11/05/2026
#ধর্ষিত_বাংলাদেশঃ
পুরো বাংলাদেশ এখন ধর্ষন ও বলাৎকারের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে।দিনে দিনে পুরো জাতি বিচারহীনতার এক জনপদে পরিনত হচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো-সমাজে যখন কোন নিন্দনীয় ঘটনা ঘটে তখন আমার মত বিনে পয়সার সাংবাদিক ছিঃ ছিঃ রব তুলে সোশ্যাল মিডিয়া ভরে ফেলে,অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপসংস্কৃতিতে মেতে ওঠে যা কখনও কাম্য নয়। প্রকৃত ঘটনা না জেনে বা মূল অপরাধী কে সে বিষয়ে কোন ধারণা না থাকার পরও আমরা এক পক্ষ অপর পক্ষকে নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি তে লিপ্ত হয়ে পড়ি। যে প্রকৃত অপরাধী সে সমাজের যে স্তরের মানুষ হোক না কেন তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করতে হবে। অথচ আমরা অপরাধীর শ্রেণীবিন্যাস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
এবার মূল আলোচনায় আসি-
সম্প্রতি দেশে ধর্ষণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গির্জার চার্চ, প্যাগোডার ভান্তে বা ভিক্ষু,মাওলানা, মৌলভী,শিক্ষক, শিল্পপতি, টোকাই, সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ কম বেশি রয়েছে।
কিন্তু বিশেষ করে লক্ষ্য করা যায় যে ব্যক্তিটি যদি হুজুর গোছের কেউ হয় তাহলে ছিঃ ছিঃ রব টি একটু উচ্চস্বরে হয়। আমার প্রশ্ন হুজুররা কি মানুষ না! ওনারা কি যৌন চাহিদার ঊর্ধ্বে? এ কথা বলে আমি আলেম সমাজ কে ডিফেন্ড করছি না এবং তা করা শোভনীয় নয়। অপরাধী সে যেই হোক অপরাধী। প্রকৃত সমস্যা হলো আমারা অপরাধের উৎস ও এর প্রতিকার বিষয়ে কথা না বলে শুধু শুধু চিল্লাচিল্লি করি। ধর্ষণ বিষয়ে কোরআন হাদীসের আইন বলে আমি দেশটাকে আফগানিস্তান বানাতে বলছি না কিন্তু আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি মানুষের বানানো আইন দিয়ে সমাজের কোন অপরাধ সমূলে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ধর্ষণ তো নয়ই। কিন্তু স্বাধীনতার এই দীর্ঘ সময়ের পর নারী নির্যাতন বা সুরক্ষায় এমন কোন কার্যকরী আইন বা পদক্ষেপ গ্রহণ কি নেয়া হয়েছে যা নারী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে? হ্যাঁ হয়তো কাগজে কলমে কিছু আইন আছে যার বাস্তব প্রয়োগ খুব কমই দেখা যায়, আবার দীর্ঘসূত্রিতার ফলে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে।
এবার কারণ ও প্রতিকার বিষয়ে কথা বলা যাক-
প্রধান কারণ হলো বিকৃত রুচি বিকৃত যৌন চাহিদা। তা না হলে ঘরে ভালোবেসে বিয়ে করা সুন্দরী স্ত্রী,ষাটোর্ধ্ব নারীকে যুবক কিংবা অশীতিপর বৃদ্ধ বালিকার সঙ্গে এমনকি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কেউ ধর্ষণ করতো না। আগে একটি অবিবাহিত যুবক বা নারীর এ বিষয়ে ধারণা অনেক পরে হতো,আর এখনতো ডিভাইসের সহজলভ্যতার কারণে হাতে হাতে যৌন হাব।
পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার প্রচলন এতো বেড়েছে যে,একশ্রেণীর যুবকের হাতে অগাধ নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে।
রইল বাকি নেশার সামগ্রী-
এখন তো মোড়ের টং দোকানে বাবা বিক্রি হয়,চোলাই মদ নিজেরা বানায়,বৈধ বার তো শহরের অলিগলি ছাপিয়ে মফস্বলে এসে ঠেকেছে।
খোলামেলা পোশাকের কথা বাদ ই দিলাম, ওটা বললে আপনারা আবার আমার চোখের ডাক্তার দেখাতে বলবেন, কিন্তু শালীন পোশাক যা আমাদের কমিউনিটির সাথে যায় তা পরা উচিত বলে আমার মনে হয়, কেননা এটা ইউরোপ না, ওরা ওভাবে দেখে অভ্যস্থ,আর আমাদের দেশে কেউ যদি স্লিভলেস কামিজ পরে তাহলেও হাঁ করে তাঁকিয়ে থাকে।তাই যে পরিবেশে যেটা মানানসই সেটা ব্যবহার করা উচিত।
দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির বড্ড অভাব আমাদের দেশে। অপরাধীরা অপরাধ করে পেশীশক্তি, রাজনৈতিক শক্তি,টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যায়,ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এজন্য দরকার নারী সুরক্ষায় বিশেষ আইন ও কার্যকরী পদক্ষেপ।
এবার মৌলভী ও মাদ্রাসা বিষয়ে আসা যাকঃ
মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়া বিষয়ে সমাজ কলুষিত হওয়ার ফতোয়া জারি করা লোকের অভাব নেই, অথচ প্রচলিত হেফ্জখানা,এতিম খানা,কওমী মহিলা মাদ্রাসা গুলো এমনকি প্রাইভেট মহিলা স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা গুলো কিভাবে চলবে বা চললে ভালো হয় সে বিষয়ে কোনো ফতোয়া নেই। প্রাইভেট মহিলা মাদ্রাসায় কেন পুরুষ শিক্ষক থাকবে এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য নেই! এ বিষয়ে অভিজ্ঞ প্যানেল গঠন করে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। মহিলা আলিয়া মাদ্রাসা গুলো টাইম ফ্রেমে চলে বলে অঘটনের সংখ্যা কম,তবে সমাজের চিত্র অনুযায়ী ধীরে ধীরে এখানেও সব মহিলা শিক্ষিকা দেয়া দরকার। আমার মনে হয় সব সেক্টরের মহিলা মাদ্রাসা গুলো পরিচালনা করার মত ভূরি ভূরি মহিলা শিক্ষিকা আমাদের দেশে আছে। এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।
পরিশেষে বলবো আজ আমাদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক শিক্ষার বড় অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে,যার ফলে সমাজে ভিন্ন ধারার অপরাধ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই আসুন আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার উপর মনযোগী হই।
06.05.2026
বুধবার