Sumaiya Mehejabin Mou

Sumaiya Mehejabin Mou Digital Creator

৮ মাসের ছোট্ট তানিশার পেটে বী*র্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে…🥺😰কথাটা বলতে গিয়েই ডা. শফিক আহমেদের গলা কেঁপে উঠল। তিনি বহু বছর ...
16/02/2026

৮ মাসের ছোট্ট তানিশার পেটে বী*র্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে…🥺😰

কথাটা বলতে গিয়েই ডা. শফিক আহমেদের গলা কেঁপে উঠল। তিনি বহু বছর ধরে চিকিৎসা করছেন। র*ক্ত, মৃ-ত্যু, দুর্ঘ-টনা—মানুষের জীবনের অসংখ্য ভয়ংকর দৃশ্য তিনি দেখেছেন। কিন্তু আজ তার চোখে জল টলমল করছে। যেন একজন ডাক্তার নয়, একজন বাবা কথা বলছেন।

আইসিইউর কাঁচের দরজার ওপাশে ছোট্ট একটা শরীর শুয়ে আছে। নাক-মুখে নল, বুক ওঠানামা করছে যন্ত্রের সাহায্যে। মনিটরের শব্দগুলো যেন মৃ-ত্যুর সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছে।

সেই শরীরটাই তানিশা।

করিডোরে অদ্ভুত এক নীরবতা। মানুষে ভরা, কিন্তু শব্দ নেই। সবাই ফিসফিস করছে, আবার চুপ হয়ে যাচ্ছে। যেন জোরে কথা বলাটাও অপরাধ।

তানিশার মা আমেনা অনেক আগেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। পাশের ওয়ার্ডে তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে জ্ঞান ফিরছে, আবার চিৎকার করে উঠছেন—

“আমার মাইয়াডারে দাও… আমার বাচ্চাডারে দাও… আল্লাহ আমারে নিয়া যাও, ওরে না…”

তার সেই কান্না শুনে নার্সরাও চোখ মুছছে।

আর করিডোরের মেঝেতে বসে আছে একজন মানুষ।

তানিশার বাবা, পেশায় রিকশাচালক রফিক।

তার পরনের শার্ট ভিজে গেছে ঘাম আর চোখের জলে। দুই হাত মাথায় দিয়ে বসে আছে। বুকটা যেন ভেঙে টুকরো হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু শব্দ বের হচ্ছে না। হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে উঠছে, আবার থেমে যাচ্ছে।

কেউ কাছে যেতে পারছে না।

কারণ কী বলবে?

কীভাবে বলবে—সব ঠিক হয়ে যাবে?

সবাই জানে, কিছুই ঠিক নেই।

হঠাৎ রফিক মাথা তুলে আইসিইউর দরজার দিকে তাকাল। তার চোখ লাল, ফুলে গেছে। ঠোঁট কাঁপছে।

সে ফিসফিস করে বলতে শুরু করল—

“ডাক্তার সাহেব… আমার মাইয়াডারে বাঁচান… ও তো এখনও ঠিকমতো বসতেও পারে না… ও তো আমারে চিনে হাসে…”

তার কণ্ঠ ভেঙে গেল।

তারপর হঠাৎ সে বুক চাপড়ে কাঁদতে লাগল।

“আমার তানিশা যখন সকালে ঘুম থেইকা ওঠে… আমি কাছে গেলে হাত নাড়ে… জানেন ডাক্তার? আমারে দেখলেই হাসে… এমন হাসে… যেন আমি দুনিয়ার সবকিছু…”

চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো নিঃশব্দে কাঁদছে।

রফিক থামছে না।

“আমি রিকশা চালাইয়া রাতে বাসায় ফিরি… শরীর ব্যথায় শেষ… কিন্তু দরজা খোলার সাথে সাথে ওরে কোলে নিই… ও আমার দাড়ি ধইরা টানে… হেসে হেসে লালা ফালায়… আমি বলি—এইডা আমার রাজকুমারী…”

তার গলা বন্ধ হয়ে আসছে।

“ডাক্তার সাহেব… আমি ওরে প্রতিদিন কপালে চুমু দিয়া ঘুমাই… আজ সকালে বের হওয়ার আগে বলছিলাম—বাবা আইসা তোমারে খেলনা আনবো…”

সে হঠাৎ মাটিতে মাথা ঠুকে কাঁদতে লাগল।

“আমি কেন যাইছিলাম… কেন যাইছিলাম…”

ডা. শফিক দাঁড়িয়ে আছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে তার অনেক দৃশ্য দেখা আছে। কিন্তু আজ তিনি চোখের জল আটকাতে পারছেন না।

রফিক আবার বলছে—

“ও জন্মের পর প্রথম যেদিন আমার আঙুল ধইরা ধরছিল… আমি কসম খাইছিলাম—এই মাইয়ারে কষ্ট করতে দিমু না… আল্লাহরে বলছিলাম—আমার আয়ু কমাইয়া ওরে দেন…”

তার কণ্ঠ করিডোরে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছে।

“আমার মাইয়া তো এখনও আব্বা ডাকতে পারে না… ডাক্তার সাহেব… একবার ডাক শুনে মরতে চাই…”

চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখ ভিজে গেছে।

একজন বয়স্ক লোক ফিসফিস করে বলল—

“আল্লাহ… এত পরীক্ষা নিও না…”

আইসিইউর ভেতরে তখন তানিশার ছোট্ট বুক উঠছে-নামছে। মনিটরের আলো জ্বলছে নিভছে। নার্সরা দৌড়াচ্ছে।

হঠাৎ মনিটরে অ্যালার্ম বেজে উঠল।

বিপ… বিপ… বিপ…

হার্ট রেট দ্রুত নিচে নামছে।

নার্স চিৎকার করল—

“ডাক্তার!”

ডা. শফিক দৌড়ে ঢুকে গেলেন।

দরজা বন্ধ।

বাইরে দাঁড়িয়ে রফিক কাঁপছে। তার ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। সে দরজায় হাত রেখে ফিসফিস করে বলছে—

“আল্লাহ… আমার মাইয়াডারে ফিরাইয়া দাও… আমারে নিয়া যাও… ওরে না…”

তার কণ্ঠ ধীরে ধীরে বিলাপে ভেঙে গেল।

“তানিশা… বাবা আইছে… চোখ খোল মা… একবার হাসো…”

করিডোরে উপস্থিত সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

কারণ এই মুহূর্তে কোনো ভাষা নেই।

শুধু অপেক্ষা।

জীবন আর মৃ-ত্যুর মাঝখানে ঝুলে থাকা একটা ছোট্ট প্রাণের অপেক্ষা।

👇

বাকিটা নতুন করে পোস্ট করে বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে দিবো.....যে সত্য আপনার হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত করে দিতে পারে। 🥺

প্রথমত ছদ্মনাম ব্যবহার করে, কিছু টা গুছিয়ে লিখেছি।তবে এটা কোন গল্প না, এটা ঢাকা গাজীপুরে একটা এমন ঘটনা যেই ঘটনা প্রতিটি মেয়ের মায়ের জন্য একটা সতর্কতা। এমন ঘটনা আর কখনো না হোক। 😰

লেখায় : 1 Minute With Mitu

Address

Satkhira

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumaiya Mehejabin Mou posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share