Choto Dairy 01

Choto Dairy 01 আল্লাহ সর্বশক্তিমান
(8)

24/08/2026

রাসুল সা: বলেছেন,,,,,,?

17/08/2026
 #একমুঠো_অনুরাগ (০২) #জেরিন_আক্তাররঙ্গন অর্ণর ডাক শুনেও পায়েলকে যেতে দিলো না। তখন পায়েলই রঙ্গনের হাত সরিয়ে কয়েককদম দূরে ...
15/08/2026

#একমুঠো_অনুরাগ (০২)
#জেরিন_আক্তার

রঙ্গন অর্ণর ডাক শুনেও পায়েলকে যেতে দিলো না। তখন পায়েলই রঙ্গনের হাত সরিয়ে কয়েককদম দূরে গিয়ে দাঁড়াল। রঙ্গন ফোন বের করে ছাদের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। পায়েল নিজের চেইনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার পথে সাইদা আর অর্ণর সাথে দেখা হয়। অর্ণ বলে,
“তুমি আবার কোথায় যাচ্ছো? এসো আমাদের সাথে!”

পায়েল হেসে বলল,
“আপনারা যান। আমি নিচে গিয়ে দেখছি কারো কিছু লাগবে নাকি।”

“ঠিক আছে যাও।”

পায়েল নিচে এসে হাফ ছাড়ে। রঙ্গনের সামনে যতক্ষণ ছিলো ওর অন্তরাত্তা সাথে ছিলো না। যতবার ওর চোখের দিকে তাকাচ্ছিলো ততবারই সব গুলিয়ে ফেলছিল। আর এর থেকে একটা উপকারও হয়েছে বলা যায়। ওর হারানো চেইনটা তো পেয়েছে। চেইনটা যে কোথায় কোথায় খুঁজেছে হিসেব নেই।

ড্রইং রুমে রঙ্গনের বাবা আশরাফ এহসান, রঙ্গনের মা নওরিন আফরোজ আর রঙ্গনের ছোট চাচা আফতাব এহসান বসে আছেন। নওরিন আফরোজ পায়েলকে ডাকলেন। পায়েল সেখানে যেতেই তিনি হেসে ওর হাত ধরে বসালেন পাশে। টুকটাক কথাও বললেন। নওরিন আফরোজ অনেক মিশুক প্রকৃতির মানুষও।

রঙ্গন ছাদে থেকে নেমে আসে। ড্রইং রুমে এসে বাবার পাশে বসে ফোন স্ক্রল করতে থাকে। বিয়ের ডেট ঠিক করা হচ্ছে। বিয়েটা একটু তাড়াহুড়োর মধ্যেই হবে। কারণ অর্ণ চলে যাবে দেশের বাহিরে। ফিরবে তাও ৩-৪ মাস পরে। বা তার বেশিও সময় লাগতে পারে।
যেহেতু রঙ্গন অর্ণর বড় ভাই সে বিয়ে করেনি তাই অর্ণর বিয়েটা ধুমধাম করে করবেন না। রঙ্গন যখন বিয়ে করে তখন দুইভাইয়ের বিয়েই একদিনে ধুমধাম করে হবে। এই আইডিয়াটা পুরোটাই অর্ণর। ও আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে বিয়ে করলে দুইভাই একদিনেই করবে।

বিয়ে ঠিক করা হলো সামনের শুক্রবার। রঙ্গনরা একটু পরে চলে যাবে। অর্ণ আশেপাশে উঁকি দিচ্ছে যদি আরেকবার সাইদাকে দেখে যেতে পারে। যাওয়ার আগে রঙ্গন সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আস্তে করে পায়েলকে বলল,
“তো আজকে আসি। বিয়ের দিন দেখা হবে। বিশেষ করে আমার আর আপনার সম্পর্কটা সেদিন আরও মজবুত হলো। বিয়ের দিন দুলাভাইয়ের ভাইকেও তো আপনারই দেখাশুনা করতে হবে।”

পায়েল মুখ ভেঙচি দিয়ে বলে উঠল,
“আপনার সামনেই আসবো না আমি।”

রঙ্গন বাকা হেসে বলল,
“দেখা যাবে এখন টা টা।”

…..

রাত তখন অনেকটাই। পায়েল বসে বসে মোবাইল স্ক্রল করছে। ঘুম আসছে না। সাইদার বিয়ে হয়ে যাবে। ওর একা থাকতে হবে বলে সন্ধ্যার পর থেকে মনটাও খারাপ। ছোট থেকে এই পর্যন্ত দুজন-দুজনকে ছাড়া কোথাও যাওয়াও ভাবতে পারে না। আর এখন তার বোনেরই বিয়ে হয়ে যাবে। অন্যের ঘরে থাকবে। বাড়িটাও খালি হয়ে যাবে। ভাবতে ভাবতে পায়েলের খারাপই লাগছে।

…..
পায়েল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসে খেতে। সায়মা বেগম মেয়েকে খাবার বেড়ে দিয়ে নিজেও খেতে বসেন। শফিক সাহেব আর সাইদা ড্রইং রুমে বসে কথা বলছেন। সাইদা তার বাবাকে শিখিয়ে দেয় সে যেনো পায়েলকে বলে শপিংয়ে যেতে। তিনি গলা উঁচিয়ে পায়েলকে বলে উঠলেন,
“পায়েল খেয়ে রেডি হয়ে নাও। শপিংয়ে যেতে হবে।”

পায়েল সোজা গলায় বলল,
“বাবা আমার জন্য তোমার যা পছন্দ তাই নিয়ে এসো। আমি শপিংয়ে যেতে পারবো না। তোমার বড় মেয়েকে একা যেতে বলো।”

সাইদা বলে উঠল,
“আজকের দিনই, তোকে আর যেতে হবে না। প্লিজ চল না। বাবা তো বাড়িতে থাকছে না, আর মা তো যাবেই না। তু্ই না গেলে কার সাথে যাবো। ওদিক থেকে অর্ণ আসবে।”

পায়েল মুখ বাকিয়ে বলল,
“ওদিক থেকে অর্ণ আসবে। তাহলে আমাকে নিয়ে যাবি কেনো? দুজনই যা।”

“অমন করিস কেনো চল না।”

“ঠিক আছে যাবো। তবে এক শর্তে! আমি সিঙ্গেল হয়ে তোদের সাথে ঘুরতে পারবো না, ক্যাফেতে বসে থাকবো। তোরা কাপল এখন, একসাথে ঘুরিস।”

পায়েলের কথা শুনে শফিক সাহেব, সায়মা বেগম হেসে উঠলেন। সাইদা খুশি হয়ে বলল,
“ঠিক আছে। তু্ই যা বলবি তাই। তবুও আমার সাথে যেতে হবে।”

ওরা দুজনে শপিংয়ে বেরিয়ে পড়ে। ওদিক থেকে অর্ণ আসে। সাথে আবার রঙ্গনকে নিয়ে। মনে হয় বড় ভাইকে ছাড়া সে অচল। যেখানেই যাবে তাকে জোর করে নিয়ে যাবেই। কিন্তু রঙ্গন রাগে শুধু ফুসছে। নিজের অফিস বাদ দিয়ে এখন ছোট ভাইয়ের সাথে ঘুরতে হবে। এইটা কোনো কথা! ওর তো ইচ্ছে করছে নিজে বিয়ে করে বউ নিয়ে বিদেশে ট্যুর দিতে কিন্তু ভাগ্য ওকে ছোট ভাইয়ের সাথে ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে।
রঙ্গন যেতে যেতে বলল,
“আমি যাবো কিন্তু তোদের সাথে ঘুরতে পারবো না। ক্যাফেতে বসে থাকবো। আর কেমন দেখায় ভাই, আমি বড় ভাই হয়ে ছোট ভাই আর তার বউয়ের সাথে ঘুরছি, ছ্যাহ!”

অর্ণ এসে সম্মতি পোষণ করে বলল,
“ঠিক আছে তু্ই যা বলবি তাই হবে।”

ঠিকই তো, রঙ্গন কেনো ওদের দুজনের সাথে ঘুরবে। বড় ভাই হয় ওর। মান-সম্মান বলেও তো কথা আছে।

অর্ণ আর রঙ্গন শপিং মলের সেকেন্ড ফ্লোরে দাঁড়িয়ে আছে। সাইদাও আসে। কিন্তু একা। অর্ণ বলে,
“তোমার সাথে তোমার বোন না আসলো সে কোথায়?”

সাইদা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,
“ও থার্ড ফ্লোরে চলে গিয়েছে। সেখানে ক্যাফেতে বসে থাকবে। ও আগেই বলে দিয়েছে ও সিঙ্গেল হয়ে আমাদের সাথে ঘুরবে না।”

অর্ণ কোমরে হাত রেখে হতাশ কণ্ঠে বলল,
“তোমার আর আমার কাহিনী সেম।”

রঙ্গন ওদের রেখে লিফটের দিকে যেতে যেতে পেছন ফিরে হাত নাড়িয়ে বলে উঠল,
“টা টা। পরে দেখা হবে।”

সাইদা বুঝতে না পেরে অর্ণকে বলে,
“ভাইয়া চলে গেলো কেনো?”

অর্ণ মাথা দুলিয়ে বলল,
“আমার ভাইও সিঙ্গেল হয়ে মিঙ্গেলদের সাথে ঘুরবে না। তার প্রেস্টিজে আঘাত লাগবে।”

সাইদা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। অর্ণ হেসে ওকে নিয়ে শপিং জোনের দিকে হাঁটা দিলো।

পায়েল কফি খাচ্ছে আর ফোন দেখছে। রঙ্গন এসে ওর টেবিলে বসে। পায়েল চোখ তুলে তাকাতেই রঙ্গনের হ্যাজেল চোখে-চোখ পড়ে। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকার পরে চোখ নামিয়ে বলে উঠল,
“আ আপনি এখানে কেনো?”

রঙ্গন গা ছাড়া ভাব নিয়ে ওয়েটারকে ডাকে। ওয়েটার সামনে আসতেই রঙ্গন পায়েলকে বলল,
“কি খাবে অর্ডার করো!”

পায়েল গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে,
“কিছু খাবো না। আপনার যা খেতে ইচ্ছে করে অর্ডার করুন।”

রঙ্গন অর্ডার করে দেয়। ওয়েটার চলে যেতেই পায়েল একটু এগিয়ে এসে বলে উঠল,
“আপনি এখানে কেনো?”

“কেনো আমি কি আসতে পারিনা?”

“আসতে পারেন কিন্তু দুজনের দেখা হওয়াটা কেমন কাকতালীয় না?”

“মোটেও না। তুমি যে কারণে এখানে এসে বসে আছো আমিও সেই কারণেই এখানে এসে বসে আছি। মিঙ্গেলদের মাঝে আমরা সিঙ্গেলরা থেকে কি করবো বলো!”

পায়েল হেসে বলল,
“বাহ্ ভালোই। আচ্ছা আপনি বিয়ে করবেন কবে?”

রঙ্গন গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“আমার বিয়ে দিয়ে তোমার কাজ কি?”

“কি আর কাজ থাকবে? আপনি বিয়ে করলেই তো আপুর বিয়েটা ধুমধাম করে হবে। আনন্দ করতে পারব।”

রঙ্গন বাকা হেসে বলে উঠল,
“তাহলে চলো বাড়িতে আমাদের বিয়ের কথা বলে দেই। তারপরেই তো ধুমধাম করে বিয়ে হবে। তুমি নিজের বিয়েতেও আনন্দ করবে আবার তোমার আপুর বিয়েতেও।”

পায়েল রেগে গিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। রঙ্গন ঠোঁট এলিয়ে হাসলো। পায়েল ঘাড় ঘুরিয়ে রঙ্গনের হাসি দেখে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল। এমনকি রঙ্গনের চোখের দিকে তাকালে ও চোখে ফেরাতে পারে না। বারবার দেখার জন্য তৃষ্ণা জেগে উঠে।

চলবে....

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যারা যারা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।

বড় বোনের হবু ভাসুরের গলায় নিজের হারিয়ে যাওয়া চেইনটা দেখে রীতিমতো চমকে উঠল পায়েল। ও প্রথমে সেটাকে সাধারণ একটা চেইন মনে কর...
14/08/2026

বড় বোনের হবু ভাসুরের গলায় নিজের হারিয়ে যাওয়া চেইনটা দেখে রীতিমতো চমকে উঠল পায়েল। ও প্রথমে সেটাকে সাধারণ একটা চেইন মনে করেছিলো। কিন্তু সেখানে ওরই নামের অক্ষর দেওয়া লকেট দেখে বিস্ময়ে হা হয়ে তাকিয়ে রইল। এই চেইন টা পায়েল তার বার্থডেতে বাবার থেকে গিফট পেয়েছিলো।

আর বোনের ভাসুরের দিকে অর্থাৎ রঙ্গন এহসানের দিকে ভালো করে তাকিয়ে বুঝতে পারলো ১ বছর আগে এই ছেলের সাথেই একটা ঝড়ের রাতে দেখা হয়েছিলো।

সেই ঝড়ের রাতে রঙ্গন মারামারি করতে করতে প্রায় বেহাল, রক্তাক্ত অবস্থায় একটা জায়গায় পড়ে ছিলো। পায়েল তাকে হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলো। হসপিটালে থেকে সে আবার পালিয়েও গিয়েছিল। পরে পায়েল আর তার খোঁজ করেনি। সেই ছেলেটাই ওর চোখের সামনে পুরো সুস্থ হয়ে বসে আছে।

পায়েল ওইখানে থেকে পিছিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। রঙ্গনের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে সবার সাথে কথায় মনোযোগী। তবে কি তার মনে নেই নাকি? আবার যে চেইন গলায় পড়ে আছে।

পায়েলের ভাবনার মাঝে তার বাবা শফিক সাহেব ডেকে বললেন,
“পায়েল এদিকে এসো মা।”

পায়েল সামনে দাঁড়াল। রঙ্গন তবুও ওর দিকে তাকায়নি। মনে হচ্ছে ওকে চেনে না। পায়েল তার বড় বোন সাইদার পাশে এসে দাড়ালো। সবার দেখাশোনা শেষ হলে পায়েলকে বলা হলো সাইদাকে নিয়ে ভিতরে যেতে। পায়েল তাই করলো। সাইদাকে নিয়ে উপরে চলে গেলো। সাইদা রুমে এসে ঘোমটা টা খুলে হেসে হেসে পায়েলকে বলল,
“আমিতো ভেবেছিলাম আমাদের রিলেশন মানবেই না। এখন দেখ বিয়ে ঠিক হচ্ছে।”

পায়েল হতাশ সুরে বলল,
“কিন্তু আফসোস তোর কোনো দেবর নাই। নাহলে আমিও একটু প্রেম-টেম করতাম। যাও একটা আছে তোর ভাসুর। কত বড়। দেবর থাকলে ভালো হতো।”

সাইদা খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠল,
“থাকলে ভালোই হতো। আর অর্ণ মনে হয় কথা কথা বলতে আসবে। তু্ই নিয়ে আসবি ওকে।”

পায়েল মুখ বাকিয়ে বলল,
“আমার বয়েই গিয়েছে এদিকে নিয়ে আসতে। উনাকে স্টোর রুমে নিয়ে যাবো।”

সাইদা পায়েলের পিঠে চাপর মেরে বলল,
“দুষ্টুমি করিসনা বোন আমার। এখন নিচে যা, মা একা কি করছে দেখ।”

পায়েল নিচে এসে সিঁড়ির গোড়ায় দাড়ালো। দৃষ্টি স্থির করে তাকিয়ে আছে রঙ্গনের দিকে। বিশেষ করে তার সৌন্দর্য ওই দুই হ্যাজেল চোখে। অদ্ভুত এক সৌন্দর্য তাতে। শুধু দেখতেই ইচ্ছে জাগে।

এদিকে বিয়ের পাকা কথা চলছে। বড়রা বললেন যে দুইজনকে আলাদা করে কথা বলতে। শফিক সাহেব হাই তুলে পায়েলকে ডাকলেন। পায়েল এসে দাঁড়াতেই বলা হলো অর্ণকে নিয়ে উপরে যেতে। পায়েল নিয়ে যাওয়ার সম্মতি জানালো। অর্ণ সাথে করে বড় ভাই রঙ্গনকেও নিয়ে গেলো।

পায়েল আগে গেলো। ওর পিছু পিছু অর্ণ। আর রঙ্গন, সে রাজা-বাদশার মতো একা একা যাচ্ছে। পায়েল যেতে যেতে রঙ্গনের দিকে তাকালো কয়েকবার। কিন্তু লোকটার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়াই নেই। স্বাভাবিক, তবে গম্ভীর ভাব।

পায়েল যেতে যেতে অর্ণকে বলল,
“ভাইয়া রুমে যাবেন নাকি ছাদে?”

“তোমার বোনকে সাথে নিয়ে আসি এরপরে ছাদে যাবো।”

“ঠিক আছে, আসুন।”

পায়েল অর্ণকে সাইদার রুমে পাঠিয়ে দিয়ে বের হলো। রঙ্গন বাহিরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। তবে নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না। পায়েল সামনে আসতেই ও বলল,
“এখানে নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না। একটু ছাদে নিয়ে চলুন তো!”

পায়েল স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলো,
“ঠিক আছে ভাইয়া আসুন।”

রঙ্গন পায়েলের পিছু পিছু ছাদে এলো। এরপরে সে একপাশে দাঁড়িয়ে ফোন স্ক্রল করতে শুরু করলো। পায়েল মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসে বলল,
“আমার চেইন দিন।”

রঙ্গন ফোন রেখে পায়েলের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কি?”

“চেইন দিন। ওইটা আমার।”

রঙ্গন ফোন পকেটে ভরে পায়েলের দিকে এগিয়ে এলো। পায়েল ঘাবড়ে গেলো। শুকনো ঢোক গিলে পিছিয়ে যেতে নিলে রঙ্গন এক পা করে এগিয়ে এলো। তবে কি রঙ্গন ওকে চেনে, এতক্ষন কি বুঝতে দেয়নি।

পায়েলের মাথায় নানান কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। এরপরে পায়েলের পিঠ দেয়ালে ঠেকলো। রঙ্গন আর ওর মাঝে একহাত দুরুত্ব। পায়েল ঘামতে শুরু করলো। রঙ্গন পায়েলের গালে পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
“আমার ভাইয়ের বিয়ে হচ্ছে আপনার বোনের সাথে, সেক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্কটাও তো একটু স্পেশাল তাইনা? বিশেষ করে আমার আপনার।”

পায়েলের আসফাঁস করে হেসে বলল,
“হুমম। আমাকে মনে হয় নিচে ডাকছে।”

রঙ্গনের গা ছাড়া ভাব। রসিকতা করে বলে উঠল,
“আরে নিচে গেলে তো চলেই গেলাম। আর দেখা হবে কবে ঠিক নেই। এখন একটু আপনাকে দেখে নেই। আবার বিয়ের সময় তো আমার এক্সট্রা কেয়ার করবেনই।”

পায়েল সরে যেতে নিলে রঙ্গন দুহাত দেয়ালে রেখে ওকে মাঝখানে আটকে দিলো। পায়েল ঘাবড়ে গেলো বললে কম হবে। খুব নার্ভাস হয়ে গিয়েছে। রঙ্গনের হ্যাজেল চোখের দিকে যতবার তাকাচ্ছে ততবারই সব গুলিয়ে ফেলছিল। রঙ্গন হেসে বলল,
“উফস, ঘেমে যাচ্ছেন যে! বাতাস করবো?”

পায়েল আমতা আমতা করে বলল,
“আ আপনি সেদিন হসপিটালে থেকে কোথায় চলে গিয়েছিলেন? আর আপনার গলায় যে চেইন সেটা আমার চেইন। ফেরত দিন।”

রঙ্গন গলার চেইন খুলে পায়েলের সামনে ধরল। আর মুখে বাকা হাসি রেখে বলল,
“পড়িয়েও দিতে হবে নাকি?”

পায়েল চট্ করে ওর হাত থেকে চেইনটা নিয়ে নিল। তবে ভয় কাটেনি। রঙ্গন দেয়ালে হাত রেখে আটকে রেখেছে ওকে। পায়েল যাওয়ার জন্য নড়াচড়া শুরু করছে। রঙ্গন শ্বাস ছেড়ে কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হলো।
তখনই ছাদের দরজায় আওয়াজ হয়। বাহিরে থেকে অর্ণ রঙ্গনকে ডাকছে।

চলবে....

গল্প— #একমুঠো_অনুরাগ
#সূচনা_পর্ব
কলমে— #জেরিন_আক্তার

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। অযথা কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। যারা যারা পড়ছেন রেসপন্স করবেন। নতুন গল্পটার সূচনা পর্ব কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাবেন।

আজকের রেজাল্টে যারা সফল হয়েছো, সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। ❤️আল্লাহ তোমাদের এই সাফল্যকে জীবনের আরও বড় সাফল্যের প...
10/08/2026

আজকের রেজাল্টে যারা সফল হয়েছো, সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। ❤️
আল্লাহ তোমাদের এই সাফল্যকে জীবনের আরও বড় সাফল্যের পথ করে দিন। তোমাদের স্বপ্নগুলো পূরণ হোক, ভবিষ্যৎ সুন্দর হোক এই দোয়া করি। 🤲

আর যারা আজকের রেজাল্টে আশানুরূপ ফল করতে পারোনি বা ফেল করেছো, তোমাদের জন্য বিশেষ করে একটা কথা বলতে চাই—একটা রেজাল্ট কখনোই তোমার পুরো জীবনকে নির্ধারণ করে না।

আজ হয়তো মন খারাপ, কষ্ট হচ্ছে, মনে হচ্ছে সব শেষ। কিন্তু বিশ্বাস করো, কিছুই শেষ হয়ে যায়নি। আবার চেষ্টা করার সুযোগ আছে, ভুল থেকে শেখার সুযোগ আছে, নতুন করে শুরু করার সুযোগ আছে। পৃথিবীতে অনেক সফল মানুষ আছেন, যারা জীবনের কোনো না কোনো পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন।

🙏 তাই দয়া করে রাগ, অভিমান বা হতাশার মুহূর্তে নিজের কোনো ক্ষতি করার মতো সিদ্ধান্ত নিও না।
একটা পরীক্ষার ফলাফলের জন্য তোমার জীবনকে শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। তোমার জীবন তোমার পরিবারের কাছে, তোমার প্রিয় মানুষগুলোর কাছে এবং তোমার নিজের কাছেও অনেক মূল্যবান।

আজ যদি খুব বেশি খারাপ লাগে, একা থেকো না। মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু, শিক্ষক বা বিশ্বাসের কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলো। কাঁদতে ইচ্ছে করলে কাঁদো, কিন্তু হাল ছেড়ো না।

ফেল মানে তুমি ব্যর্থ মানুষ নও—ফেল মানে এবারও সফল হতে পারোনি।
আগামীবার আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আবার চেষ্টা করো।

আজকের ফলাফল একটা অধ্যায় মাত্র, পুরো গল্প নয়।
আল্লাহ তোমাদের সবাইকে ধৈর্য, সাহস ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করুন,,, আমিন🤲❤️

"আপা বল, চোখ বন্ধ থাকলেও মন সজাগ আছে।"​"তুই প্রতিশোধ নিতে পারবি, কাজল? কঠিন প্রতিশোধ? যাদের জন্য একটি সংসার নামের সাজানো...
08/08/2026

"আপা বল, চোখ বন্ধ থাকলেও মন সজাগ আছে।"
​"তুই প্রতিশোধ নিতে পারবি, কাজল? কঠিন প্রতিশোধ? যাদের জন্য একটি সংসার নামের সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেল! অযত্নে ও অনাদরে শুকিয়ে ঝরে গেল সেই বাগানের কিছু ফুল! আর এই প্রতিশোধ নিতে হলে তোকে এই বিয়েতে রাজি হতেই হবে, কাজল!"

মুহূর্তেই সালমার প্রতিবাদী গলার স্বর রূদ্ধ হয়ে এল। নোনাজলে দু'চোখের পাড় ডুবে গেল। ঝাপসা আঁখিজোড়া পরনের শাড়ির আঁচল দিয়ে ঢলে মুছে নিল। চোখের নিচের কাজল লেপ্টে গেল গালের উপরের অংশে।

নিবুনিবু চোখে কাজল বড় বোনের মুখপানে তাকাল। নরম ও মায়া মায়া সুরে বলল,
"আপা, আমি তো ছোট মানুষ। তুই তো বড় আছিস,তুই কেন নিস না প্রতিশোধ? আর কিসের প্রতিশোধ নিতে হবে? কাদের জন্য আমাদের বাগানের ফুল ঝরে গেল? আমি কিছুই বুঝতেছি না? আমার বিয়ের সাথে এসবের কী সম্পর্ক আপা?"

সালমা বেদনার শ্বাস ফেলে বলতে লাগল,

​"যেদিন থেকে আমাদের তিন বোনের তিন বাড়িতে ঠাঁই হলো, সেদিন থেকেই আমাদের মা অর্ধমৃত হয়ে গেল। কারণ তারা কেউই আমাদেরকে শর্তহীনভাবে দত্তক নেয়নি। আসলে এটাকে দত্তক বলা যায় না—তাহলে দত্তক শব্দটার প্রতি অশ্রদ্ধা করা হবে। এটাকে বলে আশ্রয়, বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য। আর এজন্যই মা সারাদিন চোখের জল ফেলত আর মুছত। একটা কথা মনে রাখিস বোন, এই পৃথিবীর সবকিছুই চলে একটা বিনিময় প্রক্রিয়ায়। বিনিময় ছাড়া এই পৃথিবীতে কিছুই হয় না রে বোন।

​আমার যে বাড়িতে আশ্রয় হয়েছিল, ওদের একটি মেয়ে ছিল—প্রতিবন্ধী। মেয়েটি ছোট ছিল। তার বাথরুম থেকে শুরু করে গোসল করানো, খাওয়ানো—টোটালি তার সবকিছুই আমি করতাম।

মিনুকে যে বাড়িতে দিয়েছে, সেখানে শর্ত ছিল—তাদের ঘরের সব কাজ করবে সে। তাদের ছিল একান্নবর্তী বড় পরিবার। অর্থাৎ একজন কাজের লোক যেই কাজগুলো করে, মিনু ঠিক সেই কাজগুলো করত।
আর লিপির কাজ ছিল, সেই পরিবারে একজন বুড়ো মানুষ ছিলেন—বৃদ্ধা বলা যায়। উনার সবকিছুই লিপিকে দেখাশোনা করতে হতো। উনি প্যারালাইজড ছিলেন। উনার মনমতো না হলে লিপির সঙ্গে খুব বাজে আচরণ করতেন। লিপি আবার কারও চোখ রাঙানি হজম করতে পারত না। লিপি ছিল স্বভাবে একরোখা ও প্রতিবাদী। সে মাঝে মাঝে সেই বৃদ্ধার মুখের ওপর তর্ক করে বসত। তখন সেই ঘরের মানুষ লিপির গায়ে হাত তুলত।

​তবে এটা সত্যি, ওই তিন পরিবারের মানুষ আমাদের তিন বোনকে স্কুলেও ভর্তি করিয়েছিল, ম্যাট্রিক পাস করিয়েছে। অর্থাৎ খাওয়া-পরারও সমস্যা হয়নি।
এখন তোর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে সমস্যাটা কোথায় ছিল? শোন, তারা আমাদেরকে দিয়ে এগুলোর বিনিময়ে যে যে কাজগুলো করিয়ে নিয়েছে, সেগুলো আমরা আমাদের বাড়িতে থাকলে কখনোই করতাম না রে বোন। সমস্যাটা ওখানেই ছিল। এককথায়, কাজের মেয়েকে দিয়ে যেভাবে কাজ করায়, ওয়াশরুম পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ওদের সবার কাপড় কাঁচা, যাবতীয় সবকিছু আমরা করেছি। বলা যায় তাদের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলাম দত্তক হিসেবে নয়, কাজের মেয়ে হিসেবে।

​আম্মা এজন্যই রাতদিন কান্না করত। কারণ, নিজের বাড়িতে থাকলে যত কষ্টই হোক না কেন, আম্মা আমাদেরকে দিয়ে এসব নিচু কাজ করাতেন না। আম্মা নিজে করতেন কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে করাতেন। নিজের বাড়িতে নিজের মায়ের আঁচলতলে থেকে শাকভাত খেলেও যেই শান্তি, অন্যের বাড়িতে থেকে আমরা মাছভাত খেয়েও সে শান্তি পাইনি রে!

কয়েক মাস কেটে গেল। তারপর নেমে এল আমাদের মায়ের জীবনে সেই কালদিন। বর্ষার এক নিরালা ভিজে দুপুর। সারা আকাশ মেঘে ঢাকা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে বিরতিহীনভাবে। কোথাও শুভ্র মেঘের আনাগোনা নেই। থেমে থেমে মেঘের গর্জন হচ্ছে। মাটির ঢেলার এক কোণায় ভেজা মুরগির ছানাগুলো চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। প্রকৃতি ছিল অদ্ভুত রকমের শান্ত। যেন ওরা মায়ের দুঃখের আগমনী দিনের নিরব সাক্ষী।

আমাদের তিনবোনকে তিন বাড়ি থেকে আনা হয়নি। মায়ের কাছে ছিলি তুই আর পলি। কিন্তু আমি আগে থেকেই জানতাম সেদিন আব্বা দ্বিতীয় বিয়ে করবেন। আম্মা আমাদেরকে দেখতে মাঝে মাঝে সেই বাড়িগুলোতে যেতেন। তখন শুনেছি। তো আমি চলে এলাম বাড়িতে। আব্বার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে যাকে পেলাম সে কে জানিস কাজল?"

"নাহ। কে আপা?"

"আব্বার আপন খালাতো বোন লুতফা। আমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখলাম, আম্মা হাসি হাসি মুখে আব্বার নববধূকে বরণ করে নিয়েছে ধান,দুর্বা দিয়ে। দাদী,ফুফুরা এতো খুশী যেন,হিমালয় জয় করে ফেলেছে। সেদিন কী আম্মা জানতো যেই নারীকে স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে মেনে নিল,সেই নারীটির হাতেই আম্মার জীবনাসান ঘটবে।"

কাজল ধড়মড়িয়ে উঠে বসল। চিৎকার করে কেঁদে উঠতে গেলে সালমা ওর মুখ চেপে ধরল। হিসহিসিয়ে বলল,
"চুপ! ইতিহাস এখানেই শেষ নয়। শান্ত না থাকলে বদলা নিতে পারবি না।"

"আপা,আম্মা না অসুখে মরে গেল?"

"নাহ। মিথ্যা। সব সাজানো।"

"আম্মার অপরাধ কী ছিল আপা?"

"কোনো অপরাধ ছিল না। নিরপরাধ আম্মার আত্মার শান্তির বদলা নিতে হবে তোকে বোন। তুই এই বিয়ে রাজী হ। বড় কোন উদ্দেশ্য সফল করতে হলে টাকার,সাহস,শক্তি, মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন। তাই তোকে এই বিয়েতে রাজী হতে হবে। পাত্রের বয়স বেশী ব্যাপার না। ভালোবাসাটাই আসল। এর কাছে সব পাবি।"

"আপা আমি রাজী আছি। তাহলে আব্বাকে জানাইয়া দে তুই।"

আরব্য রজনীর গল্পের মতো গল্প বাকি রয়ে যায়। গলাগলি করে দু'বোন নিজেদের সপে দেয় রাত্রির কোলে। পরেরদিন সকালে লুতফা ওদের সামনে এসে হেঁড়ে গলায় বলে উঠে,
"কিরে সালমা,ওরে বুঝায়া নিতে পারসনাই বিয়ার বিষয়ে? তারাতো কাইলও লোক পাঠাইল।"

"ছোট আম্মা, কাজল রাজী এই বিয়েতে। জানায়া দেন।"

শুনে লুতফার চোখের কোণ চিকচিক করে উঠে। রূপকথার ডাইনির মতো লুতফা আড়ালে দাঁড়িয়ে দুর্বোধ্য হাসে। শাড়ির আঁচলে বাঁধা চাবির গোছাটা কাঁধের উপর ফেলে দিয়ে মনে মনে বলে,
"কাজলের বিনিময়ে যেই টাকাকড়ি পামু ওই জমিদার হইতে,তা দিয়া এইবার একসেট গহনা বানামু। সোনার গহনা। গা ভর্তি গহনার শখ আমার বিয়ার পর হইতেই।"

#পালকি..২ ✍️ #রেহানা_পুতুল
ক্রমশ... ২

"দাদী ও ফুফুরা মিলে ঠিক করল, আমাদের তিন বোনকে অন্য পরিবারে দত্তক দিয়ে দিবে। যেই কথা, সেই কাজ দাদীর। তাকে বোঝানোর বা আটকা...
07/08/2026

"দাদী ও ফুফুরা মিলে ঠিক করল, আমাদের তিন বোনকে অন্য পরিবারে দত্তক দিয়ে দিবে। যেই কথা, সেই কাজ দাদীর। তাকে বোঝানোর বা আটকানোর সাধ্য কারো ছিল না। তবুও ছোট চাচী ও দাদা একটু চেষ্টা করেছিল, কিন্তু দাদীর যুক্তির কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে। তবে দাদীর এই সাহস ও ইচ্ছার পেছনে তার পছন্দের পুত্রবধূর ইন্ধনটাই ছিল অত্যধিক। তিনি অহেতুক রাতদিন নানা ছলে দাদীর কান ভারী করে তুলতেন আমাদের পাঁচ বোনের বিষয়ে।
​এতগুলো মুখ আমাদের! আমরা এত খাই! আমাদের জন্য এত খরচ হয়! এক পুত্রসন্তানের আকুল আশায় আব্বা ও আম্মা পরপর পাঁচটি কন্যাসন্তান জন্ম দিয়ে ফেলল। তখনই দাদী ও ফুফুরা হয়তো নিশ্চিত হলো যে, আম্মার কোলজুড়ে পুত্রসন্তান আর কখনো আসবে না।

​শীতের এক মরা বিকেলে দাদী, দাদা ও ফুফুরা আব্বাকে ডেকে বসল বৈঠকখানায়। আমার বয়স তখন চৌদ্দ, তাই সব আমার মনে আছে। আম্মা ও আমিও গিয়ে দাঁড়ালাম ঘরের মাঝখানের চৌকাঠে। আমরা মা-মেয়ে সরল মনে বুঝেছিলাম, সবাই গল্পগুজব করছে—আমরাও যাই, এতে আসরটা ভালোই জমবে।
​কিন্তু নাহ! বড় ফুফু আমাদের মা-মেয়েকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো করে বলে উঠলেন,
"তোরা মা-মাইরা এইখানে আইলি ক্যান? এইখানে তোগো কোনো কাম নাই। আমরা একটা পারিবারিক বিষয়ে জরুরি আলাপ সারতাছি।"

​আম্মা ও আমি নিরুত্তর থেকে অনুগত ভৃত্যের মতো তাদের সম্মুখ থেকে প্রস্থান নিলাম। আমার ভালো আম্মাটা নিজের মতো করে অন্যদিকে চলে গেল। কিন্তু বাড়ন্ত বয়সের দোষে আমার ভেতরে অপার কৌতূহল। বাধা পেলাম বলে উৎসুকতা বেড়ে দ্বিগুণ হলো। আমি রুমের বাইরে থেকে লুকিয়ে বেড়ার ফাঁকে কান চেপে ধরলাম এবং আড়ি পেতে শুনতে লাগলাম তাদের কথা।

​তারা যে কথাগুলো চাপাকণ্ঠে বলছে, তা কিন্তু নয়। বুঝতে পারলাম, আমাদের কথা সরাসরি আমাদের সামনে বলতে একটু বিবেকে বাজবে, তাই আমাদের সরিয়ে দেওয়া হলো। তাদের আলোচনার বিষয়টা ছিল আমাদের জন্য নিদারুণ দুঃখ, অবহেলা ও অনাদরের!

​দাদী অতি আহ্লাদী সুরে আব্বাকে বলল,
"হুন বাবা, এক ছেলের আশায় আর কত অপেক্ষা করবি? তুই আমাগো একমাত্র ছেলে। অহন তোর ঘরেও যদি একটা ছেলে পয়দা না হয়, ক্যামনে হইবো ক? বংশ তো নির্বংশ হইয়া যাইবো। আমরা মইরা গেলে তুই আমাগো কবর জিয়ারত করবি। তোর বইনেরা পরের বাড়ি থেইকা সংসার ফালাইয়া বছরেও আইব না মা-বাপের কবরের তদারকি করতে। তুই মইরা গেলেও তো একই হাল হইবো, যদি একটা ছেলেও না থাকে। বাড়িঘরে বাত্তি জ্বালানোরও তো কেউ থাকব না বাপ! পাঁচ মাইয়া থাকব পাঁচ গেরামে। তাই মা, তোরে আবার বিয়া করাইতে চাই। তুই আপত্তি তুলিস না। বউরে আমরা সবাই মিলা বুঝাইয়া নিমুনি। মাইয়া দেখনের দায়িত্ব আমাগো, তুই চাকরি কইরা ক্যামনে খুঁজবি, টাইম তো মিলব না।

​আর আরেকখান কথা বাবা, আমরা ধনী নয়। হারাদিন হিসাব কইরা চলতে হয়, খাইত হয়। তোর ঝিয়েরা ক্যামন শুকাইয়া যাইতাছে, অপুষ্টিতে ভুগতাছে। তার চাইতে তোর তিন ঝিয়েরে আমি তিন ঘরে দিয়া দিই—আমাদের চেনাজানা লোকের মইধ্যেই। হাগো সম্পদশালী আছে, খাওন-পরনের অভাব নাই। এই লগের গেরামেই থাকব। নিজের বাইত ঠিকমতন আহার না পাইয়া পুঁটিমাছের মতন পঁইচা যাওনের চাইতে আত্মীয়ের বাইত আরাম-আয়েশে থাকন ভালা না? ক? খাইয়া-লইয়া ডাগড় হইলে দেখতে-শুনতে পছন্দসই হইব, বিয়া দিতে আটকাবি না তুই। ভালো ভালো ঘর থেইকা সম্বন্ধ আইবো, নয়তো বিপদে পইড়া যাইবি।"

​দাদী থামল। তার কথার রেশ ধরে ফুফুরাও আব্বাকে বোঝাতে লাগলেন। আব্বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন, ভাবলেশহীনভাবে বসে রইলেন। কোনো প্রতিউত্তর বা প্রতিবাদ করলেন না মা-বোনদের সাথে। চড়া কণ্ঠে কথা বলার মতো সেই সুযোগও তারা রাখেনি। কারণ দাদী ও তাদের প্রতিটি কথাই ছিল যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য। আমি এখন বুঝি, কিন্তু তখন অতটা বুঝিনি। আব্বা উঠে চলে গেলেন উঠানের দিকে।

​ সালমার কথাগুলো শুনতে শুনতে কাজলের আঁখিজোড়ায় তন্দ্রা নেমে এল। সে নিবু নিবু গলায় জিজ্ঞেস করল,
"আপা, আমি তখন কতটুকুন ছিলাম?"

​"তুই তখন ছয় মাসের শিশু। তুই ছোট মেয়ে হয়ে বেঁচে গিয়েছিস, কাজল। পরিবারে বড় সন্তান হলে তার মনের ওপরে, জীবনের ওপর দিয়ে কী রকম তুফান বয়ে যায়, তা তোর কল্পনারও বাইরে। আর মেয়ে হলে তো খুব কাছ থেকেই মায়ের দুর্ভাগা জীবনের সাক্ষী হতে হয় এবং সেই বিষাদময় ট্র্যাজেডি ও ঘটনার দুঃসহ স্মৃতিগুলো নিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয় প্রতিটি মুহূর্তে।"

​"আপা, তারপর কী হলো?"
​সালমা প্রলম্বিত শ্বাস ফেলে বলল,
"আমাদের অন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া, আব্বার দ্বিতীয় বিয়ে করা—দাদীর এই দুই প্রস্তাবকেই আব্বা উত্তম প্রস্তাব হিসেবে বুঝে নিল এবং কিছুদিন পর সহমত জানাল। দাদী ও ফুফুরা সংসারের অভাব-অনটন দেখিয়ে এবং ছেলেসন্তানের গুরুত্ব বুঝিয়ে আব্বাকে যেভাবে রাজি করাল, তাতে না করার কোনো জো ছিল না। এককথায়, আব্বা পরাভূত হলো।
​তারপর আর কী! আব্বার অনুমতিক্রমে আমার, লিপির ও মিনুর ঠাঁই হলো তিন গ্রামে।

আমাদের মা সেদিনই অর্ধমৃত হয়ে গিয়েছে। তার পরের বিষয়গুলো তোর সম্পূর্ণ অজানা। যা জানিস, সব মিথ্যা! সব ভুল! আমি আজও তোকে এসব বলতাম না বোন। আমাদের জীবনের পেছনের ইতিহাস টেনে এনে না বললে, তুই কিছু বুঝবি না। আর বিয়েতেও রাজি হবি না। যেন তুই এই বিয়েতে অমত না করিস, তাই আমার এসব জানাতে হচ্ছে তোকে। তোর চোখভর্তি ঘুম, ঘুমিয়ে যা। বাকিটা পরে বলব।"

​কাজল নিরুত্তর। পিটপিট চোখে চেয়ে রইল বড় বোনের দিকে। তার ভ্রমরকালো আঁখিজোড়ার ভেতরে অপার কৌতূহল খেলা করছে।
​"আপা বল, চোখ বন্ধ থাকলেও মন সজাগ আছে।"

​"তুই প্রতিশোধ নিতে পারবি, কাজল? কঠিন প্রতিশোধ? যাদের জন্য একটি সংসার নামের সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেল! অযত্নে ও অনাদরে শুকিয়ে ঝরে গেল সেই বাগানের কিছু ফুল! আর এই প্রতিশোধ নিতে হলে তোকে এই বিয়েতে রাজি হতেই হবে, কাজল!"

​......১ ✍️ #রেহানা_পুতুল
ক্রমশ... ১
প্লিজ শেয়ার দিবেন ভালো লাগলে। পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন?

আমিও চাকরি করবো আমি শুধু গৃহপালিত বউ হয়ে থাকতে পারবো না।​মানে? তাহলে আমি তোমার স্বামী হয়ে ঘরে চুড়ি পড়ে বসে থাকবো? আমার চ...
05/08/2026

আমিও চাকরি করবো আমি শুধু গৃহপালিত বউ হয়ে থাকতে পারবো না।
​মানে? তাহলে আমি তোমার স্বামী হয়ে ঘরে চুড়ি পড়ে বসে থাকবো? আমার চাকরির বেতন দিয়ে কি তোমাকে খাওয়াতে পড়াতে পারছি না নাকি?
​যে বিয়ের ৭ বছর পর দুই বাচ্চার মা হয়ে বলো চাকরি করবে। বাচ্চা সামলাবে কে? এগুলো যদি বাবা মায়ের কানে বা বাইরের কোনো লোকের কানে যায় তাহলে মানসম্মান থাকবে? বলবে যে বউ দিয়ে চাকরি করিয়ে খাচ্ছে।
​আমি তখন আমার স্বামীর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম.. কেন? বাচ্চা কি আমার একার যে আমি একা সামলাবো? আর মানসম্মানের কথা বলছো মানসম্মানের আগে আমার মা বাবা বোন আগে। আমার ছোট বোনটা যখন আমার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় তখন আমার কলিজা পু*ড়ে যায়। আমার বোন আমার কাছে কোনো কিছু চায়নি এখন পযন্ত তবে সেদিন তার ফরম ফিলাপের টাকার ১৮০০ টাকা কম ছিলো আমার কাছে টাকা চেয়েছিলো। আমি তাকে সাথে সাথে বলেছিলাম আচ্ছা তোর দুলাভাই সন্ধ্যা অফিস থেকে আসলে আমি তোর বিকাশে পাঠিয়ে দিবো।

"সেদিন আমি যখন তোমার কাছে দুই হাজার টাকা চাইলাম, তুমি কী বলেছিলে মনে আছে?"
সে কোনো উত্তর দিল না। আমি নিজেই বললাম, সেদিন তুমি বলেছিলে..
"'মাসের শেষে টাকার জন্য কানের কাছে এসে ভোঁ ভোঁ করো না তো মাছির মতো।'"

কথাটা বলতে গিয়ে আমি কান্না করে দিলাম।
এমন একটা কথা আমি কোনোদিন তোমার কাছ থেকে আশা করিনি।
টাকা না থাকলে বলতে পারতে, পরে দেব। কিন্তু আমাকে মাছির সঙ্গে তুলনা করলে কেন?

​সেদিন সন্ধ্যায় যখন রূপা ফোন দিলো কিন্তু আমি ফোন রিসিভ করতে পারি নি। রিসিভ করে কি বলবো বলার মতো কোনো কিছু ছিলো না আমার কাছে।
​কথা গুলো বলতে বলতে কান্না করে দিলাম।
​চোখের কোণে জমা হয়ে থাকা নোনা জল চিবুক বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়লো। গলাটা দলা পাকিয়ে আসছিল, কিন্তু আজ আমি আর নিজেকে সামলালাম না। গত সাতটা বছর ধরে এই সংসার নামের সোনার খাঁচায় বন্দি হয়ে তিল তিল করে নিজের সব চাওয়া-পাওয়া বলি দিয়েছি। আজ আর চুপ থাকার কোনো উপায় নেই। বুক ফে''টে কান্না আসলেও দৃষ্টিতে ছিল এক অদম্য জেদ।

​শাহেদ আমার এই চোখের জলের দিকে একপলক তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর ধপাস করে সোফায় বসে পড়ল। তার চেহারায় কোনো অনুশোচনা বা সহানুভূতির ছাপ ছিল না; বরং সেখানে ফুটে উঠেছিল চরম বিরক্তি আর পুরুষালী অহং*কারের বিষাক্ত ছায়া।

​"তুমি একটা ছোট কথা নিয়ে অহেতুক জলঘোলা করছ," শাহেদ ঠান্ডা গলায় বলল, তবে তার কণ্ঠে ছিল অবহে*লার সুর। "মাসের শেষ দিনগুলোতে অফিসে কত চাপ থাকে তুমি জানো? আমার হিসাব মেলাতে নাভিশ্বাস ওঠে। সেই সময় হঠাৎ করে এসে টাকা চাইলে মাথা ঠিক থাকে? আর তোমার বোনকে না হয় চার পাচ দিন পর সামনের মাসে টাকাটা দেয়া যেত। এত নাটক করার কী ছিল?"
​আমি শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখটা মুছে নিলাম। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শাহেদের মুখোমুখি হয়ে বললাম, "নাটক? কোনটা নাটক শাহেদ? একটা ১৭ বছরের মেয়ে, যে জীবনে প্রথমবার তার একমাত্র বোনের কাছে একটু ভরসা পেয়ে কিছু চেয়েছিল—তার সেই ভরসা ভে*ঙে দেওয়াটা নাটক? টেস্ট পরীক্ষার ফরম ফিলাপের ডেট কি তোমার মাসের শেষ আর শুরুর হিসাব মেনে চলবে?

পরদিন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল! তুমি জানো রূপা সারা রাত ঘুমাতে পারেনি? আর আমি... আমি সারা রাত নিজের অযোগ্যতার আ*গুনে পুড়েছি।"
জানি না পরে আমার বাবা এক হাত প্যারালাইজড নিয়ে কিভাবে টাকা জোগাড় করেছিলো। তবে এটুকু জানি জোগাড় করেছিলো।

​"অযোগ্যতা মানে?" শাহেদ সুর চড়িয়ে বলল। "তুমি এই বাড়িতে কিসের কষ্টে আছ, হ্যাঁ? এসি রুমে থাকছ, যা ইচ্ছা রান্না করে খাচ্ছ, যা পরতে চাইছ পাচ্ছ। তুমি তো রাজরাণীর মতো আছ! তোমার বাপের বাড়ির অভাব মেটাতে পারছি না বলে আমি খারাপ হয়ে গেলাম?"

​শাহেদের মুখে ‘বাপের বাড়ির অভাব’ কথাটা শুনতেই আমার পুরো শরীরে যেন বিদ্যুতের তরঙ্গ খেলে গেল। বিয়ের সময় বাবা সাধ্যের বাইরে গিয়ে যৌ*তুক না দিলেও জামাইকে আপ্যায়ন করতে কোনো কমতি রাখেননি। আজ সেই বাবাকে, সেই পরিবারকে এমন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য!

​"খবরদার শাহেদ!" আমি শক্ত গলায় আঙুল তুলে তাকে সতর্ক করলাম। "আমার বাপের বাড়িকে এর মধ্যে টানবে না। রাজরাণীর মতো আছি, তাই না? এই রাজরাণী সকাল ছয়টা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্য পিঠ সোজা করে বসতে পারে না। তোমার মা-বাবার সেবা, তোমার দুই বাচ্চার সার্বক্ষণিক দেখাশোনা, ধোয়ামোছা, রান্না—এগুলো যদি কোনো কাজের লোককে দিয়ে করাতে, তবে মাসে অন্তত পনেরো-বিশ হাজার টাকা গুনতে হতো। আমি বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা খেটে যাওয়া এক দা*সী ছাড়া আর কিছুই নই। আর বিনিময়ে আমার নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই, একটা টাকা নিজের স্বাধীনতায় খরচ করার অধিকার নেই!"

​শাহেদ তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। "খুব তো হিসাব শিখেছ দেখছি! তা চাকরিটা করবে কোথায়? কে দেবে তোমাকে চাকরি? টেনে টুনে অনার্স শেষ করার পর সাত বছর ধরে হাড়িপাতিল ঠেলছ। এখন তো কোনো কোম্পানিতে কাস্টমার কেয়ারের চাকরিও পাবে না। বাস্তবতা বোঝো, আনিকা। আবেগে ভেসে লাফ দিও না। মুখ থুবড়ে পড়বে।"

​শাহেদের প্রতিটি কথা আমার আত্মসম্মানে চাবুকের মতো আ**ঘাত করছিল। হ্যাঁ, বিয়ের পর পরই অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষাটা কোনোমতে দিয়েছিলাম। রেজাল্টও ভালোই ছিল। কিন্তু তারপরই শাহেদ আর তার পরিবারের আবদার—"সংসার আর বাচ্চা আগে, চাকরি দিয়ে কী হবে?" তাদের মিষ্টি কথায় ভুলে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে রান্নাঘরের ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আর আজ সেই ত্যাগের মূল্য দিচ্ছে তারা এভাবে?
​"আমি চাকরি পাব কি পাব না, সেটা আমার যোগ্যতা দিয়ে আমি প্রমাণ করব," আমি নিজেকে বেশ শান্ত রেখে বললাম। "কিন্তু আমি আর এই পরজীবী হয়ে বেঁচে থাকার অপ*মান সহ্য করব না। আজ থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নিজের পায়ে দাঁড়াবই।"

"আমি চাকরি করতে চাই টাকার অহং*কার দেখানোর জন্য না। আমি চাই, কোনোদিন যদি আমার মা বাবা অসুস্থ হয়, আমি যেন কারও কাছে হাত না পাতি। আমার বোন যদি আবার সাহায্য চায়, আমি যেন বলতে পারি, 'চিন্তা করিস না, আমি আছি।' আমি চাই না, আমার সন্তানরা বড় হয়ে দেখুক তাদের মা নিজের পরিবারের জন্য সামান্য সাহায্যও করতে পারেনি।"

​"আর আমার বাচ্চা দুটোর কী হবে?" শাহেদ গর্জে উঠল। "আয়ান আর আরিশাকে কে সামলাবে? ডে-কেয়ারে ফেলে রেখে আসবে? (পেইজ The Story Haven)
নাকি আমার বয়স্ক মা-বাবা ওদের পেছন পেছন দৌড়াবে?"

​"সন্তান শুধু আমার নয়, শাহেদ," আমি বেশ দৃঢ়তার সাথে জবাব দিলাম। "ওরা তোমারও সন্তান। বাবা হিসেবে দায়িত্ব নিতে শেখো। আমি যদি সকালে ওদের আলাদা ভাবে নাস্তা বানিয়ে, পড়াশোনা বুঝিয়ে কাজ সামলাতে পারি, তুমি কেন পারবে না? যে বাবা নিজের সন্তানকে দুই ঘণ্টা সামলাতে পারে না, তার অন্যকে বড় বড় নীতি কথা বলার কোনো অধিকার নেই। আর তোমার মানসম্মানের কথা বলছ তো? বউ চাকরি করলে যদি মানসম্মান যায়, তবে সেই মানসম্মান কাঁচের মতো ভঙ্গুর! সমাজে মুখ দেখানোর ভয় থাকলে নিজের মানসিকতা বদলাও, আমাকে থামানোর চেষ্টা কোরো না।"
​রুমের দরজায় তখন শাশুড়ি মা এসে দাঁড়িয়েছেন। শাহেদের আর আমার চড়া গলা শুনে হয়তো নিচে থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর মুখে স্পষ্ট অসন্তোষ। তিনি দরজায় হেলান দিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, "কী শুরু করেছ তোমরা সকাল সকাল? আনিকা, এসব কী শুনছি? ঘরের বউ বাইরে গিয়ে কাজ করবে? আমাদের বংশে কোনো দিন কোনো মেয়ে চাকরি করেনি। লোক হাসাবে নাকি তুমি?"
​আমি শাশুড়ি মায়ের দিকে তাকালাম। এত বছর যাকে নিজের মায়ের মতো শ্রদ্ধা করে এসেছি, আজ তার চেহারায়ও কেবল বংশের তথাকথিত 'মানসম্মান' রক্ষার আকুতি, কিন্তু আমার বুকের ভেতরের যন্ত্রণাটা বোঝার মতো সামান্যতম সহানুভূতি নেই।
​আমি একটা গভীর শ্বাস নিলাম। ভেতরের সমস্ত ভ''য়, দ্বিধা আর দুর্বলতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে খুব শান্ত গলায় বললাম, "আম্মা, আপনাদের বংশের ইতিহাস বদলানোর সময় এসেছে। এতদিন আপনার ছেলের অবহেলা আর অধিকার খাটাই সহ্য করেছি, কিন্তু এবার আমার আ*ত্মসম্মানের প্রশ্ন। আমি আর পিছিয়ে আসব না।"
​কথাটা বলেই আমি নিজের ঘরের আলমারির দিকে এগিয়ে গেলাম। আমার জমানো পুরানো সার্টিফিকেট আর কাগজপত্রগুলো যেখানে ধুলো জমে পড়ে ছিল, সেগুলো আজ বের করার সময় হয়েছে। শাহেদ আর তার মা হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আজ এই ঘরে যে ঝড় উঠেছে, তা শুধু একটা ঝগ*ড়া নয়—এটাই আমার নতুন জীবনের সূচনা

চলবে..?

অবশেষে আমি
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven (শাহেদ খান)

প্রথম পর্ব কেমন লাগলো? আজকেই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে। ধন্যবাদ সবাইকে

দুলাভাই আমার ওড়না ধরে টান দিতেই বড় আপা ঘরে ঢুকেই আমাকে কষে একটা চড় বসিয়ে শক্তগলায় বললেন , নির্লজ্জ মেয়ে !তোকে কতদিন ব...
04/08/2026

দুলাভাই আমার ওড়না ধরে টান দিতেই বড় আপা ঘরে ঢুকেই আমাকে কষে একটা চড় বসিয়ে শক্তগলায় বললেন , নির্লজ্জ মেয়ে !তোকে কতদিন বারণ করেছি আমার বাড়িতে না আসতে ? বলি কথা কানে যায় না ? গায়ের এত যখন কামড় তখন বিয়ে করে নিলেই পারিস । আমার বাড়িতে কেনো আসিস তুই ? আবার যদি কখনো আমার বাড়ি আসিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি এই বলে দিলাম ।'
কথা গুলো বলেই বড় আপা আমার হাত ধরে ঘর থেকে ধাক্কা দেওয়ার মত বের করে দিলো ।
বড় আপার কথাগুলো কানে ঝিঁ ঝিঁ পোকার মত বাজছে। যে আপা আমার পক্ষ নিয়েছিল বলে বাবার হাতে মার খেয়েছে আজ সে আমাকে এত বাজে বাজে কথা বলল কেমন করে ! আমার গায়ে হাত অবধী তুলল !
সত্য কথা বলতে আমার দোষটা কোথায় ছিল?
দুলাভাই চা চেয়েছিল বলে আমি তাকে চা দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু তিনি যে আমার সাথে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাবেন তা ভাবতেও পারিনি। বড় ভাইয়ের মত যাকে সম্মান করি সে আমার দিকে কামনার হাত বাড়ালো এটা ভাবতেই গা গুলিয়ে এলো । তার উপর বড় আপা এমন ধারা কথা বলল যার মানে বুঝতে পারলাম না ।
বড় আপা আট মাসের গর্ভবতী । আমি তার দেখাশোনা করার জন্যই এখানে এসেছিলাম । বড় আপার বড় ছেলেটা এবার সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে । একটা মেয়ের আশায় আবার নতুন অতিথির আগমন হতে চলেছে ।
.
বড় আপার যখন আঠারো বছর বয়স তখন পঁয়ত্রিশ বছরের প্রবাসীর সাথে বড় আপার বিয়ে হয় । বিয়েতে বড় আপা একদমই রাজি ছিল না । খুব মেধাবী ছিল বড় আপা । এস এস সি পেরিয়ে ইন্টারে পা রাখতেই বাবার এই সিদ্ধান্তে বড় আপার স্বপ্ন মাটিতে মিশে যায় । অবশ্য বড় আপার স্বপ্ন , ভালো লাগা , মন্দ লাগা এগুলো বাবা কখনো গুরুত্বই দেন নি । বাবার প্রথম সন্তান মেয়ে ছিল কি না তাই ! ছেলের আশা করে মেয়ে হওয়ায় বাবা মর্মাহত হয়ে পরেন । তাই বড় আপাকে কখনো ভালো ভাবে গুরুত্ব দেন নি । আমাদের সমাজে এরকম হাজারো বড় আপা আছে যাদের পরিবারে বড় হওয়াটায় একটা অভিশাপ । বড় আপারও তাই হলো । স্বপ্ন ভেঙে বয়স্ক একজনকে বিয়ে করে সংসারে পা দিলেন । .
বিয়ের ছয়মাসের মাথায় বড় আপা প্রথম আমাদের বাড়ি আসে । এর মাঝে আমাদের বাড়ি থেকেও কেউ খোঁজ নিতে যায়নি। তখন আমিও সবে নবম শ্রেনীতে উঠেছি । বড় আপাকে পেয়ে আমি আনন্দিত হলেও বাবা মায়ের তেমন পরিবর্তন দেখতে পাইনি আমি । বড় আপাও হয়ত বুঝেছিল তাই একদিন পরেই সে চলে যায় । পরে জানতে পেরেছিলাম বড় আপা সেদিন নিজের সংসার ছেড়ে এসেছিল । কারন দুলাভাইয়ের চরিত্রে সমস্যা । নারী সঙ্গ ছিল। প্রবাসে থাকাকালীন বাজে যায়গায় যাওয়ার অভ্যাস ছিল যা বিয়ের পরও অব্যাহত থেকে যায়।
বড় আপার তখনকার অবস্থা আমার বোঝার ক্ষমতা না থাকলেও পরে বুঝেছিলাম কিন্তু কিছু করতে পারিনি । আমিও তো মেয়ে!
.
তারপর থেকে বড় আপা আর আমাদের বাড়ি আসত না । আমিই প্রায়ই যেতাম । দুলাভাইয়ের সাথে যথেষ্ট পর্দায় থাকার চেষ্টা করতাম । বড় আপা আগেই বলেছিল , সাবধানে থাকিস । আর পারলে আমার বাড়ি আসিস না । আমি সেদিন হেসে বলেছিলাম , কেনো রে বড় আপা ! আমি কি তোর বুড়া বর় কে কেড়ে নিবো নাকি !
তবুও আসতাম । বড় আপা তো ! মায়ের থেকেও বেশি ছিল আমার জীবনে ।
তাই বড় আপার এই সময়ে পাশে থাকতে চেয়েছিলাম ।
তবে আজ যা হলো তার উপর এই বাড়িতে আর নয় । সব গুছিয়ে বড় আপাকে শেষ বারের জন্য বলতে ওর ঘরের কাছে যেতেই যা শুনলাম তাতে আমার রক্ত হিম হয়ে গেল । দুলাভাইয়ের নজর আমার উপর পরেছিল জন্যই আপু আমাকে ওর বাড়ি আসতে বারণ করেছিল । দুলাভাই নিজেই নাকি বড় আপাকে বলেছে , তোমার বোনটা ভালোই নাদসুনুদুস হচ্ছে । বলি একদিন আমার কাছে দিলেও তো পারো । ছিঃছিঃ ! যাকে এত শ্রদ্ধা করলাম সেই এমন প্রতিদান দিলো?
বড় আপা দুলাভাইয়ের কলার ধরে এসব বলছে আর পাগলের মত কাঁদছে । এই প্রথম আমাকে মায়ের মত বোন আমাকে মেরেছে। ওর মধ্যে কি চলছে আমি তো বুঝতে পারছি।
ভাবতে অবাক লাগছে এই অমানুষটার সাথে বড় আপা এতগুলো বছর সংসার করে যাচ্ছে কিভাবে !
আর করবেই না কেনো , কে আছে বড় আপার? পরিবার থাকতেই তো নেই ! আজ বড় আপা মেয়ে বলে এমন ?
.
বড় আপাকে সেদিন কিছু না বলেই বেড়িয়ে আসি । বড় আপার কান্না আমার সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
দুই মাস পর বড় আপার একটা ফুটফুটে মেয়ে হলো । হাসপাতালে দেখতে গেলাম । মেয়েটা যেন বড় আপার কপি । সেদিন বড় আপা আমাকে জড়িয়ে সে কি কান্না ! পাগলের মত আমার মুখে হাত বুলিয়ে বলছিল ,তোর খুব লেগেছিল তাই না রে? মাফ করে দিস আমাকে । আমি বোন হয়ে তোর গায়ে তুলে ভুল করেছি রে । সে কি কান্না বড় আপার।
বড় আপাকে শক্ত করে ধরে বললাম ,ওই অমানুষটার সাথে কেমন করে চলো ? ছেড়ে দাওনি কেনো বড়আপা ? ঘৃনা আসে না তার প্রতি ?
বড় আপা আমাকে আঁকড়ে ধরে বলল , আমি ওই অমানুষটাকে ছাড়তে পারি কিন্তু আমার সন্তানকে কি করে ছাড়ব বলতে পারিস? আমি আমার নাড়ি ছেড়া সন্তানদের মা হারা করতে পারব না রে । ছোট থেকে বাবা মায়ের আদর তেমন পাইনি। এখন আমিও যদি এদের ছেড়ে দেই তবে এরাও যে শেষ হয়ে যাবে । আর আমি এদের ছেড়ে যাবোই বা কোথায় বল না রে?
বড় আপা আমার বাচ্চাদের মত হাউমাউ করে কাঁদছে। আমি বড় আপাকে ধরে ভাবছি , আপারে তুই কেন আমার মা হয়ে আসলি না রে । কেনো আমি তোর গর্ভে জন্ম নিলাম না । কেনো তোর নাড়ির বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারলাম না রে বড় আপা!
.
বড় আপার মেয়ে জন্মের মাত্র তিনমাস পর আমার বিয়ে হলো । বিয়েটা দিলো বড় আপা নিজে । এতেও মা বাবার কোনো দায়িত্ব নেই ।দুটোই মেয়ে , কোনো ছেলে নেই এতেই তারা সারাজীবন শোকাহত থাকলেন । আমি চাকরী করে তাদের হাতে টাকা তুলে দিতে গিয়ে যে বিয়ের বয়স পার করে দিয়েছি সেটাও তারা খেয়াল করেননি ।
বিয়েটা হলো বড় আপার ইন্টারের এক ফ্রেন্ডের ছোট ভাইয়ের সাথে । বড় আপার সাথে হঠাৎই দেখা হলে আমার কথা বলতেই বন্ধু তার ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায় । কারনটা অবশ্য পরে জেনেছিলাম । সেই বন্ধুটি বড় আপাকে পছন্দ করেছিল তবে বলার আগেই বড় আপার বিয়ে হয়ে যায়। যদিও সে বিয়ে করে এখন সংসারী । দেশের বাইরে থাকেন । আমাকেও বিয়ের পর দেশের বাইরে নিয়ে যাবেন এটা শোনার পর বড় আপা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছিল । আমি জেনেছি বিয়ের পর ।


যেদিন দেশের বাইরে পা রাখার জন্য বের হলাম সেদিন বড় আপার অসহায় মুখেও প্রাপ্তির হাসি দেখেছিলাম । আমার বিদায় বেলায় সে এক ফোটা চোখের পানি ফেলেনি । আমি সেদিন চিৎকার করে কেঁদেছিলাম । বড় আপা বলেছিল , ধুর পাগলী । আবার তো দেখা হবে । এমন কেউ কাঁদে । নিজের আর সংসারের খেয়াল রাখিস । যার হাতে দিলাম সে তোকে সুখেই রাখবে । তোর বড় আপার পক্ষ থেকে তোকে দেওয়া সবচেয়ে দামী উপহার এটা ।
.
দামী উপহারটা সত্যিই অনেক দামী । বড় আপা আমাকে জীবনের সেরা উপহারটা দিয়েছেন ।
দেশের বাইরে আসার পর বড় আপার সাথে এক দুইদিন পর পরই কথা হত । মেয়ে হওয়ার পর থেকে নাকি দুলাভাই অনেক পাল্টে গেছে । বড় আপাকেও যত্ন করে । আমার বিবাহিত জীবনও ভালোভাবে যাচ্ছিল ।
তবে বেশি সুখ নাকি কপালে সহ্য হয়না ।
দুই বছরের মাথায় ,একদিন ভোরে দেশ থেকে মেসেজ আসল , বড় আপা ঘুমের মধ্যেই আমাকে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেছে । সেই মূহূর্তে বড় আপার ওই নিঃপাপ ঘুমন্ত মুখটা চোখে ভাসছিল । আমার বড় আপা কত কষ্ট নিয়ে নিরবভাবে চল গেল । একটু সুখের দেখা পেলো কি পেলো না আর এখনি সে এমন জায়গায় চলে গেল যে আর কোনোদিন আসবে না ।
বড় আপা তুই বড় মিথ্যেবাদী । তুই বলেছিলি আবার দেখা হবে । সত্যিই কি আর দেখা হবে রে বড় আপা !!!

গল্প- বড় আপা
লিখেছেন- Rabeya Bithy

Address

Sylhet

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Choto Dairy 01 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Choto Dairy 01:

Shortcuts

Share