04/06/2026
দৃশ্য ১ম সময়: দুপুর।
স্থান: বাড়ির উঠান।(বড় ছেলে নাটকের নাম: অসমাপ্ত ওয়ারিশচরিত্রসমূহ:
১. রহমত আলী (৬০): এলাকার গণ্যমান্য ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি।
২. রফিক (৩৫): রহমত আলীর বড় ছেলে। সহজ-সরল ও দায়িত্বশীল।
৩. শফিক (২৮): রহমত আলীর ছোট ছেলে। কিছুটা বিলাসী ও আধুনিক মনের।
৪. সালমা বেগম (৫৫): রহমত আলীর স্ত্রী ও রফিক-শফিকের মা।দৃশ্য
✅১সময়: সকাল।স্থান: রহমত আলীর বসার ঘর।(রহমত আলী সোফায় বসে পত্রিকা পড়ছেন। এমন সময় ছোট ছেলে শফিক খুব উত্তেজিত হয়ে ঘরে প্রবেশ করে।)
শফিক: বাবা, আপনি কি এখনো জমি রেজিস্ট্রি করার সেই কাগজটা তৈরি করাননি? বড় ভাই তো ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেই ফেলেছে। আমি আমার ভাগের ওয়ারিশের অংশ এখনই বুঝে পেতে চাই!রহমত আলী: (পত্রিকা থেকে মুখ না তুলেই) ওয়ারিশ মানে কি শুধু সম্পত্তি বা টাকা-পয়সা, শফিক? রক্তের টান আর সম্পর্কের মূল্য কি কোনো অংশে কম?শফিক: (বিরক্ত হয়ে) আবেগ দিয়ে পেট চলে না, বাবা! ভাইয়া এখন শহরের বড়লোক, আর আমি গ্রামে পড়ে আছি। আমার ভাগের সম্পত্তি আমাকে ভাগ করে দিন।
✅দৃশ্য ২সময়:
দুপুর।স্থান: বাড়ির উঠান।(বড় ছেলে রফিক মায়ের পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছে। মা সালমা বেগম চোখে আঁচল দিয়ে কাঁদছেন।)
রফিক: মা, তুমি এত কাঁদছ কেন? ছোট ভাই তো শুধু নিজের অংশের কথা বলেছে। আমি বেঁচে থাকতে তোমাদের কোনো অভাব হবে না।সালমা বেগম: (কান্না জড়িত কণ্ঠে) টাকা-পয়সার লোভ তোদের দুই ভাইয়ের মাঝে এমন দেয়াল তুলবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তোর বাবা তোদের জন্য সারা জীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছে, আর এখন তোরা তাঁর জীবদ্দশাতেই সম্পত্তি নিয়ে টানাটানি শুরু করেছিস!
রফিক: তুমি ভেবো না মা। আমি শফিকের সাথে কথা বলব। বাবার সব সম্পত্তি আমি ছোট ভাইয়ের নামে লিখে দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাব, তবু তোমরা শান্তিতে থাকো।দৃশ্য
✅৩সময়: সন্ধ্যা।স্থান: বাইরের বারান্দা।(রহমত আলী চুপচাপ বসে চা খাচ্ছেন। রফিক ও শফিক দুজনেই সেখানে হাজির হয়। রহমত আলী দুই ভাইয়ের দিকে শান্ত চোখে তাকান।)
রহমত আলী: তোরা তোদের ওয়ারিশের অংশ নিতে চাস, তাই না? তাহলে শোন, এই বাড়ির আসল ওয়ারিশ তোরা একা নও। তোদের মায়ের ত্যাগ, আমার এই জীবনের সমস্ত ভালোবাসা আর তোদের ছোটবেলার স্মৃতিগুলোই তোদের আসল ওয়ারিশ। এই সম্পত্তি আজ আমি দুই ভাইয়ের মাঝেই সমানভাবে লিখে দিলাম। কিন্তু তোরা যদি এই সম্পত্তির লোভে নিজেদের রক্তের সম্পর্কটাই ভুলে যাস, তবে তোরা পৃথিবীতে সবচেয়ে গরিব মানুষ হয়ে যাবি।
শফিক: (মাথা নিচু করে) বাবা... আমি বুঝতে পারিনি আমার কথাগুলো আপনার মনে এত আঘাত দেবে। আমার ভুল হয়ে গেছে। ভাইয়ের সাথে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে আমার কোনো ঝগড়া নেই।
রফিক: (শফিকের কাঁধে হাত রেখে) আমরা ভাই ভাই, বাবা। সম্পত্তি কোনো বড় বিষয় নয়, আমাদের পরিবারের বন্ধনটাই সবচেয়ে বড় ওয়ারিশ।(রহমত আলী দুই ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। মায়ের মুখে হাসি ফোটেরফিক মায়ের পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছে। মা সালমা বেগম চোখে আঁচল দিয়ে কাঁদছেন।)
রফিক: মা, তুমি এত কাঁদছ কেন? ছোট ভাই তো শুধু নিজের অংশের কথা বলেছে। আমি বেঁচে থাকতে তোমাদের কোনো অভাব হবে না।সালমা বেগম: (কান্না জড়িত কণ্ঠে) টাকা-পয়সার লোভ তোদের দুই ভাইয়ের মাঝে এমন দেয়াল তুলবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তোর বাবা তোদের জন্য সারা জীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছে, আর এখন তোরা তাঁর জীবদ্দশাতেই সম্পত্তি নিয়ে টানাটানি শুরু করেছিস!
রফিক: তুমি ভেবো না মা। আমি শফিকের সাথে কথা বলব। বাবার সব সম্পত্তি আমি ছোট ভাইয়ের নামে লিখে দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাব, তবু তোমরা শান্তিতে থাকো।
✅দৃশ্য ৩সময়: সন্ধ্যা।
স্থান: বাইরের বারান্দা।(রহমত আলী চুপচাপ বসে চা খাচ্ছেন। রফিক ও শফিক দুজনেই সেখানে হাজির হয়। রহমত আলী দুই ভাইয়ের দিকে শান্ত চোখে তাকান।)
রহমত আলী: তোরা তোদের ওয়ারিশের অংশ নিতে চাস, তাই না? তাহলে শোন, এই বাড়ির আসল ওয়ারিশ তোরা একা নও। তোদের মায়ের ত্যাগ, আমার এই জীবনের সমস্ত ভালোবাসা আর তোদের ছোটবেলার স্মৃতিগুলোই তোদের আসল ওয়ারিশ। এই সম্পত্তি আজ আমি দুই ভাইয়ের মাঝেই সমানভাবে লিখে দিলাম। কিন্তু তোরা যদি এই সম্পত্তির লোভে নিজেদের রক্তের সম্পর্কটাই ভুলে যাস, তবে তোরা পৃথিবীতে সবচেয়ে গরিব মানুষ হয়ে যাবি।
শফিক: (মাথা নিচু করে) বাবা... আমি বুঝতে পারিনি আমার কথাগুলো আপনার মনে এত আঘাত দেবে। আমার ভুল হয়ে গেছে। ভাইয়ের সাথে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে আমার কোনো ঝগড়া নেই।
রফিক: (শফিকের কাঁধে হাত রেখে) আমরা ভাই ভাই, বাবা। সম্পত্তি কোনো বড় বিষয় নয়, আমাদের পরিবারের বন্ধনটাই সবচেয়ে বড় ওয়ারিশ।(রহমত আলী দুই ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। মায়ের মুখে হাসি ফোটে)