04/09/2026
কথায় আছে, পেটে থাকলে পিঠে সয়।
মানুষের পকেট থেকে নিয়মিত টাকা নেবেন, অথচ বিনিময়ে ন্যায্য সেবা দেবেন না, তখন ক্ষোভ হবেই।
আমি অশালীন ভাষার পক্ষে নই। কিন্তু একজন নাগরিক টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনবে, বিদ্যুৎ পাবে না, তার ওপর বাড়তি বা ভুয়া বিল ধরিয়ে দেওয়া হবে, আর সে প্রতিবাদও করবে না, এটা কীভাবে হয়?
টাকার বিনিময়ে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পাওয়া নাগরিকের অধিকার। অন্যায় বিলের প্রতিবাদ করাও তার অধিকার।
একজন ক্ষুব্ধ নাগরিক প্রতিবাদ করতে গিয়ে কী ভাষা ব্যবহার করবে, সেটা তার রুচির বিষয়। তার ভাষার সমালোচনা করা যায়। কিন্তু তার অধিকার কেড়ে নিয়ে, প্রতিবাদের কারণে রাতের অন্ধকারে পুলিশ দিয়ে তাকে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গণতন্ত্র হতে পারে না।
আর সিফাতকে ভুলে যাবেন না।
সিফাত সেই ছেলে, যে জুলাইয়ের আন্দোলনে রাজপথে ছিল।
যে সময় অনেকে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখছিল, তখন এই ছেলেরা সামনে থেকে লড়েছে। আজকের যে পরিবর্তন, যে সরকার, যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তার পেছনে তাদের ত্যাগও আছে।
তাহলে আজ সেই জুলাইয়ের একজন যোদ্ধাকেই যদি তার প্রতিবাদের জন্য রাতের অন্ধকারে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই:
জুলাই কি শুধু ক্ষমতা বদলের জন্য ছিল?
নাকি নাগরিকের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যও ছিল?
সিফাতের ভাষা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তার বক্তব্যের সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু গ্রেফতার করে তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়।
আমরা স্পষ্টভাবে দাবি জানাই: জুলাই যোদ্ধা সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
তার মুক্তি কোনো ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ নয়।
এটা একজন নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জুলাইয়ের চেতনার প্রশ্ন।
আজ সিফাতকে চুপ করানো হলে, কাল প্রতিবাদের ভাষা কারও নিরাপদ থাকবে না।
সিফাতকে মুক্তি দিন।
এখনই মুক্তি দিন।
নিঃশর্তে মুক্তি দিন।
জুলাইয়ের যোদ্ধাকে জুলাইয়ের রাষ্ট্রে বন্দি করে রাখা চলবে না।
#বাংলাদেশ #বিএনপি