16/02/2021
কষ্ট,যন্ত্রণা,বেদনা,ক্লেশ! কষ্টের এরকম নির্ধারিত অনেক সমার্থক শব্দ থাকলেও কষ্টের পরিসীমা কিন্তু নির্ধারিত নয়। পৃথিবীতে কষ্ট পায়নি কখনো এরকম মানুষ পাওয়া দুর্লভ। কমবেশি প্রত্যেকটা মানুষেরই কোনো না কোনো দুঃখ-কষ্ট আছে। অনেক সুখী দেখতে মানুষেরও দুঃখ আছে কিন্তু! বড় বড় সেলিব্রেটিদের জীবন কাহিনী ঘাটতে গেলে দেখা যাবে তাদেরও অনেক দুঃখ-দুর্দশা আছে। জীবন মানেই একটা কষ্টক্ষেএ।
আপনি জীবনকে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজাতে চাচ্ছেন অথচ হাতে কাঁটা বিধবে না তা কি হয় নাকি! কেউ কেউ বলে, কষ্টের কথা আরেকজনের কাছে বললে, শেয়ার করলে নাকি অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। আদৌও কি তা সম্ভব? আমার মনে হয়, মানুষকে বলে কেবলমাত্র ক্ষণিকের সহানুভূতি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।
এমন অনেক মানুষ আছে যারা নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারে না আবার সহ্যও করতে পারে না। এই ধরনের মানুষদের ভোগান্তিই সবচেয়ে বেশি। নিজের মধ্যে কষ্ট জমিয়ে রাখতে রাখতে একসময় কষ্টের পাহাড় তৈরি হয়। আর তারপর ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকে।
আর কখনো কখনো ডিপ্রেশন এতটাই বেড়ে যায় যে, সুইসাইড করতেও উদ্ধত হয়। আমার মনে হয়, আমরা নিজেরাই কষ্টের কথা চিন্তা করে, নিজেদেরকে আরও বেশি কষ্ট দেই। কষ্ট কেন হচ্ছে? ও কেন এমন করলো? এমনটা না হলেও পারতো? আমার জীবনে কি কিছুই ঠিক হবে না? আমাকে ভালোবাসলে কি হতো? পরিবারের কেউ আমাকে বোঝে না কেন? এইসব চিন্তা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ কষ্ট থেকে পরিএাণ পাওয়া যাবে না। আসলে কষ্ট থেকে কখনো মুক্তি পাওয়া যায় ও না!
জীবন যতক্ষণ কষ্টও ততক্ষণ। যেটা করা যায়, কষ্ট নামক মানসিক যন্ত্রণা থেকে সাময়িক ভাবে পরিএাণ পাওয়া! এই ধরুন, আপনার এখন কোনো কারণে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে! এত কষ্ট হচ্ছে যে মনে হচ্ছে, নির্জন জনমানবশূন্য কোনো একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি গলার সর্বোচ্চ স্বরে চিৎকার করে কাঁদতে পারি তাও বোধহয় এই কষ্ট নিবারণ করা যাবে না। কষ্টের সময় নিজের পছন্দের কাজগুলো করুন। দেখবেন মন অনেকটাই হালকা হয়ে গেছে। আপনার পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যান।
আকাশ দেখতে ভালোবাসেন! আকাশ দেখুন। কবিতা লেখতে ভালোবাসেন! কবিতা লিখুন। প্রিয় লেখকের কোনো বিশেষ বই পছন্দ! পড়ুন। ছবি আঁকতে পছন্দ করেন! ছবি আঁকুন। গান গাইতে পছন্দ করেন! গান করেন। মোটকথা, নিজেকে সময় দিন, নিজের পছন্দের কাজগুলো কে প্রায়োরেটি দিন। দেখবেন কষ্ট আপনা-আপনি নিঃশেষ হয়ে যাবে।