Politics Begins Where the Land Ends

Politics Begins Where the Land Ends Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Politics Begins Where the Land Ends, Social Media Agency, Gabura, Shyamnagar.

19/08/2026

আজ সকালে গুগল আর্থ ওপেন করে গাবুরার প্রত্যেকটা গ্রাম পর্যবেক্ষণ করছিলাম। কোনটা ছোট গ্রাম, কোনটা অপেক্ষাকৃত বড় গ্রাম, কোথায় কোন প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। সবকিছু ছাপিয়ে যা ভাবছিলাম না এমন একটা বিষয় আমাকে প্রচন্ডভাবে ধাক্কা দিল। সব গ্রামের সাথেই কোন না কোন Water Body বা খাল কিংবা নদীর সম্পর্ক আছে। ৩ টা প্রশ্ন করতে চাই, উত্তর দিলে উপকৃত হবো-

১। পানি ও জনবসতির এই সম্পর্ক কি কোন তাৎপর্য বহন করে? করলে সেই তাৎপর্যটা আপনার কাছে কি মনে হয়?
২। না কি এটা শ্রেফ কাকতালীয়? কাকতালীয় হলে কেন এমন মনে করছেন?
৩। এলাকার জনপ্রতিধিদেরকে এই বিষয়টা বিবেচনায় নেয়া দরকার কি না? দরকার হলে বা না হলে কি কারণে দরকার বা দরকার না?

আশা করি সংক্ষেপে এই উত্তরগুলিতে আপনার ভাবনা বা বিবেচনা শেয়ার করে আমাকে উপকৃত করবেন। ধন্যবাদ।

Send a message to learn more

19/07/2026

গাবুরা তথা উপকূলের কৃষি ভাবনা কি বা কেমন হওয়া উচিত, এই বিষয় নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং আমি একটি আলোচনা শুরু করেছি। শুরুটা মাসুদ ও আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একত্রে বসে আলোচনা করেছি। মাসুদকে অনুরোধ করি একটি কাঠামো তৈরি করতে। মাসুদ চমৎকার করেছে, গাবুরা তথা উপকূলের মানুষকে পরিবেশ সচেতন করে তাদেরকে পরিবেশ- বান্ধব কৃষিতে অনুপ্রাণিত করতে আমাদের এই ভাবনায় উপকূলের সকলকে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ রইল সেই সাথে আমার Blue Gold Program এর কিছু মানুষ যারা এই বিষয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ, তাদেরকেও সংযুক্ত করছি। আশা করি তাদের থেকে মুল্যবান পরামর্শ পাবো। আমাদের শ্যামনগরের কৃষিবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান- বুড়িগোয়ালিনি, এবং এস এম ফেরদৌস - বংশীপুর, তাদেরকেও যুক্ত করছি। তাদের পরামর্শও এই ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রিয় মাসুদ,
চমৎকার ভেবেছ! তোমার এই ভাবনাগুলি ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে। গাবুরা ইউনিয়নের ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব (বিশেষ করে লবণাক্ততা) বিবেচনায় এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। প্রস্তাবিত ৫টি ধাপ জনসাধারণের সচেতনতা এবং নীতি-নির্ধারকদের সম্পৃক্ত করার জন্য একটি চমৎকার ভিত্তি হতে পারে।

তবে চিংড়ি চাষের মতো একটি দীর্ঘদিনের অনুশীলিত ও লাভজনক (কিন্তু বর্তমানে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মানুষকে বের করে আনতে হলে-

ক। সচেতনতার পাশাপাশি বাস্তবধর্মী বিকল্প আয়ের নিশ্চয়তা নিয়েও ভাবতে হবে;
খ। কারিগরি সহায়তার দরকার হবে; এবং
গ। বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন হবে।

তোমার এই পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর, টেকসই ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য করতে নিচের কৌশলগুলো যোগ করা যায় কি না ভেবে দেখতে পারো:

১. লোনাপানির বিকল্প:

ক)। পরিবেশবান্ধব লাভজনক কৃষির মডেল নির্ধারণ

মানুষ তখনই লোনাপানির চিংড়ি ছাড়বে, যখন তারা দেখবে বিকল্প পদ্ধতিতে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি বা সমান। ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্ট তৈরির আগে গাবুরার জন্য উপযুক্ত নির্দিষ্ট কিছু মডেল চূড়ান্ত করতে হবে:

খ)। লবণসহিষ্ণু ফসলের চাষ:
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) এবং ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু ধানের জাত (যেমন: ব্রি ধান ৬৭, ৯৭, ৯৯) এবং শাকসবজি চাষের মডেল দেখানো।

গ)। খাঁচায় বা পুকুরে গলদা/পাঙ্গাশ/পারশে/ট্যাঙ্গরা চাষ:
পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে ঘেরের ভেতর সমন্বিতভাবে কম লবণাক্ততার মাছ ও পাড়ে সবজি চাষ করা যায়।

ভার্টিকাল এগ্রিকালচার ও বস্তা চাষ:
গাবুরার যেসব এলাকায় জমির সংকট বা লবণাক্ততা তীব্র, সেখানে বস্তায় বা মাচা পদ্ধতিতে মাটিবিহীন/নিয়ন্ত্রিত কৃষির মডেল।

রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং (বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ):
মিষ্টি পানির অভাব দূর করতে খাল ও পুকুরে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের কৌশল।

২. প্রচারণা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার আধুনিকায়ন (তোমার ধাপগুলোর পরিবর্ধন) প্রস্তাবিত ১ম ধাপের পরিবর্ধন:
"সফলতার গল্প" ও লোকাল ইনফ্লুয়েন্সার ভিজুয়্যাল ডকুমেন্টে শুধু বিদেশের উদাহরণ না রেখে সাতক্ষীরা বা উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় কোনো চাষী, যিনি লোনাপানির চিংড়ি ছেড়ে সমন্বিত চাষে সফল হয়েছেন, তার বক্তব্য যুক্ত করা যেতে পারে। মানুষ নিজের এলাকার মানুষের সফলতা দেখে দ্রুত অনুপ্রাণিত হয়।

প্রস্তাবিত ৪র্থ ধাপের পরিবর্ধন: লোকজ সংস্কৃতির ব্যবহার (পট গান/কাওয়ালী/বাউল গান)সান্ধ্যকালীন গানের আয়োজনের আইডিয়াটি চমৎকার! উপকূলীয় অঞ্চলে 'পটের গান', 'কাওয়ালী' বা 'থিয়েটার' খুব জনপ্রিয়। গানের গীতিকথায় এই বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন-
ক) লোনাপানির চিংড়ির কারণে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়া,
খ) সুপেয় পানির সংকট এবং
গ) অন্যদিকে সমন্বিত চাষের মাধ্যমে সবুজায়নের সুফলগুলো ফুটিয়ে তুললে-
তা প্রান্তিক মানুষের মনে গভীর দাগ কাটবে।

৩. পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করার জন্য নতুন ৩টি ধাপ (অ্যাকশন প্ল্যান) তোমার ৫টি ধাপের প্রচারণার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটিকে সফল করতে নিচের ৩টি কৌশলগত ধাপ যুক্ত করার প্রস্তাব করছি (এই ৩টি ধাপ আমি আমার নেদারল্যান্ড এম্বেসির প্রকল্প BLUE GOLD PROGRAM এর অভিজ্ঞতা থেকে যুক্ত করছি):

ক) পাইলট প্রজেক্ট ও "কৃষক মাঠ স্কুল" (Farmers Field School)

প্রদর্শনী খামার: গাবুরার ১ বা ২ জন প্রভাবশালী বা প্রগতিশীল চাষীকে বুঝিয়ে তাদের জমিতে সরকারি/ বেসরকারি সহায়তায় একটি আদর্শ 'পরিবেশবান্ধব সমন্বিত খামার' গড়ে তোলা।

চোখে দেখে শেখা: গ্রামের অন্য চাষীদের সেই খামারে এনে দেখানো। কৃষকরা তাত্ত্বিক কথার চেয়ে বাস্তবে লাভ দেখতে পেলে দ্রুত উদ্বুদ্ধ হবে।

খ) প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সংযোগ (Linkage)

সরকারি দপ্তরকে যুক্ত করা: উপজেলা কৃষি অফিস, মৎস্য অফিস এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে এই পরিকল্পনায় সরাসরি অংশীদার করা। তাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে বীজ, চারা, পোকা দমনের আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন: সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ) এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

ক্ষুদ্র ঋণ ও প্রণোদনা: চিংড়ি চাষ বন্ধ করলে কৃষকের প্রাথমিক যে আর্থিক ধাক্কা লাগবে, তা সামাল দিতে পরিবেশবান্ধব কৃষির জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় এনজিও বা ব্যাংকের সাথে আলোচনা করা।

গ) 'সবুজ পণ্যের' বাজারজাতকরণ (Market Linkage)

লোনাপানিমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদিত ফসল বা মাছের জন্য একটি বিশেষ ব্র্যান্ডিং করা যেতে পারে (যেমন: “খাঁটি গাবুরা” বা "গাবুরা হাট")।

সুপারশপ বা জেলা শহরের বড় বাজারের সাথে সরাসরি সংযোগ করিয়ে দিতে পারলে কৃষকরা চিংড়ির চেয়েও বেশি দাম পাবে, যা তাদের এই পেশায় তাদেরকে ধরে রাখতে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই সমন্বিত পরিকল্পনাটি গাবুরার পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে প্রথম ধাপের কাজ দ্রুত শুরু করে দেওয়া যেতে পারে।

29/05/2026

[একজন আমেরিকান গবেষক ও শিক্ষক তাঁর একটি গবেষণা গ্রন্থে একটি ছোট্ট চ্যাপ্টারে সুন্দরবনের পরিস্থিতি এভাবে বর্ণনা করেছেন। সম্প্রতি বনবিভাগের কর্মকর্তার গুলিতে নিহত গাবুরার আমিনুর এর মৃত্যুর সাথে গবেষণার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। লেখাটি উপকূলের মানুষেরা তাদের বাস্তবতায় খুব ভালভাবে মিলাতে পারবেন। খুব সহজেই বাস্তবতার সাথে এর মিল খুঁজে পাবেন। আমেরিকান গবেষক না বন বিভাগের, না ডাকাতদের, না জেলেদের মানুষ। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্মোহ এই গবেষণার বিষয়টি তাই কেউ চাইলেই উড়িয়ে দিতে পারেন না] -

এটি একটি অধ্যায়ের উপ-শিরোনামঃ

ডাকাতি এবং আইনের চিপায় বন্দি মানুষ
(Wedged People Between Dakati and the Law)

“আপনাকে যেভাবে পারুন টাকা পরিশোধ করতেই হবে। আপনি যদি তাদের [ডাকাত দলগুলোকে] টাকা দিতে না পারেন, তবে তারা আপনাকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেবে না।” আমরা সৈকতে বসে হাসান নামের এক যুবকের সাথে কথা বলছিলাম, যে একটি মাছ ধরার নৌকার খোলে নতুন করে আলকাতরা লাগাচ্ছিল। তিনি বলছিলেন-

"তারা আপনাকে নির্মমভাবে মারধর করবে। তারা আপনাকে চার, পাঁচ, ছয় দিন আটকে রাখবে। যত দিনই লাগুক না কেন। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো কিছু ঘটে, যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তাদের কোনো ঝামেলা বাঁধে, তবে আপনি শেষ। সবাই মারা যাবে। ধরুন তারা র‍্যাবের [র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন] মুখোমুখি হলো। তারা [র‍্যাব] কীভাবে জানবে যে [ডাকাতদের নৌকায়] কাকে বন্দি/জিম্মি করা হয়েছে আর কাকে করা হয়নি? আমরা জেলে নাকি ডাকাত, তা তারা জানে না। তারা স্রেফ গুলি চালানো শুরু করে। মূলত, জেলেরাই মারা যায়।"

হাসান সংক্ষিপ্ত বিবরণে তাঁর নিজের বন্দি হওয়ার গল্পটি বলতে থাকেন। তিনি আমাদের জানান যে, যখন তিনি আরও তিনজন জেলের সাথে একটি নৌকায় মাছ ধরছিলেন, তখন ডাকাতেরা তাদের পথ আটকায় এবং একটি ছোট খালের ভেতর ঢুকতে বাধ্য করে। সেখানে হাসানকে নৌকা থেকে নামিয়ে ছয় দিন আটকে রাখা হয়। তাঁর অপহরণকারী বা বন্দি-কারীরা পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেছিল, কিন্তু তিনি দরকষাকষি করে তা বারো হাজার টাকায় নামিয়ে আনেন। যখন তাঁর পরিবার এই অর্থ জোগাড় করার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি ডাকাতদের জন্য রান্না করা, নৌকা বাওয়া—তারা যা দাবি করত, সেই অনুযায়ী কাজ করে দিচ্ছিলেন। তাঁর পরিবার অবশেষে টাকা পাঠানোর পর, তাঁকে অন্য একটি মাছ ধরার নৌকায় তুলে দেওয়া হয়—যেখানকার অন্য একজন জেলেকে ডাকাতেরা মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করেছিল এবং হাসানের জায়গায় সেই জেলেকে নিয়ে হাসানকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ডাকাত দলগুলো প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে। তাদের অবাধে চলাচলের ক্ষমতা এবং জলময় ভূখণ্ডের ওপর অগাধ জ্ঞান তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নিয়মিত মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে সাহায্য করে। তা সত্ত্বেও এই ধরনের সংঘর্ষগুলো ঘটে থাকে। উত্তর-ঔপনিবেশিক বাংলাদেশে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনীতিবিদদের খুব সামান্য বা বড়জোর সাময়িক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়েই এই ডাকাতি ব্যবস্থা টিকে রয়েছে। এটিকে ‘বেআইনি কিন্তু সমাজ-গর্হিত’ (আইনি ও সামাজিকভাবে নিন্দিত কর্মকাণ্ড) এবং ‘বেআইনি কিন্তু সমাজ-স্বীকৃত’ (বেআইনি হলেও সামাজিকভাবে সহ্য করা হয় এমন কর্মকাণ্ড)-র মধ্যকার পার্থক্যের একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে ভাবা যেতে পারে।৩৬ তবে, সুন্দরবনের জলবায়ুগত নাজুকতা নিয়ে নতুন উদ্বেগের আবির্ভাবের ফলে, ডাকাতদের এখন বনের ভেতরের মানুষ এবং খোদ ম্যানগ্রোভ বন উভয়ের জন্যই একটি মানবসৃষ্ট (anthropogenic) হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অথবা, আরও নিখুঁতভাবে বললে, ম্যানগ্রোভে তাদের এই অবাধ বিচরণ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং এনজিওগুলোর জরুরি এজেন্ডা ও তহবিলের প্রবাহকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। বিগত পাঁচ বছর ধরে, বাংলাদেশি গণমাধ্যমে র‍্যাব এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে বা এনকাউন্টারে ডাকাতদের মৃত্যুর সংখ্যা গণনা করে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। প্রায়শই, নিহতদের মরদেহ প্রদর্শনী করা হয়, এই প্রমাণ হিসেবে যে, বাংলাদেশ সরকার বনের ছায়ার নিচে তার আঞ্চলিক ক্ষমতা এবং দখলের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য পুনর্প্রতিষ্ঠা করেছে। হাসানের মন্তব্য যেভাবে ইঙ্গিত করে, এই হত্যাকাণ্ডগুলো প্রায়শই নির্বিচার হতে পারে। কারণ, ডাকাতেরা কোনো ইউনিফর্ম পরে না। কে বলবে যে নিহত ব্যক্তিরা অপহরণকারী ছিল নাকি বন্দি?
তা সত্ত্বেও, হাসান যেভাবে বর্ণনা করেন, ম্যানগ্রোভে আইনগত নিয়ন্ত্রণ ও ডাকাতির মধ্যে আরও একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আমাদের বলেন:

"আমাদের দুটি সমস্যা। একটি হলো ডাকাত। অন্যটি হলো বন বিভাগ। আমরা যদি জাল দিয়ে মাছ ধরিও [অর্থাৎ, আইনগতভাবে], বন বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের বলেন যে আমরা বিষ দিয়ে মাছ ধরেছি [অর্থাৎ, বেআইনিভাবে]। আমরা তাদের যা বলি তা তারা বিশ্বাস করে না। তারা যা বলে তা-ই ঠিক, আমরা যা বলি তা-ই মিথ্যা। তারা যদি আমাদের জেলখানায় পাঠাতে চায়, তবে পাঠাতে পারে। তাদের ক্ষমতা আছে। তাই আমাদের দুটি ভয়: ডাকাত এবং বন কর্মকর্তা।"

অন্য কথায়, সুন্দরবনের জেলেদের জন্য বন কর্মকর্তাদের হাতে ‘দখল’ বা আটক হওয়াটা ডাকাতদের হাতে বন্দি হওয়ার মতোই সমান বিপর্যয়কর হতে পারে।

হাসানের পর্যবেক্ষণ সমসাময়িক সময়ে ডাকাতি বৃদ্ধির অন্যতম গতিশীলতাকে তুলে ধরে। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে সহজলভ্য হওয়া ‘বিকাশ’ (bKash)-এর মতো নতুন মোবাইল ব্যাংকিং প্রযুক্তিগুলো অর্থ পরিশোধের এমন একটি মাধ্যম সরবরাহ করেছে, যা ডাকাত দলগুলোর ধরা পড়ার ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তারা এখন মুক্তিপণ-বন্দি বিনিময়ের ব্যবস্থা—যে মুহূর্তগুলোতে ডাকাত দলগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ক্ষেত্রে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ থাকে—তার ওপর নির্ভর না করে ডিজিটাল অর্থ স্থানান্তর এবং তাদের ভূখণ্ডজুড়ে নৌকাগুলোর অবিরাম চলাচলের ওপর ভরসা করে। এভাবে ঘর্ষণহীন বা মসৃণ মোবাইল প্রযুক্তি অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর ভেতরের ঘর্ষণ বা বাধাও কমিয়ে দিয়েছে, যা তারা কোনো শাস্তি বা জবাবদিহিতার ভয় ছাড়াই (with impunity) ব্যবহার করছে। যদিও এই ধরনের প্রযুক্তিগুলো গতি ও সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা দেওয়ার দাবি করে, জেলেরা সাধারণত সুরক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হতে অনিচ্ছুক এবং অক্ষম; কারণ তারা বিশ্বাস করে যে এমনটি করলে পুলিশের দ্বারা অতিরিক্ত শোষণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। এটি সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নতুন নতুন নীতিমালার প্রাচুর্যের সাথে জড়িত, যা আইনি মাছ ধরার পারমিটের সংখ্যা কমিয়ে দেয় এবং মাছ ধরার পদ্ধতির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে—যা মৎস্যজীবীদের জীবিকাকে আরও বেশি অপরাধী সাব্যস্ত (criminalizing) করে এবং জেলেদের কেবল ডাকাতদের দ্বারাই নয়, বরং পুলিশ ও বন কর্মকর্তাদের হাতেও দখলের নতুন ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

সুন্দরবনের জেলেরা দীর্ঘদিন ধরেই বনের আইনের প্রান্তসীমায় কাজ করে আসছেন। তা সত্ত্বেও, এই অঞ্চলের এবং সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যৎ ঐতিহ্য বা হেরিটেজ হিসেবে সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য নতুন নতুন প্রচেষ্টার আধিপত্য বা প্রাচুর্য, ম্যানগ্রোভ নিয়ন্ত্রণকারীদের কাছ থেকে তাদের সাহায্য চাওয়ার ক্ষমতাকে খর্ব করেছে। একদিকে, এই নতুন নীতিগুলো প্রায়শই জীবনধারণের জন্য জেলেদের আইন ভাঙতে বাধ্য করে। সুন্দরবনে এই নীতিগুলো এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে জেলেরা প্রায়শই বেশ স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। যেমনটা একজন আমাকে বলেছিলেন, “সরকারি মাছ ধরার পারমিট ছাড়া আমরা কী করতে পারি? আমাদের এবং আমাদের পরিবারকে কি না খেয়ে মরতে হবে? আমরা যদি পারমিট না পাই, তবে আমরা অন্য কৌশল ব্যবহার করি।” এই ধরনের কৌশলগুলোর মধ্যে পারমিট ছাড়াই সুন্দরবনে মাছ ধরা থেকে শুরু করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা (poison fishing)—যেখানে জেলেরা মাছ ধরার জাল দিয়ে ছোট ছোট খাল আটকে দেয়, সেগুলোতে কীটনাশক ঢেলে দেয় এবং ভাটা নামার সাথে সাথে মাছের মৃতদেহ সংগ্রহ করে—সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, এই নতুন নীতিগুলো আটক হওয়া জেলেদের পক্ষে তাদের নির্দোষিতা প্রমাণ করা কঠিন করে তুলেছে। ধরে নেওয়া হয় যে তারা বন নীতি লঙ্ঘন করার দায়ে দোষী, যা ভুল প্রমাণ করা বেশ কঠিন হতে পারে। এর ফলে নৌকা ও মূল্যবান সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়, এবং কারাদণ্ড, ভারী জরিমানা ও ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের মতো পরিণতি নেমে আসে, যা ভবিষ্যতে ম্যানগ্রোভে আইনগতভাবে কাজ করার পারমিট পাওয়া অসম্ভব করে তোলে। জেলেরা আরও যুক্তি দেন যে, এটি বন কর্মকর্তাদের হুমকিও বাড়িয়ে দেয়, যারা—অন্তত জেলেদের মতে—ঘুষ দাবি করতে পারে এবং তাদের অন্যান্য ফর্মে চাঁদাবাজির শিকার বানাতে পারে। ফলে, নতুন আইন এবং তা প্রয়োগের ব্যবস্থাগুলো সুন্দরবনের সংলগ্ন বসবাসকারী এবং বেঁচে থাকার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি ও সম্প্রদায়গুলোর জন্য অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি (precarity) দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরনের নীতিগুলো জেলেদের অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সাহায্য চাওয়ার পথ রুদ্ধ করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে সুন্দরবন রক্ষার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণে সৃষ্ট নতুন বন নীতিগুলো জেলেদের ওপর এক সাঁড়াশি বা জাঁতাকলের মতো বাঁধন (viselike grip) শক্ত করেছে বলে মনে হয়, যেখানে জেলেরা একদিকে বন কর্মকর্তা ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যদিকে ডাকাতদের মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছে। এই দুই রূপের দখলের মধ্যকার পারস্পরিক সংযোগটি অনেক জেলের কাছেই অত্যন্ত প্রত্যক্ষ। আমি মিয়াকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তিনি বিশ্বাস করেন কিনা যে বন কর্মকর্তা এবং ডাকাতদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ আছে। মুখ লাল করে তিনি আমার দিকে চিৎকার করে উঠলেন, “অবশ্যই। তাদের সাথে এদের ভালো যোগাযোগ আছে। তারা [বন কর্মকর্তারা] গরিব জেলেদের গ্রেফতার করে এবং তাদের মালামাল বাজেয়াপ্ত করে। তারা যদি আমার মতো আরও শক্তিশালী জেলেদের ধরতে চায়, তবে তারা ডাকাতদের ফোন করবে এবং তাদের বলবে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে।”

অবসরপ্রাপ্ত ডাকাতেরা বন কর্মকর্তাদের সাথে একটি নিবিড় সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেন; তারা প্রায়শই ভোজের জন্য বা ঝড় থেকে বাঁচতে বন কর্মকর্তাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো দখল করার কথা বর্ণনা করেন—যদিও তাদের বয়ান অনুযায়ী সাধারণত বন কর্মকর্তারাই তাদের হুকুম খাটত, উল্টোটা নয়। বন কর্মকর্তারা, স্বাভাবিকভাবেই, এই ধরনের যোগসাজশ অস্বীকার করেন। একজন তো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই নমনীয়তা বা শিথিলতার প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আমাকে বলেছিলেন যে, সব ডাকাতকে স্রেফ গুলি করে মারা উচিত (যা পুলিশিং ইউনিটগুলোর সাথে এনকাউন্টারে প্রায়শই ঘটে থাকে)। ডাকাত এবং বন কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগসাজশ থাকুক বা না থাকুক, মিয়ার মন্তব্য জেলেদের জীবনের একটি কেন্দ্রীয় সত্যকে তুলে ধরে: আইন এবং ডাকাতির মধ্যকার পার্থক্যটি অত্যন্ত অস্পষ্ট, এবং এই পথ ধরে চলা মানেই হলো দখলের চরম ঝুঁকিতে থাকা।

(অনুবাদক- নূরুর রহমান বাচ্চু)

উপকূল রাজনীতি-১ (এই শিরোনামে উপকূলভিত্তিক এই ফেসবুক পেজে ধারাবাহিকভাবে লেখা হবে। আজ সেই আলোচনার প্রথম পর্ব। আলোচনার বিষয়...
24/04/2026

উপকূল রাজনীতি-১

(এই শিরোনামে উপকূলভিত্তিক এই ফেসবুক পেজে ধারাবাহিকভাবে লেখা হবে। আজ সেই আলোচনার প্রথম পর্ব। আলোচনার বিষয় হিসেবে এটি একটি জটিল আলোচনা। সবার জন্য তাই বিষয়টি সহজ নাও হতে পারে। আমি চেষ্টা করবো যতটা সম্ভব সহজ করে তুলে ধরতে। কতটুকু পারব জানি না। তবে না পারলে সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যর্থতা। প্রত্যাশা একটাই, এই আলোচনাটা উপকূলের সবক্ষেত্রে আড্ডায়, চায়ের দোকানে, কিংবা রাজনীতিবিদ ও চিন্তাশীল মানুষের আনুষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতে যাতে স্থান পায়)

শিরোনামঃ
উপকূলের রাজনীতি আর মূলধারার রাজনীতিঃ বৈশিষ্ট্যগত কারণে সম্পূর্ণ আলাদা।

(মূলধারার রাজনৈতিক ধারণা নিয়ে উপকূলের অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন অসম্ভব)

ভূমিকাঃ
উপকূলের রাজনীতি আর মূলধারার রাজনীতি বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যের বিষয়টি আমাদের দৈনন্দিন আলোচনার বিষয়বস্তু হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি এর আগে কখনও আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে বিশেষ করে কোন রাজনৈতিক আড্ডায়, কিংবা আলোচনায়, সভায় কিংবা সেমিনারে অথবা কোন পুস্তকে আলোচিত হয়েছে, এমন কোন তথ্য আমার জানা নেই। অথচ উপকূলের মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাইলে এই বিষয়টি শুধু বুঝলেই হবে না, এই অঞ্চলের রাজনীতিবিদগণকে মনে-প্রাণে বিষয়টিকে ধারণ করা প্রয়োজন। আর সেটা করতে না পারলে এলাকার উন্নয়নের জন্য আপনি যা কিছু করুন না কেন,সেই উন্নয়নের রাজনীতি দিন শেষে মানুষের কল্যাণের থেকে অকল্যাণের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও আংশিক যশোরের উপকূলঘেঁষা অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, পানি–সংকট ও জীবিকাহীনতার বহুমাত্রিক সংকটে আক্রান্ত। কিন্তু এই সংকট কেবল প্রাকৃতিক নয়—এটি গভীরভাবে রাজনৈতিক ও কাঠামোগত।

উন্নয়ন প্রকল্প, পোল্ডার ব্যবস্থা, চিংড়ি অর্থনীতি, ভূমি–দখল, এবং সিদ্ধান্তের কেন্দ্রীয়করণ–প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে এখানে এক ধরনের “পরিকল্পিত প্রান্তিকীকরণ” তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিত প্রান্তিকীকরণ (Planned Marginalization) বিষয়টি একটু জটিল। সহজ করে বললে পরিকল্পিত প্রান্তিকীকরণ বলতে বোঝায় এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলকে সরাসরি “অবহেলা” না করে, বরং রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, উন্নয়ন নীতি, বাজেট বণ্টন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ এটি “দুর্ঘটনাবশত পিছিয়ে পড়া” নয়, বরং এমন এক ধরনের কাঠামো সৃষ্টি করা যেখানে উন্নয়ন প্রক্রিয়া নিজেই বৈষম্য তৈরি করে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আইলা সঙ্ঘটিত হয়েছে ২০০৯ সালে, অথচ আজ পর্যন্ত বহুবার বহুমাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূল আক্রান্ত হলেও মেগা প্রকল্প এসেছে ২০২৩-২০২৪ সালে। অথচ বিস্ময়করভাবে এতকাল (একযুগ) রাষ্ট্র শুধু ত্রাণ কাজে তাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রেখেছিল, অপরদিকে প্রতিবছর দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদের নানামুখি বিপর্যয় হলেও কার্যকর ভূমিকা নেয়া হয়নি। যেমন পদ্মা ব্রীজ প্রকল্পের মত একটি মহাপ্রকল্প যা গাবুরার মেগা প্রকল্পের তুলনায় কয়েক শতগুণ বড়। ঐ ব্রীজ প্রকল্প না হলেও কোন এলাকায় সরাসরি কোন মানবিক বিপর্যয় ঘটত না, বা ঘটার সম্ভাবনাও ছিল না। অথচ দেখুন কত দ্রুততায়, কত শত আন্তর্জাতিক বাঁধা বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও মাত্র কয়েক বছরেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়ে গেলো। অপরদিকে উপকূলে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে কি ধরণের মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তা উপকূলে বসবাসকারী মানুষ মাত্রই জানে। রাষ্ট্রের কাছে এই মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা যখন কম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, তখনই জান-মাল রক্ষাকারী টেকসই বেড়িবাঁধের প্রয়োজনীয়তা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনার টেবিল থেকে হারিয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পদ্মা ব্রীজ, দৃষ্টিনন্দন এয়ারপোর্ট, মেট্রোরেল ইত্যাদি প্রকল্প। উপকূলের অসহায় মানুষের ভবিষ্যৎ তখন পরিকল্পিত প্রান্তিকীকরণ বা Planned Marginalization আওতায় আটকে আটকে পড়ে। ঠিক এইখানটাতে আমাদের দলান্ধ রাজনীতিবিদগণ বিতর্ক তুলবেন, তবে কি বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কোনই দরকার নেই? এটা একেবারেই ভুল বিতর্ক এবং এই বিতর্ক তোলাকে এভাবে ভুল হিসেবেই দেখা উচিত।

উন্নয়ন প্রকল্পের অবশ্যই দরকার আছে, তবে তা কোন মানবিক বিপর্যয় রোধকারী প্রকল্পের পরিবর্তে তো হতেই পারে না। একটা প্রশ্ন করি- মনে করুন কোন আলোচনার টেবিলে পাশাপাশি দুটো প্রকল্প উপস্থাপন করা হলো- এক, অর্থনীতি শক্তিশালীকরন/নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প; দুই, মানবিক বিপর্যয় রোধকারী প্রকল্প। প্রথমে কোনটাকে বেছে নেবেন? আরে ভাই মানুষ, ভূমি, সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, আর আপনি অর্থনীতি শক্তিশালী করে কোন পুজায় লাগাবেন! অর্থনীতি শক্তিশালী করবেন কার জন্য যখন মানুষের জীবন হুমকিতে!

সবশেষে আরও সহজ করে যদি বলি, যখন রাষ্ট্র বা ক্ষমতাকাঠামো এমন সিদ্ধান্ত নেয়—
• কোথায় রাস্তা হবে
• কোথায় শিল্প হবে
• কোথায় পানি যাবে
• কারা ঋণ পাবে
• কারা ক্ষতিপূরণ পাবে
এবং এই সিদ্ধান্তগুলো ধারাবাহিকভাবে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে, তখন সেটিকে পরিকল্পিত প্রান্তিকীকরণ বলা যেতে পারে।

অতএব এই সম্পূর্ণ বিষয়টিই ঘটে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়। কেন্দ্রীয় রাজনীতি বা মূলধারার রাজনীতি অনুসরণে উপকূলের এই প্রান্তিক পরিণতি উপকুলবাসিকে কাগজ-কলমে বা প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী-উপকারভোগী বানিয়ে দয়া-দখিনা দেখানো হয়। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, এনজিও এবং দাতা সংস্থাগুলি ত্রাণ ও দান-খয়রাতমূলক সাহায্য দিয়ে উপকূলবাসিকে ক্রিয়াশীল বা কর্মঠ বা Active মানুষ হিসেবে গণ্য করার পরিবর্তে “বস্তু মানুষ” হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে। (“বস্তু মানুষ” পরিভাষাটিও একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বৈকল্য। পরবর্তীতে “বস্তু মানুষ” বিষয়টি নিয়ে একটি অধ্যায় রাখার প্রয়াস পাবো)। যে কারণে গাবুরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে একটি শ্লোগান অল্প সময়ের মধ্যেই সকলের মুখে মুখে উচ্চারিত হতে থাকে- "ত্রাণ চাইনা, টেকসই বাঁধ চাই"। এটাই প্রমাণ করে মানুষ অসম্মানজনক ভাবে "বস্তু মানুষ" হতে চায় না, দয়া বা অনুগ্রহও চায় না। মানুষ হিসেবে সম্মানজনকভাবে বাঁচতে চায়।

আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিগণ এই বিষয়টা সম্পর্কে সচেতন নন। কিংবা এমনও হতে পারে যে তাঁরা বিষয়টি ভাবনা-চিন্তা করার মত পরিবেশেই থাকেন না। অনেক ক্ষেত্রে একজন রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি রাজনীতির কেন্দ্রীয় বলয় থেকে নিজেকে মুক্তও করতে পারেন না। সেটা করতে গেলে তিনি দলীয় আনুগত্য খেলাপি হয়ে যাবেন। অবশ্য এককভাবে এই বিষয়টির জন্য কেউ দায়ীও নন। এর সবথেকে বড় কারণ হল- আমাদের উপকূলের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোথাও আলোচনা হয় না। না আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক, না আড্ডায় কিংবা বিশেষ কোন আলোচনায়, এই বিষয়টি একেবারেই অনুপস্থিত।

উপকূলের রাজনীতি মূলধারার রাজনীতি থেকে একেবারেই আলাদা হয়ে যাওয়ার পেছনে কিছু মৌলিক কাঠামোগত কারণও কাজ করে। এটি শুধু “ভৌগোলিক দূরত্ব” নয়; বরং রাষ্ট্র, অর্থনীতি, পরিবেশ ও ক্ষমতার সম্পর্কের একটি বিশেষ বাস্তবতা। কারণগুলোর বিশ্লেষণধর্মীভাবে ব্যাখ্যা করবো ধারাবাহিকভাবে। আপনাদের মনোযোগ প্রত্যাশা করবো প্রতিটি ধাপে।

30/03/2026

Md Ashikur Rahman "Politics Begins Where the Land Ends" এই পেইজে নিচের লেখাটি পাবলিশ করার জন্য দিয়েছে। পড়ে দেখতে পারেন। আপনাদের সবাইকে গাবুরা নিয়ে আপনার ভাবনা, মতামত লিখে জানাতে পারেন। আশিক লিখেছে-

গাবুরার বতর্মানে প্রেক্ষাপটে ফেসবুক সমলোচনার জন্য গাবুরার ঐতিহ্য এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বতর্মান যুব সমাজ সামাজিক মাধ্যমকেই সমাধানের পথ হিসেবে দেখতেছে, যেটির ফলাফল বাইরের মানুষের কাছে গাবুরা এবং গাবুরার মানুষের প্রতি নেগেটিভ ধারণা তৈরি হচ্ছে।

যেকোনো সমস্যায় আমরা যদি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবহিত করে সেখানে সমাধানের পথ খুজি, আমার মনে হয় সেটি পজিটিভ রেসপন্স আমরা পাবো।

জনপ্রতিনিধিদের ভুল না ধরে তাদের সাথে আলোচনাপূর্বক সমাধানের পথ খুজে বের করাটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।

ইকোট‍্যুরিজমকে আমি গাবুরার আগামী সম্ভাবনা হিসেবে দেখি। দেশ এবং দেশের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীভাঙন ও সুন্দরবনের কোলঘেষা দ্বীপ জনপদ হিসেবে গাবুরার বেশ পরিচিতি রয়েছে।

এই সুযোগটাকে কাজে লাগে, দৃষ্টিনন্দন এবং ডুমুরিয়া খেয়াঘাট সহ গাবুরার বিভিন্নপ্রান্তকে ট‍্যুরিজম নিয়ে ভাবলে সেটিও গাবুরার জন্য ভালো হবে।

গাবুরার বতর্মান যুব সমাজ অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। এটির ক্ষতিকর প্রভাবে, আর্থিকভাবে ঐসকল পরিবারগুলো বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। এই সকল যুব সমাজকে আমরা সঠিকপথে ফিরিয়ে আনতে না পারলে, সেটির প্রভাবে পারিবারিক কলহ, চুরি, আর্থিক অনটন এগুলো বেড়ে যাবে।

বতর্মানে গাবুরা কেন্দ্রীক কর্মসংস্থানের অভাবে গাবুরার অধিকাংশ পুরুষ মানুষ ইটভাটার কাজে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। সেখানে গিয়েও এই সকল মানুষ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে। অনেকের অঙ্গহানীও হচ্ছে। এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সুন্দরবনের দস‍্যুতা, অধিকাংশ বন অভায়রণ‍্য, বাঘের আক্রমণে মৃত্যু, সুন্দরবনের নদীতে মাছ, কাঁকড়া কমে যাওয়া। এইসব সংকটের কারণে ধীরে ধীরে সুন্দরবন কেন্দ্রীক পেশায় মানুষের জীবন জীবিকা দুর্ভিষহ হয়ে উঠছে।

বতর্মানে গাবুরার মানুষ NGO নির্ভরতা থেকে বের হতে পারিনি। আইলা পরবর্তী সময়ে NGO গুলো উন্নয়নমূলক কাজ করলেও সেটির খারাপ একটি প্রভাব হিসেবে গাবুরার মানুষ লোভী হয়ে গেছে।

বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ‍্যোগ নিতে হবে। গাবুরার মানুষ যেভাবে লবণাক্ততা কাটিয়ে ধান এবং ফসলের চাষে ঝুকছে সেটি কাজে লাগিয়ে লবণাক্ততা কমানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

লবণাক্ততার খারাপ প্রভাবে স্বাস্থ্যগত, অর্থনৈতিক, কর্মসংস্থানের অভাব এগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।

সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যাতায়াত ব‍্যবস্থা, নদী পারাপার সহ যোগাযোগ ব‍্যবস্থার উন্নতির লক্ষে একযোগে সবাইকে সবার যায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুধু সমলোচনায় সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। আলোচনা দরকার, পজিটিভ চিন্তার দরকার। গাবুরার প্রশ্নে সবাইকে এক হতে হবে।

সম্প্রতি গাবুরার জনকল্যাণে, বিশেষ করে রাস্তাঘাট নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তা যেমন হচ্ছে গাবুরায়, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ...
30/03/2026

সম্প্রতি গাবুরার জনকল্যাণে, বিশেষ করে রাস্তাঘাট নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তা যেমন হচ্ছে গাবুরায়, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সংসদেও। কিন্তু এই তিন জায়গাতেই কিছু যৌক্তিকতার নিরিখে বলতে গেলে অসঙ্গতি হচ্ছে, যেগুলি নিয়ে কেউই কিছু বলছেন না। এই অসঙ্গতি হবার কারণ হল- আমাদের কথাটা বলার আগে কোন গঠনমূলক ভাবনা-চিন্তা নেই, অধ্যয়ন নেই, অনেকটা মুখে এল আর বলে দিলাম, এমন ভাবে করা হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। কাউকে শ্রেফ ঘায়েল করা, অপদস্ত করার অভিপ্রায় আছে কি না, সেটাও ভেবে দেখা দরকার। তাই বলে তার অর্থ কিন্তু মোটেও এই নয় যে, প্রতিবাদ বা সমালোচনা করা যাবে না, ভুল হলেও তা জন সমক্ষে উত্থাপন করা যাবে না- এমন ভাববার কোনই অবকাশ নেই। আমি আজ এখানে যে বিষয়গুলির অবতারনা করছি, সেই বিষয়গুলির সাথে আমাদের দুইজন জন প্রতিনিধি বিশেষ করে মাননীয় সংসদ সদস্য এবং মাননীয় ইউপি চেয়ারম্যান উভয়ই সম্পৃক্ত। তারা উভয়ই গাবুরার কৃতি সন্তান বলেই বার বার আপনাদের রায় পেয়েছে। যে কাজ করে না, তার কোন ভুল হয় না। তারা কাজ করছেন, তাই তাঁদেরও ভুল হতে পারে। আমার এই প্রয়াস শ্রেফ সংশোধনের নিমিত্তে। আমি উভয়কেই এই আলোচনায় ট্যাগ করছি, যাতে এই আলোচনা তাঁদের নজরে আসে-
১। লেবুবুনিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পাইপের মাধ্যমে লোনা পানি তোলার চেষ্টা গাবুরার জন্য সুস্পষ্টভাবে আত্মঘাতী। এই বিষয়ে প্রথমে চেয়ারম্যান মহোদয় এবং অবশ্যই এমপি মহোদয়কে কোনপ্রকার কালক্ষেপণ না করে ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাই। যে টেকসই বেড়িবাঁধ আমাদের জীবন রক্ষা করবে, সেটা সম্পাদনের আগেই এই প্রয়াস উদ্বেগজনক;
২। হেরিংবন্ড রাস্তায় বালু ব্যবহার না করা সম্ভবত একটি "ওয়ার্ক অর্ডার" এর সুনির্দিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের কাজ। এটা করা হয়ে থাকলে তা মারাত্মক অপরাধ এবং গাবুরার স্বার্থ বিরোধী। চেয়ারম্যান মহোদয় এই অন্যায় কাজ সংশোধনের উদ্যোগ নিবেন, এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। আপনি যদি কোন কারণে অপারগ হন, তাহলে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। তাতেও না হলে আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমরা সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে পারব ইনশাল্লাহ;
৩। মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনি নির্বাচন প্রচারণার সময় একটি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন- ডুমুরিয়া খেয়াঘাট থেকে একটা বড় রাস্তা চকবারা হয়ে গাবুরা-বেদকাশি খেয়াঘাট নিতে চান এবং এর মাধ্যমে আপনি "ইকোট্যুরিজম" পরিকল্পনা করতে চান। এবার সংসদেও আপনি আরেকটি প্রকল্পের কথা বলেছেন- নোয়াবেকি-পাখিমারা-চউদ্দরশি-চকবারা-বুড়িগোয়ালিনি (ফেরি)-মুন্সিগঞ্জ হাইওয়ে করতে চান। আপনি গাবুরাকে সংসদে তুলে ধরছেন, গাবুরার সন্তান হিসেবে কৃতিত্বের দাবিদার। যদিও এই দুই পরিকল্পনা নিয়েই একটি যৌক্তিক আলোচনার অবকাশ আছে বলে মনে করি। এই বিষয়ে আমার কিছু সুনির্দিষ্ট আলোচনা আছে, যা নিচে উপস্থাপন করছি। আমি বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি, অধ্যয়নও করেছি, তারপর আপনাকে বলছি, তবুও কোন পয়েন্ট অযৌক্তিক মনে হলে আশা করি আমাকে সংশোধন করবেন-
"ইকোট্যুরিজম" এর উদ্দেশ্যে ডুমুরিয়া-গাবুরা খেয়াঘাট রাস্তাঃ-
এই আলোচনার আগে "ইকোট্যুরিজম" কি সেটা একটু দেখা যেতে পারে- Ecotourism হলো প্রাকৃতিক ও সাধারণত সংরক্ষিত এলাকায় দায়িত্বশীল ভ্রমণ ব্যবস্থা, যার মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ ও সংস্কৃতি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। এটি Low-Impact এবং Small-scale পর্যটনকে উৎসাহিত করে, যাতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায় এবং স্থানীয় সম্প্রদায় পর্যটন থেকে সরাসরি লাভবান হয়। এখানে Ecotourism অবশ্যই টেকসই, শিক্ষামূলক এবং পরিবেশবান্ধব হতে হয়। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে Ecotourism-এর ফলে পরিবেশগত ক্ষতি, বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতি এবং Greenwashing বা মিথ্যা পরিবেশ বান্ধব দাবি’র মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
* (গুগল বা অনেক মাধ্যম আছে, যে কোন পাঠক আমার বক্তব্য যাচাই করার জন্য পড়তে পারেন)
অতএব, ডুমুরিয়া-গাবুরা খেয়াঘাট রাস্তায় ইকোট্যুরিজমের দূরতম কোন সম্ভাবনা আছে কি না, তা উপরের ইকোট্যুরিজম এর আলোচনার ভিত্তিতে আমরা ভেবে দেখতে পারি। তবে ইকোট্যুরিজম নয়, গতিপথ একটু পরিবর্তন করে এই রাস্তাটির ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাস্তাটিকে যৌক্তিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা যায়। সেই আলোচনায় একটু পরে আসছি যখন আমি আমার প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করবো সেখানে।
এবার নোয়াবেকি-পাখিমারা-চৌদ্দরশি-চকবারা-বুড়িগোয়ালিনি (ফেরি)-মুন্সিগঞ্জ হাইওয়ে নিয়ে বলি। এই পরিকল্পটিরও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনার সুযোগ রয়েছে। যে রাস্তাই হোক, পরিকল্পনার আগে গাবুরার পরিবেশ, সম্ভাবনা, গুরুত্ব বিবেচনা প্রথমেই করতে হবে। গাবুরার প্রধান সড়ক বাল্যকাল থেকে দেখে আসছি চৌদ্দরশি-চাঁদনীমুখা। এটি হলে সুন্দরবন ভিত্তিক "ইকোট্যুরিজম" এর সম্ভাবনা তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, গাবুরা নদী-ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা। ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে আমাদের। এই রাস্তাটি অপেক্ষাকৃত উঁচু করতে পারলে ইউনিয়ন দুই ভাগে বা ক্লাস্টারে বিভক্ত করা যাবে। একপাশে ভেঙ্গে গেলেও অন্যপাশ সুরক্ষিত থাকবে। আমার প্রস্তাবনায় আরও ২টি রাস্তা আছে, সেগুলিও যদি একই উচ্চতায় করা যায়, তবে পুরা ইউনিয়ন ৬টি ক্ষুদ্র ক্লাস্টারে বিভক্ত হবে। তখন কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেলে ছোট্ট একটা অংশ প্লাবিত হলেও বাকি এলাকা সুরক্ষিত থাকবে। দয়াকরে সংযুক্ত ছবিটি দেখুন।
(লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে বলে অনুরোধ করছি সম্পূর্ণটা পড়বেন দয়াকরে। এটা গাবুরার জন্য অনেকটা সময় ব্যয় করে আমি তৈরি করেছি। বিশেষ করে আমাদের এমপি মহোদয়, জনাব মনিরুজ্জামান মহোদয়, চেয়ারম্যান মহোদয় এবং অন্যান্য বিশেষ ব্যক্তি বর্গের জন্য, যারা গাবুরা ও উপকূল নিয়ে ভাবেন কিংবা গবেষণা করেন যাতে সবাই মিলে রাজনীতির উরধে উঠে সুন্দর উপকূল গড়তে পারি)
আমার প্রস্তাবঃ
আমার ৮ বছরের বৈশ্বিক প্রকল্পের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ অধ্যয়ন থেকে অর্জিত জ্ঞান একত্রিত করে আমার কথাগুলি প্রথমে ছবিতে এঁকেছি। এবার সেই স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছি (এই ৬ ক্লাস্টারের পরিকল্পনায় স্নেহাস্পদ Gazi Nur Md. Bulbul আমাকে সহায়তা করেছিল, কৃতজ্ঞতা তার প্রতি)-
১। প্রথমে সবুজ রঙে আঁকা রাস্তাটি হাইওয়ের সাথে যুক্ত করা দরকার। পাখিমারা-চৌদ্দরশি-গাইনবাড়ি হয়ে চকবারা নয়, চাঁদনীমুখা যাওয়া দরকার। কেন দরকার সেটা ২ নং প্রস্তাবে পরিস্কার হবে বলে আশা করি। কারণ এর গুরুত্ব, গাবুরার পরিবেশ, এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ভিত্তিতে এই প্রস্তাব করছি। দীর্ঘ মেয়াদি ভাবনা ও পরিকল্পনা দরকার আমাদের। আমাদের প্রতিটি পরিকল্পনায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিবেচনায় নিয়ে না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমারাই, গাবুরাবাসি।
২। হলুদ ও নীল রঙের রাস্তা দুটিও একই উচ্চতায় ডুমুরিয়া খেয়াঘাট থেকে চকবারা-গাইনবাড়ি হয়ে লেবুবুনিয়া পর্যন্ত এবং ডুমুরিয়া খেয়াঘাট থেকে অপর রাস্তাটি হরিসখালি হয়ে পার্শ্বেমারি স্কুল পর্যন্ত। ব্যস, তবেই ইউনিয়ন ৬ ক্লাস্টারে বিভক্ত হলে ভবিষ্যতে নদী ভাঙ্গন থেকে সৃষ্ট প্লাবনকে আমরা একটা ক্ষুদ্র এলাকায় আটকে রাখতে পারব ইনশাল্লাহ।
৩। যদি গাবুরাভিত্তিক ইকোট্যুরিজমের পরিকল্পনা করা হয়, তবে গোলাপি রঙের রাস্তাগুলি করার দরকার হবে। আমার জানা মতে যেখানে চর আছে, ভাঙনপ্রবণ নয়, সেগুলি এই পরিল্পনার আওতায় আসতে পারে। যেমন ১নম্বরে আসবে দৃষ্টিনন্দন, এভাবে জেলিয়াখালি, খোলপেটুয়া, চাঁদনীমুখা, পার্শ্বেমারী ইত্যাদি (অন্য এলাকায় চর থাকলে সেটিও যুক্ত হতে পারে)। এখানে প্রটেকশন নির্মাণ করে পরিকল্পিতভাবে ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ, ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন বন্য প্রাণী প্রজনন করে গড়ে তোলা যেতে পারে। মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন ঘটবে।
৪। আমার মতে সমগ্র বেড়িবাঁধ এর উপর দিয়ে কারপেটিং রাস্তা করা সম্ভব হলে সেটা বেড়িবাঁধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে। যা ইকোট্যুরিজম করা হলে সেখানেও কাজে লাগবে।
৫। শ্যামনগর থেকে মুন্সিগঞ্জ হয়ে নীল্ডুমুর পর্যন্ত রাস্তাটিও অত্যন্ত জরুরী।
৬। স্থায়িভাবে গাবুরাকে লবণ পানি মুক্ত করে পর্যাপ্ত খাল খনন করে একই জমিতে ২-৪ ফসল করা যেতে পারে। সে জন্য পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা করার প্লান করতে হবে, যা এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা যাবে না।
৭। গাবুরার বাজারগুলিকে বিজনেস নেটওয়ার্কের আওতায় এনে এলাকার অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।
@

27/02/2026

ডেলটা ফিউচার্স- এর এই (নিচে উল্লিখিত) চ্যাপ্টার পড়তে গিয়ে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা বাঁধের জন্য যে আন্দোলন করেছিলাম, সেই বিষয়টি অধ্যাপক জেসন- এর দৃষ্টি এড়িয়ে যায় নি। বিশেষ করে "ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই" এই শ্লোগানটি আমি আমার টাইম লাইনে প্রথম শেয়ার করার পর "গাবুরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি"র মাধ্যমে তা কপোতাক্ষ-খোলপেটুয়া পার হয়ে উপকূলের শ্লোগান হয়ে উঠেছিল সেই সময়। আরটিভি'র যে ২/৩টি টকশো'তে অংশগ্রহণ করেছিলাম, সেখানেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম, যা আপনাদের অনেকেরই হয়তো মনে আছে। আপনাদের সাথেও তাই সেই চ্যাপ্টারটির অনুবাদ শেয়ার করছি। আমার বিশ্বাস যারা এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন, তারা এই অংশটুকু হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারবেন। জেসন লিখেছেন-

চ্যাপ্টার শিরোনাম- বেড়িবাঁধের রাজনীতি (EMBANKED POLITICS)

"গাবুরার অনেক বাসিন্দা যেমনটা লক্ষ্য করেন, নড়বড়ে বেড়িবাঁধ হলো সমষ্টিগত ঝুঁকির উৎস, কোনো একক ব্যক্তির নয়। আর এনজিও-র হস্তক্ষেপ, এমনকি জলবায়ু-স্মার্ট ঘরগুলোও মানুষকে তাদের জায়গায় ধরে রাখতে খুব সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারে যদি তাদের জমি স্থায়ীভাবে বা আধা-স্থায়ীভাবে নোনা পানিতে ডুবে থাকে। আমাদের বন্ধু মুসা—যার ছোট জমিটি একদা একটি স্থানীয় এনজিও জলবায়ু-সহিষ্ণু সবজি চাষের পরীক্ষামূলক প্লট হিসেবে ব্যবহার করেছিল—তিনি যেমনটা বলেন: “এই ছাইপাশ এনজিওরা এটা-সেটা দেয়। কিন্তু ওয়াপদা যদি ভেঙে যায় আর আমাদের জমি যদি পানির নিচে থাকে, তবে এগুলা কী কাজে আসবে?”

সরকারের পক্ষ থেকে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের অভাব নিয়ে এই ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ কেবল বাসিন্দাদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় রাজনীতিকদের জন্যও সমস্যা তৈরি করে। বাসিন্দারা প্রায়ই এই রাজনীতিকদের—এবং প্রায়ই তা সঠিকভাবে—এনজিও-র সহায়তার বণ্টক হিসেবে দেখেন। কারা সুবিধা পাবে সে বিষয়ে স্থানীয় রাজনীতিকদের বড় ভূমিকা থাকে। তবে তারা সেই রাজনৈতিক পার্থক্য সম্পর্কেও তীব্রভাবে সচেতন যে, কোনো হস্তক্ষেপ গুটি কয়েক মানুষের উপকারে আসে নাকি আপামর জনসাধারণের। ২০২০ সালে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য আমাদের বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, ‘এনজিওদের এখান থেকে দূরে রাখুন।’ ওরা ঝামেলা ছাড়া আর কিছুই তৈরি করে না। আমি ওয়াপদার কাছ থেকে বেড়িবাঁধ চাই।” তিনি আরও বলেন, “মাঝে মাঝে মানুষ ত্রাণ দেয়, কিন্তু ত্রাণ কোনো সমাধান নয়। গাবুরায় এখন মানুষ একটি বাক্যই বারবার বলছে: ‘আমরা ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই!’ [Tran chai na, baad chai!]।” এই “ত্রাণ চাই না, বাঁধ চাই” ডাকটি গাবুরায় বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের দাবিতে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলনের সিগনেচার স্লোগানে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ঝড়ের পর দ্বীপ জুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে প্লেকার্ডের স্লোগান ও স্লোগান হিসেবে এটি শোনা যায়। বাসিন্দারা এখন ক্রমবর্ধমানভাবে এই বিষয়ে অনড় যে, তাদের ঝুঁকির সমাধান ‘সহনশীল উন্নয়ন’-এ নয়, বরং অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপে নিহিত। এবং প্রকৃতপক্ষে, এই দাবিগুলো কিছুটা সাফল্য পেয়েছে বলে মনে হয়। ২০২২ সালে সরকার একটি নতুন ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। ১৮ ফুট উঁচু এই বাঁধটির নির্মাণকাজ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা দ্বীপের বর্তমান জরাজীর্ণ বাঁধের চেয়ে ৪ ফুট বেশি উঁচু হবে। অন্য সব প্রকল্পের মতো, এই বাঁধগুলোও ব-দ্বীপের পলি-নিসর্গের ধীর ও অলক্ষ্য পরিবর্তনের শিকার হবে। তবে এগুলো অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও গাবুরার বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান জোয়ার এবং ঘনঘন ঝড় থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এই বই লেখার সময় পর্যন্ত এই প্রকল্পের ফলাফল অজানা থাকলেও, গাবুরা এবং ব-দ্বীপের সমজাতীয় এলাকাগুলোতে বেড়িবাঁধ নিয়ে এই সংগ্রাম যেন ‘বায়োপাওয়ার’ (biopower) এবং ‘রাজনৈতিক সমাজ’-এর (political society) একটি আদর্শিক আখ্যান তুলে ধরে। মিশেল ফুকোর বিখ্যাত সংজ্ঞায়ন অনুযায়ী, বেড়িবাঁধগুলো নিঃসন্দেহে ‘বায়োপলিটিক্যাল’ প্রযুক্তি—এমন কিছু যা সরকার ‘বাঁচিয়ে রাখতে বা মরতে দিতে’ ব্যবহার করে।"

শেষ বাক্যটি খুবই সাহসি উচ্চারণ- ...যা সরকার ‘বাঁচিয়ে রাখতে বা মরতে দিতে’ ব্যবহার করে।

Address

Gabura
Shyamnagar
9454

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Politics Begins Where the Land Ends posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share