12/04/2026
টুটুল মাস্টারের এক প্রিয় ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ইদানিং উনার ভারী মন খারাপ। যদিও আমি এসব বিষয় তেমন তোয়াক্কা করি না। আমি মনে করি মানুষের জীবনে খারাপ সময়ে আসতেই পারে। আজকে একটা গেছে, কালকে আরেক ছাত্রীর সাথে সখ্যতা গড়ে উঠবে। এরপর নাহয় আবার মনে রং লাগবে। খুবই সাভাবিক বিষয় তাইনা? এটা নিয়ে তো তেমন সমস্যা হবার কথা নয়। কিন্তু সমস্যাটা তখনি হয়, যখন মন খারাপের সাথে সাথে মানুষের মস্তিষ্কও চদ খেয়ে যায়!
তো ঘটনা কিছুদিন আগের:
আমি, জিজ ব্র, বাবা পায়েসপুরী এবং টুটুল মাস্টার সম্মিলিতভাবে মদ্যপানে মগ্ন। আমাদেরকে সবকিছু সার্ভ করতেসে শিবিরকর্মী ছোট ভাই "গুপ্ত"। ওর নামই আসলে গুপ্ত। যদিও কট্টর শিবীরপন্থী হওয়ায় সে এসব পান করে না। খুবই ভালো ছেলে।
এখন সমস্যা হচ্ছে আমরা এই মদ্যপানের আয়োজন কোনো শুড়িখানায় করিনি। করেছি "সতীত্ব সংরক্ষণ বালিকা বিদ্যানিকেতন" - এর প্রধান শিক্ষকের কক্ষে। জি, ঠিকই ধরেছেন। এটাই সেই গার্লস স্কুল, যেটার হেড টিচার হিসেবেই আছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় টুটুল মাস্টার। যার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে; সুন্দরী ছাত্রীদের এক্সট্রা কেয়ার করা। এবং কাউকে অতিরিক্ত ভালো লাগলে সেই ছাত্রীর বাসায় হোম টিউটর হিসেবে নিয়োগ হওয়া।
সে যাইহোক, তপ্ত দুপুরে স্কুলের মধ্যে এমন হুটহাট মদ্যপানের আয়োজন আমার একদমই পছন্দ নয়। তবে ঐযে শুরুতেই বললাম; টুটুল মাস্টারের ভারী মনকে ভালো করার জন্যই এই উদ্যোগ। একদিকে স্কুলের সকল কার্যক্রম চলমান। অপরদিকে আমরা স্কুলের হেড টিচারের অফিসে মদ্যপানে ব্যস্ত। বিপত্তিটা ঘটলো ঘন্টাখানেক পর।
পিওন এসে মাস্টারকে জানালেন, এক হুজুর নাকি স্যারের সাথে দেখা করতে চায়। কে যেন মারা গিয়েছেন, এলাকায় খুব বেশি মাঠ না থাকায় মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়াতে চান স্কুলের মাঠে। এইজন্য অনুমতি নিতে চান।
খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এসব সামাজিক প্রস্তাবে না করে দেয়ার মতো কোনো কারণ দেখি না। কিন্তু আমাদের চুমতারানীর ছেলে টুটুল মাস্টার কী করলেন? তিনি নেশায় বুদ হয়ে দুলতে দুলতে মাঠে গেলেন, এবং তার আচোদা কণ্ঠস্বর ওয়ালা মুখ দিয়ে বললেন: "আপনারা মগের মুল্লুক পেয়েছেন? যেকোনো প্রোগ্রাম করার জন্য মাঠ দখল করতে চলে আসেন। যত্তসব! জানাজা করাতে হলে মিনিমাম ১ সপ্তাহ আগে থেকে জানিয়ে রাখবেন!"
জি, আপনি ঠিকই পড়েছেন। এবং মাঠভর্তি শোকাহত লোকজনও সেটাই শুনেছিলো। তারপর? তারপর আর কী? শুরু হলো চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ। পিওন কোনমতে টুটুল মাস্টারকে একটা রুমে ঢুকিয়ে দরজা আটকে দিলেন। বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতা কেউ দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে তো কেউ রুমের জানালার কাচ ভেঙে ভিতরে ইট পাটকেল মারা শুরু। সৌভাগ্যক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। গুপ্ত ছেলেটা খুবই স্মার্ট মুভ দিয়েছে। সে সবাইকে বুঝিয়েছে যে মাস্টার সাহেব নাকি ১ ঘন্টা বলতে গিয়ে ১ সপ্তাহ বলে ফেলেছিলেন। এইজন্য লোকজন মোটামুটি শান্ত হয়েছেন। তবে টুটুল মাস্টারের শেষ রক্ষে হয়নি। না না, উনি জীবিত আছেন। তবে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় উদুম ক্যালানি খেয়ে আপাদত হাসপাতালে আছে। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।
আর আপনাদের উদ্দেশ্যেও একটা মহৎ পরামর্শ দিয়ে যাই; যদি কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েন যেখানে আপনার অপর পাশের ব্যক্তিটি নারীঘটিত কোনো ঝামেলায় খুবই উদাস, তাহলে অতি দ্রুত উক্ত স্থান ত্যাগ করাই মঙ্গল। কারণ, তার মস্তিষ্ক এখন এই সাধারণ মানুষের মতো কাজ করে না। খাস বাংলায় বর্তমানে সে একজন "রাম ভোদাই"
- ভাস্কর্য | নারীঘটিত জঞ্জাল হতে সবাই মুক্ত থাকুক