13/07/2026
কতদিন আর কাদা-পানি মাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে?
একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভবন দিয়ে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও একটি ন্যূনতম উপযোগী পরিবেশের মাধ্যমে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) ক্যাম্পাস-৩ একাডেমিক ভবনে যাওয়ার পথে আজও শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রতিদিন বাস থেকে নেমে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শত শত শিক্ষার্থীকে কাদা-পানি মাড়িয়ে একাডেমিক ভবনে যেতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। অনেক সময় জুতা, কাপড় নষ্ট হয়, পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতিতে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।
সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, এই সমস্যার কথা গত প্রায় পাঁচ মাস আগে যখন টেক্সটাইল থেকে আক্রাম আলি মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয় তখন মাননীয় উপচার্য আমাদের আশ্বাস দিয়ে বলছেন রাস্তা করে দিবেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাইনি। প্রতিদিন একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
আমরা জানি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন একদিনে সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়াও রয়েছে। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাস্তা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি মৌলিক প্রয়োজন। শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ন্যূনতম অবকাঠামো নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই। আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরছি।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে যেতে হবে—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মাননীয় উপাচার্য Md Nizam Uddin স্যার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ—অনুগ্রহ করে এই সমস্যাটিকে আর অবহেলা করবেন না।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কষ্ট অনুভব করুন। যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সেটি বাস্তবে রূপ দিন। আমরা বিশ্বাস করি, আন্তরিক সদিচ্ছা থাকলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাকবে।
আশ্বাস নয়, এবার বাস্তবায়ন চাই। কাদা-পানি নয়, নিরাপদ চলাচলের উপযুক্ত রাস্তা চাই।
-দাবি গনিত বিভাগ এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাধারন শিক্ষার্থীদের