Situation Analysis

Situation Analysis অন্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে।

ঠিক একইভাবে, কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী দেরকে ফাআসি দেওয়া BAL এর নিকট ইনসাফ ছিল।
20/05/2026

ঠিক একইভাবে, কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী দেরকে ফাআসি দেওয়া BAL এর নিকট ইনসাফ ছিল।

14/05/2026

মুক্তিযোদ্ধা টেপরী রাণী চলে গেলেন...

কে এই নারী জানবেন না ?? জানতে ইচ্ছা করে না ???
..যুদ্ধ চলছে ।

টেপরী রাণীর বয়স তখন মাত্র ১৭। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। তখনই পরিবারকে বাঁচানোর নাম করে এগিয়ে এল এক রাজাকার।

সে টেপরীর বাবাকে বলল—

“তোমার মেয়েকে যদি পাকিস্তানি ক্যাম্পে দাও, তাহলে পুরো পরিবার বেঁচে যাবে।”

পরিবারকে রক্ষা করতে টেপরীকে ‘বিসর্জন’ দেওয়ার কথা ভাবল তার অসহায় বাবা। বাবার কথা শুনে কিশোরী টেপরীও আর বাধা দিল না। সে জানত ক্যাম্পে গেলে কি হবে তার সঙ্গে। তবু পরিবারকে বাঁচাতে হবে।

নিজের বাবা তার মেয়ের হাত ধরে পৌঁছে দিলো ক্যাম্পে, জমের মুখে। সেদিন সারাটা পথ বাবা-মেয়ে একটিও কথা বলেনি ।

মেয়েকে তুলে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানি ক্যাম্পে। পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করবে, ধ*র্ষণের পর মেরেও ফেলতে পারে। এই যখন হবিতব্য, কি কথা বলবে বাবা মেয়েকে?

সেদিন টেপরিকে ক্যাম্পে তুলে দিয়ে মাথা নিচু করে ফিরে আসেন নির্বাক বাবা । এই নিরবতার অর্থ বোঝেন ? নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে (নিজেকে বাবা বা মেয়ের স্থানে বসিয়ে) কল্পনা করেন তো !

টেপরী আর পাঁচটা মেয়ের মতো মরে যেত পারত। কিন্তু কপাল খারাপ তার, সে মরেনি। দীর্ঘ ছয় মাসের নরকযন্ত্রণা ভোগ করে ফিরে আসে সে। এমন কোনো রাত যায়নি, পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করেনি। আজ শুনতে ‘বাড়াবাড়ি’ মনে হচ্ছে না? ইয়েস, একাত্তর মিথ না, এই ‘বাড়াবাড়ির’ নামই একাত্তর!

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন টেপরী। শুরু হয় আরেক যন্ত্রণা। অনাগত সন্তানকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত না সমাজ। সন্তানকে ‘নষ্ট’ করে ফেলার জন্য নানা আসে চারদিক থেকে। তখন মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, “না মা, রাখ। এ-ই হবে তোর সম্বল। তোকে তো আর কেউ গ্রহণ করবে না। শেষ বয়সে এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন হবে।”

হয়েছেও তাই। ছেলে সুধীর বর্মনের আশ্রয়েই তার বাকি জীবনটা কেটেছে।
কিন্তু সমাজের কটূক্তি সুধীরেরও পিছু ছাড়েনি। সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হয়েছে নিয়ত। একবার তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সে প্রতিবাদ করে না কেনো?

সুধীরের উত্তর—“ঝগড়া করতে তো লোক লাগে, কিন্তু আমার কে আছে?”
না, সুধীরের পাশে কেউ নেই। তখনও ছিল না, এখনও নেই। কিন্তু এরপরও সুধীর বেঁচে আছে মাথা উঁচু করে। তার একটা মেয়ে আছে, নাম—‘জনতা’।

জনতা কি ভাবে জানেন ? তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার দাদিকে নিয়ে। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিল—

“দেশে যদি আবার যুদ্ধ হয়, দাদীর মতো আমিও দেশের জন্য নিজের সব কিছু বিসর্জন দিতে দ্বিতীয়বার ভাববো না।”

এই আমাদের ‘জনতা’, একাত্তরের উত্তরসূরি।

দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনা (হওয়ার উচিত ‘মুক্তিযোদ্ধার’) স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী।

তাকে তখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কি চান তিনি। বৃদ্ধবয়সী টেপরী রানী বলেছিলেন: মৃত্যুর পর তাঁর দেহটাকে লাল-সবুজের পতাকায় মুড়িয়ে জাতি বিদায় জানাবে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু তার চাওয়া নেই।
তার সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে।

আসেন আমরা অন্তর থেকে তাঁকে স্যালুট জানাই। তাঁর স্মরণে একা একা এক মিনিট নিরবতা পালন করি। একশো থেকে এক হাজার, এক হাজার থেকে এক লক্ষ, লক্ষ থেকে কোটি মানুষ নিরবতা পালন করুন এই মায়ের জন্য। সুধীর ও জনতার জন্য।

[এই রাজাকারের আব্বা এবং বাচ্চারা শুনে রাখ, তোদের কারণেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা আরো বেশি কঠিন, আরো বেশি ক্ষয় ও যন্ত্রণার হয়ে উঠেছিল। শেষ কথা, এই দেশটার উপর তোদের চেয়ে টেপরী রাণী, সুধীর ও জনতার অধিকার ও হক শতগুণ বেশি।]

You may share this post (usually i don’t request, but this is something we all need to know)

11/05/2026

ঢাকার বিভিন্ন এরিয়ার রাস্তায় ট্রাফিক আইন মানাতে এআই ক্যামেরা লাগিয়েছিল পুলিশেরা।

এই ক্যামেরাগুলো সাধারণত বাইরের দেশের রাস্তায় লাগানো থাকে। ট্রাফিক আইন মানাতে ক্যামেরাগুলো বেশ কাজেও দেয়।

তাই বাংলাদেশের রাস্তায় দূর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক পুলিশরাও কয়েকটা রোডে ক্যামেরাগুলো লাগিয়েছিল।

এই ক্যামেরাগুলো এতটাই দক্ষ যে কোন গাড়িচালক হেলমেট না পড়লে কিংবা কোন ট্রাফিক আইন অমান্য করলে ক্যামেরাটা সাথে সাথে সেই গাড়ির নাম্বার প্লেটের ছবি তুলে ফেলবে।

তারপর সেই গাড়ি যার নামে নিবন্ধন করা সেই মালিকের মোবাইল নাম্বারে জরিমানার মেসেজ নোটিশ আকারে পাঠিয়ে দিবে।

যে গাড়িচালক আইন অমান্য করেছিল সে হয়তো মনের খুশিতে মজমাস্তি করেই বাসায় যাবে, কিন্তু বাসায় যাওয়ার আগেই জরিমানার নোটিশ মোবাইলে চলে যাবে। কি নিয়ম ভঙ্গ করেছে চাইলে সেটার ভিডিও ও সে দেখতে পারবে।

ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে গাড়িচালককে এই মামলাটা যদি পুলিশ দিতো তাহলে পুলিশ হয়তো ঘুষ খেয়ে ছেড়ে দিতে পারতো। অথবা কোন রাজনৈতিক নেতা কিংবা সহসভাপতি কল দিলে বাধ্য হয়েই ছেড়ে দিতে হতো।

কিন্তু এআই ক্যামেরার কারণে সেটা আর পারবে না।

এই জরিমানাটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতেই হবে। না করলে আরও বেশি জরিমানা জমতে থাকবে।

এভাবে প্রতিটা ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২ পয়েন্ট করে থাকবে। আইন ভাঙতে ভাঙতে যদি ১২ পয়েন্ট শেষ করে ফেলে তাহলে তার লাইসেন্সটাও বাতিল হয়ে যাবে।

বিদেশের মতো এই নিয়মটা মাত্র কয়েক মাস চললেই সব গাঁজাখোর গাড়ি চালকরা একদম সোজা হয়ে যাবে , রাস্তার দূর্ঘটনাও কমে যাবে। এমনকি ট্রাফিক পুলিশরাও আর ঘুষ খেয়ে নিজেদের পকেট ভারি করতে পারবে না।

এই মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই ট্রাফিক বিভাগের লোকজন বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার এবং বিজয় সরণিসহ ৮ টা জায়গায় এআই ক্যামেরাগুলো লাগিয়েছিল। কিছুদিন পরই আরও ৩০ টা জায়গায় লাগানোর কথা ছিল।

কিন্তু ক্যামেরাগুলো লাগানোর একদিন পরই ৩০০ ফিটসহ কয়েকটা জায়গা থেকেই ক্যামেরাসহ সব যন্ত্রপাতি চুরি করে নিয়ে গেছে।

একটাবার চিন্তা করুন আমাদের জনগণের ভালোর জন্যে ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল অথচ সেই ক্যামেরাই চুরি করে নিয়ে গেছে।

এখন ট্রাফিক বিভাগের লোকজন চিন্তায় পড়ে গেছে বাকি ক্যামেরাগুলো লাগাবে কিনা। যদি সেগুলোও চুরি করে নিয়ে যায় তাহলে দেশের কোটি কোটি টাকা লস হয়ে যাবে।

অবস্থাটা এমন যে- ক্যামেরা পাহারা দেয়ার জন্যেই হয়তো একজন পুলিশ নিয়োগ দিতে হবে।

দেশে কোনকিছু হলেই সবসময় আমরা সরকারের সমালোচনা করি, গা*লি দেই, অথচ যখন একটা ভালো উদ্যেগ নেয়া হয়েছে তখন সেই যন্ত্রপাতিই জনগণরা চুরি করে নিয়ে গেছে।

শত শত খারাপের মধ্যে আপনি জনগণের জন্যে একটু ভালো কিছু করতে চাইবেন কিন্তু পারবেন না কারণ এদেশে শুধু নেতারাই চোর না, জনগণরাও চোর।

সুযোগ পেলে এরা ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করে নেয়, রাস্তার লাইট চুরি করে নেয়, ক্যামেরা চুরি করে নেয়। এমনকি ৫০০ টাকার বিনিময়ে নিজের মূল্যবান ভোটটা বিক্রি করে দিতেও দুইবার ভাবে না।

অথচ আমরাই আবার আফসোস করে বলি- আমাদের দেশটা কেন ঠিক হয় না, কেন ইউরোপ-আমেরিকার মতো হয় না?

হবে কিভাবে? এদেশের জনগণরা তো সামান্য কয়টাকার ম্যানহোলের ঢাকনার লোভই সামলাতে পারে না।

দেশের এতসব দুর্নীতি ,রাস্তাঘাটে এক্সিডেন্টে শতশত মানুষকে মরতে দেখার পর আপনার মনঃক্ষুণ্ণ হয়, কষ্ট পান।

তারপরও আপনি হয়তো মনে মনে সামান্য একটু আশায় থাকেন, ভাবেন- হয়তো এই দেশটা একদিন পরিবর্তন হবে, হয়তো আরেকটু ভালো হবে।

কিন্তু দিনশেষে সে সামান্য আশাটুকুও আর পূরণ হয় না।

কারণ যে দেশের জনগণরাই নিজেদের ভালো চায় না সে দেশ কোনদিন পরিবর্তন হবে না, কোনদিনও না

- Ibrahim Khalil Shawon

09/05/2026

অবশ্যই -জুলাই/আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সকল দায় আওয়ামীলীগের নয়।

07/05/2026

বেশ হাসিখুশিভাবেই বিয়ে হয়েছিল রোকসানা এবং আক্তার হোসেনের। বিয়ের পর তাদের সংসারও বেশ ভালোই চলছিল।

তারা দুজনেই গরিব পরিবারের। কিন্তু টাকা পয়সার কমতি থাকলেও মায়া-মহব্বত কিংবা ভালোবাসার কোন কমতি ছিল না তাদের মধ্যে।

এর কিছুদিন পরই তাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়। মেয়েকে মুখের দিকে তাকিয়ে এমন অভাব অনটনের মধ্যেও ভালোই কাটছিল তাদের ছোট্ট ছিমছাম সংসারটা।

কিন্তু বছরখানেক পরই রোকসানার ডান হাতে একটা ফোঁড়া হয়। ফোঁড়া তেমন বড় কিছু না তাই তারাও সেটা নিয়ে অতটা মাথা ঘামায় না।

দিন যত যাচ্ছিল ফোঁড়াটা ততই বড় হচ্ছিল। এভাবে বাড়তে দেখে তারা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু সেখান থেকে রেগুলার ঔষধ খাওয়ার পরও কোনভাবেই কমছিল না সেটা।

স্বামী আক্তার হোসেন তখন রোকসানাকে বড় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু রোকসানা বাঁধা দিতে চায়। কারণ বড় ডাক্তার দেখাতে হলে বেশি টাকার দরকার হয়। তাদের সে সামর্থ্য নেই।

অসহায় রিকশাচালক আক্তার হোসেন পরে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা করেই তার ভালোবাসার স্ত্রীকে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে। কিন্তু সেখানের ডাক্তাররাও রোগ ধরতে পারে না।

তারপর নিয়ে যায় ডেল্টা হসপিটালে। সেখানেও কোন কাজ না হওয়ায় পরে নিয়ে যায় পার্কভিউ হসপিটালে।

এখানের হসপিটালের ডাক্তাররা জানায়- রোকসানার টিউমার ক্যান্সার হয়েছে। বাঁচাতে হলে রোকসানার ডান হাতটা কেটে ফেলতে হবে। নয়তো সে বাঁচবে না।

এ কথা শুনে আক্তার হোসেন যেন দিকবিদিকশুন্য হয়ে পড়ে। নিজের ভালোবাসার স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্যে ধারদেনা করে আবারও টাকাপয়সা যোগাড় করে সে।

২০২০ সালে পার্কভিউ হসপিটালেই রোকসানার ডান হাতটা কেটে ফেলা হয়।

বড় আশা নিয়ে বসে ছিল আক্তার হোসেন। ভেবেছিল হাতটা কেটে ফেললেই বোধহয় তার ভালোবাসার স্ত্রী ক্যান্সার থেকে সুস্থ হয়ে যাবে।

কিন্তু সেটা আর হয় না। কারণ ডান হাত কাটার পরও ক্যান্সার টা বগলে ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে ব্রেস্টে। স্ত*নে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ায় সেটা ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে চলে যায়।

ডাক্তাররা তাকে জানায় স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হলে ৪ টা কেমোথেরাপি দিতে হবে। প্রতি কেমোথেরাপিতেই ষাট হাজার টাকার মতো পড়বে। তাছাড়া ৬ লাখ টাকাও লাগবে।

আক্তার হোসেন অসহায় গরিব মানুষ, দিন আনে দিন খায়। এত টাকা সে পাবে কোথায়? তাছাড়া আগেও তো কত ধারদেনা করে রেখেছে।

স্ত্রীর জন্যে এত জায়গায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করছে, টাকা খরচ করছে কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না দেখে রোকসানা হাসপাতালের বেডে শুয়েই কেঁদে কেঁদে বলেছিল-

বাবুর আব্বা, আমি মনে বাঁচমু না। তুমি আরেকটা বিয়া কইরা ফালাও। হাত তো কাইটাই ফাইলাইছি ,কত টাকা খরচ করছো লাভ হয় নাই। মেয়েটা বড় হইতাছে , আমারে তুমি বাপের বাড়িত দিয়া আইসা আরেকটা বিয়া কইরা নিও।

ওইদিন হাসপাতালে বসেই আক্তার হোসেন পরম মমতায় রোকসানার হাতটা ধরে বলেছিল- তোমারে এই অবস্থায় রাইখা বিয়া করমু কি কও তুমি? আরেকটা বিয়া করার লাইগা এত ভালোবাসছি তোমারে? যত ট্যাকা লাগে যোগাড় করমু। দরকার হইলে ভিটার জমিটা বেঁচমু।

আক্তার হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে। এতদিন সেখানে শুধুমাত্র দিনেরবেলাই রিকশা চালাতো সে।দিনে মাত্র ৪০০ বা ৫০০ টাকা কামাতে পারতো।

তারা এতটাই গরিব ছিল যে সামান্য টিনের ঘরও ছিল না। টাকার অভাবে চটের বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়েই থাকতো তারা। আর রান্নাঘরটা ছিল সামান্য একটা পলিথিনের ,যাতে বৃষ্টির পানি পড়তে না পারে।

এতটা গরিব,অসহায় হয়েও আক্তার হোসেন থেমে থাকেনি। বউয়ের চিকিৎসার টাকা যোগাতে তারপর থেকে রাতেও রিকশা চালাতো সে।

সারা দিনরাত প্রচন্ড পরিশ্রমে রিকশা চালিয়ে ,ধারদেনা করে প্রায় বছরখানেক যাবত ধরে টাকা যোগাড়ের চেষ্টা করেছে সে।

আক্তার হোসেন অসহায় রিকশাচালক। তেমন একটা পড়াশোনা করেনি। কিন্তু স্ত্রী ক্যান্সারে অসুস্থ হওয়ার পর তার কখনোই মনে হয়নি আরেকটা বিয়ে করে ফেলা দরকার। এমনকি তার স্ত্রী নিজ থেকে বলার পরও মনে হয়নি।

তার প্রতিবেশীরাও তাকে বলতো- এত ট্যাকা খরচ কইরা কুলাইতে পারবি না। আল্লাহর মাল আল্লাহ লইয়া যাইব। যার মরণ যেমনে আছে মরবোই তো। আক্তার, তুই এইবার নিজের কথা ভাব।

দরিদ্র আক্তার হোসেন তখন প্রতিবেশী সবাইকে বলতো- এইটা আমি জীবনেও পারমু না। আমার মাইয়ার মা মইরা যাইতাছে আর আমি নিজের বিয়ার কথা ভাবমু এমন এমন নিষ্ঠুর হইতে পারমু না।

আক্তার হোসেনের তখন বারবার মনে হয়েছে যেভাবেই হোক বউয়ের চিকিৎসাটা করা দরকার, মেয়েটা বড় হচ্ছে তাকে দেখা দরকার, বউটাকে বাঁচানো দরকার।

অথচ আজকাল কত বিজ্ঞ, জ্ঞানীরাও স্ত্রীর সামান্য অসুস্থতাতেই আরেকটা বিয়ে করার অযুহাত খুঁজে। স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হলে শারীরিক চাহিদা মিটানোর জন্যে আরেকটা বিয়ের বাহানা খুঁজে।

একজন নারী বাচ্চা প্রসবের সময় ২০ টা হাড় ভাঙার সমান যন্ত্রণা সহ্য করে। শরীরের ২০ টা হাড় একসাথে ভেঙে ফেললে যতটা কষ্ট পাবার কথা ঠিক ততটাই কষ্ট তারা অনুভব করে।

তাছাড়াও বিশেষজ্ঞদের মতে- পেট থেকে টেনে নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে বের করে ফেললে একজন মানুষ যেই কষ্টটা পাবে সেই কষ্টটাই মেয়েরা বাচ্চা প্রসবের সময়টাতে অনুভব করে থাকে।

অথচ এমন নিদারুণ কষ্টের সময়টাতেও কিছু মানুষ শুধুমাত্র নিজের শারীরিক চাহিদা মিটানোর জন্যে আরেকটা বিয়ে করার বাহানা খুঁজতে থাকে। স্ত্রী যে তার বাচ্চাকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্যে কতটা কষ্ট সহ্য করছে সেদিকে কোন খেয়াল নেই।

এদেশে বহুজনই পড়াশোনা করে বিজ্ঞ হচ্ছে ,জ্ঞানী হচ্ছে কিন্তু মানবিক আর হতে পারেনি।

আক্তার হোসেন গরিব রিকশাচালক হতে পারে, পড়াশোনা না জানতে পারে কিন্তু তার মধ্যে মানবিকতা ছিল, স্ত্রীর কঠিন সময়টাতে হাসপাতালের বেডে বসে পরম মমতায় স্ত্রীর হাতে হাত রেখে সান্ত্বনা দেয়ার মানসিকতা ছিল।

আশেপাশের মানুষ এবং প্রতিবেশীরা যখন ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটা বিয়ে করতে বলতো পড়াশোনা না জানা অসহায় আক্তার হোসেন
তখন স্ত্রীর পাশে বসে বসে স্ত্রীকে বুঝাতো- বউ, তুমি মাইনষের কথায় কান দিও না। শেষ পর্যন্ত তোমার লগে আছি, বাকি দিনগুলাতেও থাকমু

-from Ibrahim Khalil Shawon

07/05/2026

স্বামী অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়লে স্ত্রী যদি জৈবিক প্রয়োজনে তাকে ছেড়ে অন্য বিয়ে করে, তা ধর্মে হারাম না হলেও চরম অমানবিক👍👍👍

অথচ স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির মতো কঠিন সময়ে 'গুনাহ থেকে বাঁচতে' কোনো আলেম যখন দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেসবুকে প্রচার করেন, তখন সমাজে মারাত্মক ভুল বার্তা যায়।
হালাল-হারামের দোহাই দিয়ে জীবনসঙ্গীর সবচেয়ে দুর্বল সময়ে কেবল নিজের প্রয়োজন মেটানো কখনোই সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ হতে পারে না👍👍👍

একটি সংসার কেবল হালাল-হারামের নিয়মে নয়, বরং পারস্পরিক মায়া, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের উপর টিকে থাকে।স্ত্রীরা নিজেদের শখ ও অধিকার বিসর্জন দিয়ে অভাবের মধ্যেও সংসার আঁকড়ে ধরে থাকেন কেবল ভালোবাসার টানে👍👍👍

তাই জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল বোরকা, জোব্বা বা ফতোয়া না দেখে মানুষটির ভেতর মায়া ও সহানুভূতি আছে কিনা তা যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি।
কারণ মায়া ও ভালোবাসাহীন মানুষ যতই ধার্মিক লেবাসে থাকুক না কেন, চূড়ান্ত বিপদের দিনে তারা স্বার্থপরের মতোই আচরণ করবে👍👍👍

05/05/2026

৩০০+ অঙ্কটি /শব্দটি কেন হৃদয় বিদারক?

28/04/2026

দেশে ভালো একটা কিছু হলেই সব ক্রেডিট নিয়ে কামড়াকামড়ি শুরু করে।
নি:সন্দেহে এটা শেখ হাসিনা সরকারের ভালো একটা এচিভমেন্ট।
ভালো কে ভালো বলতেই হবে।
এটা বানাতে টাকা খেয়েছে কি খায় নি সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলাও ঠিক আছে।
কিন্তু কথা হচ্ছে,টাকা কে খায় না?
কোন সরকার খায় নি?
টাকা খেয়েও কাজ কয়জন করে?
সে অন্তত করেছে।
তার জন্য দেশবাসী সুফল ভোগ করবে।
এজন্য ধন্যবাদ।
আবার এই জিনিসকে কিছু ভাই ব্রাদার এমন পূজনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যেন হাসিনা সরকার দয়া করে নিজের বেতনের টাকা জমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র করে দিয়েছে।
এটাও ঠিক না।
সরকারএর কাজই উন্নয়ন করা।
সে ওই গদিতে বসেছিলই এ কাজের জন্য।
সে তার দায়িত্ব পালন করেছে।
দেশের মানুষের উপর দয়া করে নি।
সে যে তার একটা দায়িত্ব পালন করেছে এজন্য তাকে ধন্যবাদ।
তার মানে এই না তার করা খারাপ কাজগুলোও মুছে গেছে।
তাই আসুন কামড়াকামড়ি বন্ধ করি।
দেশে একটা ভালো জিনিস হয়েছে সেটাকে এপ্রিশিয়েট করি।
কে করেছে,কত টাকা খেয়ে করেছে,কে করতে পারে নি এসব টানাটানি করে একটা অর্জন কে ট্রলে পরিনত না করি।
ধন্যবাদ।
Copied from আতিক হাসাহ

28/04/2026

সংগৃহীত।
কোন সরকারই নিজের বাপের টাকায় দেশের উন্নয়ন করে না, উন্নয়ন করে জনগণের টাকায়।

আবার টাকা হলেই সব হয় না, যদি টাকা হলেই সব হতো, তাহলে পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে তেলের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হতো না।

মার্কিনিদের অনুমতি ছাড়া টাকা থাকলেই বিশ্বের যে কোন দেশ থেকে তেল কেনা যায় না।

বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ ক্লাবের গর্বিত সদস্য।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থ বিষয় না, দরকার যোগ্য নেতৃত্ব, ইচ্ছাশক্তি, স্বপ্ন বা ভিশন, বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।

যেমন পদ্মা সেতু আজ পুরো দক্ষিণবঙ্গের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

জ্বালানী পরিবহনের পাইপলাইন করার সময় কিছু রাজনৈতিক দল ও ডিপ স্টেটের দালালেরা বলেছিলো, দেশের গ্যাস ভারতে পাচার করতে পাইপলাইন করা হচ্ছে। সেই পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে আসা জ্বালানী তেলই এখন টিকে থাকার অন্যতম ভরসা।

এমন কি সংবাদ সম্মেলন ডেকে তারা বলেছিলো, অপ্রয়োজনীয় পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প করে বাহাদুরি নিতে চাচ্ছে সরকার।

সেই পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রই এখন জ্বালানী নিরাপত্তার মূল ভরসা । ৪১৭ লিটার ডিজেলের কাজ করবে ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম, রূপপুরের জ্বালানির অবিশ্বাস্য সক্ষমতা

দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাঁর ইচ্ছাশক্তি, স্বপ্ন বা ভিশন, বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিটি সাহসী, সময়োপযোগী ও সঠিক পদক্ষেপ আজ আলোকিত করছে পুরো বাংলাদেশকে।

- রাজিক হাসান

22/04/2026

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জামানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমতে কমতে একটা সময় ২২ বিলিয়ন ডলারে চলে এসেছিল। আবার শেখ হাসিনার জামানাতে কেউ কেউ বলতেন যে এটা ২২ বিলিয়ন বা ২৫ বিলিয়ন ডলার আসছে। কেউ বলল যে, না, এটা ১৬ বিলিয়ন ডলারে চলে এসেছিল। যা-ই হোক, যখন আইএমএফ শেখ হাসিনা সরকারকে ঋণ দিল এবং পরবর্তী তিনটি কিস্তি ছাড় করল, তখন আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকজন শেখ হাসিনার ফরেন পলিসি, তার বৈদেশিক মুদ্রা নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে রিজার্ভ- এটা নিয়ে যেসব নেতিবাচক কথা প্রচার করেছিল, সেটা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ‘তিনতন্ত্র’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, বাংলাদেশের কিছু মানুষ একটা সময় আইএমএফে চাকরি করতেন, তাদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। ফলে যখন শেখ হাসিনা সরকার ইমেজ সংকটে পড়ে গেল, দেশীয় যে প্রচার-প্রপাগান্ডা, এস আলমের কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, তখন তার ফরেন রিজার্ভ ‘ওকে’ ছিল, ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যাচ্ছিল। এর মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তাদের একটা বার্গেইনিং হচ্ছিল।

এর কারণ হলো যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারা এই ডলারটা নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করেছিল, ওটাকে তারা হিসেবের মধ্যে দেখাচ্ছিল। সেই দিক থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আইএমএফ বলছিল যে তুমি তোমার হিসাব থেকে এটা আলাদা করে দেখাও। আইএমএফের চাপে পড়ে সরকার দেখালো যে এই ৮ বিলিয়ন ডলারসহ এত, আর ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়া এত। সেই ৮ বিলিয়ন ডলার বাদ দিয়ে সেই আওয়ামী লীগের যে রিজার্ভ এটা ২২, ২৩, ২৫ বিলিয়ন ডলারে ওঠানামা করছিল।

আর তার সঙ্গে যদি ৮ বিলিয়ন ডলার যোগ করেন, তাহলে ২৫ বিলিয়ন ডলারের সঙ্গে ৮ বিলিয়ন ডলার যোগ করলে ৩৩ বিলিয়ন ডলার হয় এবং তাদের এই যে যখন সংকট ছিল না, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এমন একটা পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যেটা পুরো এশিয়ার মধ্যে বলতে গেলে অনেকের কাছে এটা ঈর্ষণীয় ছিল।
তিনি বলেন, যা-ই হোক, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইএমএফ পরবর্তী কিস্তিগুলো দেয়নি। এতে বুঝা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে তারা বিশ্বাস করেনি। অথবা শেখ হাসিনা সরকারের সময় আর্থিক খাতকে আমরা যতটা দুর্নীতিগ্রস্ত বলেছিলাম, আইএমএফের দৃষ্টিতে সেটা অতটা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে আইএমএফ যে সকল প্রশংসা করেছিল, ওই সকল প্রশংসা এই যুগে বলাটা আমার জন্য বা অনেকের জন্য নিরাপদ নয়।
সংগৃহীত।

21/04/2026

সূত্র পর্চা (Source Parcha) বা ওয়াকিং ভলিউম: জমির মালিকানা ও রেকর্ডের আদি ইতিহাস_

ভূমি ব্যবস্থাপনায় 'সূত্র পর্চা' বা 'ওয়াকিং ভলিউম' (Walking Volume) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অপরিহার্য দালিলিক প্রমাণ। সাধারণ খতিয়ানে কেবল বর্তমান মালিকের নাম ও জমির বিবরণ থাকে, কিন্তু সেই নাম কোন যুক্তিতে বা কোন দলিলের ভিত্তিতে আসলো, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকে এই সূত্র পর্চায়। একজন পেশাদার আইনজীবীর দৃষ্টিতে এটি হলো খতিয়ানের 'পেছনের গল্প' বা 'ডিএনএ'।

১. সূত্র পর্চা বা ওয়াকিং ভলিউম কী?

ভূমি জরিপ (Survey) চলাকালীন সেটেলমেন্ট অফিসাররা যখন নতুন খতিয়ান তৈরি করেন, তখন তারা একটি প্রাথমিক রেজিস্টার বা খসড়া ব্যবহার করেন। একেই বলা হয় ওয়াকিং ভলিউম বা ড্রাফট খতিয়ান। এই ভলিউমে মালিকানার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত দলিল নম্বর, আগের খতিয়ান নম্বর (যেমন- CS থেকে SA, বা SA থেকে RS), ওয়ারিশ সনদ বা আদালতের রায়ের রেফারেন্স নোট আকারে লেখা থাকে। এই নোট বা রেফারেন্স সংবলিত পর্চাটিই হলো সূত্র পর্চা।

২. এর আইনগত গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

পেশাদার ভূমি আইন বিশেষজ্ঞগণ প্রধানত তিনটি কারণে সূত্র পর্চাকে গুরুত্ব দেন:

* মালিকানার সূত্র (Chain of Title) যাচাই: আপনার কাছে যদি জমির মূল দলিল না থাকে, তবে এই সূত্র পর্চা আপনাকে জানিয়ে দেবে আপনার পূর্বসূরী বা দাতা কোন দলিলের মাধ্যমে জমির মালিক হয়েছিলেন।

* রেকর্ড সংশোধনী মামলা: বিএস (BS) বা বিআরএস (BRS) রেকর্ডে যদি ভুলবশত অন্য কারো নাম উঠে যায়, তবে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সময় 'সূত্র পর্চা' সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এটি প্রমাণ করে যে সেটেলমেন্ট অফিসার কোন তথ্যের ভিত্তিতে রেকর্ডটি করেছিলেন।

* জালিয়াতি রোধ: অনেক সময় জাল দলিলের মাধ্যমে রেকর্ড করানোর চেষ্টা করা হয়। সূত্র পর্চা বা ওয়াকিং ভলিউম যাচাই করলে ধরা পড়ে যায় যে রেকর্ডের সময় আসলে কোন দলিলটি উপস্থাপন করা হয়েছিল।

৩. সূত্র পর্চার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

* ইতিহাস সংরক্ষণ: এটি জমির আদি খতিয়ান ও বর্তমান খতিয়ানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে।
* রেফারেন্স নম্বর: এতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বইয়ের নম্বর বা পূর্ববর্তী পর্চার নম্বর উল্লেখ থাকে।
* দাগের ইতিহাস: একটি বড় দাগ ভেঙে কিভাবে ছোট ছোট উপ-দাগ (যেমন- বাটা দাগ) তৈরি হলো, তার গাণিতিক ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা এখানে পাওয়া যায়।

৪. প্রাপ্তিস্থান ও সংগ্রহ পদ্ধতি:

সূত্র পর্চা বা ওয়াকিং ভলিউমের নকল সংগ্রহ করা সাধারণ খতিয়ানের চেয়ে কিছুটা সময়সাপেক্ষ:

* জেলা রেকর্ড রুম (DC Office): জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম থেকে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে এর সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করা যায়।
* ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (DLR): যদি জরিপ কাজ চলমান থাকে বা গেজেট হওয়ার অপেক্ষায় থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস বা ডিএলআর থেকে এটি পাওয়া যায়।

ব্যবহারিক ক্ষেত্র:
যারা খতিয়ান পেয়েছেন কিন্তু রেকর্ড বা দলিলের মূল সূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না, তাদের জন্য সূত্র পর্চা বা ওয়াকিং ভলিউমের ড্রাফট হলো জমির মালিকানার মূল হদিস পাওয়ার সহজ উপায়। এটি মূলত জমির ডিজিটাল বা এনালগ রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে।

জমির মালিকানা যাচাই: বর্তমান মালিকানা বৈধ কিনা বা পূর্বের মালিকানা ঠিক আছে কিনা যাচাই করতে।
দলিল অনুসন্ধান: যদি আপনার কাছে আসল দলিল না থাকে, সূত্র পর্চা সেই দলিলের অবস্থান ও তথ্য খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।

আইনি সুরক্ষা: ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত যেকোনো আদালতের মামলা বা বিরোধে সূত্র পর্চা প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

Address

River View
Pabna
রাজশাহী

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Situation Analysis posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share