23/07/2026
কতদিন আকাশ দেখা হয় না। অথচ একটা সময় আকাশ দেখাটা ছিল অসুখের মতো ব্যাপার। দিনের ভেতর যত ব্যস্ততাই থাকুক, একবার হলেও মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাতাম। মেঘের চলাফেরা দেখতাম, পাখিদের ফিরে যাওয়া দেখতাম, বিকেলের রঙ বদলানো দেখতাম। মনে হতো, পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তিরও ওপরে কোথাও একটা বিশাল নীল শান্তি ঝুলে আছে। সেই আকাশের সঙ্গে আমার এক নীরব সম্পর্ক ছিল।
কিন্তু সময় মানুষকে কত নিঃশব্দে বদলে দেয়! এখন আর আকাশ দেখার কথা মনে পড়ে না। মাথা তুলে তাকানোর আগেই বুকের ভেতর একটা বিশাল আকাশ জেগে ওঠে। সেখানেও রোদ আছে, মেঘ আছে, বজ্রপাত আছে। সেখানে কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন ভেসে বেড়ায়, কিছু অসমাপ্ত কথোপকথন প্রতিধ্বনির মতো ফিরে আসে, কিছু মানুষের অনুপস্থিতি সন্ধ্যার মতো নেমে আসে। সেই আকাশে প্রতিদিনই ঋতু বদলায়, অথচ বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না।
আমরা মানুষেরা বড় অদ্ভুত। দূরের আকাশের মেঘ দেখে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে পারি, কিন্তু নিজের ভেতরে জমে থাকা মেঘের খবরটুকু রাখি না। মাথা তুলে উপরের আকাশ দেখা খুব সহজ; কিন্তু নিজের বুকের ভেতরের আকাশে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলোর দিকে তাকানোর সাহস হয়ে উঠে না।
হয়তো এই কারণেই কিনা! আজকাল বাইরের আকাশ আমাকে আর তেমন টানে না। কারণ আমি জানি, আমার সবচেয়ে বড় আকাশটা মাথার ওপরে নয়, আমার বুকের ভেতরেই। আর সেই আকাশের প্রতিটি মেঘের নাম আমি জানি, প্রতিটি বৃষ্টির কারণও জানি। শুধু সাহস করে প্রতিদিন সেখানে তাকানো হয়ে ওঠে না।
তবুও দিনশেষে এই ক্যানভাসে দৃষ্টি গেলে অসুখের মতো পুরোনো অভ্যসে বলি; জীবন জুড়ে অজস্র সুখ, অচিন কিছু দুঃখ থাকুক, এই পৃথিবীর মানুষগুলোর আকাশ দেখার অসুখ থাকুক।
—সালমান হাবীব