04/06/2026
💬 যে ঘটনায় কেঁদে উঠে মন! কেঁদে উঠে হৃদয়!! মা কি কোন ফেলনা কিংবা খেলনার বস্তু- বলুন??
মারা যাবার পরেও দেখতে আসার সময় হয়নি এই ছেলেদের! আহারে মা জননী! আশেপাশের সবাই ঈর্ষান্বিত চোখে দেখত নুরজাহান বেগম কে।
সবাই বলত রত্ন ধরেছ পেটে। প্রত্যেকটি ছেলে মেয়ে তুখোড় মেধাবী। স্বামী ছিলেন শিক্ষক। মেয়েকেও ভালো পাত্রের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। নুরজাহান বেগমকে তিনি বলতেন, তার সন্তানরা দেশসেরা হবে।
অথচ আজ সেই সন্তানরা ই দেশ সেরা কুলাঙ্গার। নুরজাহান বেগম কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিল। মনে রাখতে পারতেন না ঠিকঠাক। ছেলেরা কেউ নেয়নি নুরজাহান বেগমের দায়ভার।
তারা প্রত্যেকে ব্যস্ত, তাই মায়ের সমস্ত ভার পরে মেয়ের কাধে। নুরজাহান বেগম মেয়ের কাছেই পরে থাকে স্টোর রুমে। যেখানে কয়েক বছর ধরে ময়লা জমে আছে, পরিত্যক্ত জিনিসপত্রে স্তুপ।
কেউ ঢোকে না এই রুমে। নুরজাহান বেগমকে তাদের স্টাটাস অনুযায়ী মানিয়ে নিতে পারছিল না। তাই তাকে ও ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয় কোনমতে।
কুরবানির আনন্দে সবাই যখন আনন্দ করছে, ভালোমন্দ রান্না হচ্ছে ঠিক তখনি শেষ দিন গুনছিল নুরজাহান বেগম। কেউ খোঁজ নেয়নি মায়ের। না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় নিঃশব্দে চলে গেল।
এমনকি মারা যাবার পরেও তাদের সময় হয়নি দেখতে আসার। প্রিয় সন্তানদের ছোট ছোট হাত, চোখ টিপটিপ করে খিলখিল করে হেসে গড়াগড়ি খাওয়া কি মনে পরেছিল মৃত্যুর সময়? তখনকি পানি খেতে চেয়েছিল এই দুঃখিনী মা?
প্রিয়তম স্বামী কি সেই ছোট্ট পরিবারের ঈদের আনন্দ টুকু মনে করিয়ে দিতে এসেছিল নুরজাহানকে? বিদায়বেলা কি এই মা জননী কেঁদেছিল প্রথম সন্তান ভূমিষ্ট হবার মত?
সৃষ্টিকর্তা যেদিন বিচারের খাতা খুলবে, সেদিন ও মা তুমি হয়ত কেঁদে ভাসাবে সন্তানের ক্ষমার দাবি নিয়ে, তিনি কি তাদের ক্ষমা করে দিবেন? কখনো ই না মা! আমরাও যে ক্ষমা করতে পারিনা তোমার এই কুলাঙ্গার দের!
এ দেশ ও জাতি যতদিন বেঁচে থাকবে আপনার এ সন্তানদের কথা গভীরভাবে মনে রাখবেন- তবে ভালোবাসায় নয়! চরম ক্ষোভ, ঘৃণা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে- তাদের এই চরম ও গুরুতর দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার জন্য। মহান রব যেন আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন-আমিন।