নয়, সাধারণ মানুষও জানে ডাক্তার থেকে কথা লুকানো ঠিক না।

কয়েকজন মাতাল নেশাখোর ছেলে ঘিরে আছে একটা মেয়েকে। মেয়েটা খুব অসহায় হয়ে চোখে পানি ফেলছে। আর কান্না করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছে। কিন্তু মাতালরা কি শুনে সেই পবিত্র ফুলের আবেদন? এক এক করে কেড়ে নেয় সেই ফুলের আবরণী।

রাত তখন গভীর। সেই দুঃস্বপ্ন দেখে আবারও রাতের ঘুম চলে যায় অদ্রিতার। সে অস্থির হয়ে উঠে বসে। উঠে ডাইনিং টেবিল থেকে পানি নিয়ে প্রাণ ভরে পান করে। তারপর ধীর পায়ে বাসা থেকে বাইরে হয়ে একতলা ছাদে যায়।

অসংখ্য গাছগাছালির মাঝে শুয়ে পড়ে নিকষ কালো আকাশে তাকিয়ে থাকে। আর নিজেকে প্রশ্ন করে।

অদ্রিতা :
সে কি আজও আছে বেঁচে তোমার মাঝে?

কিছুক্ষণ নীরব থাকে। তারপর বলে—

অদ্রিতা :
না, বেঁচে নাই—মরে গেছে! কিন্তু তার স্মৃতি আজও বেঁচে আছে। এটা তিক্ততা না—এটা আমার শক্তি। অদ্রিতার মাঝে শক্তি তুমি , পরাজয় না মানা রক্তবীজ।

আরো কিছু সময় অদ্রিতা ছাদে শুয়ে থাকে। তারপর উঠে চলে যায়। আর নিজের রুমে ঢোকার আগে অদিতির রুমে ঢোকে। দেখে অদিতি এখনো চোখ খুলে রেখেছে এবং তার চোখের পানি পড়ছে।

অদ্রিতা অদিতির কাছে গিয়ে তার হাতে ও কপালে চুমু দেয়। তারপর অদিতির হাত ধরে বসে থাকে।

অদ্রিতা :
জানো, আমার মাঝে মাঝে হাসি পায় আমাদের ভাগ্য দেখে। দেখোই না! কিন্তু কি করার আছে? আমার দায়িত্ব অনেক। অরিকে বিয়ে দিতে হবে। অদু, অভ্রকে ভালো মানুষ হিসেবে বড় করতে হবে। আর তোমাকে সুস্থ করতে হবে।

আরো কিছু সময় নিরবতায় কাটে ---

অদ্রিতা :
আমি জানি আমি পৃথিবীকে যা দেখাই তা নয়। বাট তুমি কিছু জানো, অরিও জানে। সব জানার মাঝে সত্যি এই যে আমি যা করছি তোমাদের ভালো রাখতে করছি। আমাকে কখনো ভুল বুঝো না, অবিশ্বাস করো না। আমার তোমরা ছাড়া কেউ নেই।

তখন অদ্রিতা নিজের কাঁধে কারো হাত অনুভব করে। পিছু তাকিয়ে দেখে অরিশা। অরিশা অদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে। অদ্রিতাও অরিশার কোমর জড়িয়ে বসে থাকে। অদিতির নজর তখন তাদের দুই বোনের দিকে।

জীবন রঙিন, জীবন যন্ত্রণা। জীবন হলো শিক্ষক আর এর শিক্ষা মৃত্যু পর্যন্ত। পৃথিবীতে আসা কারো নিজের ইচ্ছে হয় না। আর না পৃথিবী থেকে নিজ ইচ্ছায় যাওয়ার অনুমতি আছে।

পৃথিবীতে যদি আত্মহননের অনুমতি থাকতো, তাহলে সকল দুঃখী মানুষ নিজেকে হত্যা করে জীবনের সকল দুঃখ-কষ্ট, অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতো।
পৃথিবীর সব থেকে বড় যন্ত্রণার অধ্যায় হলো অপরাধবোধ। অপরাধবোধে ভুগতে থাকা মানুষ জানে প্রতি নিয়ত মৃত্যুর কষ্ট কী।
না নিজেকে প্রকাশ করা যায়, আর না কষ্ট মুছা যায়।

আর সেই রকম কষ্টে নিজেকে আবৃত করেছে রিদান মির্জা। নিজের দোষে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়ে সে নিঃস্ব। পৃথিবীতে তারও একজন ভালোবাসার মানুষ ছিল, সন্তান ছিল। নিজের রক্তাক্ত অতীত প্রতি নিয়ত তাকে ভিতর থেকে পুড়িয়ে মারে।

এই যে এখন রুমে থাকতে তার দম বন্ধ লাগছে। কী এক অসহ্য অবস্থা!
রিদান তার নিজ রুম থেকে বাইরে হয়ে আসে। নিজের ভিতরের হতাশা কাটানোর জন্য ছাদে যায়।

একটা রাত কারো কাছে সাধারণ, আর কারো কাছে তিক্ততার।

নোট/বিঃদ্রঃ
বানান ভুল বা কোনো অসংগত অংশ চোখে পড়লে মন্তব্যে জানাবেন। আপনার পরামর্শ আমার জন্য খুব মূল্যবান। গল্পের প্রতিটি পর্বে আমি শিখছি—তাই সাপোর্ট আর গাইডলাইন চাই সবার কাছে। আশা রাখছি ভুল ত্রুটি হলে সাহায্য করবেন।

এটা আমার ২য় গল্প!

 #রক্তাত্ত_অতীত  #পর্বঃ  ৩ #লেখনীতে :   কপি🚫দীর্ঘ তিন ঘন্টা ধরে চললো আমেরিকার Project নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। অবশেষে মি...
15/03/2026

#রক্তাত্ত_অতীত
#পর্বঃ ৩
#লেখনীতে :

কপি🚫

দীর্ঘ তিন ঘন্টা ধরে চললো আমেরিকার Project নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। অবশেষে মিটিং শেষ হলে সবাই চুপ হয়ে যায়। তখন নিজের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকিয়ে আরশান বললো—

আরশান :
তো আপনারা সবাই নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের কোম্পানির একটা নিয়ম আছে। প্রতি বছর বড় কোনো Project এ কাজ করার জন্য তিনটি টিম থেকে যোগ্যতা যাচাই করে তিনজনকে নির্বাচন করা হয়। এই বছরও সেই নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেনেজার করিম মাথা নেড়ে বললেন—

মেনেজার :
জ্বি স্যার। গত তিন মাস ধরে সবার কাজের গতিবিধি লক্ষ্য করে আমি তিনটি টিম থেকে তিনজনকে নির্বাচন করেছি। আমার মনে হয়েছে তারা এই বিদেশি Project এর জন্য যথেষ্ট যোগ্য।

আরশান হালকা মাথা নেড়ে বললো—

আরশান :
যোগ্যতার কথা বলেছি বলে আবার কেউ ভাববেন না বাকিরা অযোগ্য। আমার কোম্পানিতে অযোগ্য মানুষের কোনো স্থান নেই। তবে নির্বাচিত এই তিনজনকে আপাতত সেরা বলা যায়। আর এখন সময় এসেছে তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার।

এ কথা শুনে রিপন, এশা ও অদ্রিতা একসাথে উঠে দাঁড়ালো।

অদ্রিতা :
ধন্যবাদ স্যার। আমাদের এত বড় সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। আশা করি আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে এই Project সফল করতে পারবো।

আরশান শুধু মাথা নেড়ে আবার নিজের ফাইলে চোখ রাখলো।

লাঞ্চ টাইম অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দুপুর তখন আড়াইটা বাজে ঘড়ির কাঁটায় । কিন্তু অদ্রিতা এখনো লাঞ্চ করেনি। কিছু কাজ শেষ করার জন্য সে নিজের ডেস্কে বসে আছে।

ঠিক তখন পাশ থেকে রিয়া কৌতূহলী চোখে বললো—

রিয়া :
স্যারকে কেমন লাগলো?

অদ্রিতা চোখ না তুলেই বললো—

অদ্রিতা :
মানুষের মতোই।

রিয়া একটু হতভম্ব হয়ে বললো—

রিয়া :
আচ্ছা!

রাত তখন প্রায় সাতটা। অফিস থেকে ফিরে অদ্রিতা রান্নাঘরে ঢুকলো রান্না করার জন্য। কিন্তু ঢুকেই থমকে গেল। রান্না আগেই করা আছে।
গত তিন-চার মাস ধরে মাঝে মাঝে এমনটা হয়। অরিশা রান্না করে রাখে।
অরিশা এখন একজন ইন্টার্ন ডাক্তার। প্রায় নয় মাস হলো সে নিজের রক্তাক্ত অতীতের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছে।
ঠিক তখনই হঠাৎ ঘর থেকে অদ্বিকার চিৎকার ভেসে এলো—

অদ্বিকা :
মাম! দেখে যাও! আম্মি হাত নাড়াচাড়া করছে! মাম... মাম!

অদ্রিতা ছুটে গেল।

ঘরে ঢুকেই সে অবাক হয়ে দেখলো—

আড়াই বছর পর অদিতির চোখের পাতা কাঁপছে। তার হাতও ধীরে ধীরে নড়ছে।
অদ্রিতা মায়ের হাতের ইশারা অনুসরণ করে তাকালো টিভির দিকে।

টিভির পর্দায় ভেসে উঠেছে—

অদ্রিতার জীবনের সবচেয়ে অপছন্দের মানুষের মুখ।
মুহূর্তেই অদ্রিতার মুখ বদলে গেল।

সে ধীরে ধীরে অদ্বিকার দিকে তাকালো। সেই দৃষ্টি দেখে ছোট্ট মেয়েটা ভয় পেয়ে গেল। কারণ অদ্রিতা রেগে গেলে তার চোখ মুখ লাল হয়ে যায়।

অদ্রিতা দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে বললো—

অদ্রিতা :
আমি মানুষ… আর যাদের ভালো রাখার জন্য আমি মরে যাই… তারা অন্য কারও জন্য কাঁদে।
কি অদ্ভুত না?

একটু থেমে আবার বললো—

অদ্রিতা :
তোমার এই উন্নতির পেছনে কি ডাক্তার আভিরাজ মির্জা আছে?
নাকি সেই লোকটা?
জানো… মির্জা নামটা শুনলেই আমার ঘৃণা লাগে।
কিন্তু দেখো না—
আমার বস মির্জা…
অফিস মির্জা…Mirza Global Group
তোমার ডাক্তার মির্জা…
আর সেই শয়তানটাও মির্জা!
যাই হোক… মানসিক প্রস্তুতি নাও।
কাল আমরা ডাক্তার আভিরাজের কাছে যাবো।

অদিতির রুম থেকে বাইরে হয় অদ্রিতা। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রুমের ভিতর থাকা মানুষগুলোকে দেখে। এই বাসার সব থেকে বড় রুম এটা। এই রুমটায় তেমন কিছু নেই—একটা খাট যেখানে অদিতি থাকে। অবশ্য অদ্রিতা বাসায় থাকা সময়টুকু অদিতিকে হুইলচেয়ারে বসায়। একটা টেবিল যেখানে অদিতি, অদ্বিকা আর অভ্রর সারাদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নিচে একটা তোশক, সেখানে অদ্বিকা আর অভ্রর কাটে সারাদিনই। আর দেওয়ালে একটা টিভি।

মির্জা মহলে।
রাফিক মির্জা ও ফারহানা মির্জার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে।

বড় ছেলে রায়হান মির্জা ও তার স্ত্রী আফরোজা মির্জার দুই ছেলে— আভিরাজ ওয়াক্ত মির্জা ও আরশান সায়র মির্জা।
আভিরাজ বর্তমানে একজন সিঙ্গেল ফাদার তার একমাত্র মেয়ে আভিরা মাহা মির্জা

মির্জা বাড়ির মেজ ছেলে রাফাত মির্জা। তার স্ত্রী নাজরা মির্জা। তাদের তিন সন্তান— বড় ছেলে রাফি মির্জা, ছোট ছেলে রাহি মির্জা এবং একমাত্র মেয়ে রিফা মির্জা।

মির্জা বাড়ির ছোট ছেলে রিদান মির্জা। বর্তমানে সে সিঙ্গেল।

সকাল তখন আটটা। দিনটি শুক্রবার।
মির্জা বাড়ির নিয়ম অনুযায়ী শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে কেউ না খেয়ে বাইরে হবে না। সকালটা সবাই পরিবারের সঙ্গে কাটায়। তবে দুইজন ব্যক্তি এই নিয়মের বাইরে। তাদের মধ্যে আরশানকে নিচে দেখে সবাই অবাক। আরশান যার সাথে তার দাদা রাফিক মির্জার একদম বনিবনা হয় না।

আরশান সোফায় এসে বসার কিছু সময়ের মধ্যে একটা লোক আসে আরশানের কাছে, সঙ্গে তার পিএ সাদিক।

আরশান :
বসো, আর বলো কী খবর পেলে। ওই লোকটার ঠিকানা অনুযায়ী পেয়েছ তাদের?

লোকটা :
না স্যার। ওই লোকের বলা অনুযায়ী জায়গায় গিয়ে জানতে পারছি দোকানগুলো বিক্রি করেছে দোকানদার মেয়েটা আরো আড়াই বছর আগে।

আরশান :
তোমাদের দিয়ে কি হবে ? আজকে সাত বছর ধরে একটা মানুষকে খুঁজে পাওনি তো সেখানে তাদের ঠিকানা জিজ্ঞেস করো নাই?

লোকটা :
করেছি, এবং ঠিকানা অনুযায়ী ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে যা দেখেছি খুব শোচনীয়!

আরশান :
কী হয়েছে, খুলে বলো?

লোকটা :
স্যার, গিয়ে দরজায় নক করেছি। ভিতরে একটা ছোট মেয়ে। আর মেয়েটাকে মনে হয় অপরিচিত কারো জন্য দরজা খোলতে নিষেধ করেছে। পরে সামনের বাড়ির দারোয়ান আর তার স্ত্রী এসে বলায় দরজা খুলে। বড়রা কোথায় জিজ্ঞেস করায় ভিতরে একটা রুমে নিয়ে গেছে। দেখি একটা পঙ্গু মহিলা খাটে শুয়ে, আর পাশে নিচে বিছানা করা। সেখানে একটা বছর দেড়েকের শিশুকে ওড়না দিয়ে বেঁধে রাখছে, ওই রুমের জানালার লোহার সাথে। মনে হয় ওই ছোট আট-নয় বছরের মেয়েটাই তাদের দেখা-শোনা করে! কী বলবো, তাই বাইরে হয়ে আসি!

আরশান :
আশেপাশে জিজ্ঞেস করোনি?

লোকটা :
করেছি! ওরা আপনার বলা মানুষ না। ওখানে একটা পাগল, একটা পঙ্গু আর তাদের বোন থাকে। ওই ছোট মেয়ের নাম ইফাত, আপনার বলা নামের মিল নাই। ওখানে ওরা তিন বোন থাকে। আর তাদের বাচ্চা দুইটা শুনেছি আগে পাগলি বোনকেও নাকি ওই বাচ্চার সঙ্গে বেঁধে রাখতো, এখন ভালো হওয়ায় রাখে না।

আরশান :
বাদ দাও। আমি যাদের খুজতে বলছি তাদেরকে না খুঁজে অন্য কারো কথা খবর দেওয়া বন্ধ করো। আর নতুন করে খুঁজো।

আরশান আর লোকটার বলা সব কথা বাড়ির লোকরা শুনেছে। তখন রাফি বলে—
রাফি :
তুই এমন হয়ে কাকে খুঁজিস?

আরশান :
আছে একজন। বলা যাবে না!

রাফি :
আমি জানি তুমি জবা নামক মেয়ে কে খুঁজে বেড়াচ্ছ!

আরশান বেশি কথা না বলে ড্রইংরুম থেকে নিজের রুমে চলে যায়।

আরশানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আফরোজা মির্জা বলে ---

আফরোজা :
আমার ছেলে গুলোর সুখী হতে মনে হয় আমি দেখবো না! আল্লাহ ওদের দুইজনের সাথে এমন কেন করলো?

নাজরা :
দোয়া করো ভাবি আরশান যাকে খুঁজেছে যেন পেয়ে যায়। তা হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

আফরোজা :
সব ঠিক হবে না! আরো সমস্যা হবে বাবা এতো সহজে সব মানে নিবে?

নাজরা :
মেনে না নিলে কি আরশানের জীবনের তো গতি হবে।

আফরোজা :
রিদানের মতো?

নাজরা :
আরশান রিদান মির্জা নয় ও আরশান সায়র মির্জা। আমি বিশ্বাস করি ওর লাইফ রিদানের মতো হবে না।

আরশানের নিজের ভিতর কেমন অস্থির লাগছে। আরশান নিকের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। আকাশ কালো হয়ে আছে। বছরের এই সময় খুব একটা বৃষ্টি দেখা যায় না, তবে শীতের শুরু হয়। রাতে শীত আর দিনের বেলায় উষ্ণ অনুভব হয়। আরশানের জীবনও এমন কখনো উষ্ণ কখনো আর্দ্র।

আরশান ভাবনায় তখন একটা প্রশ্ন—

আরশান :
তুমি কেমন আছো আমার রক্ত জবা? কোথায় পাবো তোমাকে? পেলেও কি তুমি আমার হবে? হবে… হুম, তুমি আমার হবে। তুমি যদি অন্য কারোর সন্তানের মা হয়ে যাও, তার পরেও আমি তোমাকে আমার করবো, রক্ত জবা! আমার রক্ত জবা !

আরশানের ভাবনার মাঝে তার পাশে এসে দাঁড়ায় আভিরা। আভিরা মেয়েটার অবাধে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। তার মাঝে শিশুসুলভ হাসি আর আবদার আছে ঠিকই, কিন্তু কথা বলা আর বোঝার ক্ষমতা বড়দের মতো।

আভিরা :
মন খারাপ?

আরশান :
না।

আভিরা :
পাপা, তুমি আর ছোট দাদাইয়ের মন খারাপ আমি বুঝতে পারি।

আরশান :
তাই?

আভিরা :
হুম। আচ্ছা শান, তুমি কি তার জন্য মন খারাপ করছো?

আরশান :
কার জন্য?

আভিরা :
যাকে খুঁজে হয়রান হচ্ছো।

আরশান :
তার জন্য মন খারাপ করবো কেন?

আভিরা :
আমি সব বুঝি!

আরশান :
সব? তা আর কী বুঝতে পারো তুমি?

আভিরা :
এই যে আমার পাপা, তুমি, দাদাই—সবার একটা করে বউ দরকার।

আরশান :
তোমার দাদাইকে মেয়ে কে দেবে? তুমি চাইলে আভির জন্য বউ খুঁজতে পারো।

আভিরা :
হু, আমার মনে হয় আভিরাজ ওয়াক্ত মির্জার জন্য একটা বউ খোঁজা প্রয়োজন।

আরশান :
আমাকে শান বলো মানলাম, তাই বলে নিজের বাবাকে নাম ধরে ডাকবে?

আভিরা :
সো হোয়াট?

আরশান :
তা তুমি যে নিজের বাবার জন্য বউ খুঁজে বেড়াচ্ছো তা সবাই জানে?

ভ্রুক্ষেপহীনভাবে বলে—

আভিরা :
জানার কী আছে? সবাই যে ভুল করছে আমি তা ঠিক করার কথা ভাবছি। এতে ভুলের কী আছে?

আরশান :
তুমি ছোট, কিন্তু এমন আচরণ করছো যেন আমাদের বড় কেউ কথা বলছে! আচ্ছা, বয়স কত তোমার?

আভিরা :
বি ম্যাচিউর, শান। আমি জানি আমার বয়স ষোল বছর, বাট সেটা দেখার বিষয় না। সবার বোঝার বয়স একরকম হয় না। আমি মনে করি আমার বোঝার ক্ষমতা হয়েছে। আর তা ছাড়া এই পর্যন্ত আমি তোমাকে কোনো কিছু ভুল বলেছি বলে মনে হয় না।

আরশান :
না, তা ঠিক। বাট তোমার বাচ্চামো দেখতে ভালো লাগে।

আভিরা :
মেয়ে মানুষ বুড়ি হলেও বাচ্চামি যায় না, হোক সে আমার মতো বা তার থেকেও বুঝদার কেউ। কিন্তু মেয়েরা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের প্রকাশ করে

আরশান :
বুঝলাম। আচ্ছা নিজের বাবার সাথে অন্য নারীকে মানতে পারবে?

আভিরা :
আমার বাবা তো পরকীয়া করছে না। যদি কেউ আমার মায়ের সংসার নষ্ট করতো তাহলে সেটা আলাদা হতো। এখানে আমার মা নিজের অধিকার ছেড়েছেন। তার মনে হয়েছে আমি আমার বাবার কম বয়সে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া দায়িত্ব। সে আমাদের কথা ভাবেনি, আর আমি কেন তার জায়গা ভাববো?

আরশান :
আর যদি সে চলে না গিয়ে মরে যেতো, তাহলে কি এই কথাই বলতে?

আভিরা :
অবশ্যই বলতাম। আমার বাবার যখন বিয়ে হয় তখন তার বয়স উনিশ, আর আমার মায়ের আঠারো। এখন আমার বাবার বয়স পঁয়ত্রিশ। সে এমন কী বুড়ো হয়েছে যে বিয়ে করতে পারবে না? আমার মতে দশ বছর আগে যখন মা চলে গেছে তখনই তাকে বিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।

আরশান :
তুমি সত্যি আভিরাজের, মানে নিজের বাবার বিয়ে দেবে?

আভিরা :
আগামী এক বছরের ভিতর দেবো।

আরশান :
আবার এক বছর কেন?

আভিরা :
এটা সেকেন্ড টাইম, তাই ভুল করা যাবে না। আগে ভালো করে দেখবো, বুঝবো, তারপর বিয়ে দেবো।

বলে আভিরা বারান্দা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু আবার ফিরে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে বলে—

আভিরা :
আর হ্যাঁ, তুমি-ও প্রস্তুতি নাও। বাবার পরে তোমার সিরিয়াল। তাকে খুঁজে বের করো, না হয়…

আরশান :
না হয়?

আভিরা :
বয়স তোমার ত্রিশ।

বলে আভিরা চলে যায়। আর আরশান সেই দিকে তাকিয়ে বলে—

আরশান :
মির্জা বংশের দ্বিতীয় স্বৈরাচার! এই জন্য এদের দুজনের মিলে না। যেমন দাদান, তেমনই এই মেয়ে। মাঝে পড়ে আমরা অবলা নাদান শিশু!

নোট/বিঃদ্রঃ
বানান ভুল বা কোনো অসংগত অংশ চোখে পড়লে মন্তব্যে জানাবেন। আপনার পরামর্শ আমার জন্য খুব মূল্যবান। গল্পের প্রতিটি পর্বে আমি শিখছি—তাই সাপোর্ট আর গাইডলাইন চাই সবার কাছে। আশা রাখছি ভুল ত্রুটি হলে সাহায্য করবেন।

এটা আমার ২ য় গল্প!

 #রক্তাত্ত_অতীত  #পর্বঃ ২ #লেখনীতে :   কপি🚫সেইদিন তার বাবার হঠাৎ তার মাকে ডিভোর্স দেওয়ার কারণ খুঁজে তারা পাইনি জবা ।  মা...
13/03/2026

#রক্তাত্ত_অতীত
#পর্বঃ ২
#লেখনীতে :

কপি🚫

সেইদিন তার বাবার হঠাৎ তার মাকে ডিভোর্স দেওয়ার কারণ খুঁজে তারা পাইনি জবা । মাঝে মধ্যে মনে হয় বাবাই এটা কেন করেছে?

দুঃখ–সুখে পার হয়েছে অনেক গুলো বসন্ত। সেই দিনের ষোল বছরের অদ্রি এখন পঁচিশ বছরের অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী যুবতী নারী। বোন অরিশার সাথে পায়ে পা বাজিয়ে ঝগড়া, কথায় কথায় কান্না—“এটা খাবো, ওটা খাবো”—করা মেয়েটা এখন সংসারের হাল ধরেছে। ছয় মাস ধরে Mirza Global Group-এর মূল শাখায় সে কাজ করছে। তার আগে অদ্রিতা নিজের অতিরিক্ত সৌন্দর্যের কারণে বহু জব হারিয়েছে, এমনও আছে জবের এক সপ্তাহের মাথায় তার জব হাতছাড়া হয়েছে। শেষে Mirza Global Group এর একটা গার্মেন্টস শাখায় একুশ মাস চাকরি করে তার বান্ধবীর ভাইয়ের সাহায্যে, পরে অনার্স শেষ হওয়ার পর অদ্রিতা জুনিয়র Project Coordinator হিসাবে ইন্টারভিউ এবং নিয়োগ পায়।

সকাল তখন আটটা বাজে, অদ্রিতা রেডি হয়ে অফিস যাবে এবং যাওয়ার পথে অদ্বিকা কে তার স্কুলে দিয়ে যাবে। কিন্তু অদ্রিতা দেখে সময় শেষের হতে চলেছে, কিন্তু অদ্বিকা স্কুলের জন্য রেডি হয়নি।

অদ্রিতা:
অদু, তুমি রেডি হওনি?

অদ্বিকা:
আমি যাবো না!

অদ্রিতা:
কি বললে?

অদ্বিকা:
আমি স্কুল যাবো না?

অদ্রিতা:
কেন?

অদ্বিকা:
কেন যাবো বলো? কি নোংরা নোংরা কথা বলে, আমি নিতে পারি না!

অদ্রিতা:
এই স্কুলেও বলে! কে কি বলে?

অদ্বিকা:
পাশের বাড়ির টপি আন্টি আমাদের স্কুলে নিউ টিচার। উনি বলে তুমি নাকি খারাপ আমাদের নাকি বাবার ঠিক নাই!

অদ্রিতা :
সব টা বলো । কেন বলেছে এ কথা।

অদ্বিকা :
আমি উনার মেয়ের সঙ্গে কথা বলছি তাই এসব বলছে!

অদ্রিতা কিছু সময় চুপ থাকে, তারপর পাশের থেকে দুই বছরের অভ্রায়ন কে কোলে নেয়। অদ্বিকার হাত ধরে দু'জনকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। ঘরের সামনে ছোট একটা উঠান, তার এক পাশে দুইটা কবরের কাছে নিয়ে এসে বলে ----

অদ্রিতা:
এখানে বাম পাশের টা আমাদের বাবার কবর, আর ডান পাশে তোমাদের বাবার কবর! তুমি যদি সঠিক হও কে কি বলছে সেটা কানে নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। মনে থাকবে?

অদ্বিকা:
হু!

অদ্রিতা:
তোমাকে আমার অফিসের পাশের স্কুলে ভর্তি করাবো।

অদ্বিকা:
সত্যি?

অদ্রিতা:
হুম... তবে তার আগে একটা কাজ করতে হবে!

অদ্বিকা:
কি কাজ?

অদ্রিতা:
আজ স্কুল যাবে এবং আসার আগে স্কুল গেইটে দাঁড়িয়ে ওই টপি কে তোমার জুতা খুলে মারবা যেন তার মুখে পড়ে! পারবে?

অদ্বিকা:
আমাকে শাস্তি দেবে!

অদ্রিতা:
আমি তোমার অন্য হাত ধরে রাখবো!

অদ্বিকা:
আমিও পারবো!

বলে হেসে দেয় এবং দৌড়ে রেডি হতে যায়। অদ্রিতা পিছনপিছন ফিরে অরিশাকে দেখে।

অরিশা:
অদ্বিকা বা অভ্র সারাজীবন ছোট থাকবে না!

অদ্রিতা:
মায়ের কাছে সন্তান সব সময় ছোট থাকে।

অরিশা:
সব কিছু এতোটাই সহজ মনে না করা ভালো।

অদ্রিতা:
সেটা আমার থেকে ভালো কে জানে?

অরিশা:
এসবের শেষ কোথায়?

অদ্রিতা:
আমার মৃত্যুতে

অরিশা:
তুই পাল্টে গেছোস!

অদ্রিতা:
উঁহু... বড় হয়েছি, বুঝতে শিখেছি! পৃথিবী চিনি! মোট কথায় চাওয়ালি মুরগী হয়েছি!

অরিশা:
পৃথিবী চিনিস? আর চাওয়ালি মুরগী মানে?

অদ্রিতা:
পৃথিবী চিনি, তাই আজ এই জায়গায় আছি। আর রইলো চাওয়ালি মুরগির কথা, প্রায় তিন বছর হতে চলছে তোদের চারজনকে ছোট মুরগির বাচ্চার মতো আগলে রাখছি, পানি লাগলেও ঠান্ডা লাগতে দিইনি। আর কি চাই!

অরিশা:
বিরক্ত লাগেনি আমাদের! কখনো মনে হয় নাই ছেড়ে চলে যাবে?

অদ্রিতা:
আল্লাহর নিকট দোয়া করেছি যেন অসুস্থ না হয়! চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল করিনি, তাহলে এসবের প্রশ্ন আসে কি করে?

অরিশা:
সরি।

অদ্রিতা:
তুমি কেন সরি বলেছো? সরি বলার মতো কি কিছু করেছো?

অরিশা:
করিনি?

অদ্রিতা:
না! তোমার দিকে এমন কিছু দেখিনি!

অরিশা:
তাহলে তুমি কেন?

অদ্রিতা:
এমনি!

অরিশা:
আমি জানি, আমার মরে যাওয়ার পাগলামি তোকে কষ্ট দেয়!

অদ্রিতা:
আমি কোনো কিছুতেই কষ্ট পাই না!
এমন সময় অদ্বিকা বাইরে হয়ে আসে। অদ্রিতা আর অরিশা তাদের কথা বন্ধ করে দেয়। অদ্রিতা অভ্রকে অরিশার কাছে দিয়ে এবং দুইজন নিজেদের গন্তব্য রওনা দেয়। অরিশা তা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে থাকে।

অদ্বিকা কে স্কুলে দিয়ে অদ্রিতা Mirza Global Group এ চলে আসে তখন তার এই অফিসের প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে। সেইদিন সকাল ৯টা। অদ্রিতা অফিসের লবি দিয়ে ঢুকল, হাতে ল্যাপটপ ব্যাগ। প্রথম দিন, তাই পায়ে হালকা কাঁপন Receptionist হাসিমুখে বললো।

Receptionist:
Miss Adrita. Project Manager আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।

অদ্রিতা লিফটে উঠল, মাথায় খেয়াল রাখল—নতুন অফিস, নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ।
Project Manager, জনাব করিম, ডেস্কে বসে চেয়ে বললো।

করিম:
Good morning, Adrita. তুমি এখন থেকে Project Coordinator হিসেবে কাজ করবে। আশা করি নতুন দায়িত্ব নিষ্ঠাবান হয়ে পালন করবে। আর আমাদের অফিসের রুলস মেনে চলবে। কিছু মনে করো না, তুমি করে বলছি।

অদ্রিতা:
না স্যার, ধন্যবাদ।

ভাবনার মাঝে অদ্রিতা তার ডেস্কে এসে বসে। তখন পাশের কলিগ রিয়া বলে।

রিয়া:
তুমি আজ এতোটা লেট কেন করেছো? জানো, CEO স্যার এসেছে, আজ আমেরিকার Project টা আমাদের কোম্পানি পেয়েছে!

অদ্রিতা:
তাই না কি? তা হলে তো ভালো।

রিয়া:
হুম, সে কি আর বলতে।

এরইমধ্যে অফিস মেনেজার সাব্বির এসে এনাউন্সমেন্ট দেয়।

মেনেজার:
জুনিয়র এমপ্লয়ি মিঃ রিপন, মিস এশা, ও মিস অদ্রিতা, আপনারা আজকের মিটিং এ হল রুমে উপস্থিত হবেন। আজ আমেরিকার Project নিয়ে আলোচনা করা হবে। আর অবশ্যই টাইম মেনে ঠিক ১২টায় উপস্থিত হবে, কারণ CEO স্যার থাকবে সেখানে।
কথা শেষ করে চলে যায় মেনেজার। মেনেজার যাওয়ার পর রিয়ার পাশ থেকে এশা বলে।

এশা:
ফাইনালি আমি আমার ক্রাশকে আজ ছয় মাস পর দেখবো।

রিয়া:
দেখো, আবার স্যারের কোলে উঠে পড়ো না। স্যার কিন্তু উনার দিকে তাকানো পর্যন্ত পছন্দ করে না।

সময় তখন এগারোটা সাতান্ন মিনিট। একটা কাজ করতে গিয়ে অদ্রিতা মিটিং রুমে যেতে দেরি করে ফেলেছে। তাই তাড়াতাড়ি উঠে মিটিং এটেন্ড করতে, মিটিং রুমে ঢুকতে কয়েক কদম দূরত্ব থাকা কালে অদ্রিতার নজরে আসে মেনেজার সাব্বির রহমান ও তার সাথে দুই জন লোক আসছে। একজনকে সে চিনে—সাদিক খলিল। অদ্রিতা বুঝতে পারে পাশের জন CEO হবে। অদ্রিতা মনে মনে ভাবল।

অদ্রিতা:
মানে এটা কি? যেন নাম আরশান সায়র মির্জা! ওহ্ আল্লাহ, অদ্রিতা ইবাত আগে যা না হলে জব হারাবে।

বলে অদ্রিতা দৌড়ে দেয়। তখন আরশানের শরীর ছুঁয়ে যাওয়ার আগেই সে মিটিং রুমে ডুকে। এইদিকে আরশান, মেনেজার সাব্বির ও সাদিক হতভম্ব হয়ে যায়।

আরশান:
হু, ইজ সিই?

সাব্বির:
জুনিয়র এমপ্লয়ি, স্যার!

আরশান আর কিছু বলে না। মিটিং রুমে গিয়ে নিজের চেয়ারে বসে। তখন তার কালো পোশাকে আবৃত অদ্রিতার উপর নজর যায়। আরশান এক মুহূর্ত থেমে গেল।
মেয়েটা কে?
কেন যেন চোখ সরাতে পারলো না।
এমনভাবে তাকায়, কারো দেখার আগে চোখ সরিয়ে নেয়।

নোট/বিঃদ্রঃ
বানান ভুল বা কোনো অসংগত অংশ চোখে পড়লে মন্তব্যে জানাবেন। আপনার পরামর্শ আমার জন্য খুব মূল্যবান। গল্পের প্রতিটি পর্বে আমি শিখছি—তাই সাপোর্ট আর গাইডলাইন চাই সবার কাছে। আশা রাখছি ভুল ত্রুটি হলে সাহায্য করবেন।

এটা আমার ২ য় গল্প!

 #রক্তাত্ত_অতীত  #পর্বঃ  ১ #লেখনীতে :  কপি🚫এই ঘটনার শুরু হয়েছিল সেদিন, যেদিন জবারনদাদা দীর্ঘ আঠারো বছর পর হঠাৎ কল করে জর...
12/03/2026

#রক্তাত্ত_অতীত
#পর্বঃ ১
#লেখনীতে :

কপি🚫

এই ঘটনার শুরু হয়েছিল সেদিন, যেদিন জবারনদাদা দীর্ঘ আঠারো বছর পর হঠাৎ কল করে জরুরি ভাবে দেখা করতে বলেছিলেন।

সেই দিন জবার বাবা সত্যিই দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যাওয়ার পর একদিন, দুইদিন, তিনদিন… এভাবে নয় দিন পার হয়ে গেল, তবুও তিনি আর ফিরে এলেন না।

---

নবম দিনের সকাল

জবার ঘর থেকে বের হয়ে মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলল—

জবা :
আম্মি, আমি স্কুলে গিয়ে আমার রেজাল্ট দেখতে চাই।

জিয়া:
কিন্তু এসএসসি রেজাল্ট তো মানুষ ঘরে বসেই দেখতে পারে। তুই আবার শুধু শুধু স্কুলে কেন যাবি?

জবা :
কারণ আমি ইউনিক!

জায়া :
আহ্ অরি! তোমরা কি আবার ঝগড়া শুরু করবা নাকি? ওর যেতে ইচ্ছে হলে যাক।
আমি হাসপাতালে যাচ্ছি। তোমরা দু’জন ফিরার আগেই চলে আসবো। সাবধানে যেও।

---

দুপুর

দুপুর তখন প্রায় দুইটা বেজে বাইশ মিনিট।

জিয়া আর জবা দুই দিক থেকে এসে বাড়ির গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে দু’দিকে ছিটকে পড়ে।

জবা
জিয়া ! তুই আমাকে ধাক্কা কেন দিয়েছিস?

জিয়া :
দেখ অদ্রি, তোকে ধাক্কা দিতে আমার বয়ে গেছে! তুই মহিষের মতো দৌড়াতে গিয়ে নিজেই পড়ে গেছিস।

জবা :
কি! আমি মহিষ? তুই কি? তুই তো গরু!

বলেই জবা কান্না শুরু করল।

জবার কান্না দেখে জিয়া ভ্রু বাঁকিয়ে বলল—

জিয়া :
দেখ বাবার খুকি, তুই এখন এটা বলিস না যে ব্যথা পেয়ে কান্না করছিস।

জবা :
আমি তার জন্য কাঁদি না!

জিয়া :
তো?

জবা :
আমি আমাদের স্কুলে সবার থেকে ভালো রেজাল্ট করেছি। গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছি! আর তুই আমাকে ফেলে নিজে দাঁড়িয়ে আছিস! বাবা-ইকে বলবো যেন তোকে কক্সবাজার না নিয়ে যায়!

কথা শেষ করেই অদ্রিতা দৌড়ে বাসার ভিতরে ঢুকে গেল।

---

ঘরে ঢুকেই সে দেখলো জায়া সোফায় বসে কাঁদছেন।

জবা :
আম্মি! কি হয়েছে? তুমি কি ভাবছো আমি ফেল করেছি? দেখো, টেস্ট এক্সামে এক সাবজেক্ট ফেল করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু এবার শুধু পাশ না—একেবারে গোল্ডেন জিপিএ–৫ পেয়েছি! এখন তো কক্সবাজার যাওয়া পাকা!

এসময় জিয়াও ঘরে ঢুকে পড়ে।

সে খুব খুশি। কারণ সে জানে, জবা কথা দিয়ে কথা রাখে।

টেস্ট এক্সামে বাংলায় ফেল করার পর বাবা যখন তার সাথে দুই দিন কথা বলেননি, তখন জবা বাবাকে বলেছিল—

এসএসসিতে এ-প্লাস পাবে।

তখন বাবা বলেছিলেন—

যদি জবা ভালো রেজাল্ট করে, তাহলে সবাইকে নিয়ে কক্সবাজার যাবে।
কারণ সমুদ্র দেখা ছিল জবার স্বপ্ন।

দুই বোন মাকে জড়িয়ে ধরল।
কিন্তু মায়ের কান্না থামলো না।

জবা হঠাৎ টি-টেবিলের উপর রাখা একটি কাগজে চোখ পড়ল।

জায়া :
এটা কি?

সে কাগজটা হাতে তুলে নিল।

দেখলো—আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট।
সেখানে লেখা—

জায়া মির্জা
Four Weeks Pregnant with Twins Baby

জবা অবাক হয়ে রিপোর্টটা জিয়ার হাতে দিল।

মুহূর্তের মধ্যে দুই বোন খুশিতে কেঁদে ফেলল।

জিয়া :
আম্মি! আমাদের ভাই-বোন আসবে আর তুমি কাঁদছো? জানো বাবাই জানলে কত রাগ করবে? তুমি তো জানো বাবাই তোমার কান্না সহ্য করতে পারে না!

জায়া এবার আরেকটা কাগজ জিয়ার হাতে দিলেন।

জিয়া কাগজটা পড়ে হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল।

তারপর কাঁপা গলায় বলল—

জিয়া :
আম্মি… এটা ভুল। বাবা-ই কেন এটা দিবে? এটা ভুল…

বলেই সে কাঁদতে শুরু করল।

জবা :
কি আছে ওই কাগজে?

জবা কাগজটা নিয়ে পড়ল…
তারপর হেসে উঠল।

জবা :
কি! আম্মি, আজ তো এপ্রিল মাসের সাতাশ তারিখ! বাবাই তোমাকে এপ্রিল ফুল বানাচ্ছে! এসব দেখে কেউ কাঁদে নাকি? দাঁড়াও আমি বাবাইকে কল দিচ্ছি।

সে জবা মোবাইল নিয়ে কল দিল।

কয়েক সেকেন্ড পর ফোন ধরল ওপাশের মানুষটি।

জবা :
বাবাই! সবাই বলে আমি দুষ্ট, কিন্তু এখন দেখি আমার থেকে তুমি এককাঠি উপরে! ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে আম্মিকে ভয় দেখাচ্ছ? জানো আম্মি প্রেগ—

ওপাশ থেকে ঠান্ডা কণ্ঠ ভেসে এলো।

বাবা:
দেখো… ওটা সত্যি।

জবা থেমে গেল।

জবা
মানে?

বাবা:
মানে আমি তোমার মা’কে ডিভোর্স দিচ্ছি। আর হ্যাঁ—আজকের পর থেকে এখানে আর কল করবে না।

জবা :
কি বলছ তুমি আ—

বাবা:
আজ থেকে তোমাদের বাবা মৃত। আমি তোমাদেরকে চিনি না।

কল কেটে গেল।

ঘরের ভিতর নিস্তব্ধতা নেমে এলো।

কিছুক্ষণ পর জবা ফিসফিস করে বলল—

জবা :
আম্মি… বাবাই এসব কি বললো?

জিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল—

জিয়া :
আম্মি… বাবাইকে বলো আমাদের ভাই-বোন আসছে… বাবাই এসব করবে না…

জবা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরতে লাগল—

বাবাই হঠাৎ এমন কেন করল? সেদিন একটা ফোন কল জবার পরিবারের পুরো জীবন পাল্টে দেবে জানা ছিলো না তাদের।

নোট/বিঃদ্রঃ
বানান ভুল বা কোনো অসংগত অংশ চোখে পড়লে মন্তব্যে জানাবেন। আপনার পরামর্শ আমার জন্য খুব মূল্যবান। গল্পের প্রতিটি পর্বে আমি শিখছি—তাই সাপোর্ট আর গাইডলাইন চাই সবার কাছে। আশা রাখছি ভুল ত্রুটি হলে সাহায্য করবেন।

এটা আমার ২ য় গল্প!

 #ওমিরাং_একটি_বন্যফুল    #পর্বঃ  ৫ #লেখনীতে :    ইনাম : নিজের রক্ত কে চিনবো না!  ওটা এসফার চৌধুরী ছিলো।তখন হামিদ চৌধুরী ...
06/03/2026

#ওমিরাং_একটি_বন্যফুল
#পর্বঃ ৫
#লেখনীতে :

ইনাম : নিজের রক্ত কে চিনবো না! ওটা এসফার চৌধুরী ছিলো।

তখন হামিদ চৌধুরী বলে

হামিদ চৌধুরী : এসফার আশা করি ইনাম কি বলছে শুনেছো! এসব নিয়ে খারাপ কিছু শুনতে চাই না!

হামিদ চৌধুরী এসফার কে উদ্দেশ্য করে বলে।

এসফার : ইনাম ঠিক বলছে ওটা আমি ছিলাম । সাথে দিনা উমাইর আর ডক্টর দিবা ছিলো। ডক্টর দিবা ট্রিট দিয়েছিলেন। তাই দিনা উমাইর আমাকেও জয়েন হতে বলেছিলেন । উনাকে না করতে পারিনি।

এসফার এর কথা শুনে আরিয়ানা চৌধুরী বলে।

আরিয়ানা চৌধুরী : ওই বেয়াদব, অহংকারী মেয়ে কথা বললো তোমার সাথে?

এসফার : হ্যাঁ! বেয়াদব অহংকারী কেন বলেছো? আমার ওকে খারাপ মনে হয়নি!

আরিয়ানা চৌধুরী : আম্মা বলেছে ওই মেয়ে নাকি খুব সুন্দর। ছোট বেলায় নাকি ওকে পুতুলের মতো লাগতো তাই দেখতে গিয়েছিলাম। কি বলেছ জানো ?

এসফার : কি?

আরিয়ানা চৌধুরী : আপু বলেছে উনার মেয়ে বাসায় আছে। অবশ্য আমি তাকে দেখা'র জন্য সে থাকা অবস্থায় গিয়েছিলাম। বাসার মেড দরজা নক করতে ও জিজ্ঞেস করে।

"" দিনা : কে?
শিমু : মেম আমি শিমু মেডাম আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছেন আপনার মামানির সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য।

দিনা : মা কে বল উনাকে নাস্তা খাইয়ে বিদায় করতে। আমি আসবো না! ""

আরিয়ানা চৌধুরী : তো বলো অহংকারী বলবো না!

হাসিন চৌধুরী অবাক হয়ে বলে।

হাসিন চৌধুরী : সিরিয়াসলি ও এমনা বলছে!

আরিয়ানা চৌধুরী : তা নয় তো কি ! আমি কি খাওয়ার জন্য গিয়েছিলাম? আপু অবশ্য সরি বলেছে মেয়ের ব্যবহারের জন্য। আমি তো বলি উমাইর দের সবারই ব্যবহার এতো মিষ্টি ওই মেয়ে এমন কেন? আপু এতটা ভালো আর আপুর মেয়ে কি না এমন জঘন্য!

হামিম চৌধুরী : রক্ত কথা বলে!
হামিম চৌধুরী কে থামিয়ে দিয়ে হারিস চৌধুরী বলে।

হারিস চৌধুরী : চুপ করো হামিম ! দেখো আরিয়ানা কারোই সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করতে নাই।

চড়ুই বেগম : হ্যাঁ বউ মা আমরা যখন লন্ডন গিয়েছিলাম, তখন খুব ভালো ব্যবহার ছিলো। এমন কি অনেকটা হাসি, খুশি থাকতো। কথা বলতো সবার সাথে।তখন হাম্মাদ চৌধুরী বলে

হাম্মাদ চৌধুরী : হ্যাঁ ছোট বউ মা। আমরা সব না জানলেও এটা জানি, ও মানসিক ভাবে সুস্থ না। আমাদের পরিবারের কেউ যেন ওর বিষয়ে কিছু না বলে। এবং ওকে নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে। এমন কি ওর সাথে দেখা কথা কিছু না বলে।

আজ চারদিন ধরে ফাই দেখলের সাথে দেখা করতে চাই। কারণ ফাই সাদাফ এহসান এর সাথে ঝামেলা করার পর থেকে ফাই এর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ফাই তার ভার্সিটির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া অনুষ্ঠানে বসে আছে। এমন সময় ফাই এর গার্ড এসে বলে

গার্ড : স্যার দেখলে মেম কে দেখেছি গাছতলায় বসে আছে।

গার্ডের কথা শুনে ফাই দেখলের কাছে আসে বলে।

ফাই : দেখলে কি সমস্যা সব জায়গায় আমাকে ব্লক কেন করেছ?

তখন দেখলে রেগে বলে

দেখলে : আমরা পৃথিবীতে বেইমানদের সবথেকে বেশি আপন করি তাই।

ফাই : বেইমান!

দেখলে : তা বর্তমান এমপি ওয়াহেদ এসফার চৌধুরী ভাই সাবেক এমপি সাদিক এহসান এর মেয়ের কাছে কি?

ফাই : দেখ দেখলে তুমি জানো আমি এখানে কেন! আমাকে
এক্সপ্লেন করতে দাও প্লিজ।

দেখলে : দেখ আমাকে কোনো কিছু এক্সপ্লেন করতে হবে না। আমি ভার্সিটির সব থেকে জিনিয়াস ও সহজ সরল গরিব ছেলে ইচান ফাই কে ভালো বেসেছি, ওমিরাং চৌধুরীদের কাউকে ভালোবাসিনি কোনো ইচান ফাই চৌধুরী কে ভালোবাসিনি। আমি ওমিরাংদের সাথে নিজেকে জড়িয়ে কোনো কিছু চাই না। এমনকি আমার এক্স কে চাই না।

ফাই : এক্স?

দেখলে : হ্যাঁ এক্স! তোমাকে আমার আসে পাশে দেখতে চাই না।

ফাই : শুন দেখলে বুঝতে চেষ্টা করো!

দেখলে : এই যে এই হাত, যেই হাতে আমার হাত ধরেছেন সেই হাত আমার ভাই হত্যার জন্য উঠেছে! তারপরও ভালোবাসা আশা করেন? আর কখনো যদি ভালোবাসার দাবি নিয়ে আসেন! তো আমার জুতা আপনার মুখে থাকবে। আই হোপ বুঝতে পারছেন তাই বলবো ওমিরাং চৌধুরীদের সম্মানহানির দৃষ্টান্ত দেখাবেন না। কারণ এটা আমার আপনার জন্য ভালো হবে না! কারণ আমি আমার ইগো বজায় রাখতে পছন্দ করি।

ফাই সব বুঝতে পারছে দেখলের বলা না বলা সব কথা। তার কিছু করার নাই শুধু আবেগ ভালোবাসা না তার হৃদয় চিঁড়ে যাচ্ছে । দম বন্ধ যন্ত্রণা হচ্ছে। এমন কষ্ট হচ্ছে ও শব্দ করতে পারছিলো না। ও বসে পড়ে এক সময় মাটিতে লুটিয়ে পরে। গার্ডরা দৌড়ে যায় ফাইয়ের কাছে। দেখে ফাই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে। আর মুখ থেকে সাদা ফেনা বাহির হচ্ছে। গার্ডরা সাথে সাথে হারিস চৌধুরী কে কল করে। ফাই কে নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্য রওনা হয়।
একমাসের মাথায় চড়ুই পাখির কিচিরমিচির আবাসে আবার দুঃখের ছায়া। ফাই মিনি স্ট্রোক করেছে। আরো একবার তিনদিন হসপিটালে কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছে ফাই। এখন ফাই কিছু টা সুস্থ।

রাত তখন তিনটা ছাঁদর দোলনায় শুয়ে আছে ওরাং এমন সময় ফাই ছাঁদে আসে। ফাই কে দেখে ওরাং বলে।

ওরাং : ভালোবাসা খুব ভয়ংকর তাই না?

ফাই : না এটা খুব সুন্দর এর থেকে বেস্ট কিছু হয় না!

ওরাং : বেস্ট!

উপহাসের সুরে বলে ওরাং তারপর আবার বলে

ওরাং : ভালোবাসা বেস্ট বলে তুই আজ এখানে। ভালোবাসা বেস্ট বলে তিন দিন হসপিটাল থাকতে হয়েছে তোকে!

ফাই : হুম ভালোবাসা বেস্ট বলে, তুমি বাংলাদেশে যখন থাকো। তখন এই সময়টা তোমাকে এখানে পাওয়া যায়। তাকে খুব ভালোবাসো?

ওরাং : অনেক!

ফাই : কখন থেকে?

ওরাং : যখন থেকে সে আমার নামে দলিল হয়েছে।

ফাই : পেয়ে হারানোর যন্ত্রণা টা ভয়ংকর সুন্দর!

ওরাং : সুন্দর কেন?

ফাই : সে তোমার দলিল করা ছিলো তাও হারিয়েছ। যেমন দেখলে কে আমি পেয়ে হারিয়েছি। তুমিও তাকে পেয়ে হারিয়েছ।

ওরাং : তখন যদি বুঝার ক্ষমতা থাকতো হারিয়ে ফেলতাম না!

ফাই : এটা শুধু মনে হয় ! ধারণা মাত্র! তা না হলে দেখ আমার বুঝার ক্ষমতা হয়েছে তাও আমি দেখলে কে হারিয়েছি।

ওরাং : জীবনের গল্পটা এমন না হলে কি হতো?

ফাই : জানা নাই! মাঝে মধ্যে মনে হয় আমাদের লাইফের বড় শত্রু ওমিরাং।

ওরাং : না! কারণ ওমিরাং যদি আমাদের গল্প লিখিত তা হলে আমার গল্প সুন্দর হতো।

ফাই : আওয়াজটা শুনেছো? ও খুব সুন্দর গান করে। আমার আগে মনে হতো একটা ছেলের জন্য ওর এতো কেন পাগলামি? আজ দেখো আমি কেনর উত্তর পেয়ে গেছি। ভালোবাসা কি ভয়ংকর অনুভূতি যে বাসে সে জানে!

দিনা : না জানি কোন অপরাধে দিলা এমন জীবন। আমারে পুড়াইতে তোমার এতো আয়োজন। আমারে ডুবাইতে তোমার এতো আয়োজন। (২) না জানি কোন অপরাধে দিলা এমন জীবন। আমারে পুড়াইতে তোমার এতে আয়োজন। আমারে ডুবাইতে তোমার এতো আয়োজন। সুখে থাকার স্বপ্ন দিলা সুখতো দিলা না, কতো সুখে আছি বেঁচে খবর নিলা না, বিধি খবর নিলা না। (২) আমি ছাড়া কেউ নাই , আমার দুঃখের পরিজন । আমারে পুড়াইতে তোমার এতো আয়োজন। আমারে ডুবাইতে তোমার এতো আয়োজন।ফাই : ও গানে নিজের সব আবেগ ঢেলে দেয়।

ওরাং : ভায়োলিন আর দোতারা টাও খুব ভালো বাজায়। ওর কন্ঠ টা খুব চিনা লাগে।

ফাই : লাস্ট কবে দেখেছ ওকে?

ওরাং : ওকে আমি দেখেছি তখন আমার বয়স দশ তার বয়স ছয়। তারপর ও যেইদিন দেশে এসেছে সেইদিন সবার সাথে আমিও দশক হিসাবে ওর কন্ঠ শুনেছি।

ফাই : ও ওদের ছাঁদে ডাক দেয় ?

ওরাং : সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার মানসিকতা নাই। তাছাড়া ও আমাদেরকে অপছন্দের অজানা কারণে করে। দাদানের নিষেধ সব মিলিয়ে না!

ফাই : কখনো মনে হয় না কথা বলি!

ওরাং : তেইশ ফুটেছে এই দূরত্ব তেইশ হাজার মাইলের মনে হয়!

ফাই : ওকে । বাদ দাও কোথায় থেকে কোথায় গেছি দেখ! ছিলাম চেকা খাওয়ার গল্পে, চলে গেছি দিনা উমাইরের কাছে।

চড়ুই পাখির কিচিরমিচির আবাস

প্রতি শীতে কানিসা চৌধুরী নানা রকম বাহারি পিঠা তৈরী করে। আগে এস করতো চড়ুই বেগম আর এখন তার দায়িত্ব কানিসা চৌধুরী ও ফারিয়া চৌধুরী তবে গর্ত দুই বছর ধরে তাদের সাথে মুন ও আছে। মুন হলো হারিস চৌধুরী ছোট ছেলে নেভি লে. কমান্ডার কাহিল ওরহান চৌধুরীর স্ত্রী মালিহা মুন আজকাল আয়নার উমাইর কুঞ্জে আসা যাওয়া হয় অনেক। কারণ নিজের মেডিকেল কলেজের শিক্ষিকা কম বন্ধু পেয়ে তার সাথে এবং ফুফুমনি কে পেয়ে তার সময় খুব ভালো যাচ্ছে। আয়নার রাত হোক কিংবা দিন সময় টা উমাইর কুঞ্জে বেশি দেয়। পাশাপাশি উমাইররা সবাই ওকে বেশ আপন করে নিয়েছে। আফিয়া উমরাহ তো ইনিয়ে বিনিয়ে কয়বার বলেছে আয়নাকে ছেলের বউ করার কথা। এতো কিছুর মাঝে দিনার সাথে আয়নার দেখা হয়নি। কারণ পাখি উমাইর আয়না কে নিষেধ করেছে দিনা বাড়ি থাকা অবস্থায় ওর আসেপাশে যেন না যায়। অন্য দিকে দিনা খুব একটা বাড়ি থাকে না, আর যখনি বাড়ি থাকে খুব জরুরি না হলে রুম থেকে বাহির হয় না। এমন কি নিজের খাবার টাও কারোর সাথে বসে খায় না। খাবারের সময় হলে শিমু তাকে রুমে খাবার দিয়ে আসে এতো কিছুর মাঝে পাখি উমাইর এটা বুঝতে পারছে, দিনা চৌধুরীদের হিংসা করে। কারণ দিনার ভাবনা পাখির উমাইর এর কাছে চৌধুরীদের গুরুত্ব বেশি।

আফিয়া উমরাহ : চলো নিচে যায়! সন্ধ্যা নাস্তার সময় হয়ে যাচ্ছে।

পাখি উমাইর, আফিয়া উমরাহ ও দিবা, আয়না সবাই মিলে বিকাল থেকে ছাঁদে ছিলো। পাখি উমাইর দেশে আসার পর ছাঁদে বেশ কিছু গাছ লাগিয়েছে । গর্ত সাত মাসে ছাঁদ বাগানের গাছ গুলোর অনেক উন্নতি হয়েছে। ছাঁদটা অনেক সুন্দর করেছে চারপাশে গাছ লাগিয়েছে মাঝখানে লাইন করে গাছ লাগিয়েছে। তারপর ছাঁদে বসবার জন্য স্টিলের চেয়ারে আর দোলনা বসিয়েছে । সন্ধ্যা নাস্তা হিসেবে চা, বিস্কুট, পাস্তা করেছে পাখি উমাইর । এমন সময় আফিয়া উমরাহ এর মোবাইলে কল আসে। তারপর আফিয়া উমাইর পাখি উমাইর কে উদ্দেশ্য করে বলে।

আফিয়া উমাইর : ভাবি তোমার মোবাইল কোথায়? ভাই কল করে তোমাকে পাচ্ছে না!

পাখি : আল্লাহ আমি তো ছাঁদ থেকে মোবাইল আনতে ভুলে গেছি।

আফিয়া উমাইর : আচ্ছা দাঁড়াও আমি এনে দিচ্ছি।

তখন আয়না বলে

আয়না : না আন্টি আমি যাচ্ছি।

দিবা : না! তুমি যাওয়া লাগবে না আমি যাচ্ছি।

আয়না : আরে আমিই যাচ্ছি ।

দিবা : দেখো এই সময় ছাঁদে বেশি থাকবে না, আমি আমার নানুর কাছে শুনেছি বাংলাদেশে অনেক জিন আছে। যারা এই সময় ছাঁদে থাকে! তাই তাড়াতাড়ি আসবে।

আয়না : ওকে। বাট এসব কথা গল্প বাস্তব না।

আয়না ছাঁদে যায় ছাদে থাকা টেবিল থেকে মোবাইলটা নেয়। এমন সময় সামনে দেখে কেউ আয়নার দিকে পিঠ করে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি আয়নার দিকে তাকাই। আয়নার দিবার বলা কথাটা মনে পড়ে। আয়না মনে মনে বলে।

আয়না : আল্লাহ কি অদ্ভুত! আমি শুনেছি পুরুষরা জিন হয়, তাহলে মেয়েরা নিশ্চয়ই পরি হবে। আমাকে কি এখন ছাঁদ থেকে ফেলে মেরে দিবে! আল্লাহ!

এটা ভাবতে ভাবতে আয়না দেয় এক চিৎকার । আয়না চিৎকার দিচ্ছে তো দিচ্ছে থামা থামি নাই। এর মাঝে তিন তলায় থাকা দীন ছুটে আসে। দীন এসে দেখে আয়না আর দিনা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, দিনা আয়নার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। অন্যদিকে আয়না চিৎকার করে যাচ্ছে। তখন দীন বলে

দীন : ইউ ইডিয়ট চুপ করো! চিৎকার করো কেন?

আয়না দীন এর কথা শুনে বলে

আয়না : আমি পরি দেখছি আপনি দেখেন না?

দীন অবাক হয়ে বলে

দীন : না!

আয়না দীন কে হাত দিয়ে দিনা কে ইশারা করে দেখিয়ে বলে।

আয়না : এই যে পরি ! নিশ্চয় আমাকে মারতে চাই তাই আমি দেখছি!

দীন আয়নার আজগুবি কথা শুনে আয়না কে দেয় দমক আর বলে।

দীন : সেট-আপ ইস্টুপিট ও আমার বোন দিনা।

ততক্ষণে বাড়ির বাকিরা ছাঁদে চলে আসে। দিনা সবার দিকে তাকিয়ে ছাঁদ থেকে চলে যায়। তখন পাখি উমাইর বলে।

পাখি : কি হয়েছে আয়না এমন করে চিৎকার করছে কেন?

দীন : দিনা কে দেখে।

আফিয়া উমাইর : দিনা কি করছে?

দীনা : কিছু না! উনি দিনা কে পরি ভাবছেন আর তাই এমন করছে।

বলে দীন একটা হাসি দেয় আর চলে যায়! আর আয়না দীনের হাসি তে পিছলে পড়ে মানে ক্রাস খায় । দিবা আয়নাকে বলে।

দিবা : কি হলো তুমি এমন চিৎকার করেছ কেন?

আয়না : আমি তোমার কথা শুনে এসে উনাকে দেখে ভয় পেয়েছি।

পাখি : হুম বুঝতে পারছি পাগল। এখন চল।

নিচে নামের সময় আয়না দিবাকে প্রশ্ন করে।

আয়না : দিনা আপু কি আসলে এমন দেখতে।

দিবা : হ্যাঁ। কেন?

আয়না : উনি এক কথায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো, আগুন সুন্দরী! আচ্ছা উনি এই পর্যন্ত কয়টা প্রপোজাল পেয়েছে?

দিবা : গিয়ে জিজ্ঞেস করো!

আয়না : না! এমনিতে একটা লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছি আবার এমন কিছু ভুলেও করা যাবে না ।

দিবা : তুমি আসলেই একটা ভীতু!

সময় প্রবাহমান জীবনের ছন্দের গতি ছিড়ে চলে যায়, কেউ সময় কে বন্দি করতে পারে না কিন্তু স্মৃতি বন্দি হয়ে থাকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত। একেক জনের স্মৃতি একের রকম হয়।

দিনা আজও নিজের স্মৃতি মুছেতে পারেনি বরং করেছে আরো জীবন্ত । এলা জাসব কে সে ভুলতে পারছে না এটা বলেও ভুল হবে সে ভুলতে চাই না । কারণ ভুলা সম্ভব না। স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব না তবে জমি সেটার উপর স্তর করে রাখা যায়।

নোট/বিঃদ্রঃ

বিঃদ্রঃ আমি নতুন লেখক হিসেবে লিখছি। বানান ভুল বা কোনো অসংগত অংশ চোখে পড়লে মন্তব্যে জানাবেন। আপনার পরামর্শ আমার জন্য খুব মূল্যবান। গল্পের প্রতিটি এপিসোডে আমি শিখছি—তাই সাপোর্ট আর গাইডলাইন চাই সবার কাছ


নতুন হিসেবে সবাই আশা করি সাপোর্ট করবেন। ভুল ত্রুটি হলে সাহায্য করবেন। নিজের পরিচয়ে আমার প্রথম

Address

Sandwip

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Terra Soord Moa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share