15/05/2025
⚠️বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল: সেবার নামে ভোগান্তির আর্তনাদ
রোগী নিয়ে যখনই দেশের কোনো সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করবেন, তখনই শুরু হবে এক অদৃশ্য অথচ বাধ্যতামূলক খরচের ধারা। টিকেট কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারবেন, জরুরি বিভাগের টিকিট ১০ টাকা। রোগীর অবস্থা যদি একটু জটিল হয় এবং ভর্তি করতে হয়, তখন লেখা থাকলেও ১৫ টাকা, দিতে হবে ২০ টাকা।
ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ—রোগীকে ওয়ার্ডে নেওয়া। হুইলচেয়ারে নিলে ১০০ টাকা, আর যদি রোগী ট্রলিতে নিতে হয় তবে ২০০ টাকা।কেউ কিছু লিখে দেবে না,
কেউ রশিদ দেবে না—তবে না দিলে হাসপাতালের ভিতরে একচুলও আগানো যাবে না। ওয়ার্ডে পৌঁছে দেখবেন, বেড ফাঁকা আছে, কিন্তু সেটা পেতে চাইলে গুনতে হবে ৫০০ টাকা। না দিলে রোগীকে ফ্লোরেই থাকতে হবে, পোকামাকড়ের সাথে।
ওয়ার্ডে একাধিক স্বজন ঢুকতে চাইলে, দরজায় বসে থাকা দারোয়ান বলবে, অতিরিক্ত মানুষ প্রতি দিতে হবে ২০ টাকা। রোগী ভর্তি হলো, এবার ডাক্তার দেখবেন। একে একে শুরু হবে নানা টেস্ট, স্যালাইন, ইনজেকশন আর ওষুধের ছড়াছড়ি। রোগী সাড়ে না দিলেও টেস্ট আর নতুন নতুন ওষুধ চলতেই থাকবে।
প্রতিদিন আসবেন নতুন নতুন ডাক্তার, পুরোনো পরামর্শ বাতিল হয়ে যাবে। নতুন করে টেস্ট, নতুন ওষুধ। রোগীকে পরীক্ষা করতে নিয়ে গেলে ওয়ার্ড বয় চাইবে ১০০ টাকা হুইলচেয়ারে, আর ট্রলিতে নিলে ২০০ টাকা। রোগীর অবস্থা যাই হোক, পকেটের টাকা কম হলেই সেবার মান শূন্য।
সব টেস্ট, ইনজেকশন ও ড্রিপ শেষ করে যখন অপারেশনের সিদ্ধান্ত আসবে, তখন ডাক্তার বলবেন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ কিনে আনতে—মূল্য প্রায় ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা। এই ওষুধ ডাক্তারকে দিতে হবে হাতে হাতে, ফেরতযোগ্য নয়। রোগী মারা গেলেও টাকা আর ফিরবে না। আর যদি অপারেশন সফল হয়, তবে অপারেশন থিয়েটারের কর্মচারী, দারোয়ান, ওয়ার্ড বয়—সবাইকে "খুশি" করতে হবে।
সুস্থ হওয়ার পর শুরু হবে রিলিজ প্রক্রিয়া। এখানে আবার নতুন করে শুরু হবে "খুশি করার" খরচের তালিকা—নার্স, দারোয়ান, ওয়ার্ড বয়—সবাই প্রত্যাশা করে বকশিশ। কেউ খুশি না হলে রিলিজ প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
সবশেষে হাসপাতাল থেকে যখন বিদায় নেবেন, তখন আপনার হাতে থাকবে ঔষধের খালি প্যাকেট, রিপোর্টের বান্ডিল আর ফাঁকা পকেট।
আর বাহিরে তাকালেই দেখবেন, ঝুলে আছে বিশাল ব্যানার—"আমরা জনগণের সেবক, আমরা সাধু!"
এই চিত্র শুধু একটি হাসপাতালের নয়। ঢাকা মেডিকেল, চট্টগ্রাম মেডিকেল, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, কুমিল্লা কিংবা সিলেট—সবখানেই একই চিত্র, একই ব্যথা। স্বাস্থ্যসেবা যেখানে সবার অধিকার, সেখানে এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি আর লুটপাটের উৎস।
ভাইরাল করা নয়, সচেতনতা ছড়ান। প্রশ্ন তুলুন। প্রতিবাদ করুন। এই চক্র ভাঙতে হবে আমাদেরই।