06/07/2025
আকাশ থেকে তোলা এই ছবিটি একটি স্বাধীন দেশের, নাম : নাউরু। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে, অস্ট্রেলিয়া ও হাওয়াইয়ের মাঝামাঝি একটি ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র।
নাউরুর আয়তন মাত্র ২১ বর্গ কিলোমিটার, যা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম প্রজাতন্ত্র। জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। এই দেশটির কোনো রাজধানী নেই! সারা দেশে আছে মাত্র একটি বিমানবন্দর ও কয়েকটি রাস্তা, যেগুলো দিয়ে পুরো দ্বীপটি গাড়িতে ঘুরে দেখা যায় মাত্র আধা ঘণ্টায়।
একসময় দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক উৎস ছিল ফসফেট খনন। অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশে এই ফসফেট রপ্তানি করে নাউরু হয়ে উঠেছিল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি মাথাপিছু আয়ে। কিন্তু খনি শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেশটি অর্থনৈতিকভাবে প্রায় ভেঙে পড়ে। এখানে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা চলে।
নাউরু আরেকটি দিক থেকেও রেকর্ডধারী — বিশ্বের সবচেয়ে স্থুল দেশ এটি। প্রায় ৯৭% প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্থুলতায় ভোগেন। এর প্রধান কারণ হলো দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর ফাস্টফুড ও কর্মহীনতা। তাছাড়া, অন্যান্য দেশে প্রাণীর লেজের অংশসহ যেসব চর্বিযুক্ত খাবার মানুষ খায় না, তা এদেশে আমদানি হয় ও মানুষ খেয়ে খেয়ে স্থূলতায় ভোগে।
নাউরুতে কোনো নদী নেই, পানির জন্য নির্ভর করতে হয় বৃষ্টির জল ও পরিশোধিত সমুদ্রজলের ওপর। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম পরিদর্শিত দেশগুলোর একটি — এখানে বছরে মাত্র কয়েকশো পর্যটক আসেন। নাউরুতে একসময় নিজস্ব রেললাইন ছিল, যা শুধু ফসফেট পরিবহনের জন্য ব্যবহার হতো। ফসফেট শেষ হওয়ার পর দেশ ভেঙে পড়েছে। বেকারত্ব প্রায় ৯০ শতাংশ। দেউলিয়া থেকে বাঁচতে অস্ট্রেলিয়ায় এসাইলাম চাওয়াদের এখানে আনা হয়। এতে নাউরো কিছু টাকা পায়।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নাউরুকে ভবিষ্যতে পুরোপুরি ডুবিয়ে দিতে পারে। এই ছোট্ট দেশটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে দিন কাটাচ্ছে। নাউরুবাসীদের অস্ট্রেলিয়ায় শিফট করানোর কথা হচ্ছিল কিন্তু নাউরোবাসী তাদের দেশ ছাড়তে চায় না।
Source : Britannica, Enjoy Travel