03/08/2026
🚨আল্লাহর দেওয়া ‘ফারায়েজ’ বিধান বনাম বিএনপি সরকারের নতুন আইন।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।সরকারের উদ্দেশ্য হয়তো বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথা প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি যেখানে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ‘ইসলাম ও পবিত্র শরীয়াহ পরিপন্থী কোনো আইন করবে না’,সেখানে এই খসড়া আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়া হচ্ছে।বাইরে সুন্দর একটা সামাজিক সুরক্ষার মোড়ক থাকলেও,ভেতরে এটি সরাসরি আল্লাহর দেওয়া সুনির্দিষ্ট বণ্টন নীতিকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং সাধারণ মুসলিমদের ঈমান ও আমলকে এক গভীর ফাঁদে ফেলছে।সরকার সামাজিক সুরক্ষার নাম দিয়ে মানুষের এই আবেগকে পুঁজি করে এক ধরণের আইনি ধোঁকাবাজির ফাঁদ তৈরি করছে।বিশেষ করে,সমাজ ও বাস্তবতার নিরিখে দেখা যাচ্ছে যাদের শুধু কন্যাসন্তান রয়েছে,(বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একজন কন্যা ও আইনমন্ত্রীর দুইজন কন্যা আছে) তারা এই আইনের ‘আজীবন ভোগদখল’ (Life Interest)-এর সুযোগ নিয়ে জীবদ্দশাতেই ১০০% সম্পত্তি কন্যাকে লিখে দেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।অনেকে বলতে পারেন Heba bil awaj এর মাধ্যমেও তো এই কাজটা করা যায়।সেক্ষেত্রে আমি হেবা বিল এওয়াজ এর ও সমালোচনা করবো।এখানে মুখে ‘মেয়েদের ভালো’ করার কথা বলা হলেও,মনের গভীরে আসল উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর নির্ধারিত অন্যান্য অংশীদারদের (যেমন:চাচা,ফুফু বা ভাই-বোন) বঞ্চিত করা।মানুষ যেন বুঝতে পারে সরকার কীভাবে এই আইনের আড়ালে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের এক দীর্ঘমেয়াদী পাপের ভাগীদার বানাতে চাইছে।মুখে ইসলামের বুলি আউড়ে তলে তলে ধর্মনিরপেক্ষ বা সেকুলার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এদের মূল উদ্দেশ্য।আসুন,এই বিষয়ে পবিত্র কুরআন,হাদিস এবং সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে অকাট্য নীতিগুলো জেনে নিই:
১.আল্লাহর বণ্টন নীতিই চূড়ান্ত,মানুষের বুদ্ধি নয়
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা কার কতটুকু অংশ তা মানুষের বিবেকের ওপর ছেড়ে দেননি।
সূরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুনির্দিষ্টভাবে কন্যাদের অংশ নির্ধারণের পর স্পষ্ট করে বলেছেন:"তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের উপকারে অধিকতর নিকটবর্তী,তা তোমরা জানো না।এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয।নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ,প্রজ্ঞাময়।"(সূূরা নিসা:১১)
অর্থাৎ,মানুষের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে ‘মেয়েদের ভালো’ করার যে চেষ্টা,তার চেয়ে আল্লাহর করা বণ্টনই সর্বশ্রেষ্ঠ।আল্লাহর বিধানকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা মূলত তাঁর প্রজ্ঞাকেই এক ধরণের চ্যালেঞ্জ করা।
২.অনেকে ভাবেন,জীবিত অবস্থায় দান করলে তো গুনাহ নেই।কিন্তু যদি দানের মূল উদ্দেশ্য হয় অন্য আত্মীয়দের আল্লাহর দেওয়া হক থেকে বঞ্চিত করা,তবে তা শরীয়াতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।হেবা বিল এওয়াজ এরও মূল উদ্দেশ্যই আত্মীয়দের হক না দেওয়া,যাদের কন্যা সন্তান আছে শুধু।
রাসূলুল্লাহ (সা.)এর এ সংক্রান্ত একটি কঠিন সতর্কবাণী রয়েছে:"যে ব্যক্তি তার ওয়ারিশদের মিরাস (উত্তরাধিকার) থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে পালাবে বা কৌশল করবে,কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে জান্নাতের অংশ থেকে বঞ্চিত করবেন।"(সুনানে ইবনে মাজা,হাদিস নং:২৭০৩)
৩.কুরআনের নির্দেশআল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ওসিয়ত ও ঋণের বিধান দেওয়ার সাথে সাথে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন:
"..এসবই হবে মৃত ব্যক্তির কৃত ওসিয়ত বা ঋণ পরিশোধের পর;তবে (ওসিয়ত বা দানের দ্বারা যেন) কারও ক্ষতি না করা হয় ।এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ।"(সূরা নিসা:১২)
কাউকে বঞ্চিত করার ক্ষোভ বা মেয়েদের অতিরিক্ত ভালোবাসার নামে অন্য আত্মীয়দের "ক্ষতি করা" বা তাদের হক নষ্ট করার মানসিকতা কুরআনের এই আয়াতের সরাসরি লঙ্ঘন।
৪.এই আইনের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—সম্পত্তি হস্তান্তর করার সাথে সাথে কাগজি মালিকানা সন্তানের নামে চলে যাবে,কিন্তু বাবা-মা জীবিত থাকা পর্যন্ত সন্তান তা বিক্রি বা ভোগ করতে পারবে না (লাইফ টাইম ইন্টারেস্ট)।অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে,এই আইনটি লোভী ও বিপথগামী সন্তানদের মনে এক ধরণের চরম অস্থিরতা তৈরি করবে।যেহেতু বাবা-মায়ের মৃত্যুই সম্পত্তিটি পুরোপুরি হস্তগত করার একমাত্র বাধা,সেহেতু বিপথগামী ছেলেমেয়েদের দ্বারা বাবা-মা খুন বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।সম্পত্তি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা আমাদের শান্ত সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দেবে।সরকার মানুষকে এমন এক আত্মঘাতী আইনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা পারিবারিক নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে উল্টো পিতা-মাতাকে নিজ সন্তানদের কাছেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।
৫.ইসলামে পুরুষের ওপর নারীর আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।চাচা বা ভাইদের যে অবশিষ্টাংশ দেওয়া হয়েছে,তার বদলে ওই কন্যাসন্তানের যেকোনো বিপদে পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক ও আইনি দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়।যখন আমরা কৌশল করে আত্মীয়দের বঞ্চিত করি,তখন আমরা মেয়েদের সাময়িক সম্পদ দিলেও তাদের চিরস্থায়ী "পারিবারিক নিরাপত্তা বেষ্টনী" থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিই।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই সরকার একদিকে নিজেদের ইসলাম ও সাধারণ মানুষের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে,অন্যদিকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে সেকুলার ও ধর্মবিরোধী আইনগুলোর খসড়া পাস করিয়ে নেয়।মুখে ইসলামের প্রতি সম্মান দেখানোর এই ভণ্ডামি আর আড়ালে আল্লাহর আইনকে অকেজো করার এই সুকৌশল ধোঁকা এদেশের সচেতন ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।পিতা-মাতার অবহেলা রোধে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন,২০১৩’ ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে,তা কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে ফারায়েজ আইনকে নিষ্ক্রিয় করার এই রাজনৈতিক এজেন্ডা অত্যন্ত নিন্দনীয়।দলের উর্ধ্বে ওঠে মুসলিম হিসেবে সবার উচিত এই আইন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করা নিজ নিজ জায়গা থেকে।
আর সরকারের উচিত তাদের দেওয়া ইসলাম-বিরোধী আইন না করার প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রাখা।অন্যথায় তাদেরকে চরম লাঞ্চিত হবে।
#নতুন_আইন #সম্পত্তি_হস্তান্তর_আইন #ভূমি_মন্ত্রণালয়