The Quran Verse

The Quran Verse Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from The Quran Verse, Digital creator, Satkhira.
(2)

 #একটুখানি_তাদাব্বুর ﴿اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْ...
01/08/2026

#একটুখানি_তাদাব্বুর

﴿اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِن بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً﴾
"(তিনিই মহান) আল্লাহ যিনি দুর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন। অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তি দান করেন। অতঃপর শক্তির পর (আবার) দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।"
— সূরা আর-রূম: ৫৪।

দুর্বলতা থেকে শক্তি, শক্তি থেকে আবার দুর্বলতা— এটাই মানুষের বাস্তবতা মানুষের জীবন যেন একটি পূর্ণ বৃত্ত।
শুরুটা দুর্বলতা দিয়ে। এক নবজাতক শিশু যে নিজের মাথাও তুলতে পারে না, ক্ষুধার কথা বলতে পারে না, এক গ্লাস পানিও নিজে পান করতে পারে না। তারপর ধীরে ধীরে সে বড় হয়। হাঁটতে শেখে, দৌড়াতে শেখে, স্বপ্ন দেখতে শেখে। যৌবনে এসে সে মনে করতে শুরু করে— "আমি পারি, আমি জানি, আমি শক্তিশালী।"

কিন্তু কুরআন আমাদের সেই ভুল ধারণা ভেঙে দিচ্ছেন মহান সৃষ্টিকর্তা নিজেই।
আল্লাহ বলছেন, এই শক্তিও চিরস্থায়ী নয়। একদিন সেই শক্তিশালী শরীরই আবার দুর্বল হবে। যে হাত একসময় ভারী বোঝা বহন করত, সেই হাত একদিন লাঠির ভর খুঁজবে। যে চোখ একসময় দূরের ক্ষুদ্র জিনিসও দেখতে পেত, সেই চোখ একদিন একটি অক্ষর পড়তেও কষ্ট পাবে। যে পা একসময় দ্রুত ছুটে চলত, সেই পা একদিন ধীরে ধীরে কাঁপতে কাঁপতে হাঁটবে।

এই আয়াত শুধু বার্ধক্যের কথা বলে না; এটি মানুষের অহংকার ভাঙার আয়াত।
আমরা প্রায়ই নিজের সৌন্দর্য, শক্তি, জ্ঞান, অর্থ কিংবা পদমর্যাদা নিয়ে গর্ব করি। অথচ আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যা নিয়ে তুমি অহংকার করছ, তার কোনোটিই তোমার নিজের অর্জন নয়।
তুমি দুর্বল ছিলে— আল্লাহ শক্তি দিয়েছেন।
আজ তুমি শক্তিশালী— আল্লাহ চাইলে মুহূর্তেই সেই শক্তি ফিরিয়ে নিতে পারেন।

এ কারণেই কুরআন আমাদের শেখায়, শক্তি পাওয়া গর্বের কারণ নয়; বরং কৃতজ্ঞতার কারণ হওয়া উচিত।

এই আয়াত আমাদের আরও একটি দৃশ্য দেখায়। একসময় মা-বাবা আমাদের কোলে নিয়েছেন। আমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম।
আজ হয়তো তারা বৃদ্ধ। হাঁটতে কষ্ট হয়, কথা বলতে কষ্ট হয়, অনেক কিছু ভুলে যান। আজ তারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল। এটাই আল্লাহর নির্ধারিত জীবনচক্র।

যে সন্তান এই আয়াত বুঝবে, সে কখনো বৃদ্ধ মা-বাবাকে বোঝা মনে করবে না। কারণ সে জানে একদিন আমিও এই অবস্থায় পৌঁছাতে পারি।

যৌবন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আমরা সাধারণত বার্ধক্যকে পরীক্ষা মনে করি। অথচ কুরআন ইঙ্গিত দেয়, যৌবনও একটি পরীক্ষা।
শক্তি পেয়েছ— কোথায় ব্যয় করলে?
জ্ঞান পেয়েছ— কাকে উপকার করলে?
অর্থ পেয়েছ— আল্লাহর পথে কতটুকু খরচ করলে?
সময় পেয়েছ— কতটুকু কুরআনের জন্য, কতটুকু সালাতের জন্য, কতটুকু মানুষের উপকারে ব্যয় করলে?

কারণ একদিন এই শক্তি থাকবে না, কিন্তু এর হিসাব অবশ্যই থাকবে। হিসাব দেওয়াই লাগবে মহান আল্লাহর কাছে।
তাই আজ, এই মুহুর্তেই নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন।

✅আমি কি আমার শক্তিকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করছি, নাকি গুনাহে?
✅আজ যদি আমার এই শক্তি চলে যায়, আমার ঈমান কি অটুট থাকবে?
✅আমি কি আমার বৃদ্ধ বাবা-মা বা পরিবারের দুর্বল সদস্যদের প্রতি সেই মমতা দেখাই, যা একদিন তারা আমার প্রতি দেখিয়েছিলেন?
✅আমি কি এমন আমল করছি, যা বার্ধক্যেও আমার জন্য আলো হয়ে থাকবে?

সূরা আর-রূমের এই আয়াত আমাদের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আজ যে শক্তি নিয়ে আমরা গর্ব করি, কাল সেটিই স্মৃতিতে পরিণত হবে। আজ যে চেহারা, যে স্বাস্থ্য, যে সামর্থ্য আমাদের অহংকারী করে তোলে, একদিন সবই সময়ের কাছে নত হবে।

তাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা হলো শক্তির সময় বিনয়ী থাকা, সুস্থতার সময় ইবাদত করা এবং যৌবনের সময় আখিরাতের পুঁজি সংগ্রহ করা।
কারণ, যে যৌবন আল্লাহর ইবাদতে কাটে, সেই যৌবনের সৌন্দর্য বার্ধক্যেও মুছে যায় না; বরং কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় পরিণত হয়।

প্রার্থনা :
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দুর্বলতায় ধৈর্য, শক্তিতে কৃতজ্ঞতা এবং বার্ধক্যে ঈমানের দৃঢ়তা দান করুন। আমাদের শক্তি যেন কখনো অহংকারের কারণ না হয়; বরং আপনার আনুগত্য ও মানুষের কল্যাণে আমার জীবন ব্যয় করার তাওফীক দান করুন।
আমীন।

28/07/2026
 #একটুখানি_তাদাব্বুর وَإِلَيَّ الْمَصِيرُ "এবং অবশ্যই আমার কাছেই (তোমাদের) প্রত্যাবর্তন করতে হবে।"— সূরা আল-হাজ্জ: ৪৮।এক...
20/07/2026

#একটুখানি_তাদাব্বুর

وَإِلَيَّ الْمَصِيرُ
"এবং অবশ্যই আমার কাছেই (তোমাদের) প্রত্যাবর্তন করতে হবে।"
— সূরা আল-হাজ্জ: ৪৮।

একদিন এই পৃথিবীতে আপনার নাম ছিল। মানুষ আপনাকে চিনত। আপনার একটি পরিচয় ছিল। কেউ আপনাকে বাবা বলে ডাকত, কেউ সন্তান, কেউ বন্ধু, কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ কর্মকর্তা।
কিন্তু কবরস্থানের প্রতিটি কবর একটি নীরব সত্যের সাক্ষী।
এখানে কেউ আর ডাকনামে পরিচিত নয়। কেউ ধনী নয়, কেউ গরিব নয়। কেউ রাজা নয়, কেউ সাধারণ মানুষ নয়। এখানে সবাই একটি পরিচয়ে পরিচিত—আল্লাহর বান্দা, যে তার রবের কাছে ফিরে গেছে।

এই কারণেই আল্লাহ খুব সংক্ষিপ্ত অথচ হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়া একটি বাক্যে বলেছেন—
"وَإِلَيَّ الْمَصِيرُ"
"ফিরে আসতে হবে আমার কাছেই।"
এই পৃথিবীতে আমরা সবাই পথিক। কেউ দীর্ঘ পথ হেঁটে, কেউ অল্প পথ হেঁটে, কেউ শৈশবে, কেউ যৌবনে, কেউ বার্ধক্যে—একদিন সবাই একই দরজায় পৌঁছে যাবে।

আমরা কত যত্ন করে নিজের ঘর সাজাই, অথচ সেই ঘরে আমাদের থাকা কয়েক দশকের বেশি নয়। আমরা ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়াতে ব্যস্ত থাকি, অথচ কবরের জন্য আমলের ভাণ্ডার গড়তে ভুলে যাই। আমরা মানুষের সামনে নিজের সম্মান রক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা করি, অথচ আল্লাহর সামনে কী অবস্থায় দাঁড়াব সেটি নিয়ে কতবার ভেবেছি?
এই আয়াতটি আসলে আমাদের ভয় দেখানোর জন্য নয়; জাগিয়ে তোলার জন্য।

আজ আমরা যে শ্বাস নিচ্ছি, সেটি হয়তো আমাদের জীবনের আরেকটি সুযোগ। কারণ কবরের মানুষগুলোও একদিন আমাদের মতোই ভাবত—
"আরও কিছুদিন পরে তাওবা করব।"
"সময় হলে কুরআন পড়া শুরু করব।"
"একটু স্থির হলে নিয়মিত সালাত আদায় করব।"
কিন্তু মৃত্যু কারও পরিকল্পনার অপেক্ষা করেনি।

কবরে পৌঁছানোর পর কেউ আর একটি সিজদা বাড়াতে পারে না। একটি আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে না। এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলে তাওবা করতে পারে না। আজ যা সম্ভব, কাল তা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে।

তাদাব্বুরের দৃষ্টিতে এই আয়াত আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়। জীবনের প্রতিটি দিন আসলে রবের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতির দিন।
যে ব্যক্তি এই সত্যটি হৃদয়ে ধারণ করে, তার কাছে দুনিয়ার অহংকার তুচ্ছ হয়ে যায়। সে মানুষের প্রশংসার জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বাঁচে। সে জানে, আজ যে অন্যায়ের সুযোগ আছে, কাল তার হিসাবও আছে। আজ যে নেক কাজের সুযোগ আছে, কাল তার প্রতিদানও আছে।

তাই নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন—
✅যদি আজকের রাতই আমার জীবনের শেষ রাত হয়, আমি কি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত?
✅আমার নামাজ কি আমাকে সাক্ষ্য দেবে?
✅আমার কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক কি আমাকে রক্ষা করবে?
✅আমার গোপন আমলগুলো কি আমার কবরকে আলোকিত করবে? নাকি আমি শুধু দুনিয়ার জন্যই সব প্রস্তুতি নিয়েছি?

মনে রাখবেন, মৃত্যু জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান। আর কবর কোনো শেষ ঠিকানা নয়; এটি আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি।
তাই যতদিন শ্বাস চলছে, ততদিন আশাও আছে। যতদিন সূর্য ওঠে, ততদিন তাওবার দরজাও খোলা। যতদিন হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছে, ততদিন আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগও রয়েছে।
সুবহানাল্লাহ।

আসুন, আজই আমরা ফিরে আসি—মৃত্যুর পরে নয়, মৃত্যুর আগেই। কারণ, যে ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তার জন্য মৃত্যুও হয়ে ওঠে প্রিয় রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সেতুবন্ধ।

প্রার্থনা :
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত করুন। মৃত্যুর পূর্বে আন্তরিক তাওবা, বিশুদ্ধ ঈমান এবং নেক আমলের জীবন দান করুন। কবরকে আমাদের জন্য জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দিন এবং আপনার সন্তুষ্টি নিয়েই যেন আমরা আপনার কাছে ফিরে যেতে পারি সেই সৌভাগ্য আপনি আমাদেরকে নসীব করুন
আমীন।

সাত মনযিলে সাত দিনে কুরআন খতম — সুন্নাহসম্মত একটি পদ্ধতি==============কুরআন মাজীদ। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লার প্রেরিত সর্বশ...
16/07/2026

সাত মনযিলে সাত দিনে কুরআন খতম — সুন্নাহসম্মত একটি পদ্ধতি
==============
কুরআন মাজীদ। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লার প্রেরিত সর্বশেষ জীবন-বিধান। এতে আছে আমাদের করণীয়, বর্জনীয় দিক নির্দেশনা। এটি পাঠ করলে আল্লাহ যেমন খুশি হন তেমনি জীবনে নেমে আসে বারাকাহ। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে আমরা এতটাই ব্যস্ত যে কুরআন পড়ার সময় হয় না! সিস্টেম্যাটিক্যালি পরিকল্পনা করলে কুরআন পড়ে অগণিত নেকি পাওয়ার ব্যবস্থা করা কি আমাদের উচিত নয়?
অবশ্যই কুরআন হলো নূর। আর এই নূরকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করলে জীবন হয়ে ওঠে অপরুপ।

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন কুরআন খতম করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে ধীরে ধীরে কমাতে বলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্দেশ দেন:
"সাত দিনে কুরআন খতম করো, এর চেয়ে কম সময়ে (নিয়মিতভাবে) খতম করো না।"
— সহীহ আল-বুখারী: ৫০৫৪, সহীহ মুসলিম: ১১৫৯
সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কুরআনকে সাতটি অংশে (মনযিল) ভাগ করে এক সপ্তাহে তিলাওয়াত সম্পন্ন করতেন। এই পদ্ধতিকে "সাব'আতু আহযাব" (সাত মনযিল) বলা হয়। এতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েকটি সূরা পড়ে সপ্তম দিনে কুরআন সম্পূর্ণ করা হয়।
সাত মনযিলের বিভাজন :
১ম দিন (৩ সূরা):
সূরা আল-ফাতিহা
সূরা আল-বাকারাহ
সূরা আলে ইমরান
সূরা আন-নিসা
২য় দিন (৫ সূরা):
সূরা আল-মায়িদাহ
সূরা আল-আন'আম
সূরা আল-আ'রাফ
সূরা আল-আনফাল
সূরা আত-তাওবাহ
৩য় দিন (৭ সূরা):
সূরা ইউনুস
সূরা হূদ
সূরা ইউসুফ
সূরা আর-রা'দ
সূরা ইবরাহীম
সূরা আল-হিজর
সূরা আন-নাহল
৪র্থ দিন (৯ সূরা):
সূরা আল-ইসরা
সূরা আল-কাহফ
সূরা মারইয়াম
সূরা ত্বা-হা
সূরা আল-আম্বিয়া
সূরা আল-হাজ্জ
সূরা আল-মু'মিনূন
সূরা আন-নূর
সূরা আল-ফুরকান
৫ম দিন (১১ সূরা):
সূরা আশ-শু'আরা
সূরা আন-নামল
সূরা আল-কাসাস
সূরা আল-আনকাবূত
সূরা আর-রূম
সূরা লুকমান
সূরা আস-সাজদাহ
সূরা আল-আহযাব
সূরা সাবা
সূরা ফাতির
সূরা ইয়াসীন
৬ষ্ঠ দিন (১৩ সূরা):
সূরা আস-সাফফাত
সূরা সোয়াদ
সূরা আয-যুমার
সূরা গাফির
সূরা ফুসসিলাত
সূরা আশ-শূরা
সূরা আয-যুখরুফ
সূরা আদ-দুখান
সূরা আল-জাসিয়াহ
সূরা আল-আহকাফ
সূরা মুহাম্মাদ
সূরা আল-ফাতহ
সূরা আল-হুজুরাত
৭ম দিন (৬৫ সূরা):
সূরা কাফ থেকে সূরা আন-নাস পর্যন্ত।
কেন এই বিভাজন?
এই পদ্ধতিতে প্রথমে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সূরাগুলো আলাদা দিনে ভাগ করা হয়েছে। শেষ অংশে ছোট ছোট সূরা বেশি হওয়ায় একদিনে সংখ্যা বেশি (৬৫টি সূরা) হলেও তিলাওয়াতের পরিমাণ ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
এটি মুখস্থকারী (হাফিজ), নিয়মিত তিলাওয়াতকারী এবং কুরআনের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি পদ্ধতি।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
এটি কুরআন খতমের একটি সুন্নাহসম্মত বিভাজন, ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। যার যতটুকু সামর্থ্য, সে ততটুকু নিয়মিত তিলাওয়াত করবে। অর্থ বুঝে, তাদাব্বুরের সাথে এবং সুন্দর তাজবীদে কুরআন পড়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
যদি সাত দিনে নিয়মিত খতম করা কঠিন হয়, তবে এক মাস বা আরও বেশি সময়ে ধীরে ধীরে খতম করলেও তা উত্তম।
___________
রেফারেন্স :
✅সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৫০৫৪ (কুরআন সাত দিনে খতম করার নির্দেশ)
✅সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫৯
✅সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ১৩৯৩
✅জামে' আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৯৪৯
✅মুসনাদ আহমাদ, ২/১৬৩ (সাহাবীদের সাত মনযিল বিভাজনের বর্ণনা)
✅সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ১৩৯৬ — আওস ইবনু হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে সাহাবীদের কুরআনকে ৩, ৫, ৭, ৯, ১১, ১৩ এবং "মুফাসসাল" ভাগে বিভক্ত করার বর্ণনা; এ থেকেই সাত মনযিল পদ্ধতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের সাথে আজীবন সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং তা বুঝে, আমল করে ও অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।

 #একটুখানি_তাদাব্বুর"হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলেছে?"— সূরা আল-ইনফিতার: ৬।কুরআনের সবচেয়ে নাড়...
11/07/2026

#একটুখানি_তাদাব্বুর
"হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলেছে?"
— সূরা আল-ইনফিতার: ৬।

কুরআনের সবচেয়ে নাড়া দেওয়া প্রশ্নগুলোর একটি এটি। লক্ষ্য করুন, আল্লাহ এখানে বলেননি— "তুমি কেন অবাধ্য হলে?" কিংবা "কেন গুনাহ করলে?" বরং তিনি এমন একটি প্রশ্ন করেছেন, যা মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে—

"কিসে তোমাকে ধোঁকায় ফেলেছে?"
এই প্রশ্নের ভেতরে যেন এক অসীম মমতা লুকিয়ে আছে। যেন একজন দয়ালু রব তাঁর পথভ্রষ্ট বান্দাকে জিজ্ঞেস করছেন, "কী এমন হলো যে তুমি আমার থেকে দূরে সরে গেলে?"

তাদাব্বুর :
মানুষ সাধারণত আল্লাহকে অস্বীকার করে না; বরং ধীরে ধীরে তাঁর ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যায়।

✅একটি নামাজ বাদ পড়ে। তারপর আরেকটি।
✅একটি গুনাহকে ছোট মনে হয়। তারপর সেটিই অভ্যাসে পরিণত হয়।
✅একদিন কুরআন না পড়লেও কিছু হয় না। এরপর মাস কেটে যায়।
এভাবেই শয়তান মানুষকে এক লাফে নয়, ধাপে ধাপে ধোঁকায় ফেলে।

তবে সবচেয়ে বড় ধোঁকা কী?
সবচেয়ে বড় ধোঁকা হলো—
"আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরে তাওবা করে নেব।"

হ্যাঁ, আল্লাহ অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল। কিন্তু কে নিশ্চয়তা দিয়েছে যে আমরা তাওবার আগ পর্যন্ত বেঁচে থাকব?

আরেকটি ধোঁকা হলো—
"আমি তো খারাপ মানুষ নই।"
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমি কি আল্লাহর হক আদায় করছি? ভালো মানুষ হওয়া যথেষ্ট নয়; আল্লাহর অনুগত বান্দা হওয়াই প্রকৃত সফলতা।

এই আয়াতের গভীর সৌন্দর্য :
আল্লাহ নিজের পরিচয় দিয়েছেন "রব্বিকাল কারীম"— "তোমার মহান, দয়ালু রব" হিসেবে।
তিনি চাইলে বলতে পারতেন— "প্রতাপশালী রব" বা "শাস্তিদাতা রব"। কিন্তু তিনি বলেছেন— কারীম।
কেন?
কারণ অনেক সময় মানুষ আল্লাহর দয়াকেই ভুলভাবে ব্যবহার করে। আল্লাহ বারবার সুযোগ দেন, গুনাহ ঢেকে রাখেন, রিযিক দেন, সুস্থতা দেন— আর মানুষ ভাবে, "আমার কিছুই হবে না।"

অথচ আল্লাহর দয়া গুনাহে সাহসী হওয়ার জন্য নয়; বরং তাঁর দিকে ফিরে আসার জন্য।

নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করুন :

✅কতদিন হলো আমি কুরআনের সামনে বসিনি?
✅আমার শেষ অশ্রুসিক্ত সিজদা কবে ছিল?
✅দুনিয়ার ব্যস্ততা কি আমাকে আমার রব থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে?
✅আমি কি আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করছি, কিন্তু তাঁর আনুগত্যে অবহেলা করছি?

এই আয়াত অন্য কাউকে প্রশ্ন করছে না বরং আমাকেই করছে!
"হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলেছে?"
হয়তো ধোঁকাটা আমার সম্পদ। হয়তো আমার ক্যারিয়ার। হয়তো মোবাইলের পর্দা। হয়তো অহংকার। হয়তো দীর্ঘ আশা। হয়তো এই ধারণা— "এখনো অনেক সময় আছে।"
কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিটি সূর্যাস্ত আমাদের জীবনের একটি দিন কমিয়ে দেয়। মৃত্যু আমাদের বয়স দেখে আসে না; আসে আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে।

আজ যদি এই আয়াত আমাদের হৃদয়কে নাড়া দেয়, তবে সেটিই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। কারণ হৃদয় যতক্ষণ জীবিত, ততক্ষণ ফিরে আসার দরজা খোলা।

তাই আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করা উচিত।
"হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ার মিথ্যা ধোঁকা থেকে রক্ষা করুন। আপনার অসীম দয়াকে যেন কখনো গুনাহে লিপ্ত থাকার অজুহাত না বানাই। আমাদের অন্তরকে আপনার দিকে ফিরিয়ে দিন, মৃত্যুর পূর্বেই সত্যিকার তাওবার তাওফীক দান করুন এবং আপনার আনুগত্যের ওপর অবিচল রাখুন।"

আমীন ইয়া রব্বাল আলা'মিন।

📖 কুরআনের প্রতিটি অক্ষর—আপনার জন্য অফুরন্ত নেকির ভাণ্ডারআমরা অনেক সময় ভাবি, “আজ কুরআন পড়ার সময় হলো না”, “একটু পরে পড়ব”, ...
09/07/2026

📖 কুরআনের প্রতিটি অক্ষর—আপনার জন্য অফুরন্ত নেকির ভাণ্ডার
আমরা অনেক সময় ভাবি, “আজ কুরআন পড়ার সময় হলো না”, “একটু পরে পড়ব”, কিংবা “এত অল্প পড়লে কী-ই বা হবে!” অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এমন এক সুসংবাদ দিয়েছেন, যা একজন মুমিনের হৃদয়কে কুরআনের দিকে ছুটে যেতে বাধ্য করে।

প্রিয়নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর তিলাওয়াত করে, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।”

— সুনানে আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০।

এই হাদিসের আলোকে আলেমগণ হিসাব করে আনুমানিকভাবে বলেন, কুরআনের একটি পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করলে প্রায় ৫,০০০, একটি পারা পড়লে প্রায় ১,০০,০০০, আর পুরো কুরআন একবার খতম করলে প্রায় ৩০,০০,০০০ নেকি অর্জনের সুযোগ হতে পারে। এটি কোনো নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সংখ্যা নয়; বরং হাদিসে বর্ণিত প্রতিটি অক্ষরে ১০ নেকি—এই মূলনীতির ভিত্তিতে একটি আনুমানিক হিসাব।

ভাবুন তো, দিনে যদি মাত্র ১০–১৫ মিনিট সময় বের করে কয়েক পৃষ্ঠা কুরআন পড়ি, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে কত বিশাল প্রতিদান আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে! অথচ আমরা অনেক সময় মোবাইল স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিই, কিন্তু কুরআনের জন্য কয়েক মিনিটও বের করতে পারি না।

কুরআন শুধু নেকি অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি হৃদয়ের প্রশান্তি, ঈমানের শক্তি, জীবনের দিশা এবং আখিরাতের সফলতার পথপ্রদর্শক। যে ঘরে কুরআনের তিলাওয়াত হয়, সে ঘরে বরকত নাযিল হয়। যে হৃদয় কুরআনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে হৃদয় আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত থাকে।

চলুন, আজ থেকেই একটি ছোট্ট লক্ষ্য ঠিক করি—

✅ প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করব।
✅ তিলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থ ও তাদাব্বুর (গভীর চিন্তা) করার চেষ্টা করব।
✅ পরিবারকেও কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করব।

হয়তো এই ছোট্ট আমলই কিয়ামতের দিন আমাদের নাজাতের কারণ হয়ে যাবে।
সুবহান আল্লাহ।
কুরআনের প্রতিটি অক্ষর উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ আপনার আমলনামায় নেকি লিখে দেন।

তাই আজই কুরআনের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, বুঝে পড়া এবং তার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমীন।

 #একটুখানি_তাদাব্বুর সফলতার প্রথম ধাপ: খুশূপূর্ণ সালাত﴿قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ۝ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَا...
05/07/2026

#একটুখানি_তাদাব্বুর

সফলতার প্রথম ধাপ: খুশূপূর্ণ সালাত
﴿قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ۝ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ﴾
"নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফল হয়েছে— যারা নিজেদের সালাতে বিনয়-নম্র (খুশূপূর্ণ)।"
— সূরা আল-মু'মিনূন: ১–২।

আজকের পৃথিবী সফলতার অসংখ্য সংজ্ঞা শিখিয়েছে। কেউ বলে— ভালো চাকরি, কেউ বলে— প্রচুর অর্থ, কেউ বলে— খ্যাতি, কেউ বলে— লক্ষ লক্ষ অনুসারী। অথচ আল্লাহ তাআলা যখন সফল মানুষের পরিচয় দিতে শুরু করলেন, তখন তিনি সম্পদ, শক্তি কিংবা খ্যাতির কথা দিয়ে শুরু করেননি। তিনি শুরু করেছেন সালাত দিয়ে।

কেন?
কারণ, যে মানুষ দিনে পাঁচবার আল্লাহর সামনে বিনয়ের সাথে দাঁড়াতে পারে, সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি অর্জন করে। যে হৃদয় আল্লাহর সামনে নত হতে শিখেছে, সে দুনিয়ার সামনে মাথা নত করে না।

খুশূ'— শুধু নীরব দাঁড়িয়ে থাকা নয়
অনেকেই মনে করেন, খুশূ' মানে শুধু মাথা নিচু করে নামাজ পড়া বা চোখে অশ্রু আসা। কিন্তু খুশূ' আরও গভীর একটি বিষয়।

খুশূ' হলো—
এমন একটি হৃদয়, যা সালাতে প্রবেশ করেই দুনিয়ার ব্যস্ততাকে পিছনে ফেলে আসে।
এমন অনুভূতি, যেখানে প্রতিটি আয়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে নিজের জন্য পাঠানো বার্তা বলে মনে হয়।
এমন বিনয়, যেখানে রুকুতে অহংকার ভেঙে যায় এবং সিজদায় আত্মা শান্তি খুঁজে পায়।

সালাতের প্রতিটি রুকন যেন আমাদের অন্তরের একটি পরিবর্তনের ধাপ। কিয়াম শেখায়— আমি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। রুকু শেখায়— আমার অহংকারের কোনো মূল্য নেই।সিজদা শেখায়— মাটিতে মাথা রাখার মধ্যেই প্রকৃত সম্মান লুকিয়ে আছে।

লক্ষ্য করুন, আল্লাহ বলেননি—
"যারা বেশি সালাত আদায় করে।"
বরং বলেছেন—
"যারা নিজেদের সালাতে খুশূ' অর্জন করে।"
কারণ, সালাতের সংখ্যা নয়; সালাতের প্রভাবই একজন মানুষের জীবনকে বদলে দেয়।

কত মানুষ সালাত পড়ে, অথচ সালাত তার চরিত্র পরিবর্তন করতে পারে না। আবার কত মানুষ অল্প আমল করেও আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়, কারণ তার ইবাদতে থাকে আন্তরিকতা, ভয়, ভালোবাসা এবং বিনয়।

যে সালাত আমাদের গীবত, মিথ্যা, অহংকার, হারাম ও অন্যায়ের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে না, সেই সালাতের খুশূ' নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।

আজ নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করুন...
√ আমি কি সালাতে দাঁড়িয়ে অনুভব করি— আল্লাহ আমাকে দেখছেন?

√ আমার জিহ্বা কুরআন পড়ে, কিন্তু আমার হৃদয় কি তার অর্থ শুনছে?

√ শেষ কবে এমন একটি সিজদা করেছি, যেখানে শুধু আল্লাহর কাছেই আমার সব দুঃখ উজাড় করে দিয়েছি?

√ সালাত শেষ হওয়ার পর আমার চরিত্রে কি কোনো পরিবর্তন দেখা যায়?

প্রকৃত সফলতা ডিগ্রি দিয়ে শুরু হয় না। ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে শুরু হয় না। মানুষের প্রশংসা দিয়েও শুরু হয় না।

প্রকৃত সফলতা শুরু হয় একটি খুশূপূর্ণ সালাত থেকে। যে হৃদয় সালাতে আল্লাহকে খুঁজে পায়, সে জীবনের ঝড়েও পথ হারায় না। কারণ সে জানে মানুষের সামনে নয়, তাকে একদিন দাঁড়াতে হবে মহান রব্বুল আলামিনের সামনে।

তাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত
"হে আল্লাহ! আমাদের সালাতকে শুধু কিছু শারীরিক নড়াচড়া নয়, বরং এমন এক ইবাদতে পরিণত করুন যা আমাদের অন্তরকে জীবিত করবে, গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনবে এবং আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলদের অন্তর্ভুক্ত করবে।"
মহান আল্লাহ আমাদেরকে খুশুর সাথে সালাত আদায়ের তাওফিক দান করুন।
আমীন।

 #একটুখানি_তাদাব্বুরসূরা লুকমান, আয়াত ২৯ كُلٌّ يَجْرِي إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى "প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত (অর্থাৎ ...
03/07/2026

#একটুখানি_তাদাব্বুর
সূরা লুকমান, আয়াত ২৯

كُلٌّ يَجْرِي إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى
"প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত (অর্থাৎ একটি নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত) পরিভ্রমণ করে।"
(সূরা লুকমান: ২৯)।
আয়াতটি নিয়ে একটু কল্পনা করুন।
একজন নভোচারী যখন মহাকাশে যায়, তখন তার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, এমনকি একটি ক্ষুদ্র স্ক্রুও নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে যেতে পারে না। মহাকাশে সামান্য ভুলও ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। কারণ, পুরো মহাবিশ্ব চলছে নির্ভুল নিয়ম, গাণিতিক ভারসাম্য এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের ওপর।

প্রদর্শিত ছবিটি যেন সেই বাস্তবতারই একটি প্রতীক।
আজকের বিজ্ঞান বলছে—পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বেগে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। আবার সূর্য নিজেও ছুটে চলছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে ঘিরে। গ্যালাক্সিটিও চলছে আরও বৃহত্তর মহাজাগতিক গতিপথে। তবুও কোটি কোটি বছর ধরে এদের সংঘর্ষ হয় না, ছন্দ নষ্ট হয় না, কক্ষপথ ভেঙে পড়ে না।

কেন?!
কারণ, এর পেছনে আছে এমন এক স্রষ্টার নির্ধারিত বিধান, যিনি ঘোষণা করেছেন—
"প্রত্যেকেই একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে।"
এ আয়াত শুধু সূর্য-চন্দ্রের গতির কথা বলে না; এটি আমাদের জীবনকেও স্পর্শ করে, আমাদের জীবনের বিষয় গুলোও যেন ব্যক্ত করছে সুনিপুণ ভাবে।

যেমন গ্রহ-নক্ষত্রের কক্ষপথ নির্ধারিত, তেমনি আমাদের জন্ম, রিযিক, সুযোগ, পরীক্ষা এবং মৃত্যুরও একটি "অজলুম মুসাম্মা"—নির্ধারিত সময় আছে।

আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, পরিকল্পনা করি, ভয় পাই। অথচ যে রব কোটি কোটি নক্ষত্রকে তাদের নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করেন, তিনি কি তাঁর বান্দার জীবনকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দিতে পারেন?!

কখনোই না।
এই আয়াত আমাদের শেখায় মহাবিশ্বে কিছুই বিশৃঙ্খল নয়। বিশৃঙ্খলা অনেক সময় শুধু আমাদের সীমিত দৃষ্টিতে। আল্লাহর পরিকল্পনায় প্রতিটি ঘটনাই নির্ধারিত, প্রতিটি বিলম্বের একটি প্রজ্ঞা আছে, প্রতিটি সাক্ষাতের একটি সময় আছে, এমনকি প্রতিটি বিদায়েরও।

মহাকাশের দিকে তাকালে মানুষ নিজের ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করে। কিন্তু কুরআনের দিকে তাকালে সে উপলব্ধি করে এই বিশাল মহাবিশ্বের প্রতিপালকই আমার রব।

তাই ভয় নয়, ভরসা করুন। উদ্বেগ নয়, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করুন। কারণ, যিনি কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রকে তাদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিচালিত করেন, তিনি অবশ্যই আপনার জীবনকেও তাঁর সর্বোত্তম পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত করছেন।

আমাদের সকল প্রয়োজন তো তিনি জানেনই। তাই প্রার্থনা করা উচিত এ বলে যে, "
হে আল্লাহ! মহাবিশ্বের নিখুঁত শৃঙ্খলা দেখে আমাদের অন্তরে আপনার মহত্ত্বের উপলব্ধি বৃদ্ধি করুন। আমাদেরকে আপনার তাকদীরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং আপনার পরিকল্পনার ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করার তাওফীক দান করুন।"
আমীন।

 #একটুখানি_তাদাব্বুর﴿قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّى﴾"নিশ্চয়ই সফলতা লাভ করবে সে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।"(সূরা আল-আ'লা: ১৪)।...
02/07/2026

#একটুখানি_তাদাব্বুর
﴿قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّى﴾
"নিশ্চয়ই সফলতা লাভ করবে সে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।"
(সূরা আল-আ'লা: ১৪)।
আমরা সফলতার সংজ্ঞা কত সহজেই বদলে ফেলেছি!
ভালো চাকরি, বড় বাড়ি, পরিচিতি, অর্থ, অনুসারী—এসবকেই আমরা সফলতা ভাবতে শিখেছি। অথচ আল্লাহ মাত্র কয়েকটি শব্দে জানিয়ে দিলেন, প্রকৃত সফলতা শুরু হয় অন্তর থেকে।

"যে নিজেকে পবিত্র করেছে"—এর অর্থ শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়। বরং হৃদয়কে হিংসা, অহংকার, রিয়া, কপটতা, গুনাহ ও নফসের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার অবিরাম সংগ্রাম।

প্রতিদিন আমরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা ঠিক করি। কিন্তু কবে শেষবার নিজের অন্তরের দিকে তাকিয়েছিলাম?
আমার সালাতে কি খুশু আছে?
আমার কথায় কি মানুষ নিরাপদ?
আমার চোখ কি হারাম থেকে সংযত?
আমার উপার্জন কি হালাল?
আমার হৃদয়ে কি আল্লাহর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা আছে?

তাযকিয়াহ (আত্মশুদ্ধি) একদিনের কাজ নয়। এটি প্রতিদিনের যুদ্ধ। কখনো তাওবার অশ্রু দিয়ে, কখনো কুরআনের আলোয়, কখনো রাতের নির্জনে সিজদায়, কখনো নিজের প্রবৃত্তিকে "না" বলার মাধ্যমে একজন মুমিন ধীরে ধীরে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে।

মনে রাখবেন, আল্লাহ বলেননি— "সফল সে, যে সবচেয়ে ধনী।", "সফল সে, যে সবচেয়ে বিখ্যাত।" বরং বলেছেন, "সফল সে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।"

হয়তো পৃথিবী আপনার নাম জানবে না, কিন্তু যদি আপনার হৃদয় আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন হয়, তবে সেটিই সবচেয়ে বড় সফলতা।

আজ একটু সময় নিয়ে নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করি— আমি কি আমার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করছি, নাকি শুধু দুনিয়াকে সাজাতেই ব্যস্ত?

আল্লাহ আমাদের অন্তরকে কুরআনের নূরে আলোকিত করুন, গুনাহ থেকে পবিত্র করুন এবং সেই সফল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদের সম্পর্কে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন—
﴿قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّى﴾
"নিশ্চয়ই সফলতা লাভ করবে সে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।"
— সূরা আল-আ'লা, আয়াত ১৪

সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি।

 #একটুখানি_তাদাব্বুর "অতএব, কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ হয়, ততটুকু পড়ো।"— সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত: ২০ (আংশিক)।কত অদ্ভু...
26/06/2026

#একটুখানি_তাদাব্বুর

"অতএব, কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ হয়, ততটুকু পড়ো।"
— সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত: ২০ (আংশিক)।

কত অদ্ভুত আমাদের জীবন!
দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত কত শত কাজ, কত ব্যস্ততা, কত নোটিফিকেশন, কত মানুষের জন্য সময়। কিন্তু যখন কুরআন খুলে বসার সময় আসে, তখনই মনে হয়—"আজ খুব ক্লান্ত", "আগামীকাল থেকে শুরু করব", "একটু সময় হলে পড়ব।"
আর সেই আমাদেরই উদ্দেশ্যে আল্লাহ কী অপার মমতায় বলছেন—
"যতটুকু তোমার জন্য সহজ হয়, ততটুকুই পড়ো।"

আল্লাহ জানেন, আমরা দুর্বল। তিনি জানেন আমাদের ব্যস্ততা, ক্লান্তি, সীমাবদ্ধতা। তাই তিনি আমাদের ওপর এমন কোনো বোঝা চাপিয়ে দেননি যা বহন করা কঠিন। বরং তিনি আমাদের জন্য দরজা খুলে রেখেছেন 'শুধু শুরু করো'। যতটুকু পারো, ততটুকুই যথেষ্ট।
সুবহান আল্লাহ।

হয়তো আজ এক পৃষ্ঠা।
হয়তো মাত্র পাঁচটি আয়াত।
হয়তো একটি আয়াতই।
কিন্তু যদি তা হয় আন্তরিকতার সঙ্গে, তবে সেই সামান্য সময়টুকুই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত।

একটু ভেবে দেখুন...
যে কুরআন আপনার হৃদয়ের অন্ধকার দূর করতে পারে, যে কুরআন কিয়ামতের দিন আপনার জন্য সুপারিশ করবে, যে কুরআন আপনার ঘরে বরকত নিয়ে আসে সেই কুরআনের জন্য আমরা দিনে কত মিনিট সময় রাখি?!

আমরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখি। অথচ আল্লাহর কালাম খুলে পাঁচ মিনিট বসাও অনেক সময় কঠিন মনে হয়। সমস্যা সময়ের অভাব নয়; সমস্যা হলো অগ্রাধিকারের অভাব। আল্লাহুম্মাগফিরলি।

মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার কাছ থেকে এক দিনে পুরো কুরআন শেষ করতে বলেননি। তিনি শুধু বলেছেন—
"যতটুকু সহজ হয়, ততটুকু পড়ো।"
এ যেন এক দয়াময় রবের ভালোবাসার আহ্বান— "আমার বান্দা, দূরে সরে থেকো না। অল্প হলেও প্রতিদিন আমার কালামের কাছে ফিরে এসো।"

হয়তো আজ আপনি একটি আয়াত পড়বেন। সেই একটি আয়াতই আপনার হৃদয় বদলে দিতে পারে। একটি আয়াতই আপনাকে একটি গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। একটি আয়াতই আপনার চোখে তাওবার অশ্রু এনে দিতে পারে।

তাই আজই সিদ্ধান্ত নিন—
কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ব পরিমাণ দিয়ে নয়, ধারাবাহিকতা দিয়ে ইনশা আল্লাহ।

প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় আল্লাহর কথার সঙ্গে কাটাব। কারণ, যে হৃদয় কুরআনের সান্নিধ্যে থাকে, সে হৃদয় কখনো সত্যিকার অর্থে একা থাকে না।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে কুরআনের মানুষ বানিয়ে দিন। আমাদের হৃদয়কে কুরআনের নূরে আলোকিত করুন, কুরআনকে আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক এবং আখিরাতে আমাদের সুপারিশকারী বানিয়ে দিন।
আমীন।

Address

Satkhira
9421

Telephone

+8801722645508

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Quran Verse posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share