Choto Dairy 01

Choto Dairy 01 Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Choto Dairy 01, Sylhet.
(11)

আল্লাহ সর্বশক্তিমান

আপনারা যারা বলেন পরের পর্ব খুজে পান না, এই পেইজে পরের পর্ব গুলা দিয়ে থাকি, তাই পরের পর্ব গুলা, মিছ না করতে চাইলে নীল লেখায় চাপ দিয়ে আইডিকে ফলো করে রাখুন। 👉 Flash Films

সে ব্যাংকক থেকে ফিরেছিলো এই ভেবে যে, তার স্ত্রী তাকে বরাবরের মতোই ক্ষমা করে দেবে।​কিন্তু সে যখন তার পড়ার রুমে ঢুকলো, দেখ...
01/06/2026

সে ব্যাংকক থেকে ফিরেছিলো এই ভেবে যে, তার স্ত্রী তাকে বরাবরের মতোই ক্ষমা করে দেবে।
​কিন্তু সে যখন তার পড়ার রুমে ঢুকলো, দেখল স্ত্রী ডিভোর্স পেপার আর একটি গোপন লক করা ফোল্ডার নিয়ে শান্ত মুখে বসে আছে। এ যেন এমন এক নারীর মুখ, যে তার মনের ভেতর জমে থাকা ভালোবাসাকে অনেক আগেই কবর দিয়ে ফেলেছে।

​ভোর হওয়ার আগেই রায়হান চৌধুরী বুঝতে পারবে, যাকে সে কেবলই ঘরের 'শো-পিস' মনে করত, সে গত ছয় মাস ধরে তার পুরো বিজনেস সাম্রাজ্যের ভিত কীভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।
​রাত তখন ১টা ১৭ মিনিট। গুলশানের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স পেন্টহাউজের প্রাইভেট লিফটটা যখন খুলল, রায়হান চৌধুরীর চোখে প্রথম যে জিনিসটা ঠেকল, তা হলো এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।
​এটা ঠিক বড়লোকদের বাড়ির সেই চেনা আভিজাত্যের নীরবতা নয়, যেখানে দামি কার্পেট আর ট্রিপল-গ্লেজড কাঁচ বাইরের সব শব্দ শুষে নেয়, কিংবা যেখানে গৃহকর্মীদের নিঃশব্দে চলাফেরার প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকে। এই নীরবতার মধ্যে অন্যরকম একটা ভার ছিল। মার্বেল পাথরের ড্রয়িংরুমে সেটা যেন একটা হুঁশিয়ারির মতো ঝুলে আছে। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি। বসার ঘরের বিশাল কাঁচের দেয়ালে আছড়ে পড়ছে বৃষ্টির ফোঁটা, বাইরের ঢাকার চেনা নিয়ন আলোগুলোকে ঝাপসা আর ভেজা দেখাচ্ছে। অনেক দূরে মেঘের ডাক শোনা গেল—খুব মৃদু কিন্তু গম্ভীর।
​এক হাতে চামড়ার ট্রাভেল ব্যাগ আর অন্য হাতে মখমলের একটা দামি অলংকারের বাক্স নিয়ে লিফট থেকে বের হলো রায়হান। গলার টাইটা কিছুটা আলগা করা। গালে দুদিনের না-কামানো দাড়ি। তার গা থেকে তখনো হালকা প্লেনের জ্বালানি, দামি হুইস্কি আর সেই তীব্র গোলাপের সুগন্ধ আসছিল, যা তার পিএ সামিয়া রহমান নিজের গলায় মাখে।
​ব্যাংককের ট্রিপটা দারুণ লাভজনক হয়েছে।
​প্লেনে ফেরার সময় রায়হান নিজেকে এই সান্ত্বনাই দিচ্ছিল।
​লাভজনক।
​থাইল্যান্ডের সেই বড় কনসোর্টিয়ামটা শেষ পর্যন্ত গ্রিন-এনার্জি প্রজেক্টের চুক্তিপত্রে সই করেছে। এই নতুন প্রজেক্টের শেয়ার বাজারে আসার পর রায়হান চৌধুরী শুধু ধনীই থাকবে না, দেশের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন হয়ে উঠবে। আর সামিয়া—যে প্রচণ্ড বুদ্ধিদীপ্ত, লোভী আর বেপরোয়া—সে এই পুরো ট্রিপের কাজের ফাঁকে ফাঁকে রায়হানকে এমনভাবে প্রশংসায় ভাসিয়েছে, যা তার নিজের স্ত্রী বহু বছর আগেই বন্ধ করে দিয়েছে।
​নীলা ছিল শান্ত।
​নীলা ছিল মার্জিত।
​নীলা সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে, চুপচাপ সব শোনার একটা অভ্যাস ছিল তার। রায়হান সেটাকে নীলার দুর্বলতা ভেবেছিল এবং পরবর্তীতে সেটাকে নিজের যা-খুশি-তাই করার লাইসেন্স বানিয়ে নিয়েছিল। নীলা এখন পাঁচ মাসের অন্তসত্ত্বা। রায়হান মনে মনে ভাবত তার 'সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী' আসছে, যদিও সে আজ পর্যন্ত জানার চেষ্টাও করেনি পেটের সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে। তার কাছে এই সন্তানসম্ভবা স্ত্রী হলো একটা পারিবারিক আভিজাত্যের অংশ। একটা স্ট্যাটাস। ভবিষ্যতের পত্রিকার হেডলাইন। চৌধুরী পরিবারের নিখুঁত ইমেজের আরেকটা উজ্জ্বল পালক মাত্র।
​রায়হান ভেবেছিল নীলা হয়তো ড্রয়িংরুমের সোফায় তার জন্য অপেক্ষা করছে।
​সাধারণত সে অপেক্ষাই করে।
​রায়হানের আত্মবিশ্বাসের অন্যতম কারণ ছিল এটাই।
​"নীলা?" রায়হান ডাকল।
​তার গলার আওয়াজ দামি ইতালিয়ান মার্বেলের মেঝে আর ড্রয়িংরুমের প্রাচীন ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যগুলো পার হয়ে ঘরের দেয়ালে ধাক্কা খেল। কোনো কাজের লোক তার কোটটা এগিয়ে নিতে এলো না। সোফার পাশের ডিম লাইটটাও জ্বলছে না। করিডোরে কোনো চেনা পায়ের শব্দ পাওয়া গেল না।
​কেবল বৃষ্টির শব্দ।
​অবশেষে সে নীলাকে খুঁজে পেল তার নিজের পার্সোনাল স্টাডি রুমে।
​তাদের যৌথ ঘর নয়। রায়হানের খাস কামরায়।
​দামি সেগুন কাঠ, স্মোকড গ্লাস আর লেদার দিয়ে সাজানো এই ঘরটা ছিল রায়হানের আসল দুর্গ। এই ডেস্কে বসেই রায়হান চৌধুরী অন্য কোম্পানির শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার কাগজে সই করে, ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের পথে বসানোর ফরমান লেখে। আর আজ সেই ডেস্কের পেছনে বসে আছে নীলা জামান চৌধুরী।
​কিছুক্ষণের জন্য রায়হানের মনে উদ্বেগের চেয়ে বিরক্তিটাই বেশি ভর করল।
​সে তার চেয়ারটায় বসে আছে!
​নীলা কখনো এই চেয়ারে বসে না।
​তার পরনে একটা অফ-হোয়াইট রঙের কাশ্মিরী সালোয়ার-কামিজ, যা তার পাঁচ মাসের সন্তানসম্ভবা পেটটাকে আলতো করে জড়িয়ে রেখেছে। তার সিল্কি চুলগুলো, যা সাধারণত কাঁধের ওপর খোলা থাকে, আজ শক্ত করে একটা খোঁপা করা। শরীরে কোনো গয়না নেই, কেবল আঙুলের বিয়ের আংটিটা ছাড়া। আজ রাতে সেই আংটিটাকেও কোনো অলংকার নয়, বরং একটা চূড়ান্ত প্রমাণ বলে মনে হচ্ছিল। ল্যাম্পের আলোয় তার মুখটা ফ্যাকাসে কিন্তু দীপ্ত দেখাচ্ছিল, আর তার চোখে কোনো কান্নার দাগ ছিল না।
​এই ব্যাপারটা রায়হানকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে দিল।
​আহত বা কান্নারত নারীকে সামলানো সহজ, তাকে বশ করা যায়।
​কিন্তু নীলাকে দেখে মনে হচ্ছিল, সে সব হিসাব চুকিয়ে ফেলেছে।
​"তুমি ফিরলে তাহলে," নীলা বলল।
​তার গলায় কোনো প্রশ্ন ছিল না।
​রায়হান মুখে একটা ক্লান্ত হাসি ফুটিয়ে মখমলের বাক্সটা এগিয়ে দিল। "প্রচণ্ড খাটুনির ট্রিপ ছিল। থাই লোকগুলো সহজে রাজি হতে চায় না, তবে শেষ পর্যন্ত কাজটা হয়েছে। তোমার জন্য ব্যাংককের শপিং মল থেকে এটা এনেছি।"
​সে ডেস্কের ওপর নীলার হাতের কাছে বাক্সটা রাখল।
​একটা হীরার ব্রেসলেট। আকাশছোঁয়া দাম। এটা আসলে একটা সুক্ষ্ম ঘুষ—নিজের অপরাধবোধ ঢাকার, নীলার মন ঘোরানোর আর তাকে বেঁধে রাখার একটা সোনার শিকল।
​নীলা ওটার দিকে তাকাল।
​কিন্তু ছুঁয়েও দেখল না।
​"খুশি হলাম যে ব্যাংকক ট্রিপটা তোমার ভালো কেটেছে," নীলা শান্ত গলায় বলল। "বছরের এই সময়ে 'দ্য সুখুমভিত' হোটেলটা বেশ মনোরম থাকে, তাই না?"
​ডেস্কের কোনায় রাখা রায়হানের হাতের আঙুলগুলো জমে বরফ হয়ে গেল।
​সে নীলাকে বলেছিল যে সে তার পুরো টিম নিয়ে 'ফোর সিজনস' হোটেলে উঠেছে।
​আর 'দ্য সুখুমভিত' ছিল একটা অত্যন্ত গোপনে বুক করা ব্যক্তিগত স্যুট। কোম্পানির কোনো কাগজপত্রে এর উল্লেখ নেই, অফিশিয়াল ট্যুর প্ল্যানেও ছিল না। রায়হান নিজের কর্পোরেট ক্ষমতার আড়ালে এই জায়গাটা ব্যবহার করত—যখন সে ঢাকা থেকে, ক্যামেরা থেকে আর সেই স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকতে চাইত, যার নীরবতাকে সে চিরকাল অজ্ঞতা ভেবে ভুল করে এসেছে।
​"নীলা," রায়হান গলাটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল, "তুমি কী বলছ আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।"
​"থামো।"
​শব্দটা খুব মৃদু ছিল।
​কিন্তু রায়হানের বুকে এটা কোনো চিৎকারের চেয়েও জোরে গিয়ে আঘাত করল।
​"তুমি মিথ্যে বলায় পারদর্শী নও, রায়হান," নীলা বলল। "আসলে তুমি এমন সব মানুষ দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকতে অভ্যস্ত, যাদের তোমাকে কোনো প্রশ্ন না করার জন্য টাকা দেওয়া হয়।"
​রায়হান একটা শুকনো, তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। "তুমি ক্লান্ত। মাঝরাতে এই অন্ধকারে বসে এসব আজেবাজে কথা বলা তোমার ঠিক হচ্ছে না। তুমি প্রেগন্যান্ট। যাও, ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ো।"
​"আমিও এতদিন সেই বেতনভুক্ত মানুষদের মতোই একজন ছিলাম," রায়হানকে পাত্তাই না দিয়ে নীলা নিজের সুরে বলে চলল। "আমাকে অবশ্য টাকা দেওয়া হতো না, দেওয়া হতো সামাজিক মর্যাদা। ক্ষমতা। একটা বনেদি পদবি। আর একটা সাজানো সংসারের অভিনয়।"
​সে ডেস্কের নিচ থেকে একটা নীল রঙের লেদারের ফোল্ডার বের করল।
​সেটা ভারী একটা শব্দ করে দামি কাঠের টেবিলের ওপর এসে পড়ল।
​"আমি এই চুক্তির অবসান ঘটাচ্ছি।"
​রায়হান ফোল্ডারটার দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।
​"এসবের মানে কী?"
​"ডিভোর্স পেপার।"
​হঠাৎ করেই যেন পুরো ঘরের বাতাস রায়হানের জন্য ভারী হয়ে উঠল।

চলবে,,,,,,

#শেষ_হিসাব
পর্ব:০১


সকলে গল্প পড়ে ক'মে'ন্ট করবেন । পরবর্তী পর্ব পোস্ট করা হলে কমেন্টে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। গল্পটা ভালো লাগলে শে-য়া-র করুন । নতুন পাঠকেরা গল্পের কোনো পর্ব মিস না করতে চাইলে আমার প্রফাইলে যু''ক্ত হয়ে সাথেই থাকুন।
ধন্যবাদ❤️

আমি বিবাহিত এক পুরুষের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলাম এবং আমার সন্তান ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মায়। আমি যখন তার স্ত্রীকে একটি...
01/06/2026

আমি বিবাহিত এক পুরুষের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলাম এবং আমার সন্তান ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মায়। আমি যখন তার স্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম তিনি হয়তো আমাকে ধ্বংস করে দেবেন… কিন্তু তিনি আমাকে এমন এক সত্যের মুখোমুখি করলেন যা আমার নিঃশ্বাস থামিয়ে দিয়েছিল।😱
​আরিফ আমাকে টানা ছয় মাস "জান" বলে ডেকেছিল।
সে কসম খেয়ে বলেছিল, সে একা থাকে।
সে বলেছিল, সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতে (শুক্র-শনিবার) সে আমার সাথে দেখা করতে পারবে না কারণ তাকে তার অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করতে হয়।
আর আমি, সরল মনে তার সব কথা বিশ্বাস করেছিলাম।
​গুলশানের একটা কর্পোরেট অফিসে ওর সাথে আমার পরিচয়। সবসময় দামি পারফিউমের সুবাস, ইস্ত্রি করা চকচকে শার্ট আর মুখে একঝুড়ি বানিয়ে বলা গল্প—এই ছিল আরিফ। সে ছিল এমন এক পুরুষ, যে রিকশা বা গাড়ির দরজা টেনে দিত, সকালে "শুভ সকাল, আমার পরী" লিখে মেসেজ পাঠাত, কিন্তু রাত নয়টার পর কখনো কোনো ভিডিও কলের উত্তর দিত না।
​আমার তখনই সন্দেহ করা উচিত ছিল।
আমার তখনই ওর জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
কিন্তু মানুষ যখন অন্ধ ভালোবাসায় পড়ে, তখন বিপদের লাল সংকেতগুলোকেও আলোকসজ্জা বলে মনে হয়।
​ছয় মাস পর, আমার ফ্ল্যাটের বাথরুমে বসে আমি পরপর পাঁচবার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলাম।
পাঁচবারই রেজাল্ট পজিটিভ এলো। কাঁপতে থাকা হাত নিয়ে আমি বাথরুমের ঠাণ্ডা মেঝেতে বসে পড়লাম এবং ওকে একটা মেসেজ পাঠালাম:
"আরিফ, তোমার সাথে আমার দেখা করা খুব দরকার। জরুরি।"
​সেদিন রাতেই ও আমার বাসায় এলো।
স্ট্রিপের দুটো লাল দাগ দেখে ওর সেই চেনা আকর্ষণীয় হাসিটা এক নিমেষে গায়েব হয়ে গেল।
"আমার একটু সময় দরকার, সায়মা," আমাকে স্পর্শ না করেই সে বলল, "এত বড় একটা ব্যাপার মেনে নিতে আমার সময় লাগবে।"
​ওর সেই "সময় লাগা" মানে ছিল চিরতরে হারিয়ে যাওয়া।
আমার সব ফোন সরাসরি ব্যস্ত দেখাত, মেসেজগুলো সিন হয়ে পড়ে থাকত কিন্তু কোনো উত্তর আসত না। আর আমার পেটটা যখন দিনে দিনে বড় হচ্ছিল, ও তখন একটা অদৃশ্য ভূত হয়ে গেল।
​পাঁচ মাসের মাথায়, ডাক্তার সাহেব কথা বলার আগে আমার হাত দুটো ধরলেন।
তাতেই আমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল।
"সায়মা, আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার সন্তান পৃথিবীতে আসছে, তবে পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে বাচ্চাটি 'ডাউন সিন্ড্রোম' (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন) নিয়ে জন্মাতে যাচ্ছে।"
​প্রথমে আমার চোখ দিয়ে পানি পড়েনি।
আমি শুধু আল্ট্রাসাউন্ডের স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম, আমার ভেতরে ওই ছোট্ট নড়াচড়াটা দেখছিলাম আর মনে মনে নিজেকে অপরাধী ভাবছিলাম যে আমি কেন ভয় পাচ্ছি।
কিন্তু পরে, সিএনজিতে করে ফেরার সময় আমি আর কান্না ধরে রাখতে পারিনি।
বাসায় এসে বিছানায় উপুড় হয়ে কাঁদলাম। বাচ্চার জন্য যে ছোট ছোট হলুদ জামাগুলো কিনে রেখেছিলাম, সেগুলো বুকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদলাম।
​আমি আরিফকে আবার লিখলাম:
"তোমার সন্তানের জানা উচিত যে তার একটা বাবা আছে।"
কোনো উত্তর নেই।
​এক সপ্তাহ পর, আমার বান্ধবী লাবণী এমন এক চেহারা নিয়ে আমার বাসায় এলো, যেন সে কোনো জানাজা থেকে মাত্র ফিরেছে।
"সায়মা, একটু বসো।"
"দোহাই তোর, খারাপ কিছু বলিস না।"
"আরিফ বিবাহিত।"
​কথাটা শুনে মনে হলো কে যেন আমার মাথায় ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দিল।
লাবণী আমাকে ওর স্ত্রী ফারিহার ফেসবুক প্রোফাইল দেখাল।
সেখানে আরিফ হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে।
ফারিহার সাথে।
ওদের দুটি সুন্দর সন্তান।
এমনকি একটা পোষা বিড়ালও আছে।
সিলেটের নাজিমগড় রিসোর্টে ঘোরাঘুরির ছবি, জন্মদিনের কেক কাটার ছবি আর ক্যাপশনে লেখা:
"আমাদের দাম্পত্য জীবনের ১০টি বছর পূর্ণ করার জন্য শুকরিয়া, আমার জীবনের ভালোবাসা।"
​দশ বছর।
ওরা দশ বছর ধরে বিবাহিত!
আর আমি একটা বোকার মতো ওর বাচ্চার মা হতে যাচ্ছি, এমন একটা প্রতারণার জালে ফেঁসে গেছি যার অস্তিত্ব সম্পর্কেও আমি জানতাম না।
​যখন আমার ছেলে রাফসান জন্ম নিল, তখন দুনিয়াটা বদলে গেল।
ও এত ছোট, এত নরম ছিল, ওর ওই মায়াবী টানা টানা চোখ আর ছোট্ট হাতের মুঠো দিয়ে যখন ও আমার আঙুলটা শক্ত করে ধরল, যেন ও আমাকে বলছিল—"আম্মু, শক্ত হয়ে দাঁড়াও, আমাদের সামনের পথটা অনেক কঠিন।"
​আর পথটা সত্যিই কঠিন ছিল।
ডায়াপার, দুধের কৌটা, ডাক্তারের চেম্বার, ল্যাব টেস্ট, থেরাপি—সব মিলিয়ে এক হাহাকার অবস্থা। রাত জেগে কাটানো, আর ওদিকে টেবিলের ওপর জমে থাকা বিলের পাহাড়। আমি ঘর থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতাম, এক হাতে কম্পিউটারের কীবোর্ড আর অন্য হাতে রাফসানের দোলনা দুলোতাম।
​আর ওদিকে আরিফ একটা ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে ছিল।
​এক রাতে, রাফসান যখন আমার বুকে ঘুমাচ্ছিল আর টেবিলের ওপর চাইল্ড স্পেশালিস্টের প্রেসক্রিপশন আর বিলের কাগজটা রাখা ছিল, আমি তখন এমন একটা কাজ করলাম যা করব না বলে কসম খেয়েছিলাম।
আমি ফেসবুকে ফারিহাকে খুঁজলাম।
তার প্রোফাইল পিকচারে সে ধানমন্ডি লেকের পাশে কফি হাতে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে। এমন এক সুখী নারী, যে ধারণাও করতে পারছে না যে তার জীবনটা এখনই ওলটপালট হতে যাচ্ছে।
​আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম:
"আসসালামু আলাইকুম ফারিহা আপা। আমার নাম সায়মা। আমার তিন মাসের একটি ছেলে সন্তান আছে। সে আপনার স্বামী আরিফের সন্তান। আরিফ আমার সাথে প্রতারণা করেছে; সে যে বিবাহিত তা কখনো জানায়নি। আমি গর্ভবতী জানার পর সে পালিয়ে যায়। আমার বাচ্চাটি ডাউন সিন্ড্রোম নিয়ে জন্মেছে এবং আমি সম্পূর্ণ একা। আমি আপনার সংসার ভাঙতে চাই না, কিন্তু আমি নিরুপায় হয়ে সাহায্যের জন্য আপনাকে নক করেছি। আপনার জীবনটা এভাবে অশান্ত করার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
​সাথে আমি রাফসানের একটা ছবি জুড়ে দিলাম।
মেসেজটা পাঠিয়েই আমি ফোনটা বন্ধ করে দিলাম। ভয়ে আমার শরীর কাঁপছিল, বমি বমি লাগছিল।
​পরদিন সকাল নয়টায় আমার দরজায় নক করার শব্দ হলো।
আমি এলোমেলো চুলে, পরনের সাধারণ থ্রি-পিস আর ওড়নায় বাচ্চার দুধের দাগ মাখানো অবস্থায় দরজা খুললাম।
দরজায় দাঁড়িয়ে খোদ ফারিহা!
চোখে কালো সানগ্লাস, সাধারণ একটা সালোয়ার কামিজ, আর হাতে কিছু শপিং ব্যাগ।
ওর চোখ দুটো টকটকে লাল হয়েছিল।
কিন্তু সে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি করল না। ওর এই শান্ত ভাবটা আমাকে আরও বেশি ভীতিগ্রস্ত করে তুলল।
​"তুমি সায়মা?" সে জিজ্ঞেস করল।
আমি মাথা নাড়ালাম।
"আমি ফারিহা। ভেতরে আসতে পারি?"
​আমি একটা জ্যান্ত লাশের মতো একপাশে সরে দাঁড়ালাম। সে ভেতরে এসে ব্যাগগুলো টেবিলের ওপর রাখল এবং আমার ছোট ফ্ল্যাটটার চারপাশটা দেখল।
তারপর সে চোখের সানগ্লাসটা খুলল। বোঝাই যাচ্ছিল, সে সারা রাত কেঁদেছে।
​"প্রথমত," সে বলল, "আমি সেই নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে দেখতে এসেছি, যার উসিলায় আমার স্বামীর আসল চেহারাটা মুখোশমুক্ত হয়েছে।"
​আমি কী বলব বুঝতে পারছিলাম না।
আমি ভেতরে গিয়ে রাফসানকে কোলে করে নিয়ে এলাম।
ফারিহা যখন ওকে দেখল, ওর চোখ ফেটে আবার পানি চলে এলো।
সে রাফসানকে এত আলতো করে কোলে নিল যে আমার ভেতরের সব ভয় কেটে গেল।
"ওহ, আমার লক্ষ্মী বাবাটা...," সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। "তোমার বাবা একটা কাপুরুষ, একটা মোনাফেক, কিন্তু তুমি তো নিষ্পাপ।"
​আর তখনই আমার এতদিনের ধরে রাখা বাঁধ ভেঙে গেল। আমি ফারিহার বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলাম। মনেই হচ্ছিল না যে এই নারীটি আমার সাথে প্রতারণা করা লোকটার স্ত্রী। মনে হচ্ছিল, এই দুনিয়ায় ওই একমাত্র মানুষ যে আমার কষ্টটা বুঝতে পেরেছে।
​ফারিহা রাফসানকে কোলে নিয়ে সোফায় বসল।
"গত রাতে আমি আরিফের ফোন চেক করেছি," সে বলল। "আমি সব চ্যাট, সব ডিলিট করা কল হিস্ট্রি আর ছবি খুঁজে পেয়েছি।"
​ওর মিথ্যাগুলো, এমনকি তার ফোনে আমার নামে একটা হাইড করা ফোল্ডারও ছিল।
​"আপা, আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমি জানতাম না সে বিবাহিত।"
"আমি জানি," ফারিহা আমার কথা থামিয়ে দিয়ে বলল। "সে তোমার সাথেও মিথ্যা বলেছে, ঠিক যেমনটা বছরের পর বছর আমার সাথে বলেছে।"
​সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
রাফসানের দিকে তাকাল। তারপর আমার দিকে।
"আজ সকাল ছয়টায় আমি ওকে ঘুম থেকে তুলেছি। তোমার মেসেজ আর বাচ্চার ছবিটা ওর চোখের সামনে ধরেছি।"
​"ও... ও কী বলল?" আমি ভীরু গলায় শুধালাম।
ফারিহা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।
"ও আমার পায়ে ধরে কেঁদেছে। বলেছে এটা নাকি একটা 'শয়তানের ধোঁকা' ছিল। ও নাকি বুঝতে পারছিল না কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হবে। ও নাকি আমাকেও ভালোবাসে, আবার তোমাকেও..."
​আমি রাগে নিজের হাত মুঠো করলাম।
"আমি ওকে আজ সকালেই কাপড়ের ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে বের করে দিয়েছি," ফারিহা বলল।
​আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
"কী?"
"ও এখন কোনো হোটেলে নাকি ওর মায়ের বাসায় আছে, তা দিয়ে আমার কিছু যায় আসে না। আমার বড় ভাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। আরিফকে এই বাচ্চার খোরপোশ এবং হকের প্রতিটা টাকা পাই পাই করে বুঝিয়ে দিতে হবে। আর ও যদি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, আমি ওকে আইনিভাবে এবং সামাজিকভাবে শেষ করে দেব।"
​আমার চোখ দিয়ে আবার পানি পড়তে লাগল।
"আপা, আপনি আমাকে কেন সাহায্য করছেন? আপনার তো আমাকে ঘৃণা করার কথা ছিল।"
​ফারিহা রাফসানের গায়ে হাত বোলাল। ওর গায়ের কাঁথাটা ঠিক করে দিল।
"কারণ আজ থেকে তিন বছর আগে, আমার একটা মিসক্যারেজ (গর্ভপাত) হয়েছিল," সে খুব শান্ত গলায় বলল। "আর আরিফ তখন শুধু বলেছিল: 'আরে ছাড়ো তো, আল্লাহ চাইলে আবার হবে।' সে আমার মাতৃত্বের কষ্টটা বোঝেনি।"
​চারপাশে এক নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
"আমাদের আর কোনো সন্তান হয়নি, সায়মা। আর আজ আমি জানতে পারলাম যে অন্য একটা নারীর গর্ভে ওর সন্তান এসেছিল, আর ও সেই সন্তানটাকেও এভাবে অবহেলায় ফেলে চলে গেছে!"
​আমি নির্বাক হয়ে রইলাম।
ফারিহা আস্তে আস্তে ব্যাগ থেকে জিনিসগুলো বের করতে লাগল: ডায়াপার, ইনফ্যান্ট ফর্মুলা, বাচ্চার জামা, একটা খেলনা আর একটা ফাইলের ভেতরে কিছু কাগজ।
​"এগুলো বাচ্চার জন্য," সে বলল। "আর এই ফাইলে কিছু ফটোকপি আছে।"
"কিসের ফটোকপি আপা?"
​সে ফাইলটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। ওর হাত কাঁপছিল।
"আরিফের আলমারির ড্রয়ারে লক করা একটা ফাইল থেকে আমি এগুলো পেয়েছি।"
​আমি ফাইলটা খুললাম।
ভেতরে একটা ব্যাংক ট্রান্সফার বা রেমিট্যান্সের রসিদ, যেখানে স্পষ্ট করে আমার নাম লেখা। অথচ আমি কখনো এমন কোনো টাকা পাইনি।
পরের পাতায়: একটি নামী প্রাইভেট ক্লিনিকের বিলের কপি। আমার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখগুলো। আমার বাসার ঠিকানা। এমনকি হসপিটালে আমার অজান্তে তোলা কিছু ছবি!
​আমার মুখ শুকিয়ে গেল।
"আপা... এগুলো কী? এর মানে কী?"
​ফারিহা আমার দিকে তাকাল, ওর চোখ দুটো তখন জ্বলন্ত আগুনের মতো দেখাচ্ছিল।
"সায়মা, আরিফ তুমি গর্ভবতী জানার পর হুট করে ভয় পেয়ে হারিয়ে যায়নি। ও অনেক আগে থেকেই তোমার আর এই বাচ্চার সব খবর রাখত..."
​ফারিহা রাফসানকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল, "আর এর পেছনে এমন একটা ভয়াবহ সত্য লুকিয়ে আছে, যা আমি তোমাকে এখনও বলিনি।"

চলবে,,,,,,

#ছায়া_পুরুষ
পর্ব:০১


নতুন গল্প। ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে বেশি বেশি রেসপন্স করবেন!!!!!!এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!

আমি আমার বাবা-মাকে কখনোই জানতে দিইনি যে আমি আসলে কে। আমার দাদি যখন আমার নামে $৪.৭ মিলিয়ন ডলার (৪৭ লাখ ডলার) রেখে মারা গে...
31/05/2026

আমি আমার বাবা-মাকে কখনোই জানতে দিইনি যে আমি আসলে কে। আমার দাদি যখন আমার নামে $৪.৭ মিলিয়ন ডলার (৪৭ লাখ ডলার) রেখে মারা গেলেন, যে বাবা-মা সারাজীবন আমাকে পাত্তাই দেয়নি, তারা হঠাৎ করেই সেই টাকা কেড়ে নেওয়ার জন্য আমাকে আদালতে টেনে নিয়ে গেল। আমি যখন এজলাসে ঢুকলাম, তারা আমার দিকে তীব্র অবজ্ঞা নিয়ে তাকালো—তারা নিশ্চিত ছিল যে জয় তাদেরই হবে। কিন্তু এরপর যখন বিচারক একটু থামলেন, আমার ফাইলটা ভালো করে দেখলেন এবং ফিসফিস করে একটিমাত্র বাক্য বললেন... পুরো ঘর জুড়ে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা।

​আমার দাদি আমার জন্য ৪.৭ মিলিয়ন ডলার রেখে গিয়েছিলেন। এটা কোনো প্রতীকী বা সামান্য টাকা ছিল না। কোনো অস্পষ্ট বা আবেগতাড়িত বিষয়ও ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণ স্পষ্টভাবে লেখা, আইনগতভাবে কার্যকর একটি উইল (ইচ্ছাপত্র), যেখানে প্রাথমিক উত্তরাধিকারী হিসেবে শুধুমাত্র আমার—হ্যাঁ, কেবলই আমার নাম ছিল।
​আর আমার বাবা-মা যখনই এই খবর জানতে পারলো, তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করে দিল। এরা সেই একই বাবা-মা, যারা আমার পুরো জীবনজুড়ে আমাকে সবসময় উপেক্ষা করে এসেছে। যারা আমার ভাইবোনদের ছোটখাটো সাফল্যকেও আকাশচুম্বী প্রশংসা করত, আর আমার বড় বড় অর্জনকেও স্রেফ "ভাগ্য" বলে উড়িয়ে দিত। যারা আমার জন্মদিন ভুলে যেত, আমার ক্যারিয়ারকে ফালতু ভাবত, আর আত্মীয়স্বজনদের কাছে বলত আমি নাকি "নষ্ট বা অবাধ্য মেয়ে", কারণ আমি তাদের অন্যায় আবদারের কাছে মাথা নত করতাম না।
​তারা যখন উইলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে আমাকে আইনি নোটিশ পাঠালো, আমি বিন্দুমাত্র অবাক হইনি। কিন্তু যখন তাদের অভিযোগটা পড়লাম—যেখানে লেখা ছিল আমি নাকি "একজন বৃদ্ধা মানুষকে ফুসলিয়েছি" এবং এত টাকা সামলানোর মতো "মানসিক যোগ্যতা আমার নেই"—তখন রাগের চেয়েও এক চরম শীতল অনুভূতি আমার ভেতর দানা বেঁধে উঠল।
​শুনানির দিন আমি একটু আগেই আদালতে পৌঁছে গেলাম। আমার পরনে ছিল একটি সাধারণ স্যুট। কোনো গয়নাগাটি ছিল না, পদমর্যাদার কোনো জাঁকজমকও ছিল না। আমি শান্তভাবে আমার আসনে বসলাম, ফাইলগুলো গুছিয়ে রাখলাম এবং নিজের মুখাবয়ব একদম স্বাভাবিক রাখলাম।
​আমার বাবা-মা একসাথে ভেতরে ঢুকলেন, নিজেদের আইনজীবীর সাথে ফিসফিস করে কথা বলছিলেন এবং তাদের চোখে-মুখে এক ধরণের অহংকার ও আত্মবিশ্বাস উপচে পড়ছিল। আমাকে দেখামাত্রই আমার মা মুখ বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন। আর বাবা তো তার ঘৃণা আড়াল করার চেষ্টাই করলেন না।
​"ও একটা পয়সাও পাওয়ার যোগ্য না," বাবা বেশ জোরেই বললেন, যাতে আশেপাশের সবাই শুনতে পায়। "ও সবসময়ই একটা আপদ ছিল।"
​তাদের আইনজীবী ভদ্রভাবে হাসলেন, যেন তিনি ধরেই নিয়েছেন এই মামলা জেতা তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাদের কাছে আমি এখনো সেই একই মেয়ে ছিলাম যাকে তারা দশকের পর দশক ধরে অবহেলা করে এসেছেন—যে শান্ত, বাধ্য এবং যাকে সহজেই চূর্ণ করে দেওয়া যায়।
​বিচারক এজলাসে প্রবেশ করলেন। আদালতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।
​আমার বাবা-মা’র আইনজীবী প্রথমে কথা বলা শুরু করলেন। তিনি বিচারকের সামনে আমাকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেন; এমন কেউ যে "যেকোনো উপায়ে" তার দাদিকে প্রভাবিত করে নিজের সন্তানদের বঞ্চিত করতে বাধ্য করেছে। তিনি এত আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলছিলেন, যেন আমার চরিত্র কেমন তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে।
​আমি কিচ্ছু বললাম না।
আমি শুধু শুনলাম।
এবং সঠিক সময়ের অপেক্ষা করলাম।
​এরপর, বিচারক যখন মামলার নথিপত্র বা ফাইলটি পরীক্ষা করছিলেন, তিনি হঠাৎ থমকে গেলেন। একটি নির্দিষ্ট পাতার ওপর তার চোখ অন্য পাতাগুলোর চেয়ে একটু বেশি সময় ধরে আটকে রইল।
​তিনি ফাইল থেকে চোখ তুলে তাকালেন।
​এবং খুব ধীরস্থিরভাবে বললেন, "একটু দাঁড়ান... আপনিই তাহলে জ্যাগ।

চলবে,,,,,,

#সম্পত্তির_লড়াই
পর্ব:০১


[সবাই রেসপন্স করবেন কমেন্ট। পর্যাপ্ত সাড়া পেলে পরের পর্ব পোস্ট করা হবে।ধন্যবাদ]

পেইজে ফলো করে রাখবেন।নইলে পরের পর্ব পাবেন না।পেইজে নতুন রিডার্সদের কাছে অনুরোধ,যদি পরের পর্ব মিস করতে না চান তাহলে ফলো করে রাখুন।হ্যাপি রিডিং

🧬 আটাশ বছর ধরে আমার বাবা আমাকে "অবৈধ সন্তান" বলে ডেকে এসেছেন। তারপর আমার বিয়ের ঠিক আগে ষাটজন আত্মীয়ের সামনে তিনি একটা ডি...
31/05/2026

🧬 আটাশ বছর ধরে আমার বাবা আমাকে "অবৈধ সন্তান" বলে ডেকে এসেছেন। তারপর আমার বিয়ের ঠিক আগে ষাটজন আত্মীয়ের সামনে তিনি একটা ডিএনএ (DNA) টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে আসলেন আমাকে ধ্বংস করার জন্য। সবাই যখন আমার অপমান দেখার অপেক্ষায় ছটফট করছিল, তখন তিনি হাসছিলেন। কিন্তু যখন সেই খামটা খোলা হলো, সত্যটা শুধু ওনাকে অপমানই করেনি... বরং আমার পুরো অস্তিত্বটাই মুছে দিল। ⚠️
​ডাইনিং হলটা একদম নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
​আমার বাবা এইমাত্র ঘোষণা করেছেন যে তিনি আমার ‘কন্যাদান’ করবেন না।
​অসুস্থতার জন্য নয়।
​বিয়ের ওপর রেগে আছেন বলেও নয়।
​কারণ, ওনার মতে, আমি নাকি ওনার সাথে আমার মায়ের করা বিশ্বাসঘাতকতার জীবন্ত প্রমাণ।
​শান্তিনিকেতনে আমাদের বাংলোবাড়িতে এক রবিবারের দুপুরে তিনি কথাটা বললেন। তখন মা হাড়ের তৈরি দামি চিনেমাটির পাত্রে ডাল মাখানি আর মাটন কারি পরিবেশন করছিলেন—যেন ওই মহার্ঘ্য পাত্রগুলো অপমানের গন্ধটা লুকিয়ে ফেলতে পারে।
​দাদি শকুন্তলা একটা ভারী আওয়াজ করে ওনার চায়ের কাপটা নামিয়ে রাখলেন।
​আমার ভাই কবির, বয়স একত্রিশ এবং এখনো বাবার ‘সোনার ছেলে’, চোখ নিচু করে রইল।
​মায়ের আঙুলগুলো ওনার সিল্কের দোপট্টার কোণটা শক্ত করে পিষে ধরছিল।
​আর রাজেন্দ্র মালহোত্রা—আমার স্কুলের প্রতিটা ফর্মে, পাসপোর্টের পাতায় এবং বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে যিনি আমার বাবা—তিনি ওনার নেহরু জ্যাকেট থেকে একটা ডিএনএ টেস্টের সম্মতিপত্র (consent form) বের করলেন।
​"তোমার কাছে ছয় সপ্তাহ সময় আছে, অনায়া," তিনি শান্তভাবে বললেন।
​এই শান্ত ভাবটা চিৎকার করে কথা বলার চেয়েও ভীতিপ্রদ ছিল।
​যারা অন্যকে কষ্ট দিতে আনন্দ পায়, কেবল তারাই এভাবে কথা বলে।
​"টেস্টের রিপোর্টে যদি আসে তুমি আমার মেয়ে, তবেই আমি তোমার বিয়েতে যাব, কন্যাদান করব এবং সবার সামনে ক্ষমা চাইব।"
​আমি কাগজটা ছুঁয়েও দেখলাম না।
​"আর যদি আসে আমি আপনার মেয়ে নই?"
​ওনার হাসিটা আরও সংকীর্ণ হয়ে গেল।
​"তাহলে পুরো পরিবার অবশেষে জানতে পারবে যে আটাশ বছর ধরে তোমার মা কেমন চরিত্রের মহিলা ছিলেন।"
​মা কোনো শব্দ না করে কাঁদতে লাগলেন।
​সেটাই ছিল সবচেয়ে কষ্টের অংশ।
​তিনি রাগে কাঁদছিলেন না।
​তিনি কাঁদছিলেন অভ্যাসের বশে।
​যেন চোখের জল ওনার দৈনন্দিন প্রার্থনার অংশ হয়ে গেছে।
​ছোটবেলা থেকেই আমি দেখে আসছি কীভাবে তিনি আমার মুখাবয়বকে একটা হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।
​আমার ফর্সা গায়ের রঙ।
​আমার হালকা বাদামী চুল।
​আমার ধূসর চোখ।
​মায়ের দিকের লোকজনের চেহারা কিছুটা এরকম ছিল, কিন্তু বাবা কোনোদিন তার পরোয়া করেননি।
​আমার যখন সাত বছর বয়স, তখন একটা বন্ধ ঘরের দরজার ওপাশ থেকে ওনাকে চিৎকার করে বলতে শুনেছিলাম, "আমার কোনো মেয়ে দেখতে বিদেশিদের মতো হতে পারে না।"
​যখন আমার বারো বছর বয়স, স্কুলের একটা শিক্ষামূলক ভ্রমণের ফর্মে তিনি স্বাক্ষর করতে রাজি হননি, কারণ ওনার মতে তিনি "অন্য পুরুষের রক্তে" টাকা নষ্ট করতে চান না।
​যখন আমার বয়স আঠারো, তিনি কবিরের সিঙ্গাপুরে এমবিএ (MBA) পড়ার পুরো খরচ দিয়ে দিলেন।
​তারপর এই একই ডাইনিং টেবিলের ওপার থেকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, "তোমার আসল বাবাকে বলো তোমার কলেজের খরচ দিতে।"
​আমি স্কলারশিপ, রাতের ডিউটি আর লোন নিয়ে নার্সিং পড়াশোনা শেষ করেছি।
​বাবার কোনোদিন লজ্জা লাগেনি।
​আমার লাগত।
​নিজের জন্মের ইতিহাসের জন্য নয়।
​বরং এমন একজন মানুষের ছাদের নিচে থাকার জন্য, যিনি নিষ্ঠুরতাকে পারিবারিক সম্মানের রূপ দিতেন।
​সেদিন সন্ধ্যায় আমি লাজপত নগরে আমার ভাড়া ফ্ল্যাটে ফিরে এলাম, সম্মতিপত্রটা ব্যাগের ভেতর ভাঁজ করে রাখা ছিল।
​আমার বাগদত্তা আরভ দুটো চায়ের কাপ আর হাসপাতালের একটা অসমাপ্ত ফ্লোর প্ল্যান টেবিলে ছড়িয়ে রেখে অপেক্ষা করছিল।
​ও একজন স্থপতি (architect) ছিল।
​এমন একজন মানুষ, যে দেয়াল ভেঙে পড়ার আগেই ফাটলগুলো খেয়াল করতে পারে।
​আমার মুখ দেখামাত্রই ও উঠে দাঁড়াল।
​"উনি এখন আবার কী করলেন?"
​আমি ওকে সবটা বললাম।
​ও একবারের জন্যও আমাকে থামায়নি।
​আমি শেষ করার পর, ও চোখ বন্ধ করল, একটা দীর্ঘশ্বাস নিল এবং বলল, "টেস্টটা করে ফেলো, অনায়া।"
​আমি মাথা নাড়ালাম।
​"আমি নিজের অস্তিত্বের যোগ্যতা প্রমাণ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।"
​"ওনার জন্য নয়," আরভ বলল। "তোমার মায়ের জন্য।"
​কথাটা আমার গায়ে গিয়ে লাগল।
​কারণ এটা কখনোই শুধু আমার একার ব্যাপার ছিল না।
​এটা ছিল মাকে সেই জেলখানা থেকে টেনে বের করার লড়াই, যেখানে তিনি আটাশ বছর ধরে বন্দি ছিলেন।
​পাঁচ বছর আগে, রাত দুটোয় দাদি আমাকে ফোন করেছিলেন কারণ তিনি মাকে বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পেয়েছিলেন, পাশে ছিল ঘুমের ওষুধের একটা খালি পাতা।
​ডাক্তাররা কয়েক মিনিটের জন্য ওনাকে বাঁচিয়ে নেন।
​তারপর থেকে ওনার জীবন কাটত থেরাপি, ওষুধ, মন্দিরে যাওয়া আর জোর করে মুখে টেনে আনা হাসির মধ্যে।
​বাবা কোনোদিন ক্ষমা চাননি।
​একবারও না।
​তাই আমি বসন্ত কুঞ্জে একটা ব্যক্তিগত ডিএনএ ল্যাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করলাম।
​স্বাধীন।
​প্রত্যয়িত (certified)।
​বাবার টাকা, বন্ধুবান্ধব আর প্রভাব থেকে অনেক দূরে।
​আমার নমুনা নেওয়াটা সহজ ছিল।
​মা কাঁপানো হাতে অথচ স্থির কণ্ঠে ওনার নমুনা দিলেন।
​"যা-ই ঘটুক না কেন," তিনি ফিসফিস করে বললেন, "আমি তোমাকে জন্ম দিয়েছি। দুধ খাইয়েছি। বড় করেছি। কোনো কাগজ সেটা বদলে দিতে পারবে না।"
​বাবার নমুনা জোগাড় করা কঠিন ছিল।
​বাংলোর গেস্ট বাথরুমের হেয়ারব্রাশ থেকে আমি ওনার চুলের নমুনা সংগ্রহ করলাম—সেই একই বাথরুম, যেখানে প্রতি দীপাবলিতে ওনার পাশে দাঁড়ালে ওনার চোয়াল যেভাবে শক্ত হয়ে যেত, আমি তা না দেখার ভান করতাম।
​দুই সপ্তাহ পর, চাণক্যপুরীর একটা প্রাইভেট ক্লাবে ওনার ষাটতম জন্মদিনের পার্টিতে তিনি আমাদের আবার অপমান করলেন।
​ব্যবসায়িক অংশীদারদের সামনে।
​ভাইবোনদের সামনে।
​এমন আত্মীয়দের সামনে যারা ওনার অন্ন ধ্বংস করত আর তার সাথে আমার মায়ের সম্মানও গিলে ফেলত।
​তিনি ওনার গ্লাসটা তুললেন এবং কবিরকে "আসল মালহোত্রা" বলে প্রশংসা করলেন।
​তারপর আমার দিকে তাকালেন।
​ওনার হাসিটা ছিল আলসেমি ভরা।
​নিষ্ঠুর।
​"আমি আশা করি আমার মেয়ে অবশেষে প্রমাণ করতে পেরেছে যে সে আসলে কোথা থেকে এসেছে।"
​কিছু লোক হাসল কারণ তারা নার্ভাস ছিল।
​কিছু লোক হাসল কারণ তারা কাপুরুষ ছিল।
​তারপর তিনি কোকিল পাখির সাথে আমার তুলনা করলেন, যে নিজের ডিম অন্য পাখির বাসায় রেখে আসে।
​মা স্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন, ওনার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল।
​আমি উঠে দাঁড়ালাম।
​ওনার হাত ধরলাম।
​এবং বেরিয়ে এলাম।
​পার্কিং এলাকায় দাদি শকুন্তলা আমাদের পেছনে পেছনে এলেন।
​আমার জীবনে প্রথমবার ওনাকে নিজের নীরবতার জন্য ভীত দেখাল।
​"অনেক হয়েছে," তিনি বললেন। "আমি এটা কবরে নিয়ে যেতে পারব না।"
​আমরা ক্লাবের বাগানের পাশে একটা পাথরের বেঞ্চে বসলাম, তখন দিল্লির আকাশ ধুলো আর সূর্যাস্তে কমলা হয়ে উঠেছিল।
​দাদির হাত দুটো ঠান্ডা ছিল।
​ওনার গলা কাঁপছিল।
​"যে রাতে তোমার জন্ম হয়েছিল," তিনি বললেন, "সঞ্জীবনী হাসপাতালে, একজন নার্স একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বাইরে এসেছিল। সে ঘামছিল। ভীষণ নার্ভাস ছিল।"
​মায়ের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
​আমি ওনার দিকে তাকালাম।
​তিনিও আমার মতোই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
​দাদি বলতে থাকলেন।
​"আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম বাচ্চাটাকে কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সে কোনো উত্তর দেয়নি। তারপর অন্য একজন নার্স এসে আমাকে বলল যে ট্যাগের (tags) কারণে ছোট একটা বিভ্রান্তি হয়েছে।"
​আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
​"কী বিভ্রান্তি?"
​দাদির চোখ জলে ভরে গেল।
​"ওরা বলল এটা তেমন কিছু না। ওরা বলল বড়লোকদের ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডে ঝামেলা করা উচিত নয়। তোমার বাবা তখন ডিসচার্জের কাগজে সই করছিলেন। তোমার মা আধো-অচেতন ছিলেন। তাই আমিও চুপ করে রইলাম।"
​মা ফিসফিস করে বললেন, "মাজি..."
​দাদি ওনার হ্যান্ডব্যাগ থেকে একটা পুরোনো বাদামী খাম বের করলেন।
​"হাসপাতালের রেকর্ড সিল করার আগে আমি একটা কাজ করেছিলাম।"
​আমার আঙুলগুলো অবশ হয়ে গেল।
​তিনি খামটা খুললেন এবং হাসপাতালের একটা মলিন কপি বের করলেন।
​একটা বার্থ রেজিস্টার (জন্ম নিবন্ধন খাতা)।
​কালি পুরোনো হয়ে গেছে, কিন্তু নামগুলো এখনো পড়া যাচ্ছিল।
​মাতা: নন্দিনী মালহোত্রা।
​পিতা: রাজেন্দ্র মালহোত্রা।
​কন্যা সন্তান।
​জন্ম রাত ৩:১২ মিনিটে।
​তারপর দাদি পাতাটা উল্টালেন।
​আমার এন্ট্রির ঠিক নিচে আরেকটা নাম লেখা ছিল।
​একই রাত।
​একই ওয়ার্ড।
​একই ডাক্তার।
​আরেকটি কন্যাসন্তান।
​জন্ম রাত ৩:১৬ মিনিটে।
​কিন্তু সেই নামটা এত জোরে কেটে দেওয়া হয়েছিল যে কাগজটা প্রায় ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
​আমি আরও কাছে ঝুঁকলাম।
​আমার নিঃশ্বাস আটকে গেল।
​কারণ সেই কেটে দেওয়া নামের পাশে, লাল কালিতে, কেউ মাত্র দুটো শব্দ লিখে রেখেছিল—
​"বেবি এক্সচেঞ্জড" (বাচ্চা অদলবদল হয়েছে)।

চলবে,,,,,,,

#লাল_কালির_রহস্য
পর্ব:০১


গল্পটির পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আপনার নিউজ ফিডে পৌঁছে যায় সেই জন্য পেজটি ফলো করে রাখুন।

সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য একটু তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরেছিলাম, কিন্তু আসল সারপ্রাইজটা যে আমার নিজের বাড়ির করিডোরেই অপেক্ষা করছে, ত...
31/05/2026

সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য একটু তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরেছিলাম, কিন্তু আসল সারপ্রাইজটা যে আমার নিজের বাড়ির করিডোরেই অপেক্ষা করছে, তা ভাবিনি। একটা অচেনা মেয়ে আমার প্রিয় রেশমি আবায়াটা পরে, আমার জয়পুরি মাটির মগে চা খাচ্ছে এবং আমার বাড়িটাকে নিজের বাড়ি বলে দাবি করছে! তারপর সে হেসে বলল, আমার স্বামী নাকি তাকে পাঠিয়েছেন ক্রেতাদের বাড়িটা ঘুরে দেখানোর জন্য। ঠিক তখনই আমি বুঝতে পারলাম, এটা কেবল একটা সাধারণ পরকীয়া নয়—এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়ানক ষড়যন্ত্র। ⚠️
​কেম্পেগৌড়া এয়ারপোর্ট থেকে এয়ারপোর্ট শাটল বাসটা ছাড়ার পরপরই ঘোষণাটা এল।
​ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
​যান্ত্রিক ত্রুটি।
​কখন ছাড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
​এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো মানুষের রাগ হওয়ার কথা ছিল।
​কিন্তু আমার বুকের ভেতর কেমন যেন একটা স্বস্তির হাওয়া বয়ে গেল।
​এক অদ্ভুত শান্তি।
​আমার নাম আনিকা মেহরা।
​গত তিনটি বছর আমি কবির আহমেদের স্ত্রী ছিলাম। কবির এমন একজন মানুষ, যে 'উন্নতি', 'ভবিষ্যত' আর 'পারিবারিক মূল্যবোধ' নিয়ে চমৎকার সব কথা বলতে পারত, কিন্তু আমি রাতে খেয়েছি কি না, তা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও মনে করত না।
​আমরা ঢাকার গুলশানের এই ডুপ্লেক্স বাড়িটায় একসঙ্গে থাকতাম ঠিকই, কিন্তু দুজন অপরিচিত মানুষের মতো।
​একই বিছানা।
​কিন্তু দুজনের নীরবতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
​সেদিন সন্ধ্যায় আমার মনে হয়েছিল, হয়তো এই একটা আকস্মিক রাত আমাদের সম্পর্কটাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।
​কোনো ল্যাপটপ থাকবে না।
​কোনো ক্লায়েন্টের ফোন থাকবে না।
​কোনো বানিয়ে বলা হাসির মুখোশ থাকবে না।
​বাইরে তখন কৃষ্ণচূড়া গাছের ওপর ঝুম বৃষ্টি নামছে। রান্নাঘরে থাকবে ধোঁয়া ওঠা গরমাগরম ফিল্টার কফি, আর আমাদের সংসারটা পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আগে দুজনের মাঝে হবে একটা শেষ সৎ কথোপকথন।
​তাই তাকে কিছু না জানিয়েই একটা ট্যাক্সি নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।
​মনে মনে আমি অলরেডি সাজিয়ে ফেলেছিলাম সে আমাকে দেখে কতটা অবাক হবে।
​তার মুখের সেই চেনা হাসি।
​আমাকে জড়িয়ে ধরা।
​হয়তো একটা আলতো 'দুঃখিত' বলা।
​নিজের চাবি দিয়ে সদর দরজাটা খুললাম।
​লকের সেই পরিচিত 'ক্লিক' শব্দটা সবসময় আমার কাছে নিরাপত্তার প্রতীক ছিল।
​কিন্তু সেদিন সেই শব্দটাই যেন একটা বিপদের সংকেত দিচ্ছিল।
​আমি ড্রয়িংরুমে পা রাখলাম।
​এবং তাকে দেখলাম।
​করিডোরে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
​তার গায়ে আমার প্রিয় অফ-হোয়াইট রেশমি আবায়া।
​ঠিক সেই আবায়াটা, যেটা আমাদের বিয়ের পর প্রথম ঈদে কবির আমাকে উপহার দিয়েছিল।
​তার চুলগুলো ভেজা।
​বাতাসে আমার পছন্দের জুঁই ফুলের শ্যাম্পুর সুবাস।
​তার হাতে আমার নীল রঙের জয়পুরি মাটির মগটা।
​যে মগটায় আমি কখনো কোনো অতিথিকেও হাত দিতে দিতাম না।
​সে মগটা এমনভাবে ধরে ছিল, যেন ওটা তারই।
​যেন এই বাড়ির পর্দাগুলো সে নিজেই পছন্দ করে কিনেছে।
​যেন আমি যে জীবনটায় দাঁড়িয়ে আছি, সেই জীবনটাই সে বেছে নিয়েছে।
​আমাকে দেখে সে মোটেই চমকে উঠল না।
​ভয় পেয়ে পিছিয়েও গেল না।
​বরং হাসল।
​শান্ত।
​পরিপাটি।
​একেবারে পেশাদার একটা হাসি।
​"ওহ," সে নরম সুরে বলল। "আপনি নিশ্চয়ই প্রোপার্টি কনসালট্যান্ট?"
​আমার ভেতরটা যেন ধড়াস করে ভেঙে পড়ল।
​বুকটা নয়।
​তারচেয়েও গভীর কিছু।
​আমার পুরো অস্তিত্ব।
​"আমার হবু বর বলেছিল যে বিক্রির আগে ফাইনাল ভিজিটের জন্য আপনি আসবেন," সে বলতে থাকল। "আমি রেহানা।"
​হবু বর।
​বিক্রি।
​কোটের পকেটের ভেতর আমার আঙুলগুলো কাঁপছিল, কিন্তু আমার মুখটা রইল একদম ভাবলেশহীন।
​"হ্যাঁ," আমি বললাম। "আমিই সে।"
​রেহানা অত্যন্ত মিষ্টি হেসে একপাশে সরে দাঁড়াল।
​"দয়া করে ভেতরে আসুন। কবির এখনো শাওয়ারে আছে। আপনি সবকিছু ঘুরে দেখতে পারেন। ক্রেতাদের সুবিধার্থে আমরা ঘরগুলো একটু গোছগাছ করে রেখেছি।"
​গোছগাছ।
​আমি আমার নিজের ড্রয়িংরুমে গিয়ে দাঁড়ালাম।
​কোনো কিছুই সাজানো নাটক মনে হচ্ছিল না।
​কারণ এটা নাটক ছিল না।
​আর সেটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার।
​সোফার পাশে এক জোড়া পুরুষদের জুতো।
​ওগুলো কবিরের নয়।
​ড্রেসিং টেবিলের ওপর একটা গোলাপি রঙের হেয়ার ক্লিপ।
​গেস্ট বাথরুমের আয়নার সামনে দ্বিতীয় একটা টুথব্রাশ।
​আমার পড়ার চেয়ারটার ওপর একটা সুতির ওড়না ভাঁজ করে রাখা।
​কনসোল টেবিল থেকে আমাদের বিয়ের ছবিটা গায়েব।
​সেখানে শোভা পাচ্ছে একটা রুপোলি ফ্রেম।
​কবির আর রেহানা।
​কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে দুজনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে।
​কবিরের হাত রেহানার কোমরে।
​রেহানার মাথা কবিরের কাঁধে।
​ছবির কোণায় তারিখ লেখা—গত বছরের মার্চ মাস।
​ঠিক সেই মার্চ মাস, যখন কবির আমাকে বলেছিল সে একটা ব্যবসায়িক মিটিংয়ের জন্য চিটাগং যাচ্ছে।
​আমার গলা শুকিয়ে এল।
​তখনই আমার নজর গেল ডাইনিং টেবিলের দিকে।
​তাজা সাদা রজনীগন্ধার তোড়া।
​পুরো টেবিল জুড়ে সাজানো।
​বিয়ের এই তিন বছরে কবির কখনো আমার জন্য রজনীগন্ধা আনেনি।
​সে সবসময় বলত, এই ফুলের কড়া গন্ধে তার মাথা ব্যথা করে।
​অথচ এখন বুঝলাম, তার অ্যালার্জিটা আসলে ফুলের প্রতি ছিল না, ছিল আমার প্রতি।
​"সুন্দর বাড়ি," আমার গলাটা অদ্ভুত রকমের শান্ত শোনাল। "আপনারা এখানে কতদিন ধরে আছেন?"
​রেহানা রান্নাঘরের আইল্যান্ডের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াল।
​"অফিসিয়ালি কয়েক মাস ধরে," সে বলল। "তবে কবির আর আমি এটা নিয়ে অনেক আগে থেকেই প্ল্যান করছিলাম।"
​আমি আস্তে করে মাথা নাড়লাম।
​আমার কানের ভেতর নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দ পাচ্ছিলাম।
​"কীসের প্ল্যান?"
​"আমাদের নতুন জীবনের," সে প্রায় লাজুক হেসে বলল। "ও বলেছিল ওর বিজনেস পার্টনার খুব শীঘ্রই এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। বেচারী নাকি কবিরের ওপর বড্ড বেশি নির্ভরশীল ছিল। তবে কবির বলল, সে পুরো ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করে নিয়েছে।"
​বিজনেস পার্টনার।
​তার কাছে আমি এখন এটাই।
​স্ত্রী নই।
​আনিকা নই।
​এমনকি সেই নারীও নই, যার বাবার দেওয়া সম্পত্তির টাকায় এই ডুপ্লেক্স বাড়ির ডাউন পেমেন্ট দেওয়া হয়েছিল।
​আমি কেবলই একটা সমস্যা, যাকে সে "হ্যান্ডেল" করেছে।
​আমার ইচ্ছে করছিল ওর গালে একটা কষে চড় মারি।
​চিৎকার করে বলি যে, ওর গায়ে যে আবায়াটা জড়ানো আছে তা আমার, হাতের মগটা আমার, আর যে বাড়িটা সে বিক্রি করতে যাচ্ছে, তা আমার বাবার দেওয়া উত্তরাধিকারের টাকায় গড়া।
​কিন্তু একটা চিন্তা আমাকে থামিয়ে দিল।
​আমি যদি এখন ওর মুখোমুখি হই, সে ভয় পেয়ে যাবে।
​আমি যদি কবিরের বের হওয়ার অপেক্ষা করি, সে আবার নতুন কোনো মিথ্যা বলবে।
​আমার এখন কান্না নয়, প্রমাণ দরকার।
​তাই আমি সেটাই সেজে গেলাম, যা সে আমাকে ভাবছিল।
​"আমি কি মাস্টার বেডরুমটা দেখতে পারি?" আমি জিজ্ঞেস করলাম।
​"অবশ্যই," রেহানা বেশ উৎসাহের সাথে বলল। "কবির চায় ক্রেতারা যেন এই বাড়ির পারিবারিক আবহটা অনুভব করতে পারেন।"
​পারিবারিক আবহ!
​আমার প্রায় হাসি পেয়ে গেল।
​সে আমাকে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে নিয়ে গেল। যেতে যেতে দেয়ালের রঙ পরিবর্তন, রিসেল ভ্যালু, বিদেশি ফিটিংস আর ছাদটা কীভাবে "আমাদের অনাগত সন্তানের" জন্য পারফেক্ট হবে, তা নিয়ে অনর্গল কথা বলে চলল।
​আমাদের সন্তান।
​আমার পা দুটো যেন মাটিতে জমে গেল।
​তবুও আমি হাঁটতে থাকলাম।
​বেডরুমে গিয়ে দেখলাম, ওয়ারড্রোবের আমার দিকের অংশটা সম্পূর্ণ খালি।
​অগোছালো নয়, একেবারে ফাঁকা।
​আমার জামদানি শাড়িগুলো নেই।
​আমার অফিসের ব্লেজারগুলো নেই।
​আমার মায়ের দেওয়া সেই কাশ্মীরি শালটাও নেই।
​ড্রেসিং টেবিলের এক কোণায় আমার পারফিউমের বোতলগুলো এমনভাবে ঠেলে রাখা হয়েছে, যেন ওগুলো কোনো অপরাধের প্রমাণ।
​আমার বেডসাইড টেবিলের ওপর আরও একটা বাঁধানো ছবি।
​কবির আর রেহানা সিলেটে।
​কবির আর রেহানা একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানে, যেখানে রেহানার কপালে আর সিঁথিতে বিয়ের লাল রঙ স্পষ্ট।
​আমার পেটটা কেমন যেন ঠান্ডা হয়ে মোচড় দিয়ে উঠল।
​"এটা আমাদের আকদ-এর ছবি," আমার তাকানো দেখে রেহানা মৃদু হেসে বলল। "খুব ছোট করে অনুষ্ঠান হয়েছিল। শুধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছিল।"
​আমি ওর দিকে তাকালাম।
​"ওর পরিবারের সবাই ছিল?"
​"অবশ্যই," সে হাসল। "আম্মা তো আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন।"
​আম্মা।
​আমার শাশুড়ি।
​যে মহিলা জনসম্মুখে আমাকে 'মা' বলে ডাকতেন আর আড়ালে 'অপয়া' বা 'বন্ধ্যা' বলে খোটা দিতেন।
​যে মহিলা প্রতি ঈদে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে জায়নামাজে বসে কেঁদে বলতেন, "আনিকা, আগামী বছর যেন আমাদের ঘরে একটা খুশির খবর আসে।"
​তিনি জানতেন।
​তারা সবাই জানত।
​ঠিক তখনই বাথরুমের দরজাটা খুলল।
​ভেতর থেকে গরম ভাপ বেরিয়ে এল।
​কবির পরনে শুধু একটা তোয়ালে জড়িয়ে, ভেজা চুল মুছতে মুছতে ঘর থেকে বের হলো।
​"রেহানা, কফিটা কি—"
​সে থমকে গেল।
​এক সেকেন্ডের মধ্যে তার মুখের সমস্ত রক্ত চুষে নেওয়া হলো যেন।
​আমি দেখতে পাচ্ছিলাম তার মাথায় তখন কী চলছে।
​মিথ্যা বলা।
​হিসাব কষা।
​পালানোর পথ খোঁজা।
​"আনিকা," সে বলল। "তুমি এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলে?"
​রেহানা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
​"জান? তুমি এই কনসোলট্যান্টকে আনিকা বলে ডাকছ কেন?"
​আমি টেবিল থেকে তুলে নেওয়া লেদারের ফোল্ডারটা আস্তে করে বন্ধ করলাম।
​আমি কাঁদলাম না।
​চেঁচামেচিও করলাম না।
​শুধু হাসলাম।
​একটা শীতল, ধারালো হাসি, যা দেখে কবির এক পা পিছিয়ে গেল।
​"আমরা একে অপরকে খুব ভালো করেই চিনি, রেহানা," আমি বললাম। "কবির আর আমি গত তিন বছর ধরে একসাথে সংসার করছি।"
​কবিরের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
​"আনিকা, আমার কথা শোনো।"
​"না," আমি নরম সুরে বললাম। "আমি অনেক শুনেছি।"
​রেহানার মুখের ভাব বদলে গেল।
​সে চোখ বড় বড় করে কবিরের দিকে তাকাল, তারপর আমার দিকে।
​"এখানে কী হচ্ছে এসব?"
​আমি ওর আবায়ার দিকে তাকালাম।
​আমার আবায়া।
​তারপর সেই আকদের ছবির দিকে।
​সবশেষে আমার স্বামীর দিকে।
​"আমিই সেই বিজনেস পার্টনার, যার এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ছিল," আমি বললাম। "আর আমিই ওর সেই স্ত্রী, যাকে ও ডিভোর্স দিতে ভুলে গেছে।"
​পুরো ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
​বাইরে বৃষ্টির বেগ আরও বাড়ল।
​রেহানার হাতের মগটা কাঁপতে লাগল।
​গরম চা উপচে ওর আঙুলের ওপর পড়ল, কিন্তু ওর সেদিকে খেয়াল নেই।
​সে কেবল কবিরের দিকে চেয়ে আছে।
​"স্ত্রী?" সে ফিসফিস করে বলল।
​কবির নিজের দুই হাত ওপরে তুলল।
​"রেহানা, ও সব বানিয়ে বলছে। আমাদের বিয়েটা বহু বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে।"
​"মৃত সম্পর্কেরও একটা ডেথ সার্টিফিকেট লাগে, কবির," আমি বললাম।
​তার চোখে আগুন জ্বলে উঠল।
​এই তো সে।
​আসল কবির।
​কোনো ভদ্রতার মুখোশ নেই, কর্পোরেট চালচলন নেই, নরম সুর নেই।
​হিংস্র।
​ধরা পড়ে যাওয়া একটা অপরাধী।
​সে আমার দিকে এগিয়ে এসে গলা নামিয়ে বলল, "এখানে কোনো নাটক তৈরি করো না।"
​ঠিক সেই চেনা কণ্ঠস্বর।
​পুরুষরা যখন নিজেরা অন্যায় করে ধরা পড়ে, তখন তারা অনুতপ্ত হয় না; বরং লোক জানাজানি হওয়ার ভয়ে এই সুর ব্যবহার করে।
​আমি রেহানার দিকে তাকালাম।
​"ও কি আপনাকে বলেছিল যে আমি এই বাড়ি বিক্রি করতে রাজি হয়েছি?"
​সে ঢোক গিলল।
​"ও বলেছিল সব পেপারে সাইন হয়ে গেছে।"
​"অবশ্যই বলবে।"
​কবির গর্জে উঠল, "অনেক হয়েছে, আনিকা!"
​আমি ওকে উপেক্ষা করে হাতের ফোল্ডারটা খুললাম।
​ভেতরে বিক্রির কাগজপত্র।
​কোনো খসড়া নয়, একদম ফাইনাল ডকুমেন্ট।
​নিচে আমার নাম প্রিন্ট করা।
​আর তার পাশে আমার স্বাক্ষর।
​কিন্তু সমস্যা একটাই—আমি কখনো এই কাগজে সই করিনি।
​আমার পায়ের তলার মাটি যেন দুলে উঠল।
​আমি কালির দাগটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
​ঠিক যেন আমারই সই।
​হুবহু এক।
​কবির আরও কাছে এগিয়ে এল।
​"ওগুলো পুরনো কাগজ। তুমি ভুল বুঝছ।"
​আমি পরের পাতাটা উল্টালাম।
​তারপর তার পরেরটা।
​আর তখনই একটা জিনিস দেখে আমার চোখ আটকে গেল।
​বিক্রি চুক্তির ঠিক পেছনে একটা মেডিকেল সার্টিফিকেট জোড়া দেওয়া।
​একজন ডাক্তারের প্যাডে লেখা চিঠি, যেখানে আমাকে "মানসিকভাবে অসুস্থ," "আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অযোগ্য" এবং "স্বামীর বিশেষ তত্ত্বাবধানে থাকা রোগী" বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
​আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এল।
​রেহানা হাতের মগটা একটা ভারী শব্দ করে টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল।
​"কবির… ওটা কী?"
​কবির তাকে কোনো উত্তর দিল না।
​সে তখন একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
​চোখে তার শীতল হুমকি।
​ঠিক তখনই বেডসাইড টেবিলের ওপর অন্য একটা জিনিসের দিকে আমার নজর গেল।
​একটা ছোট খয়েরি রঙের খাম।
​রেহানার চুড়ির নিচে অর্ধেক ঢাকা পড়ে আছে।
​তার ওপর আমার নাম লেখা।
​আমার শাশুড়ির হাতের লেখায়।
​কবির আমাকে থামানোর আগেই আমি ওটা তুলে নিলাম।
​তার মুখের চেহারা পুরোপুরি বদলে গেল।
​"আনিকা," সে তীক্ষ্ণ গলায় বলল। "ওটা নামিয়ে রাখো।"
​অনেক দেরি হয়ে গেছে।
​আমি খামটা খুললাম।
​ভেতরে একটা হাসপাতালের ডিসচার্জ সামারি।
​আমার হাসপাতালের ডিসচার্জ সামারি!
​দুই বছর আগের।
​যে বছর কবির সবাইকে বলেছিল যে গর্ভপাতের পর আমি "গভীর ডিপ্রেশনে" চলে গিয়েছিলাম।
​অথচ আমি কখনো গর্ভবতীই হইনি!
​আমি কখনো ওই হাসপাতালে ভর্তিই হইনি!
​আর সেই কাগজের একেবারে নিচে, "অভিভাবকের স্বাক্ষর"-এর জায়গায় একটা লাইন লেখা ছিল, যা দেখে আমার শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল—
​স্বামীর (কবির আহমেদ) অনুমতি সাপেক্ষে রোগীকে দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের ওষুধ ও সিডেটিভ দেওয়ার সম্মতি প্রদান করা হলো।
​রেহানা ভয়ে নিজের মুখে হাত চাপা দিল।
​আমি আস্তে করে চোখ তুলে কবিরের দিকে তাকালাম।
​কবির আর কোনো অভিনয় করছিল না। তার চোখের চাউনি ছিল খুনের মতো ঠান্ডা।
​ঠিক তখনই আমার কোটের পকেটে থাকা ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠল।
​অচেনা একটা নম্বর।
​কবিরের চোখ থেকে চোখ না সরিয়েই আমি ফোনটা কানে তুললাম।
​ওপাশ থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে ভেসে এল—
​"ম্যাডাম, ওই বাড়ির কিচ্ছু খাবেন না বা পান করবেন না। আপনার স্বামী গত কয়েক মাস ধরে আপনাকে স্লো পয়জন আর কড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়াচ্ছেন...

চলবে,,,,,,

#কাগজের_খাঁচা
পর্ব:০১


এই গল্পের পরের পর্বগুলা এই পেইজে দেওয়া হবে,শুধু এইটা না আমার প্রত্তেক টা গল্পের পরের পর্ব গুলা এই পেইজে দেওয়া হবে, তাই সবাই পেইজটা ফলো করে, এই পেইজে চোখ রাখুন 👉 Flash Films

Address

Sylhet

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Choto Dairy 01 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Choto Dairy 01:

Share