22/07/2026
মৃত্যুর পর যদি প্রথম যে সত্তার মুখোমুখি হতে হতো, সে হতো শেয়ালের মাথাওয়ালা এক দেবতা—তাহলে?
প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাসে সেই দেবতার নাম ছিল—আনুবিস ।
প্রাচীন মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সামনে প্রথমেই যে দেবতা হাজির হন তিনিই হলেন মৃতের জগতের অধিকর্তা আনুবিস। "মারা যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির বাকশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে আনুবিস তাকে সেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন।" তারপর সেই মৃত বাঁচতে থাকেন পরবর্তী এক জীবনে ! প্রাচীন মিশরীয় পুরাণের অন্যতম বিখ্যাত দেবতা এই "শিয়াল মানুষ।" মানে মাথাটা শেয়াল কুকুরের আর দেহটি মানুষের।" প্রাচীন মিশরীয় শিল্পে শেয়াল বা কুকুরের মাথাওয়ালা মানুষের ছবি মেলে বিস্তর। রহস্যময় এই অর্ধ মানুষ অর্ধ প্রাণীই মিশরীয় দেবতা আনুবিস। আনুবিস মমি তৈরির দেবতা। আরও ভালো করে বলতে গেলে, মৃতদেহকে দীর্ঘকাল ধরে পচনরোধী করে রাখা, সুবাসিত রাখার প্রাচীন মিশরীয় কৌশলের দেবতা এই আনুবিস। তিনিই প্রথম মমি তৈরি করেছিলেন, তাও নিজের বাবার দেহের। আনুবিসের উপাসনার প্রধান কেন্দ্র ছিল" কিনোপোলিসে।" গ্রিক ভাষায় "কিনোপোলিসের আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় কুকুরের শহর ৷"
ঐতিহাসিকরা বলছেন, প্রাক-বংশীয় যুগে (৩১/৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের আগে) মরুভূমি বরাবর মৃতদের সমাধিস্থল ছিল। এই অগভীর কবরগুলিই ছিল বন্য কুকুর এবং শেয়ালের আড্ডা। হাজার হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরে ক্ষুধার্ত শিয়ালরা অগভীর মরুভূমি মধ্যে কবর খুঁড়ে পুঁতে রাখা মৃতদেহ খুঁড়ে খেয়ে পেট ভরত। প্রাচীন মিশরীয়দের কাছে এই শিয়াল কুকুরের মরদেহ খাওয়ার বিষয়টি ছিল বিভীষিকার মতোই !
প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো মৃত্যু পরবর্তী এক জীবন রয়েছে ৷
সেই জীবন উপভোগ করার জন্য আস্ত একটা দেহ চাই। মরার পর দেহ শেয়াল কুকুরে খেলে আর কীভাবেই বা পরপারে জীবন কাটানো যাবে মহানন্দে? তাই মৃতদেহ সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তারা।
ফলস্বরূপ, প্রিয়জনদের মৃতদেহ রক্ষা করার জন্য শেয়াল দেবতার কাছেই প্রার্থনা করত মানুষ।
"ভয় থেকে ভক্তির সেই চিরাচিরত প্রথা!" এইভাবেই বন্য শিয়াল মৃতদের সঙ্গে জুড়ে যায় মিশরীয় সংস্কৃতিতে ৷
আবার, প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত কোনও ব্যক্তির মৃতদেহের সঙ্গে কুকুরকে সমাহিত করা হলে ওই কুকুর নাকি মৃতের হয়ে আনুবিসের কাছে সুপারিশ করবে।
আর এসব বিশ্বাস আর ধ্যানধারণা থেকেই প্রাচীন মিশরীয়রা মমি তৈরি করার প্রচেষ্টা শুরু করে !
ভয় থেকেই জন্ম নিয়েছিল ভক্তি, আর সেই ভক্তিই সৃষ্টি করেছিল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়—মমি।
#অব্যয়ীভাব #বাংলাইতিহাস