23/07/2026
মাদক-চোরাচালান দমনে জকিগঞ্জ থানার অভিযান জোরদার
সাড়ে ৭ মাসে উদ্ধার ৪১ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১১৩ আসামি
আহসান হাবীব লায়েক, জকিগঞ্জ : সীমান্তবর্তী সিলেটের জকিগঞ্জ থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলতি বছরের ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত মাসে পরিচালিত অভিযানে ৪১ হাজার ৩৪৯ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং বিভিন্ন মামলায় মোট ১১৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে ৩২টি মাদক মামলায় ৪১ হাজার ৩৪৯ পিস ইয়াবা, প্রায় ১ হাজার ৮৭৫ গ্রাম গাঁজা, ৭৬ বোতল ভারতীয় ‘অফিসার্স চয়েস’ মদ ও ১৫ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে তিনটি মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৩৮ হাজার ১৮০ শলাকা বিদেশি নাসিরউদ্দিন বিড়ি এবং ১৫ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৩ হাজার ৮৬০ টাকা।
এ ছাড়া ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য মামলায় ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে বিভিন্ন মামলার ৬৫ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিও রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের ফলে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি এসেছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের মাদক ও অপরাধবিরোধী অভিযান আগের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে তাঁরা নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ, নির্দোষ মানুষকে হয়রানি থেকে বিরত রাখা এবং সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চোরাচালান নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”