21/10/2025
সেটা হিসাব করলে শিক্ষকদের তুলনায় দেশে সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দেশ-প্রেমিক সেনাবাহিনী-নৌ-বাহিনী-বিমানবাহিনী- বি.জি.বি- পুলিশ- আনসার- ফায়ার সার্ভিস ইত্যাদি তাদের সাথে তো বেতন-ভাতা নিয়ে আরও বেশি বৈষম্য হচ্ছে।
এরা তো রৌদ্রে পুড়ে, মেঘে ভিজে শক্ত পরিশ্রম করে তাদের দায়িত্ব পালন করছে! তাদের কথা একটু ভাবুন তো!!!!
আমি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যাচ্ছি না আমার কথা হচ্ছে সবার সুযোগ-সুবিধা থাকার দরকার।।।।
শিক্ষক যেমনি সত্যিই সুশিক্ষা দেশ গড়ার কারিগর তেমনি একজন সৈনিক আসলেই রক্ষার কারিগর। নিজ নিজ স্থান কর্ম-শক্তি বুঝে তাদের বেতন ও ভাতা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত আমি মনে করি।।।।।
নিজ বাড়িতে থেকে চাকরি করে যাদের বেতন ১২,০০০ টাকা, এবং বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে চাকরির শুরু থেকেই ২৩,০০০ টাকার বেশি বেতন পান, তারা সরকারি সব ছুটি ভোগ করেন। বছরে প্রায় ৩ মাস স্কুল ছুটি থাকে, সপ্তাহে ছুটি তো আছেই। গরু, মুরগি, ছাগল, হাঁস পালন আছে, নিজের জমিতে চাষাবাদও আছে, আলাদা ব্যবসাও করেন। নিজের ইচ্ছেমতো ছুটি নেওয়া যায়, মন না চাইলে স্কুলে না যাওয়া যায়।
এতে যদি তাদের না হয়, তাহলে যারা সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করেন—তাদের কথা একটু ভাবুন। ১৭তম গ্রেডে তাদের মূল বেতন মাত্র ৯,০০০ টাকা, সব ভাতা মিলিয়ে মোটে ১৫,০০০ টাকার মতো পান। তারা বাড়ি থেকে অনেক দূরে থেকে চাকরি করেন, বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। তাদের নেই শুক্রবার বা শনিবারের ছুটি, নেই সরকারি ছুটির দিন—বরং ডিউটি ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। অতিরিক্ত ডিউটির কোনো ওভারটাইম ভাতা নেই, সরকারি ছুটির দিনে ডিউটি করলেও কোনো অতিরিক্ত সম্মানী নেই।
সবচেয়ে বড় কথা—যে কোনো সময় একটি বুলেট বা বোমা কেড়ে নিতে পারে তাদের প্রাণ।
শিক্ষক যদি জাতি গড়ার কারিগর হন, তবে আমরা দেশ ও জাতি রক্ষার অকুতোভয় রক্ষক!
তাহলে আমাদের কথা কেউ বলে না কেন? শিক্ষক দের কথা যেমন বলা হয়, তেমনি বাকি সবার কথাও ভাবা উচিত। কেউ যেন মনে না করেন আমি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বলছি—আমি শুধু সবার কষ্টটা তুলে ধরেছি।
লাখো সৈনিকের মনের কথা থেকে লেখাটি...