20/07/2026
২১ জুলাই ২০২৫ :
মাইলস্টোন কলেজ দিয়াবাড়ি
তখন আমি একাদশ শ্রেণির ছাত্র চার নম্বর বিল্ডিং এর । প্রতিদিন এর মতো আজকে ও কলেজে গেলাম । দিনটি খুব সুন্দর ছিল। সেদিন দুপুর ১:০৫ মিনিট আমাদের জুলজি ক্লাস শুরু হয়েছিল তখন । তার কিছুক্ষন পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় বাহিরে। ৭ তম তলা থেকে বুজতে পারিনি কিসের শব্দ । স্যার আমাদের বললেন কারেন্ট এর মিটার হয়তো ব্লাস্ট হয়েছে । তার ১ মিনিট পর নবম তলা থেকে ছাত্রদের চিল্লানোর আওয়াজ শুনতে পেলাম । সবাই বলতেসে বিমান ✈️ পড়েছে স্কুল এর উপর । মুহূর্তে মনে হলো পায়ের নিচের মাটি সরে গিয়েছে । ক্লাস স্যার এর ছেলে স্কুল বিল্ডিং এ ছিলো । স্যার এর শরীর পাথর হয়ে গিয়েছে আমরা দিশেহার হয়ে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে দ্রুত কলেজ মাঠে চলে যাই 😔। চোখের সামনে আমাদের ছোট ভাই বোন গুলো মারা যাচ্ছে । অথচ আমার কিছু এই করতে পারছি না 😭। স্কুল বিল্ডিং এর ১,২,৩ তালা আগুন আর আগুন 🔥। স্যার মিসরা চেষ্টা করছে বাচ্চা গুলো বের করতে। সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা যোগ দেয় । কোনো ভাবেই আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না । আগুন ফুল বিল্ডিং এ ছড়িয়ে পড়ছে । কলেজের পাশেই সেনাবাহিনী ক্যাম্প । তারা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে যোগদান করে উদ্ধার কাজে। চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ছোট ভাই বোন দের গলিত দেহ,আমি কি করবো বুঝতে পারি নাই নিজেকে অনেক অসহায় মনে হয়েছিলো। আহতদের হেলিকপ্টার এ করে দ্রুত DMC নিয়ে যাচ্ছিলো সেহবাহিনী। আমার বাসা ১২ নাম্বার সেক্টর । ওইদিন আমার আম্মু যেকোনো একটি কাজে দিয়াবাড়ি গিয়েছিলো দিয়াবাড়ি বাজার আমাদের কলেজের পাশে। আকাশে বিমান বিস্ফোরণ আম্মু নিজ চোখে দেখতে পায়। আম্মু সাথে সাথে কলেজের দিকে ছুটে যায় শুনে কলেজে বিমান পড়েছে। আম্মু আমার জন্য কান্না করতে থাকে । অনেক মানুষের চাপের কারণে আম্মু কলেজে ডুকতে পারেনি । পাগলের মতো যাকে পাচ্ছে জিগাস করছে আপনি আমার আজিজকে দেখছেন। বার বার কল দিচ্ছে আম্মু আমাকে আমি পাথর হয়ে মাঠে দাড়িয়ে ছিলাম কল ধরার মতো সক্ষমতা ছিলনা আমার। আমি আর 🥲ধৈর্য্য ধরতে পারিনি বের হয়ে গিয়েছি কলেজে থেকে। সাথে সাথে আম্মুকে কল দিলাম দেখি আম্মু কান্না 😭 করছে আর আমাকে জিগাস করছে বাবা কই তুমি ঠিক আছো তুমি । আমিও কান্না চোখে বললাম আম্মু ঠিক আছি আমি। তাও আম্মুর মন মনে না আমাকে দেখা পর্যন্ত। কিছু সময় পর আমি আম্মুর সাথে দেখা করি আমাকে জড়িয়ে ধরে আম্মু কান্না করতে থাকে। আমি আম্মুকে বুজিয়ে বাসায় নিয়ে আসি। আমার আম্মুর এই অবস্থা হয়েছে,তাহলে যে মামা বাবার ছোট ছোট বাচ্চা গুলো আগুনে জ্বলে পুড়ে গিয়েছে তাদের কি অবস্থা হয়েছে আমি চিন্তা করলে কান্না পায় । সেদিন ২৮ জন ছোট ভাই বোন মারা যায় আমাদের । কি ভুল ছিলো তাদের ? তাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যান আমাদের শ্রদ্ধেও তিন জন ম্যাডাম ( মেহেরিন চৌধুরী )(মাহফুজা খাতুন)(মাসুকা বেগম)এবং সাথে একজন পিয়ন(মাসুমা বেগম) আরও ছিলেন তিনজন অভিবাবক সহ মোট সাত জন । তারা নিজেদের জীবনের বিনিময় অনেক বাচ্চাদের জীবন রক্ষা করেছেন ।
আজ ২১ জুলাই ২০২৬ মাইলস্টোন ট্রেজডির ১ বছর। এখনও অবধি ভুলতে পারিনি এই দুর্ঘটনা। আমরা সবাইকে স্মরণ করছি যারা এই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাদের প্রাণ হারিয়েছেন। আল্লাহ যেন তাদের জান্নাত নসিব করেন এবং সন্তান হারা মা বাবাদের ধৈর্য্য
ধারণ করার তৌফিক দেন । আমিন !!