25/09/2026
ক্যান্সারে বাবাকে হারিয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিধবা মা মাসুমা বেগম।
প্রতিবেদক: নুরুল ইসলাম
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কাচারচক গ্রামে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই মাস আগে মারা গেছেন ইসলাম উদ্দিন। তাঁর বাবার নাম মৃত মন্নান আলী। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।
ইসলাম উদ্দিনের মৃত্যুর পর যেন এক মুহূর্তেই পরিবারের ওপর নেমে এসেছে জীবনের কঠিন বাস্তবতা। রেখে গেছেন ১২ বছরের এক কন্যা ও মাত্র ৮ মাস বয়সী আরেক শিশুকে। বড় মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। বাবাকে হারানোর শোক সামলানোর পাশাপাশি এখন তার সামনে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথও।
অন্যদিকে মাত্র ৮ মাস বয়সী শিশুটি এখনো বুঝতেই শেখেনি বাবাকে হারানোর অর্থ। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর তার ভবিষ্যৎ, খাবার, চিকিৎসা ও বেড়ে ওঠার দায়িত্ব পুরোপুরি এসে পড়েছে অসহায় মায়ের কাঁধে।
স্বামী হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিনের জীবনযাপনই এখন ওই মায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা, শিশুর প্রয়োজন, ঘর-সংসারের খরচ এবং বড় মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয়—সবকিছু মিলিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দিন দিন।
একজন বাবার মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয়নি; পরিবারটির আয়ের প্রধান অবলম্বনও হারিয়ে গেছে। ফলে সামান্য সহযোগিতাও এখন তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
পরিবারটির সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন নিয়মিত খাবার ও জীবনযাপনের সহায়তা। পাশাপাশি ১২ বছরের মেয়েটির পড়াশোনা যাতে বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য শিক্ষা ব্যয়ের দায়িত্ব নেওয়া এবং ৮ মাসের শিশুটির প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
স্থানীয়ভাবে বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, মানবিক সংগঠন ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে পরিবারটি এই কঠিন সময় কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে পার করতে পারে। বিশেষ করে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ যেন অভাবের কারণে অন্ধকার হয়ে না যায়—এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সম্মিলিত সহযোগিতা।
আজ যে শিশুটি বাবাকে হারিয়ে অসহায়, আগামী দিনের তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের মানবিকতার ওপর। একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু আজকের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা নয়—দুই শিশুর ভবিষ্যৎকে টিকিয়ে রাখার একটি সুযোগ তৈরি করা।
যোগাযোগ : 01752761029.
(প্রতিকি ছবি)
#জকিগঞ্জ #সিলেট