21/01/2026
🌻🌻
এক বিয়ে বাড়িতে গেছিলাম। আমার পাশে এক ভদ্রলোক আর ওনার বউ বসছেন। ওনাদের দুইজনের মাঝে ওনাদের এক বাচ্চাও বসছে। দেখে বুঝা যাচ্ছে তিন চার বছরের সংসার ওনাদের।
টেবিলে খাবার দিলে সবাই খাবার নিলাম। ওই ভদ্রলোকও খাবার নিয়ে খাচ্ছেন আর একটু পরপর বউকে বলছেন,
-- 'এই বাবুরে একটু মাংস ছিঁড়া দেও!'
বউটা খাচ্ছেন আর বাবুরে মাংস দিচ্ছেন।
জামাই আবার একটু পর বললেন,
-- 'এই বাবুরে একটু মাংস ছিঁড়া দেও!'
ভদ্রমহিলা আবার মাংস দিলেন।
অদ্ভুত ভাবে ভদ্রমহিলা নিজে খাবার মুখে দিতে নিলেই ভদ্রলোক টাইমিং করে বলছেন, ‘এই বাবুরে একটু মাংস ছিঁড়া দেও!’
একটু পর ভদ্রলোক আবার যখন বললেন, ‘এই বাবুরে একটু মাংস ছিঁড়া দেও’, আমার মুখ দিয়া বের হয়ে যেতে নিছিলো, ‘আপনের হাত দুইটা কই ঢুকায় রাখছেন? এই জিনিসের (বাবু) অর্ধেকতো আপনারও অংশ!’
নিজেরে সামলে নিয়ে আমার প্লেট থেকে মাংস নিয়ে ছিঁড়ে বাবুকে দিয়ে ভদ্রমহিলাকে বললাম,
-- 'আপনি একটু পেট ভরে আরাম করে খানতো!'
আমার এই কাজে আশেপাশে কে কী ভাবলো আমার কিছু যায় আসে নাই! আমার পাশে আম্মা আর ছোটো ভাই বসা ছিলো! এরা দুইজন আমার কাণ্ড দেখে এমন ভাব করলো যেন এরা আমারে চেনে না! অথচ এদের গাড়ি ভাড়া করে আমি নিয়া গেছি! এই ভদ্রমহিলার পেট থেকে আমি বের হইছি এই জিনিস মনেহয় আজ ভুলে গেছেন!
আমি কাচ্চির নলা হাড্ডি তৃপ্তি নিয়ে চাবায়া গুঢ়া গুঢ়া কইরা উঠছি! ভদ্রলোক এরপর নীরবে খাবার শেষ করলেন।
--
আমি হাত ধুতে উঠে ভাবতেছিলাম, হুট করে একদিন এই মেয়ে বাসায় গেছে ভার্সিটি থেকে আর বাপ মা এই লোকের ছবি দেখায়া বলছে, এর সাথে তোমার বিয়ে! বলো কবুল!
নাহয় প্রেমিকাই ছিলো, বিয়েতো হয়ে গেছে এখন আর যাবে কই? ভদ্রলোক মনেহয় এমন কোনো প্রেমিক!
কিন্তু প্রেমিকতো এমন হওয়ার কথা না! কিংবা সম্পর্কে কেয়ারিং কেন থাকবে না?
কথা ছিলো এমন হওয়ার, ‘তুমি খাও আমি বাবুকে রাখি বা আমি খাই তুমি বাবুকে রাখো!’
গোলাপ, বেলি, দামি নেকলেস লাগে না! ছোট্ট একটু কেয়ার! একটু খোঁজ! বিয়ে বাড়িতে খুঁজে খুঁজে একটা পান এনে বউয়ের হাতে দেওয়া কিংবা জর্দার মিষ্টিটা বরের জন্যে আলাদা করে রেখে দেওয়া কিংবা এই তোমাকে আরেকটু পোলাও দেই? এইটুকু জিজ্ঞাসা এক সমুদ্র ভালোবাসার সমান এই কেন মানুষ বুঝে না?
হ্যা কেয়ার উভয়ের থেকেই আসা লাগবে! নারী এবং পুরুষ, সমানে সমান, তাহলেই না হয় জনম জনমের সংসার!
' তা না! এই বাবুরে একটু মাংস ছিঁড়া দেও!
খবিশের খবিশ! '
------
লেখাঃ ফজলে খোদা রায়হান