30/08/2026
বিশটা বছর পড়াশোনা শেষ করে, দিনের পর দিন—রাতের পর রাত লাইব্রেরিতে পড়ে একজন মানুষ ম্যাজিস্ট্রেট হন।অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে একজন মানুষ ব্যবসায়ী হন।ক্ষমতা, পদ কিংবা অর্থের জন্য নয়—দেশ ও মানুষের সেবা করার জন্য তারা দায়িত্ব নেন।
আর সেই পুরস্কার কী?
লাথি, থাপ্পড়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আর প্রকাশ্য অপমান!
যে কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ী জনগণের স্বার্থ রক্ষায় মাঠে নামেন, রাষ্ট্র যদি তার ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও নিশ্চিত করতে না পারে—তাহলে এই রাষ্ট্রের কাছে একজন সৎ কর্মকর্তার প্রত্যাশা কী? আর সাধারণ মানুষই বা কী আশা করবে?
আজ একজন সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ী যেই হোক লাঞ্ছিত হচ্ছেন। কাল আমরা সাধারণ মানুষ যখন কোনো অসাধু ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী ব্যক্তি, এমপি-মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক নেতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব—তখন আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু সংসদে বসে বড় বড় বুলি আওড়ানো নয়। রাষ্ট্র পরিচালনা মানে মাঠপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যেন নির্ভয়ে আইন প্রয়োগ করতে পারেন, একজন নাগরিক যেন অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আর সবচেয়ে হতাশার বিষয়—যারা নিজেদের পছন্দের নেতা বা ব্যক্তিকে নিয়ে সারাক্ষণ জয়গান গায়, তাদের কাছে প্রশ্ন: আপনার নিজের সেক্টরে বাস্তব উন্নয়নটা কোথায়? জনগণের নিরাপত্তা কোথায়? একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাটুকু যদি না থাকে, তাহলে এত গর্ব কিসের?
সৎ মানুষকে লাঞ্ছিত করে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না।
অপরাধীকে প্রশ্রয় দিয়ে কোনো সমাজ সভ্য হয় না।
আর দায়িত্ব এড়িয়ে কোনো সরকার সফল হয় না।
আজ একজন ম্যাজিস্ট্রেট বা ব্যবসায়ী যেই অপমানিত হয়েছেন—প্রশ্নটা শুধু তার নয়।
প্রশ্নটা আমাদের সবার নিরাপত্তার, আমাদের রাষ্ট্রের সক্ষমতার এবং আইনের শাসনের।