13/06/2026
আসসালামু_আলাইকুম এক তওবাকারীকে জিজ্ঞেস করা হলো,
“তুমি রাতে ঘুমাও না কেনো?”
তওবাকারী চোখ নামিয়ে, গভীর একটা নিঃশ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে বললেন:
“ভাই, আমি রাতে ঘুমাতে চাই, কিন্তু ঘুম আসে না। কারণ যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়, আকাশে তারা জ্বলে, আর সবাই ঘুমিয়ে পড়ে—তখন আমার সামনে আমার নিজের জীবনের পর্দা উঠে যায়। আমি আমার গুনাহগুলো স্মরণ করি।
এক এক করে মনে পড়ে যায়—কোন দিন কোন কথায় কার হৃদয় ভেঙেছি, কোন সময় আল্লাহর হুকুম অমান্য করেছি, কোন মুহূর্তে নামাজ ছেড়ে দিয়েছি, কোন চোখের পলকে হারামের দিকে তাকিয়েছি, কোন অহংকারে কাউকে ছোট করেছি। ছোট ছোট গুনাহ, যেগুলোকে তখন তুচ্ছ মনে হয়েছিল, আজ রাতের নীরবতায় সেগুলোই বিশাল পাহাড়ের মতো আমার বুকের উপর চেপে বসে।
কল্পনায় নিজেকে দেখি—কিয়ামতের দিন, আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো ছল-চাতুরি নেই, কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো ওজর-আপত্তি চলবে না। ফেরেশতারা আমার আমলনামা খুলে ধরবে। ডান হাতে নাকি বাম হাতে? সামনে নাকি পিছনে? সেই দৃশ্যটা চোখের সামনে ভাসলেই আমার হৃদয় কেঁপে ওঠে। বুকের ভিতরটা যেন ফেটে যায়। চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে।
সেই অশ্রুতেই আমি আমার গুনাহ ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করি। তওবা করি, ইস্তিগফার পড়ি, কাঁদি। বলি—‘ইয়া আল্লাহ! তুমি তো ক্ষমাশীল, তুমি তো তওবা কবুলকারী। আমি তোমার বান্দা, দুর্বল, অপরাধী। আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার হৃদয়কে নূরে ভরে দাও।’
রাত যত গভীর হয়, আমার কান্না তত বাড়ে। কখনো সিজদায় পড়ে যাই, কখনো বসে বসে কাঁদি। ঘুম তো আসতে চায়, কিন্তু এই ভয়, এই লজ্জা, এই আশা আর এই ভালোবাসা—সব মিলিয়ে আমাকে জাগিয়ে রাখে।
আমি জানি, দুনিয়ার ঘুম তো একদিন শেষ হবেই। কিন্তু আখিরাতের ঘুম যেন না হয়। তাই এই রাতের জাগরণ আমার জন্য রহমতের দরজা খুলে দেয়।
ভাই, যদি একদিন তুমিও রাতে জেগে উঠে নিজের গুনাহের কথা ভাবো, তাহলে বুঝবে—এই না-ঘুমানোই আসলে প্রকৃত জাগরণ।”
তওবাকারীর চোখে তখনও অশ্রুর আভাস। তিনি শান্ত গলায় শেষ করলেন:
“আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যিকারের তওবাকারী বানিয়ে দিন, যাতে আমরা রাতের অন্ধকারে তাঁর সামনে কাঁদতে পারি—যেন কিয়ামতের দিন তাঁর সামনে না কাঁদতে হয়। আমিন। #ইসলামিক_ভিডিও_🤲