05/06/2026
গায়রত কী? এবং এটি হারিয়ে যাওয়া যে কতটা ভয়াবহ, তা জানলে আপনি শিউরে উঠতে বাধ্য হবেন।
ডিজিটাল যুগে আমরা সবাই ভাইরাল হতে চাই। ভিউজ, লাইক আর ফলোয়ার্স বাড়ানোর নেশায় আমরা অন্ধ। তাই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকেও প্রকাশ্যে বাজারে এনে দাঁড় করাচ্ছি। অথচ ইসলাম এবং আমাদের সংস্কৃতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ রয়েছে, যার নাম গায়রত।
এই শব্দটি এবং এর পেছনে আত্মমর্যাদাবোধ আজ আমাদের সমাজ থেকে যেন দিনকে দিন হারিয়ে যাচ্ছে। গায়রত শব্দটি আকারে ছোট হলেও, এর ভেতরের গভীরতা অনেক বিশাল।
সহজ কথায় বলতে গেলে, গায়রত হলো নিজের সম্মান, পরিবার এবং বিশেষ করে নিজের আপনজনদের পর্দার বিষয়ে একজন মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ ও পবিত্র ঈর্ষা।
এটি এমন এক তীব্র অনুভূতি, যেখানে একজন পুরুষ চান না যে তার মা, বোন বা স্ত্রীর দিকে কোনো পরপুরুষ কুদৃষ্টিতে তাকাক; এমনকি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বাইরের মানুষ জানুক।
কিন্তু আফসোস! আজকাল এই গায়রত যেন জাদুঘরে ঠাঁই নিতে বসেছে। ইসলামে গায়রতের গুরুত্ব কতটা বেশি, তা একটি বিখ্যাত হাদিস থেকে খুব সহজে বোঝা যায়। একবার আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সাদ ইবনে উবাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন,
"আমি যদি আমার স্ত্রীর সাথে কোনো পরপুরুষকে অনৈতিক অবস্থায় দেখি, তবে আমি তার বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেব।"
তার এই তীব্র আত্মমর্যাদাবোধের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্য সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,
"তোমরা কি সাদের গায়রত বা আত্মমর্যাদা দেখে অবাক হচ্ছো? আমি তার চেয়েও বেশি গায়রত সম্পন্ন। আবার মহান আল্লাহ আমার চেয়েও বেশি গায়রত সম্পন্ন।"
অর্থাৎ, নিজের পরিবারের সম্মান রক্ষায় এই পবিত্র ঈর্ষা বা অধিকারবোধ থাকাটা ঈমানেরই একটি অংশ।
আমাদের মনে রাখা উচিত, ইসলামে গায়রতহীন পুরুষকে 'দাইয়ুস' বলা হয়েছে। দাইয়ুস হলো সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের নারীদের বেহায়াপনা ও অনৈতিক কাজ দেখেও কোনো প্রতিবাদ করে না বা মাথা ঘামায় না। হাদিস শরীফে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী অনুযায়ী, তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করেছেন।
তারা হলো— মদ্যপায়ী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ুস।