03/01/2026
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা: আজকে আলোচনা করবো কওমি মাদরাসা বনাম স্কুল এন্ড কলেজ। এবং আলোচনা করবো কেন কওমি মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্র সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ পায় না ।
সূচনা: প্রথমে আমাদের জানতে হবে, কার লেখা পড়া বেশি উন্নত ও মানানসই।
#ক) কওমী মাদরাসা: এখানে বাংলা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক এবং কোরআন, হাদিস ও ফিকহের এক অতুলনীয় জ্ঞান দানে এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আদব কায়দায় শিক্ষিত করে তুলতে । এবং তারা প্রতিটি সাবজেক্টে এমন বিপুল পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করে যা স্কুল পড়ুয়া ছাত্রের পক্ষে কখনো সম্ভব না।
এবং বর্তমানে আধুনিক নিয়মে কওমি মাদরাসার অধিনে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইসলামী কিন্ডারগার্টেন ও ইসলামী অ্যাকাডেমি। যার ফলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার মান উন্নয়নে আরো বিকাশ ঘটেছে । একজন নূরানী তথা শিশু শ্রেণীর ছাত্রের যেভাবে হাতের লেখা সুন্দর ও আকর্ষণীয় ঠিক সেভাবেই বানান এর নির্ভুল ব্যবহার ও কথনের বিক থেকে বিশুদ্ধ ভাষায় কথোপকথন। ইত্যাদি আরো দিক থেকে এগিয়ে আছে বাংলার অবমূল্যায়নের এই কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা ।
#খ) স্কুল, কলেজ: এখানের কথা কি আর বলবো , তবে এতটুকু না বললেই নয় । আমার দেশের সরকার মাসিক বেতন ভাতা, চিকিৎসা খরচ , অমুক তমুক বিল দিলেও দেশের লাখো শিক্ষার্থী পাচ্ছে না সঠিক কোন শিক্ষা, না পাচ্ছে সামাজিক শিক্ষা, না পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা। পড়া লেখার মান এতই নিম্ন যে প্রত্যেক শিক্ষক স্কুলে কলেজে পড়ানো ছেড়ে শুরু করেছে টিউশনির নামে পকেট ভারী করার মতো জমজমাট ব্যবসা। তার পরেও তাদের বেতন ভাতা বাড়ানোর কত আন্দোলন এর কথা তো বাদই দিলাম । আর তাদের পড়া লেখার মান এমন নষ্ট হওয়ায় এখনকার সচেতন অভিভাবকরা নিজের সন্তানের জন্য বেঁচে নিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কওমি মাদরাসার ইসলামী অ্যাকাডেমি বা ইসলামী কিন্ডারগার্টেন। যেখানে ছাত্ররা লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত হচ্ছে। আর যারা একটু চালাক চতুর তারা তাদের সন্তানদের দিয়ে দিচ্ছে কওমী মাদরাসার ইসলামী কিন্ডারগার্টেন বা অ্যাকাডেমিতে কারণ এতে দুটি লাভ হচ্ছে কোরআন ও হাদিসের পাশাপাশি সব শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে।
#ফলাফল: যার কারণে গ্রাম গঞ্জের স্কুল গুলো হয়ে যাচ্ছে সরকারের টাকায় পোষা শিক্ষক নামের লোকদের জন্য বিশ্রামলয় । এবং প্রায় প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলুপ্ত ও ছাত্র শূন্যতায় ভুগছে। কারণ প্রত্যেক গ্রাম গঞ্জে বা শহরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইসলামী অ্যাকাডেমি ও ইসলামী কিন্ডারগার্টেন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ঠিক এই কারণেই সচেতন অভিভাবকগন তাদের সন্তানদের দিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানে যার কারণে ছাত্ররা সব ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, এবং দেশ ও সমাজ আলোকিত করছে । প্রতি বছর পাবলিক ভার্সিটির সেরা রেজাল্টে যাচ্ছে এই সব তরুণ প্রজন্মের মাদ্রাসা বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ুয়া ছেলে মেয়ার ।
কিন্তু এত কিছুর পরেও তারা পাচ্ছে না, দেশের ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি এবং পাচ্ছে না সরকারের কোন রেসপন্স। তারা বরাবরের মতই থেকে গেল অবহেলার পাত্র হিসেবে। প্রত্যেক কওমি মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী এই পরিমাণ যোগ্যতা রাখে যে, সে আইন আদালত ও সামরিক বাহিনীর কাজ করতে অথবা পারে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মাধ্যমে ছাত্রদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে । কিন্তু তাদের কোন মূল্যায়ন করা হয় না । কেনই বা করা হবে কারণ আমার দেশে চোর বাটপাররাই পায় সঠিক মূল্যায়ন। চাকরির সব জায়গাতেই এমন কি আইন আদালত থেকে শুরু করে প্রশাসনিক এবং সংসদ পর্যন্ত দখল করে আছে ভালো মানুষ সাজা চোর বাটপার তাই তাদের ভিরে ভালো মানুষের এবং শিক্ষিত সমাজের অবমূল্যায়ন হবে এটাই স্বাভাবিক।
তার পরেও কিছু দিন পর পর দেখা যায় ধর্ম উপদেষ্টা ও আরো কিছু দায়িত্বশীল হতে কওমি সনদের স্বীকৃতি দিচ্ছে, এই পর্যন্ত দিয়েছে বিয়ে পড়ানোর যোগ্যতা, কিন্তু কওমি মাদরাসার নাহবেমীর ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া ছেলেও এই সমস্ত কাজির থেকেও শরিয়ত মোতাবেক আরো সুন্দর ভাবে বিয়ে এবং তালাক করাতে সক্ষম আমি মনে করি । এবং পারিবারিক জীবন থেকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত এমন শিক্ষিত নামের অশিক্ষিত লোকদের কারণে সমাজের বর্তমান অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশে অধিকাংশ সংসার হারাম ভাবে চলছে , অধিকাংশ সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছে এই সমস্ত অশিক্ষিত কাজিরা ।
যাই হোক দাবি করবো একটিই এই অশিক্ষিত জাতি থেকে আমাদের হেফাজত করুন হে রব্বে কাবা ।
© M M Anayet Kabir