19/04/2025
অধ্যায় ২: শেষ বেঞ্চের ছেলে
(লেখক : মোঃ লুৎফর রহমান)
স্কুলে একদিন ঘোষণা এল—একটি বিজ্ঞান প্রকল্প প্রতিযোগিতা হবে। যে প্রকল্প সেরা হবে, তার জন্য জেলা পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। রাফির ভেতরে যেন হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠল। সে ভাবল, "এটাই সেই সুযোগ—সবাইকে দেখিয়ে দেওয়ার!"
কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই—টাকা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ফি, মডেল তৈরির খরচ, যন্ত্রপাতি সব মিলিয়ে প্রায় হাজার খানেক টাকা দরকার। তার পরিবারের পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না।
বন্ধু রাহুল বলল, “তুই এই মেলায় যাস না রে রাফি। এসব তোর কাজ না। বরং দোকান সামলা।”
অন্যান্য বন্ধুরাও হেসে উঠল। রাফি শুধু মৃদু হেসে বলল,
“দেখিস রাহুল, শেষ বেঞ্চ থেকেও কেউ উঠে দাঁড়াতে পারে।”
রাফি বাবার দোকানে পরিশ্রম বাড়িয়ে দিল। সকালে স্কুল, বিকেলে দোকান, রাতে ইউটিউব আর পুরনো যন্ত্র খুলে কাজ শেখা। তার মধ্যে একটা প্রজেক্টের আইডিয়া তৈরি হতে লাগল—“স্মার্ট ওয়াটার এলার্ম সিস্টেম”।
গ্রামে প্রায়ই পানির ট্যাংক উপচে পড়ে, পানি নষ্ট হয়। রাফির যন্ত্র এমন হবে, ট্যাংক ভরলে নিজে থেকে একটি সংকেত দেবে এবং স্যুইচ বন্ধ করবে। সে জানে, এই প্রযুক্তি গ্রামের লোকদের অনেক সাহায্য করতে পারে।
তিন সপ্তাহ পরে, সে একা হাতে তৈরি করে ফেলল তার প্রথম প্রজেক্ট—পুরনো মোবাইল চার্জার, বেল, সস্তা সেন্সর আর অনেক অনেক সময় দিয়ে বানানো একটি কার্যকর যন্ত্র।
যেদিন প্রতিযোগিতা হলো, সে নিজে হাতে তার প্রজেক্ট উপস্থাপন করল। বিচারকেরা তার মডেল দেখে একটু চমকে গেলেন।
একজন বিচারক জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কোথা থেকে শিখলে এগুলো?”
রাফি মাথা নিচু করে বলল, “ইউটিউব আর বাবার চায়ের দোকান থেকে, স্যার।”
সবাই হাসলেন, তবে সম্মানের হাসি। রাফি পুরস্কার না পেলেও, একজন কলেজের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যাপক তার কাজ দেখে তাকে আলাদাভাবে ডাকলেন।
“তোমার মধ্যে আগ্রহ আছে, জ্ঞান না হলেও শেখার আগ্রহটাই বড় জ্ঞান। আমি তোমার পড়াশোনায় সাহায্য করতে চাই,” বললেন তিনি।
রাফির চোখে জল চলে আসে। সেদিন সে প্রথম বুঝেছিল—উপহাস একদিন উপহারে রূপ নেয়, যদি তুমি নিজের লক্ষ্যে অটল থাকো।
#শেষবেঞ্চেরছেলে
#পারবইইনশাআল্লাহ
#উদ্যোক্তারপথে
#শেখারভিত্তি