Jalil Faruk

Jalil Faruk Individual

বাংলাদেশে চা শ্রমিকদের আসার ইতিহাস এক দীর্ঘ, বেদনাদায়ক এবং বঞ্চনার ইতিহাস। ব্রিটিশরা কীভাবে, কোথা থেকে এবং কেন এই মানুষদ...
18/07/2026

বাংলাদেশে চা শ্রমিকদের আসার ইতিহাস এক দীর্ঘ, বেদনাদায়ক এবং বঞ্চনার ইতিহাস। ব্রিটিশরা কীভাবে, কোথা থেকে এবং কেন এই মানুষদের এই অঞ্চলে নিয়ে এসেছিল, তার মূল তথ্যগুলো নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:

​১. কখন এবং কেন আনা হয়েছিল? (কত সালে ও কেন)

​১৮৪০-এর দশকে ব্রিটিশরা বাংলাদেশে (বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে) চায়ের চাষ শুরু করে। ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন গতি পায়।
​চা বাগান করার জন্য দরকার ছিল বিশাল জঙ্গল পরিষ্কার করা এবং তীব্র পরিশ্রম করা। প্রথমে স্থানীয় মানুষ এবং চীন থেকে কিছু শ্রমিক এনে কাজ করানোর চেষ্টা করা হলেও ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তারা টিকতে পারেনি। ফলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এমন এক বিশাল ও সস্তা শ্রমিক বাহিনীর প্রয়োজন ছিল, যারা কঠোর পরিশ্রম করতে পারবে এবং বাগান ছেড়ে পালাবে না। এই উদ্দেশ্যে ১৮৬০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে মানুষ আনা শুরু হয়।

​২. কোথা থেকে আনা হয়েছিল?

​ব্রিটিশরা মূলত ভারতের অত্যন্ত দরিদ্র, খরা-প্রীড়িত এবং দুর্ভিক্ষগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করেছিল। প্রধান যে অঞ্চলগুলো থেকে শ্রমিক আনা হয়েছিল:

​বিহার এবং উত্তর প্রদেশ

​উড়িষ্যা (ওড়িশা)

​পশ্চিমবঙ্গ (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ইত্যাদি অঞ্চল)

​মধ্যপ্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ

​আসাম এবং ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনা

​এর ফলে সাঁওতাল, মুণ্ডা, ওরাওঁ, রবিদাস, বাউরি, তেলুগু, কানুসহ প্রায় ১১৬টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জাতের মানুষ এই অঞ্চলে আসেন।

​৩. কীভাবে এবং কেমনে আনা হয়েছিল? (মিথ্যা প্রলোভন ও আড়কাঠি প্রথা)

​চা শ্রমিকদের এই অঞ্চলে নিয়ে আসার পেছনে ছিল ব্রিটিশদের এক চরম প্রতারণার ইতিহাস। সরাসরি জোর করার চেয়ে তারা 'আড়কাঠি' (দালাল) নিয়োগ করেছিল। এই দালালরা ভারতের দরিদ্র গ্রামগুলোতে গিয়ে মানুষদের লোভ দেখাত।

​তারা বলত, "আসাম-সিলেটের দিকে এমন দেশ আছে যেখানে গাছ নাড়া দিলেই টাকা পড়ে (গাছ হিলায়ে গা তো পাইসা মিলেগা)। সেখানে শুধু আরাম আর আরাম।"

​এই মিথ্যা প্রলোভনে বিশ্বাস করে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পরিবারসহ রওনা দেয়। তাদের সাথে 'গিরমিট' (Agreement বা চুক্তি) করানো হতো, যা আসলে ছিল এক ধরনের আজীবন দাসত্বের চুক্তি।
​কলকাতার ঘাট থেকে স্টিমারে বা রেলে করে, আর অনেক সময় শত শত মাইল পথ পায়ে হাঁটিয়ে এই শ্রমিকদের আসাম ও সিলেটের শ্বাপদসংকুল (হিংস্র পশুপাখিতে ভরা) গভীর জঙ্গলে নিয়ে আসা হতো। পথিমধ্যে অনাহার, কলেরা ও ম্যালেরিয়ায় ভুগে হাজার হাজার শ্রমিক মারা যান। যারা পৌঁছাতে পেরেছিলেন, তারা এসে দেখেন বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন—গাছ নাড়লে টাকা নয়, বরং চাবুকের বাড়ি আর বুটের লাথিই ছিল তাদের ভাগ্য।

​ঐতিহাসিক "মুল্লুকে চলো" আন্দোলন (১৯২১)

​ব্রিটিশদের এই চরম নির্যাতন ও দাসত্ব সহ্য করতে না পেরে ১৯২১ সালের ২০ মে পণ্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিত এবং বাবা রামচন্দ্রের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক নিজেদের জন্মভূমি বা "মুল্লুকে" ফিরে যাওয়ার জন্য বাগান থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা পায়ে হেঁটে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ঘাটে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে ব্রিটিশ গোর্খা বাহিনী তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। হাজার হাজার শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। যারা বেঁচে যান, তাদের আবার জোর করে চা বাগানে ফেরত পাঠানো হয়। এই দিনটিকে আজও "চা-শ্রমিক হত্যা দিবস" বা "মুল্লুকে চলো দিবস" হিসেবে স্মরণ করা হয়।
​বংশপরম্পরায় আজ প্রায় পৌনে দুইশত বছর ধরে এই শ্রমিকদের বংশধরেরাই বাংলাদেশের চা শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা আজও মূল সমাজ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।

৯০ বছর আগে সুনামগঞ্জ টাউনে একটি যৌথ মূলধনি (Joint-stock) প্রাইভেট ব্যাংক ছিল—কথাটি শুনলেও অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে...
07/07/2026

৯০ বছর আগে সুনামগঞ্জ টাউনে একটি যৌথ মূলধনি (Joint-stock) প্রাইভেট ব্যাংক ছিল—কথাটি শুনলেও অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে! অথচ আজ সেই ইতিহাসেরই একটি দুর্লভ দলিল হাতে এলো। যদিও তৎকালিক পত্রিকায় এই ব্যাংকটির কথা আগেই জেনেছি, কিন্তু এই প্রথম তার কোনো স্মারক চিহ্ন দেখতে পেলাম।

নাম 'দি সুনামগঞ্জ ব্যাংক লিমিটেড'—প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৬ সালে; Indian Companies Act, 1913-এর অধীনে।

ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ছিল ১ লক্ষ টাকা, যা প্রতি ১০ টাকা মূল্যের ১০ হাজারটি শেয়ারে বিভক্ত ছিল।

গৌরারংয়ের জমিদার শ্রীযুক্ত বাবু নগেন্দ্রনাথ চৌধুরী ছিলেন ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা, মালিক এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

এই শেয়ার সার্টিফিকেটটি ২২ আগস্ট ১৯৩৯ খ্রি. তারিখে ইস্যুকৃত। এতে দেখা যায়, দেওয়ান আফতাবুর রাজা চৌধুরী (মরমি কবি দেওয়ান হাছন রাজার পুত্র) ব্যাংকটির ২৫টি শেয়ার কিনে ছিলেন।

এটি শুধু একটি শেয়ার সার্টিফিকেট নয়, এটি সুনামগঞ্জের আর্থিক, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল। এর নান্দনিক নকশা, ব্যাংকের কমন সিল এবং তৎকালীন রাজস্ব স্ট্যাম্প দলিলটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ভাবতেই বিস্ময় জাগে—আজ থেকে প্রায় শতবছর আগে হাওরাঞ্চলের নদীবন্দরনির্ভর ছোট্ট মফস্বল শহর সুনামগঞ্জে একটি যৌথ মূলধনি প্রাইভেট ব্যাংক সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। সে সময়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করছে এই দলিলটি।

মূল্যবান এই শেয়ার সার্টিফিকেটটি দীর্ঘদিন সযত্নে সংরক্ষণ করেছিলেন মরহুম দেওয়ান কামাল রাজা চৌধুরী। তাঁর পুত্র দেওয়ান জায়সীর রাজা চৌধুরীর সৌজন্যে এটি দেখার এবং সংরক্ষণের সুযোগ হলো। তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

বাংলাদেশ সরকার Starlink-এর একটা proposal approve করেছে।শুধু দেশের মধ্যে internet দেওয়ার জন্য নয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবে...
06/07/2026

বাংলাদেশ সরকার Starlink-এর একটা proposal approve করেছে।
শুধু দেশের মধ্যে internet দেওয়ার জন্য নয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে internet bandwidth export করার জন্য। এটা প্রথমবার কোনো satellite internet provider-কে এই ধরনের permission দিল বাংলাদেশ। Satellite internet-এর ইতিহাসে এটা একটা নতুন model।

শুরু হবে ৪০ Gbps দিয়ে। Scale করা যাবে ৪০০ Gbps পর্যন্ত। বাংলাদেশ এখন Starlink-এর South Asia regional hub।

Elon Musk-এর SpaceX-এর Starlink satellite-গুলো পৃথিবীর low earth orbit-এ আছে। সেই satellite-গুলো থেকে signal নামে ground station-এ। বাংলাদেশে সেই ground station কোথায়? গাজীপুরের কালিয়াকৈরে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় Starlink ground station। ৮০টা antenna। এটা Starlink-এর যেকোনো দেশের চেয়ে বড় facility। মহাকাশ থেকে internet নামছে গাজীপুরে। এখন সেই internet বাংলাদেশ হয়ে যাবে প্রতিবেশী দেশে।

Technical mechanism হলো IPLC, International Private Leased Circuit। এই dedicated লাইন দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি neighboring countries-এ internet traffic যাবে। Primary supplier হবে BSCCL, Bangladesh Submarine Cable Company Limited। BSCCL-এর সাথে Starlink-এর আগে থেকেই ৩ বছরের চুক্তি আছে। এখন BSCCL-ই হবে এই bandwidth export-এর মূল channel। প্রয়োজনে Summit Communications আর Fiber@Home-ও backup হিসেবে থাকবে।

BTRC আনুষ্ঠানিকভাবে Starlink-এর global licensing director Rebecca Hunter-কে email করে এই approval জানিয়েছে।

কোন কোন দেশে যাবে? Bhutan, Nepal, Maldives এই দেশগুলো এখন internet-এর জন্য অনেকাংশে Singapore-এর উপর নির্ভরশীল। সমুদ্রের তলা দিয়ে submarine cable Singapore হয়ে আসে। এতে latency বাড়ে, খরচও বাড়ে। বাংলাদেশ satellite hub হলে South Asia-র internet routing সংক্ষিপ্ত হবে। Singapore-এর পরিবর্তে ঢাকা-গাজীপুর হবে regional gateway।

এই decision-এর মানে কী বাংলাদেশের জন্য?

প্রথমত, foreign currency: BSCCL প্রতিবেশী দেশে bandwidth বিক্রি করলে সরাসরি বিদেশি মুদ্রা আসবে। পোশাক রপ্তানি বা remittance-এর বাইরে এটা একটা নতুন export category digital bandwidth export। Telecom sector এই revenue আগে কখনো এভাবে পায়নি।

দ্বিতীয়ত, geopolitical position: বাংলাদেশ South Asia-র digital infrastructure-এ একটা critical node হয়ে উঠছে। যে দেশের internet পাশের দেশ depend করে সে দেশের leverage অন্যরকম। এটা শুধু ব্যবসা নয়, strategic position।

তৃতীয়ত, local telecom sector-এর সুযোগ: BSCCL ছাড়াও Summit Communications আর Fiber@Home নতুন revenue stream পাচ্ছে। বাংলাদেশের private telecom infrastructure এই deal-এ সরাসরি অংশীদার।

এখানে একটা honest কথাও বলা দরকার।

বাংলাদেশের ভেতরে Starlink এখনো সীমিত। দাম বেশি বলে সাধারণ মানুষের নাগালে নেই। Launch-এর প্রথম ৫ মাসে দেশে customer ছিল মাত্র ১,৮০০ জন। Hub হওয়ার সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কিন্তু সেই internet-এর সুবিধা দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনো পাচ্ছে না।

তবু এই approval টা একটা বড় মাইলফলক। বাংলাদেশ শুধু consumer থেকে provider হচ্ছে। মহাকাশের internet গাজীপুর ছুঁয়ে পুরো South Asia-তে ছড়াবে।

এই hub status কি বাংলাদেশের জন্য সত্যিই সুযোগ? নাকি সব সুবিধা বড় company-গুলোই নেবে? নিচে আপনার মত জানান 👇

কি হত যদি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত চার প্রদেশ করা হত। প্রথমেই বলে রাখি এই প্রস্তাব চাটগাঁইয়া করেনাই৷ এই...
06/07/2026

কি হত যদি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত চার প্রদেশ করা হত।

প্রথমেই বলে রাখি এই প্রস্তাব চাটগাঁইয়া করেনাই৷ এই প্রস্তাব করছিল জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন।
পুরনো চারটি বিভাগের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা) সীমানাকে চার প্রদেশে বিভক্ত করে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করছিল জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এই ৪ টি বিভাগ কে পুরনো বিভাগ বলা হয় কারন ঢাকা বিভাগ থেকে ময়মনসিংহ , চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সিলেট, রাজশাহী বিভাগ থেকে রংপুর এবং খুলনা বিভাগ থেকে বরিশাল বিভাগ হইছিল।

প্রদেশে বিভক্ত করা মানে দেশথেকে আলাদা হয়ে যাওয়া নয়। এটি একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা মাত্র। মানে একটি জাতীয় সরকার থাকবে। একই সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংসদ, সেনাবাহিনী, মুদ্রা ও পররাষ্ট্রনীতি থাকবে। মানুষ দেশের যেকোনো প্রদেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা, বসবাস ও কাজ করতে পারবে। অর্থাৎ দেশ একটিই থাকবে, শুধু প্রশাসনিক কাঠামো বদলাবে।

সম্ভাব্য সুবিধা
নিজস্ব ভাষা, ঔতিহ্য, কালচারের উন্নয়ন সাধিত হতে পারে। স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত হতে পারে। ঢাকার ওপর প্রশাসনিক চাপ কমবে। প্রত্যেক অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা নেওয়া সহজ হবে। স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সড়ক, কৃষি ও শিল্প খাতে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করা সহজ হতে পারে।

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
নতুন প্রাদেশিক সরকার, সচিবালয় ও প্রশাসন গড়তে বড় ব্যয় হবে। কেন্দ্র ও প্রদেশের ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন বা সমন্বয়হীনতা দেখা দিতে পারে। যদি আর্থিক ক্ষমতা অসমভাবে বণ্টিত হয়, কিছু প্রদেশ অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।

কোন প্রদেশ সবচেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে?
অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক থেকে চট্টগ্রাম প্রদেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারে। কারণ এখানে প্রধান সমুদ্রবন্দর, গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চল, পর্যটন, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯ বছর ফুটবল খেলে পেয়েছিলেন মাত্র একটি ট্রফি। কিন্তু মাত্র ১৮ দিনে তিনি জয় করে নিলেন পুরো পৃথিবী। এটি কেপ ভার্দে (Cape V...
05/07/2026

১৯ বছর ফুটবল খেলে পেয়েছিলেন মাত্র একটি ট্রফি। কিন্তু মাত্র ১৮ দিনে তিনি জয় করে নিলেন পুরো পৃথিবী। এটি কেপ ভার্দে (Cape Verde)-র গোলরক্ষক জোসিমার ডায়াস-এর গল্প, যাকে ফুটবল বিশ্ব চেনে 'ভোজিনহা' (Vozinha) নামে।

১ জুন, ২০২৬, ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহার পর্তুগিজ ক্লাব শাভেস-এর সাথে চুক্তি শেষ হলো। নতুন কোনো ক্লাব তাকে নিতে আগ্রহী ছিল না। ঠিক ১৪ দিন পর তিনি মাঠে নামলেন জীবনের প্রথম বিশ্বকাপে। ২০০৭ সালে যখন তিনি পেশাদার ফুটবল শুরু করেন, সে বছরই জন্ম নিয়েছিল আজকের তারকা লামিন ইয়ামাল। ১৯ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার ঝুড়িতে ছিল মাত্র একটি ট্রফি। কিন্তু ভোজিনহা হাল ছাড়েননি।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ছিল টুর্নামেন্টের ফেভারিট স্পেন। মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দের জালে বল জড়াতে স্পেন ২৭টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টি ছিল অন-টার্গেট। কিন্তু ভোজিনহা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে সবকটি শট বাঁচিয়ে দিলেন। ম্যাচটি ০-০ ড্র হলো। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে ভোজিনহা হলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে অভিষেক ম্যাচে ক্লিন শিট রাখা সবচেয়ে বয়স্ক গোলরক্ষক। পিটার শিলটন এবং ডিনো জফের পর এই বয়সে ক্লিন শিট রাখা তিনি মাত্র তৃতীয় ব্যক্তি।

ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভোজিনহা। তার মা গ্যালারিতে থাকতে পারেননি কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে কেপ ভার্দের নাগরিকদের ইউএস ভিসার জন্য ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড দিতে হচ্ছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আমেরিকার রাজনৈতিক নেতারা হস্তক্ষেপ করেন এবং শেষ পর্যন্ত তার মা মিয়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেন, যেখানে কেপ ভার্দে ২-২ গোলে ড্র করে। এরপর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নকআউট পর্বে মেসির ফ্রি-কিকসহ ৮টি অসাধারণ সেভ করেন তিনি। কেপ ভার্দে ৩-২ গোলে হারলেও ৯০ মিনিটে তারা কোনো ম্যাচ হারেনি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভোজিনহার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ছিল ৫০ হাজারেরও কম। স্পেনের বিপক্ষে সেই বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিলের ক্যাসজেটিভি (CazéTV) এবং পর্তুগালের লাইভমোডটিভি তাদের দর্শকদের তাকে ফলো করার আহ্বান জানায়। মাত্র ১৮ দিনে তার ফলোয়ার সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ১৭ লাখে! তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গোলরক্ষক।

ভোজিনহার এই গল্প আমাদের শেখায় যে সুযোগ যখন আসবে, তখন নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হয়। ১৯ বছর হয়তো তাকে একটি ট্রফি দিয়েছিল, কিন্তু ১৮ দিনের ধৈর্য আর পরিশ্রম তাকে এনে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর ভালোবাসা।

এই গল্প থেকে আপনার নেওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি কী? কমেন্টে জানান 👇

মেসুত ওজিলের এই গুডবাই টা হচ্ছে জার্মানীর সোনালী যুগের শেষ স্মৃতি  ২০১৮ সালে মেসুত ওজিল মাত্র ২৮ বছর বয়সে অভিমান নিয়ে ...
30/06/2026

মেসুত ওজিলের এই গুডবাই টা হচ্ছে জার্মানীর সোনালী যুগের শেষ স্মৃতি
২০১৮ সালে মেসুত ওজিল মাত্র ২৮ বছর বয়সে অভিমান নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেয় ।
২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানী ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে তাদের গ্রুপের সবচেয়ে শেষে থেকে বিদায় নেয়
সমস্ত সমালোচনা ওজিলের ওপর যায়, জার্মান মিডিয়া এবং জার্মান ফ্যানস রা ওজিল কে টার্কিশ বলে কটাক্ষ করতে থাকে , কারণ তার দোষ ছিল বিশ্বকাপ চলাকালীন তুর্কির প্রেসিডেন্ট এর সাথে হাত মিলিয়েছিল । ওজিল সেইদিনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেই ।
ওজিল মাত্র ৯ বছরে (২০০৯-১৮) জার্মানীর হয়ে ৯২ টা ম্যাচ খেলে ৬৩ গোলের অবদান রাখেন । যেটা একজন মিডফিল্ডার এর ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব।
ওজিল তার ৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এ ৫ বার জার্মানীর বর্ষসেরা ফুটবলার হোন । বড়ো বড়ো জার্মান লেজেন্ড দের পিক সময়ে তাদের সাথে কম্পিট করে ৫ বার বর্ষসেরা হয়েছেন ।
জার্মান ফুটবলে ইতিহাসের কোনো ফুটবলার ই ৫ বার বর্ষসেরার ফুটবলার কখনও হয়নি।

পরবর্তি গত ৮ বছর ধরে থমাস মুলার আর টনি ক্রুস কে নিয়ে জার্মানী কন্টিনিউ করে গেলেও সবজয়গা তে ব্যার্থ হয়েছে জার্মানী আর কখনও সেরকম ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে বা তাদের ঐতিহ্য কে ফিরিয়ে আনতে পারে নি

ঘটনাটি ভারতের। উত্তর প্রদেশের শ্রাবস্তী জেলার এক গ্রামের পাশের জমিতে হঠাৎ একটি সাদা গরু দেখা যায়, গরুটি এই গ্রামের কারো ...
19/06/2026

ঘটনাটি ভারতের। উত্তর প্রদেশের শ্রাবস্তী জেলার এক গ্রামের পাশের জমিতে হঠাৎ একটি সাদা গরু দেখা যায়, গরুটি এই গ্রামের কারো নয়।

ভারতে রাস্তাঘাটে বাজারে, অফিস পাড়ায়, শহরে সব জায়গায় যত্রতত্র গরু ঘোরাঘুরি করে, এটা খুব স্বাভাবিক চিত্র। কিন্তু এলাকাবাসী লক্ষ্য করেন যে, এই গরুটি (অন্ডকোষ ওয়ালা গরু) একটি খালি শুষ্ক জমির চারদিকে বৃত্তাকার ভাবে অনবরত ঘুরছে।

ধীরে ধীরে চারদিকে খবর রটে যায়। অঞ্চলের সংখ্যা গরিষ্ঠ ধর্মীয় জনগোষ্ঠী এটাকে স্বর্গ থেকে নেমে আসা "মা" সম্বোধন করে এর ইবাদত করা শুরু করে। টানা তিন দিন ধরে গরুটি দিন-রাত ঘুরছে। বিচি ওয়ালা মা-এর ভক্তরা কেউ এর জন্য আপেল নিয়ে আসে, কেউ কাঁচা ঘাস, কেউ কলা ইত্যাদি নিয়ে আসে। এসব কেউ মুখের কাছে ধরলে গরুটি দাঁড়িয়ে খায়, গামলায় পানি দিলে পান করে এবং তারপর আবার ঘুরতে থাকে। ক্লান্ত হলে সেই জমিতেই শুয়ে থাকে।

সময়ের সাথে সাথে জনস্রোত বাড়তে থাকে। গরুটিকে ঝলমলে নতুন কাপড় পরিধান করানো হয়, কপালে তিলক সিঁদুর লাগানো হয়....শুয়ে থাকলে ভক্তরা সেজদা করে ইত্যাদি।

কিন্তু ৫ম দিনে সমস্যা দেখা দেয় একটা!
বিচি ওয়ালা মা'য়ের গোবর নিয়ে মারামারি শুরু হয়ে যায়। গরুটি হেগে শেষ করতে না করতেই ভক্তরা কাঁচা খেয়ে ফেলে, মুখমন্ডলে মাখতে থাকে। মূত্রবিসর্জনের সময় তারা মূত্র নেওয়ার জন্য ব্যাপক হুলুস্থুল-মারামারি ঘটায়।

সমস্যা আরো জটিল আকার ধারণ করে ৬ষ্ঠ দিনে!
একদল লোক একটি জেসিভি/ভেকু (মাটি খোদাই করার যান্ত্রিক গাড়ি) নিয়ে এসে গরুটি ক্লান্ত হয়ে জমির যে জায়গায় শুয়ে বিশ্রাম নেয় সেখানে খোদাই করতে থাকে। তাদের যুক্তি যে- নিশ্চয়ই এখানে মাটির নিচে প্রাচীন কোন উপাসনালয়ের ধ্বংসাবশেষ আছে! তা না হলে স্বর্গ থেকে 'মা' আসবে কেন! অর্থাৎ এখানে কোন উপাসনালয় ছিল!

সারাদিন খনন চলতে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে প্রায় ছয় ফুট মাটির নিচে হঠাৎ একটি "বিশাল" পাথর পাওয়া যায়। প্রায় এক'শ কেজি ওজনের বাঁকাত্যাড়া দুই ফুট লম্বা একখন্ড পাথর! (উল্লেখ্য যে সেই এলাকাটিতে জমিতে বনে-বাদাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন পাথর খন্ড পাওয়া যায়। এলাকাটি হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চল এবং নেপালের কাছাকাছি)

খনন কালে ঘটে যায় আরেক হুলুস্থুল কাণ্ড!
চারদিকে হৈচৈ বেঁধে যায়! প্রাচীন উপাসনালয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে! (আলহামদুলিল্লাহ্ ফ্রম মাসুদ)
পাথরটিকে দুধ দিয়ে ধোয়া হয়, তার পর খাঁটি ঘি দিয়ে "ধোয়া" হয়। এই ধোঁয়া অবিরাম চলতে থাকে!
সকাল থেকে দুধ ও খাঁটি ঘি নিয়ে পাথরের সামনে লাইন লেগে যায়। পুরুষ-মহিলা আলাদা লাইন! পাথরের আশেপাশে দুধে দুধে 'হাঁটুজল' অবস্থা হয়।

যেসব নারীর বিয়ে হচ্ছেনা তারা এর উপরে বসার সুযোগ পাচ্ছে টাকার বিনিময়ে, যাদের বাচ্চা হচ্ছেনা তারা মাথা ঠেকাচ্ছ...বিভিন্ন অঙ্গ ঠেকাচ্ছ ইত্যাদি।

জমিতে অধিকতর খনন শুরু করা হলে জমির মালিক আপত্তি জানায় এবং থানায় গিয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে খনন বন্ধ করায়। পুলিশ বিচি ওয়ালা (খাসি করা বলদ) গরুটি হেফাজতে নেয় এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগে খবর দেয়। ধীরে ধীরে খবর পৌঁছে যায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গরুর মালিকের কাছে। গরুর মালিক এবং প্রাণী বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। গরুর মালিক একটু আগে উপস্থিত হয়।

সে পুলিশকে জানায় যে গত তিন/চার মাস আগে গরুর মাথায় গন্ডগোল দেখা দেয়। হঠাৎ করে সে ঘুরতে থাকে, বেঁধে রাখলে বিরক্ত করে তাই এটাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে ঐ বাড়ির চারদিকেই ঘুরত। তবে ১০ দিন যাবৎ নিখোঁজ বলদ গরুটি নিখোঁজ ছিল।

প্রাণী বিশেষজ্ঞ দল এসে গরুটি পরীক্ষা করে এবং জানায় যে এটি একটি স্নায়ু রোগে আক্রান্ত। তারা জানায় যে- গরুর এই রোগের নাম লিস্টেরিওসিস, একধরনের ব্যাকটেরিয়া গরুর মস্তিষ্কে আক্রমণ করলে গরুর এই রোগ দেখা দেয়, তখন ব্যাকটেরিয়া গরুর মস্তিষ্কের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়- এটা কোন স্বর্গ থেকে নেমে আসা গরু নয়।

পুলিশ গরুটি তার মালিককে বুঝিয়ে দেয় এবং জমিতে আর কোন খনন না চালানোর নির্দেশ দেয়।
শেষমেশ স্থানীয় সংখ্যা গরিষ্ঠ ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ গরুটি কিনে নেয় এবং পাথরটি স্থানীয় উপাসনালয়ে নিয়ে রাখা হয়।

এলাকার সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন যে- ঐ জমিতে একটি উপাসনালয় নির্মাণ করা হবেই.... কেউ বাঁধা দিতে পারবেনা!

তথ্যসূত্রঃ ইন্ডিয়া নিউজ (টিভি), NATION 27, তেহেলকা ডিজিটাল (টিভি)

ধন্যবাদ
মাসুদ আলম

©লাস্ট লাইফ অব বাংলা

বুদ্ধির খেলা? 🤔🤔🤔
16/06/2026

বুদ্ধির খেলা? 🤔🤔🤔

Address


Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jalil Faruk posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Jalil Faruk:

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share