Writer-AKM

Writer-AKM আমি একজন নতুন সদস্য এই গল্পের জগতে। আমি এখন এখানে প্রতিদিন গল্প দিব এবং নিজে পরবর্তীতে গল্প লেখব। আপনারা আমাকে সাহায্য করবেন এবং আমার পাশে থাকবেন, ধন্যবাদ।

গোধূলী_বেলার_স্মৃতি (Unexpected story)পর্ব- ১৩  ছোট সাহেব আমার কোমর টেনে নিজের সাথে আমাকে আবদ্ধ করে ফেলেন। রুদ্রিকের এমন...
08/05/2024

গোধূলী_বেলার_স্মৃতি (Unexpected story)
পর্ব- ১৩


ছোট সাহেব আমার কোমর টেনে নিজের সাথে আমাকে আবদ্ধ করে ফেলেন। রুদ্রিকের এমন কান্ডে রুদ্রিকের সব বন্ধুরা অবাক। সাদি মিটিমিটি হাঁসছে।কাজলের প্রতি রুদ্রিকের এতোটা জেলাসির কারণ তারা ঠিক বুঝতে পারছে নাহ। শোভন হাতের গিটার টা রেখে বলল,
“সত্যি! রুদ্রিক ঠিক কী চায় তা বুঝতে পারছি নাহ। ”

—“রুদ্রিকের দিনের পর দিন কাজলকে নিয়ে পসেসিভ হয়ে উঠছে ।”

পলকের কথায় তন্ময় সায় দিয়ে বলে,

“আমি জাস্ট অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সেদিন রুদ্রিক কীভাবে জেনির সাথে ব্যবহার করলো। তিনদিন ধরে জেনি ভার্সিটিতেও আসছে নাহ। ”

ইথান কিছুক্ষন ভেবে বলে,

” আমার মনে হয় রুদ্রিক লাইক কাজল।”

শোভন চট করে বলে,

“ইম্পোসিবাল!”

——“রুদ্রিকের যা অবস্হা দেখছি। সব কিছুই পসিবল।”

পলকের কথায়
শোভনার কিছুটা মিয়ে যাওয়া সুরে বলল,

“আমি সত্যি বুঝতে পারছি নাহ। সামনে কী হবে।

স্পিকারে হাল্কা মিউজিকে গান বেজে উঠে,

“Aisa laga mujhe pehli dafaa
Tanha main ho gayi yaara

Ho.. aisa laga mujhe pehli dafaa
Tanha main ho gayi yaara
Hoon pareshan si main
Ab ye kehne ke liye
Tu zaroori sa hai mujhko zinda rehne ke liye
Ho.. tu zaroori (tu zaroori)
sa hai mujhko (sa hai mujhko)
zinda rehne ke liye (zinda rehne ke liye)

ছোটসাহেব আমার হাতের সাথে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে। চারদিকে গানের বিভিন্ন স্টেপ করতে থাকেন। আমিও উনার সাথে তাল মিলিয়ে গানের স্টেপ্স গুলো করার চেস্টা করতে থাকি।

তখনি সেখানে জেনি চলে আসে। রুদ্রিক ও কাজলকে এতোটা কাছে দেখে সে তাড়াতাড়ি দরজার আড়ালের চলে যায়। এই কাজল সামান্য ড্রাইভারের মেয়ের জন্যে-ই’, রুদ্রিক তার গাঁয়ে হাত তুলেছে। জেনি নিজের হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে ফেলে। প্রচন্ড রাগ হচ্ছে তার। এইভাবে রুদ্রিক ও কাজলকে একসাথে দেখে। নাহ জেনি এখন কিছুতেই নিজের মাথা গরম করবে নাহ। ঠান্ডা মাথায় যা করার করতে হবে। জেনি দূর থেকে তন্ময়, পলক, শোভন ও ইথানকে ইশারা করে তার সাথে দেখা করতে।

জেনির ইশারায় তারা সবাই আস্তে আস্তে প্যাক্টিস রুম থেকে চলে যায়।

সিথি ও সাদি মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে দুজনের ডান্স দেখে। কত সুন্দরভাবে দুজন গানের প্রতিটি স্টেপ পূরন করে যাচ্ছে।

সাদি সিথিকে মৃদ্যু ধাক্কা দিয়ে বলে,

“তোমাকে এখানে আর থাকতে হবেনা। চলো ওদের আপাতত একা ছেড়ে দেই। ”

সিথি মুখটা ফুলিয়ে বলে,

“ওদের কত্ত ভালো লাগছে। আরেকটু দেখে যাইনা?”

সাদি নিজের চশমা ঠিক করতে করতে বলল,

“সত্যি সিথি তোমার আর বুদ্ধি হবে নাহ। এখানে আর কাবিবের হাড্ডি হতে হবে নাহ। চলো আমার সাথে। লাইব্রেরিতে গিয়ে তোমার কিছু নোটস সমাধান করে দিবো। ”

পড়ার কথা শুনে সিথি মুখ শুকিয়ে ফেলে।

কথাটি বলেই সাদি সিথির হাত ধরে নিয়ে চলে যায়।

প্যাক্টিস রুমে একেবারে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। রুমে শুধু কাজল ও রুদ্রিক রয়েছে।
Dhadke aankhon mein dil mera
Jab qareeb aaun tere
Mm.. dekhoon main jab bhi aaina
Haan tu hi roobaroo rahe mere

Ishq ki mauj mein aa
Aaja behne ke liye
Tu zaroori (tu zaroori)
sa hai mujhko zinda rehne ke liye
aa.. tu zaroori (tu zaroori)
sa hai mujhko (sa hai mujhko)
zinda rehne ke liye (zinda rehne ke liye)
Tu zaroori..

রুদ্রিক কাজলেকে পিছন দিয়ে ঘুড়িয়ে কাজলের ঘাড়ে নিজের থুত্নি রেখে গানের সাথে তাল মিলিয়ে ডান্স করতে থাকে।

ছোট সাহেবের স্পর্শে আমার বুকের হার্ট ব্রিট থেমে যাবে বলে মনে হচ্ছে। উনি আমার এতোটা কাছে কখনো আসেননি। উনি কী বুঝতে পারছেন আমার আমার ভিতরে এক ঝড় বইয়ে যাচ্ছে। হয়তো উনারাও কিছু কিছু ফিলিংশ হচ্ছে।

গান বেঁজে চলেছে….

Maangu na koi aasmaan do sitaron ka jahaan
Banja tu mera humsafar na mujhe chahiye koi muqaam
Dil hi kaafi hai tera mere rehne ke liye

Tu zaroori sa hai mujhko zinda rehne ke liye
Ho.. tu zaroori (tu zaroori)
aa hai mujhko (sa hai mujhko)
zinda rehne.. (zinda rehne..)
Tu zaroori (tu zaroori)
sa hai mujhko
zinda rehne ke liye
Tu zaroori..

আমি উনার কাঁধে নিজের হাত রেখে গানের সাথে তাল মিলিয়ে ডান্সের স্টেপ করতে থাকি..।

উনি গানের তাল মিলাতে মিলাতে আমার চোখে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন,

“ভালোলাগার অনুভুতির কত রং কাজল তাইনা? ”

—-“যেমন? ”

—–“এইযে ধর তোর কাছে এলে, আমার অদ্ভুদ্ভাবে ভালোলাগা কাজ করে। এর ঠিক কী কারণ কাজল?”

আমি উনার প্রশ্নের ঠিক কী উত্তর দিবো। বুঝতে পারছি নাহ। মাথা নিচু করে আস্তে করে বললাম,

—–“হঠাৎ এই প্রশ্ন?

আমার কথায় ছোট সাহেব নিজের বাঁকা দাঁতের হাঁসি দিয়ে বললেন,

“এই উত্তরগুলো তুই আমাকে জিজ্ঞাসা করছিস কাজল? এই উত্তরগুলে তো তোর জানার কথা। ”

—-“কিছু কিছু উত্তর আমার কাছে থাকেনা। এই যে ধরুন এই উত্তর আমার কাছে নেই। ”

উনি আমার গালে নিজের হাতের আলতো স্পর্শ দিয়ে বললেন,

“আমার চোখের গভীরে অতলভাবে ঢুবে গেলে হয়তো বুঝতে পারবি। তুই-ই’ তো বলিস চোখ কখনো মিথ্যে বলেনা। ”

আমি নিজের দৃষ্টি সরিয়ে ফেলি। উনি আমাকে গানের তালে পিছনে ঘুড়িয়ে আমাকে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেললেন। উনার আমার মাথা উনার বুকে গিয়ে ঠেকে যায়।

উনি নিজের ঠোটটা আমার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস কন্ঠে বললেন,

” তোর নজর সরে গেলো কাজল। এর মানে আমি কী ধরে নিবো? তোর আমার চোখে চোখ রাখার সাহস নেই। আর মানুষ তখনি-ই’ চোখে চোখ রাখতে পারেনা। যখন সে কিছু লুকানোর চেস্টা করে। তুই কী লুকানোর চেস্টা করছিস?”

আমি খানিক্ষন চুপ থেকে বললাম,

“হয়তো নিজের অনুভুতি লুকানোর প্রচেস্টা করছি। ”

—-“কেনো এতো বৃথা চেস্টা? ”

—“আপনি কেনো করেন? ”

উনি কিছুটা অস্হিরতা নিয়ে বললেন,

—–“আমি তো নিজের অনুভুতি গুলো ঠিক-ঠাক সাজিয়ে গুছিয়ে-ই’ বলতে পারছি নাহ কাজল। অনেক কিছু বলতে চাই আমি। কিন্তু ঠিক কি চাই? তা নিজেও বুঝতে পারছি নাহ। মাঝে মাঝে এমন কিছু আচরন করে বসি। তার সঠিক কারণ নিজেও জানিনা। ”

কথাটি বলে’ই উনি আমার কানে ঠোটের আলতো স্পর্শ দিলেন। আমি মৃদ্যু কেঁপে উঠলাম।

রুদ্রিক জানেনা এই কাজটি সে কেনো করলো । রুদ্রিকের দ্রুততার সাথে প্যাক্টিস রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।

আমি এখনো সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। উনার কথাগুলো আমার কানে ভাজছে।

________________

দিয়া নিজের গাঁয়ে একটা শাড়ি জড়িয়ে বলে,
“এই শাড়িতে আমাকে কেমন লাগবে?”

লাজুক মুগ্ধ হয়ে বলে,

“অনেক সুন্দর লাগবে। তার সাথে যদি আপনি কানে বড় বড় ঝুমকো এবং ঠোটে ঘাড়ে লিপষ্টিক পড়েন। আপনাকে আরো সুন্দর লাগবে। ”

লাজুকের কথায় দিয়া কিছুটা লজ্জা পেলো। লাজুক এইবার কিছুটা ঘোর লাগা কন্ঠে বলে,

“লজ্জা পেলে আপনাকে আরো সুন্দর লাগে দিয়া ম্যাম।”

লাজুকের কথায়,দিয়ার নাক যেনো লজ্জায় আরো লাল হয়ে যাচ্ছে। যা লাজুকের চোখে এড়ালো নাহ।লাজুকের মুগ্ধতার দৃষ্টি নিয়ে, দিয়ার লজ্জামাখা মুখখানা পর্যবেক্ষন করছে।

দিয়া কোনোরকম বলে উঠে,

“আমাদের দেরী হচ্ছে। যেতে হবে। ”

কথাটা বলে দিয়া গটগট করে গাড়ির দিকে পা বাড়ালো।

লাজুক হাঁসলো। সত্যি আজকে দিয়াকে সে লজ্জাকর পরিষ্হিতিতে ফেলে দিয়েছে।

—-“আরে সেল্ফি কুইন মেম! আমার জন্যে দাঁড়ান। আমার তো আপনার মতো গাড়ি নেই। আপনার গাড়ি দিয়ে-ই’, আমাকে অফিসে যেতে হবে।”

দিয়া পিছনে ঘুড়ে বলে,
—“তাড়াতাড়ি আসুন। ”
লাজুক মুঁচকি হেঁসে শপিং ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে, গাড়ির দিকে পা বাড়ালো।।

______________

জেনি ফাংশনের দিনে কাজলকে অপদস্ত করার একটা বড় প্ল্যান করে ফেলেছে। জেনির এইরকম ভয়ংকর প্ল্যানের কথা শুনে, রুদ্রিকের বন্ধুরা সবাই অবাক হয়। ইথান উঠে দাঁড়িয়ে বলে,

“এইসব আমি করতে পারবো নাহ।”

শোভন ও কিছুটা ভেবে বলে,

“হ্যা এইটা করা অন্যায় হবে। আমরা এইরকম করতে পারবো নাহ। ”
জেনির কিছুটা নরম সুরে বলে,

“ওই মেয়েটির জন্যে রুদ্রিক আমাকে অপমান করলো আর তোরা তার বদলা নিতে আমাকে সাহায্য করবি নাহ। ”

পলক বলে উঠে,

“আমরা মেয়েদের সম্মান করি। তাই কাজলের সম্মান -হানি হোক এমন কাজ আমরা কিছুতে-ই’ করবো নাহ। ”

—-“এই তোরা আমার বেস্ট ফ্রেন্ডস? আমাকে একটু সাহায্য করবি নাহ? ”

জেনির কথায় তন্ময় উঠে দাঁড়িয়ে বলে,

“আমরা তোর ভালো বন্ধু বলে’ই তোকে এই খারাপ কাজে তোকে হেল্প করবো। আর তোকে বলে দিচ্ছি এইসব বাজে কাজ করার কথা তুইও বাদ দিয়ে দেয়।”,

কথাটি বলে তন্ময়, শোভন, ইথান ও পলক চলে যায়।

জেনি নিজের হাতে থাকা ফুলের বাস্কটা টা ছুড়ে ফেলে।

—-” আমাকে জ্ঞান দিচ্ছে দিতে এসেছে। দরকার নেই ওদের সাহায্যের। আমিও আমার প্ল্যানটা সাকসেস করবো। কারো সাহায্য লাগবে নাহ। ”

কথাটি বলেই জেনি শয়তানি হাঁসিতে মেতে উঠে।

________________

অন্যদিকে আমি পড়ার টেবিলে বসে পড়ার মনোযোগ দিতে-ই’, পারছি নাহ। আমার মন শুধু কেমন ‘ছোট সাহেব! ছোট সাহেব ‘ করছে। উনার প্রত্যেকটা কথায় আমার শুধু ভাবাচ্ছে। উনার ঠোটের আলতো স্পর্শে যেনো আমার শরীরে আলাদা শীহরন বয়ে গিয়েছিলো। আচ্ছা আমার কী হয়েছিলো? আমি কেনো উনাকে বাঁধা দেয়নি? তাহলে আমিও কী? নাহ নাহ এইটা হতে পারেনা। কিন্তু একটা কথা তো মানতে হবে,আশ্রমের কথাটা জানার পর থেকে উনার প্রতি আমার যেমন সম্মান বেড়ে গিয়েছিলো তেমনি আমার মনে সৃষ্টি হয়েছিলো এক রাশ ভালোবাসা। তখনি হুট করে ছুটকি হেঁসে বলল,

“আপাই দেখো তোমার গোলাপের মতো গালগুলো কেমন লাল হয়ে গিয়েছে। ”

আমি ছুটকির কথা শুনে তাড়াতাড়ি আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখলাম। আমার গাল সত্যি লাল হয়ে গিয়েছে। তার মানে?

“আম ব্লাশিং। ছোটসাহেবের কথা ভাবলে আমি এতো লজ্জা পাচ্ছি কেন? ”

জানিনা এর উত্তর।
আমি হুট করে ছোট সাহেবকে এমন এক মেসেজ দিলাম, যার কারনে সঙ্গে সঙ্গে ছোট সাহেব আমাকে ফোন দিলেন।

চলবে….কী?

বাকীটা আগামী পর্বে….

(কেমন হয়েছে কমেন্ত করে জানাবেন কিন্তু😋)

৪৪ ও শেষ #অবশেষে ভালোবাসি (সিজন-২)❤part: 44 : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤🍁দরজার ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে রিয়া।তার মুখে কথা নেই।একদম...
08/05/2024

৪৪ ও শেষ

#অবশেষে ভালোবাসি (সিজন-২)❤
part: 44
: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

🍁
দরজার ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে রিয়া।তার মুখে কথা নেই।একদম চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে সে।আয়ান ব্যাগ গুছাচ্ছে এই দেশটাতে আর একমুহূর্তও মন টিকছে না তার।অদিতি অন্যকারো হওয়ার আগেই এই দেশের মাটি ছাড়তে হবে তাকে।ছাড়তেই হবে!!ফাহিম অনেক বলেও আয়ানের মত পরিবর্তন করতে পারে নি।আর কি-ই বা বলবে সে?আয়ানের জন্য শেষ রক্ষাটাও তো করতে পারলো না সে।তাই চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে বিছানার এককোণায়।মনে প্রচুর রাগ।এই রাগটা কার প্রতি তা জানে না ফাহিম।হয়তো নিজের প্রতি নয়তো অদিতি!!
অদিতির মা বিস্ময় নিয়ে স্টেজের দিকে তাকিয়ে আছে।একি! অদিতি এখানে কিভাবে?তবে কি সে যায় নি?এতোবড় ভুল মেয়েটা কেন করলো?এটা কি সত্যিই তার মেয়ে?অদিতির মা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না,মেয়েটা এতোটা শক্ত কবে হয়ে গেলো?এইতো কদিন আগেও পছন্দের কিছু না পেলে কেঁদে কেটে ঘর মাথায় করতো।মামনিও চোখ-মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছেন।চোখের কোটরে বিন্দু বিন্দু জল জমে চলেছে ক্রমাগত।তবে কি ছেলেকে দেওয়া কথাটা রাখতে পারলেন না উনি?ভালোবাসা নামক শব্দটা দায়বদ্ধতার আড়ালে ধেবে গেলো??কাজি সাহেব পাশ থেকে “কবুল” বলার জন্য তাড়া দিচ্ছেন।এখনই কবুল বলবে অদিতি আর শেষ হয়ে যাবে সব।সব সপ্ন,সব আশা।।অদিতির কানের পাশে ফিশফিশিয়ে অনেকেই বলছে কবুল বলার কথা। কিন্তু অদিতি অনুভূতিশূন্য হয়ে বসে আছে।অবশেষে মুখ খুললো সে।বাবার দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বললো-“বাবা!আমি আদনান সাহেবের সাথে একা কথা বলতে চাই।আমাকে কি দু’মিনিট দেওয়া যাবে প্লিজ?” অদিতির কন্ঠটা যেনো বজ্রপাত ঘটালো।চারদিকে পিনপতন নীরবতা।অদিতির বাবা অবাক চোখে মেয়েকে দেখছেন, কবুল বলার আগ মুহূর্তে কেউ বরের সাথে কথা বলতে চায় জানা ছিলো না তার।কি এমন বলবে সে?আদনানও বেশ অবাক।কি বলতে চাইছে অদিতি?এই মুহুর্তে কি-ই বা বলার আছে ওর?অদিতি আবারও একই কথা বলায় বাবা নিষেধ করলেও আদনান রাজি হয়।দু’জন ওঠে চলে যায় অদিতির রুমে।চারদিকে সবার দৃষ্টি ওদের দু’জনের উপরই,এমন অদ্ভুত দৃশ্য হয়তো কখনো দেখে নি কেউ।রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়ালো অদিতি।আদনানও কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলো –
কিছু বলবে অদিতি?এনিথিং সিরিয়াস?
অদিতি এবার মাথা উঁচু করে তাকালো।একটা ঢোক গিলে, জোড়ে একটা নিশ্বাস ফেলে বলে উঠলো সে-
আদনান সাহেব!বিয়ের আগে এমন কিছু কথা আছে যা আমি আপনাকে জানাতে চাই। না জানালে হয়তো ঠকানো হবে আপনাকে।
অদিতির কথায় চমকে ওঠে আদনান।কি এমন বলবে অদিতি,যা না বললে ঠকানো হবে তাকে?আদনান একটা ঢোক গিলে বললো-
তোমার অতিত?
হুম অতিত।অতিতের সাথে সাথে আমার বর্তমানও।
বর্তমান?(ভ্রু কুঁচকে)
হুম।(একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে) ৪ বছর আগে নাদিয়া আপুর বিয়েতে রিয়াদকে ভালোলাগে আমার।তখন আমি ছিলাম প্রাণোচ্ছল এক তরুনী।রিয়াদকে একরকম জোর করেই আমার সাথে রিলেশনে যেতে বাধ্য করি।রিয়াদ রাজিও হয়….একটা বছর আমরা রিলেশনে ছিলাম।আমি সবসময় ভাবতাম রিয়াদ একদিন না একদিন ভালোবাসবে আমায়।কিন্তু সত্য ছিলো না।রিয়াদ আমায় ভালোবাসে নি।সবসময় ফ্রেন্ডের মতো পাশে থেকেছে কখনো নিজে থেকে হাতটাও ধরে নি।আমি ধরলেও ছাড়িয়ে দিয়ে একটা দূরত্ব বজায় রেখেছে।।আমি ভাবতাম রিয়াদ মেয়েদের সাথে আনইজি ফিল করে তাই হয়তো ওমন করে।কিন্তু না,আনইজি ফিলের জন্য নয় সাদিয়ার প্রতি ভালোবাসা থেকে এমনটা করতো রিয়াদ। তা তখন আমার জানা ছিলো না।আর যখন জানতে পারি তখন আর কিছু করারও ছিলো না।আমি অনেকটাই ভেঙে পড়ি তবু সরে আসি।দুজন ভালোবাসার মানুষের মাঝে কখনোই কাটা হয়ে থাকতে চাই নি।তারপর থেকেই আমার মধ্যে একটা রোবট রোবট ভাব চলে আসে।যেন অনুভূতি শূন্য হয়ে পড়েছিলাম আমি।তারপর ৩ বছর পর আমার জীবনে আসে আয়ান!ডক্টর আয়ান! এতো বছর পর আমার মধ্যে আবাটও রাগ,কথা বলা,কান্না হাসি,জেদের মতো বিষয়গুলো ফুটে ওঠে।উনি আমার সাথে থাকলে সেই কাল অতীতের কথা মুহূর্তেই ভুলে যাই আমি।কিন্তু তখনও এই ফিলিংসটার নাম জানা ছিলো না আমার।তবে আয়ান জানতো,তাইতো দূরে সরে গিয়েছিলো হুট করে।ও ভালোবাসাকে ঘৃণ্য মনে করতো তাই দূরে সরে গিয়ে আমাকে ভুলার চেষ্টা করে।আর আমি মিস করে চলি তাকে।একদিন হঠাৎ মা এসে বিয়ের জন্য চাপ দেয়।ইমোশনাল ব্লেকম্যাল করে।সত্যি বলতে মানা করার কোনো কারণও ছিলো না।না নিজের ফিলিংসটা বুঝতে পারছিলাম না আয়ানের ফিলিংসটা জানতাম।নিজেকে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছিলাম প্রতিটি মুহূর্তে। তার ফলাফল হিসেবে আবারও অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়ি আমি।এবারও হুট করে আয়ান আসে, নিজের ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে শুরু করে পাগলামো।আমার অনুভূতিগুলোও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।কিন্তু তবুও এই বিয়ে থেকে পিছুপা হতে পারি নি,,আপনাকে ঠকাতে পারি নি।আদনান সাহেব! আয়ান আমার বর্তমানও,ওকে ভুলা হয়তো সহজ হবে না আমার জন্য তবে আমি কথা দিচ্ছি আমার সবটা দিয়ে আপনার মনের মতো হওয়ার চেষ্টা করবো আমি।(একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে) সবাই অপেক্ষা করছে আদনান সাহেব।চলুন।
কথাটা বলেই বেরিয়ে গেলো অদিতি।আদনান ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে।মাথাটা কেমন ভো ভো করছে তার।কোনোরকম টলে ওঠে বেরিয়ে গেলো সে।স্টেজের চারপাশে সবাই দাঁড়িয়ে আছে জিগ্যাসু দৃষ্টিতে আবারও শুরু হলো বিয়ের কার্যকলাপ।আবারও এলো কবুলের পালা।অদিতি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে আয়ানের সব স্মৃতিকে দূরে সরিয়ে প্রথমবার কবুল বলে উঠলো। আত্মাটা কেঁপে উঠলো তার।দ্বিতীয়বার বলতে যাবে ঠিক তখনই কথা বলে উঠলো আদনান-
থামো অদিতি।আংকেল বিয়েটা আমি করবো না।
আদনানের কথায় উপস্থিত সবাই চমকে উঠলো। কি সব বলছে আদনান?কেন বিয়ে করবে না?কি করেছে অদিতি?অদিতির বাবা বিহ্বলিত কন্ঠে বলে উঠলেন-
কেন বাবা?এসব কি বলছো তুমি?আমার মেয়েটা সমাজে মুখ দেখাবে কিভাবে বাবা?হাতজোড় করছি এমনটা করো না।
ছি আংকেল।হাতজোড় করবেন না প্লিজ।আপনি আমার বাবার মতো।আমি বিয়ে না করলেও অদিতির কোনো ক্ষতি হবে না বরং ভালো হবে। অদিতি কেউ একজনকে পাগলের মতো ভালোবাসে।আর যাকে ভালোবাসে সে হয়তো নিজের থেকেও অদিতিকে বেশি ভালোবাসে।অদিতি কথাগুলো আমায় আগে না বলে অন্যায় করেছে তাই বলে আমি কোনো অন্যায় করতে পারি না।অদিতি?আয়ান সাহেবের সাথে থাকলে তুমি নিজের মতো থাকো আর আমার সাথে অনুভূতিশূন্য তাই গাড়িতে,মার্কেটে সব জায়গায় উনি তোমার অনুভূতি বুঝতে পারে আমি পারি না।দেখো অদিতি একটা ছেলে হিসেবে সবার মতো আমিও একটা প্রাণোচ্ছল জীবনসঙ্গী চাই যে আমাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসবে, মন খোলে হাসবে।কিন্তু তুমি তা পারবে না,আমার সাথে থেকে তো কখনোই না।একটা ছেলে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিয়ের আসরে আসে….জীবনসঙ্গী নিয়ে কতো স্বপ্ন তাদের।কিন্তু তুমি হয়তো আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারবে না অদিতি আর না আমি পারবো আয়ানের মতো হতে।তাই এই বিয়েটা না হওয়ায় মঙ্গল। তুমি ফিরে যাও তোমার ভালোবাসার কাছে আমি অন্যকাউকে খুঁজে নিবো অদিতি… যাও।
আদনানের বাবা-মা আদনানের কথায় ধমকে উঠলেও আদনান তাদেরটা উল্টো ধমকে থামিয়ে দিয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।অদিতি অবাক চোখে সবটা দেখে।জীবনটা তাকে কোন গন্ডীতে এসে দাঁড় করাতে চাইছে জানে না সে।
লাগেজ নিয়ে এয়ারপোর্টে ঢুকেই শুনলো ফ্লাইট অাধাঘন্টা লেইটে ছাড়ছে।আয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস আর একগুচ্ছ বিরক্তি নিয়ে ওয়েটিং রুমে গিয়ে বসলো।লাগেজটা পাশে রেখে সামনের দিকে তাকিয়েই চমকে উঠলো সে,অদিতি!!
#চলবে🍁

#অবশেষে ভালোবাসি (সিজন-২)❤
: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
: শেষ পর্ব
🍁
আয়ান একবার চোখ বন্ধ করে আবারও চোখ মেলে তাকালো। অদিতি এখনও বউ বেশে তার সামনে বসে আছে।এটা কি করে সম্ভব? অদিতির তো এতোক্ষনে বিয়ের স্টেজে থাকার কথা!এখানে কিভাবে?আয়ানের হিলোসিনেশন হচ্ছে না তো?অদিতির কথা অতিরিক্ত ভাবার ফলে তাকে মস্তিষ্ক কল্পনায় তার সামনে এনে হাজির করছে। আয়ান পাশে বসে থাকা পেট মোটা লোকটির দিকে তাকালো।তারপর একরকম ফিসফিস করেই বলে উঠলো –
এক্সকিউজ মি?আমার সামনে কি একটা বউ বেশে মেয়ে বসে আছে?
লোকটি ভ্রু কুঁচকালো।তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে চরম বিরক্ত।তবু বিরক্তি ধমন করে মাথা নেড়ে জানালো –
হ্যা আছে।
আয়ান এবার বিস্মিত চোখে অদিতির দিকে তাকালো।অদিতি এখনও ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।আজব তো?এটা কি করে সম্ভব? আয়ান এবার উঠে দাঁড়ালো, লাগেজ নিয়ে বের হতে নিলেই শার্টের পেছনে টান অনুভব করলো।ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকিয়েই ব্যাপক অবাক হলো সে।অদিতি তার শার্ট খাঁমচে ধরে আছে।আয়ান মুখে বিরক্তিভাব ফুটিয়ে তুলে বলে উঠলো-
এক্সকিউজ মি?আপনি আমার শার্ট টেনে ধরেছেন কেন?এটা কোন ধরনের অসভ্যতা।
অদিতি কোন কথা না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।ব্যাপারটায় বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে এলো আয়ানের।রাগী কন্ঠে বলে উঠলো –
কি হলো ছাড়ুন!
ছাড়বো না।
মানে? আজব তো ছাড়বেন না কেন?
ভালোবাসি তাই।
অদিতির কথায় আয়ানের চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। নিজেকে কোনো রকম সামলে নিয়ে বলে উঠলো –
কিসের ভালোবাসা?আমি আপনাকে ভালোবাসি না।ছাড়ুন আমায়…ছাড়ুন বলছি।
বললাম না ছাড়বো না।।সবসময় শুধু পালিয়ে যাও কেন?আর তোমাকে ভালোবাসতে হবেও না।আমি ভালোবাসি সেই-ই অনেক।এখন ফটাফট চলো বিয়ে করবো।
বিয়ে করবো মানে?আর ইউ ম্যাড?ছাড়ুন আমায়!!(রাগী গলায়)
অদিতি এবার পেছন দিকের শার্টটা ছেড়ে একটানে আয়ানকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।পায়ের আঙ্গুলে ভর করে আয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে।আয়ান রীতিমতো হতবাক।অদিতি করছেটা কি?চারপাশের মানুষ যে আড়চোখে দেখছে সেদিকে কি খেয়াল নেই তার?অনেকে তো ইতোমধ্যে ভিডিও করাও শুরু করে দিয়েছে।আয়ান অদিতি থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করাতেই আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো অদিতি।ছলছল চোখে করুণ চোখে বললো-
সরি তো!!আর করবো না এমন।শাস্তি দিবে না আমায়?
আয়ান কিছু না বলে অন্যদিকে ফিরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।অদিতির মুখে তুমি ডাকটা শুনতে বেশ মিষ্টি লাগছে।ইচ্ছে হচ্ছে অদিতিকে শক্ত করে চেপে ধরে নিজের সাথে।কিন্তু তা সে করবে না।অদিতি কিছুক্ষণের জন্য এসে মায়া বাড়িয়ে চলে যাবে তা কিছুতেই হতে দেবে না সে।।পেয়েছেটা কি তাকে?যখন ইচ্ছে আসবে…যখন ইচ্ছে চলে যাবে,তার কি কষ্ট হয় না??আয়ানকে চুপ করে থাকতে দেখে আবারও বলে উঠলো অদিতি-
কিছু তো বলো।বিয়ে করবে না আমায়?না করলে এখানেই গলা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো।কোথ্থাও যাবো না হুহ।
অদিতি আজ তোমার বিয়ে।যাও এখান থেকে….বারবার এসে আমাকে দুর্বল করে দেওয়ার মানে হয় না।একটু পর নিশ্চয় আদনানের জন্য খারাপ লাগা শুরু করবে তোমার??ছুটে যাবে ওর কাছে।তাই বলছি এখনই যাও….আমি নিজেকে শক্ত করেছি প্লিজ দুর্বল করে দিও না।
আমি আদনান সাহেবকে সব বলে দিয়েছি।উনি বিয়ে ভেঙে দিয়েছে আয়ান।প্লিজ ক্ষমা করো আমায়….আমার হাতেও কিচ্ছু ছিলো না।।একবার হাতটা ধরার সুযোগ দাও।কখনো ছেড়ে যাবো না তোমায়।তোমাকেও যেতে দিবো না।প্লিজ আয়ান।
আয়ানকে এখনও চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গলা ছেড়ে দু’পা পিছিয়ে দাঁড়ালো অদিতি। তারপর দু’হাতে দুই কান ধরে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠলো –
কান ধরে উঠবস করি?
আয়ান এবার ফিরে তাকালো।কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকিয়ে থেকেই হেসে দিলো।একটু এগিয়ে গিয়ে অদিতির ডান হাত কান থেকে নামিয়ে একটানে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো তাকে।শক্ত করে চেপে ধরে টলমলে চোখে মুচকি হেসে বললো-
পাগলী!!
হুম তোমার জন্য।
ভালোবাসি মিস ঝগড়ুটে।এবার যেতে নিলে বেঁধে রেখে দিবো বলে দিলাম।(আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে)
তুমি তাড়িয়ে দিলেও যাচ্ছি না এবার।। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তোমার সাথেই থাকবো।।তুমি চাইলেও থাকবো।।না চাইলেও থাকবো।
আয়ান এবার অদিতির কপালে চুমু এঁকে দেয়।চোখে জল মুখে হাসি…. ইশশ কি সুন্দর দৃশ্য।অবশেষে জিতে গেলো তার ভালোবাসা।অদিতি অবশেষে ভালোবাসি বললো তাকে।কি প্রশান্তি এই বুকে।এবার আল্লাহ তার কথা শুনেছে।মামনি ঠিকই বলতো আল্লাহ কাউকে নিরাশ করে না।হয়তো দেরী হয় তবু ইচ্ছেগুলো ঠিক পূরণ হয়।
একসপ্তাহ পর আজ আবারও বউ সেজেছে অদিতি।।চারদিকে আনন্দ উচ্ছ্বাস তারসাথে উচ্ছ্বাসিত অদিতি -আয়ান। রিয়া এমন শরীর নিয়েই সবার সাথে তাল মেলাচ্ছে….মাঝে মাঝে উঠে নাচানাচিও শুরু করে দিচ্ছে।ফাহিমের চোখ রাঙানোতে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে আবারও তাদের সাথে মত্ত হয়ে পড়ে।সাদিয়া-রিয়াদও বেশ খুশি।এতোদিনের অপরাধবোধটা আজ অনেকটায় কম কারণ আজ অদিতি খুশি।ছোট আদ্রিতা এখন টুকিটুকি হাঁটে…..নাদিয়ার ছেলে ফারিন তাকে বেশ কড়া শাসনে রাখছে।।””অাদু এদিকে যাস না…ওদিকে যাস না।ওটা ধরিস না….আমার হাত ধরে হাঁট”” কতো আদেশ তার।।আয়ান সারা ঘরময় পায়চারী করছে…উত্তেজনায় কথা বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়।সে বিশ্বাসই করতে পারছে না আজ তার বিয়ে!! ফাহিম একবার রিয়ার কাছে যাচ্ছে তো একবার আয়ানের কাছে আসছে….ভীষন ব্যস্ত সে।।আদনানও এসেছে বিয়েতে।সে ও হাসিমুখেই আছে।সবটা খুব সহজেই মেনে নিয়েছে সে।চারদিকে খুশির আমেজ!!সুখের ছড়াছড়ি। আয়ান-অদিতির জীবন এখন ভালোবাসার আলোয় আলোকিত।অবশেষে ভালোবাসার জয় হয়েছে তাদের।।ভালোবাসাটা আসলেই অদ্ভুত একটা বিষয় যখন পাওয়া যায় তখন তা স্বর্গীয় আর যখন পাওয়া যায় না তখন তা নরকীয়। যা অদিতি-আয়ান অনুভব করেছে প্রতিটি মুহূর্তে। হয়তো ভবিষ্যতেও নতুন নতুন ভাবে ভালোবাসার স্বাদ গ্রহণ করবে তারা।ভাসবে ভালোবাসার সাগরে….ভুলে যাবে সকল ঘৃণা।সত্যি তো ভালোবাসা কি না পারে?
……………★সমাপ্ত★………….

গোধূলী_বেলার_স্মৃতি (Unexpected Story)পর্ব- ১২  ছোট সাহেব গাড়ি থেকে বেড়িয়ে কিছু শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে, একটি বাড়ির ভিতরে ঢ...
08/05/2024

গোধূলী_বেলার_স্মৃতি (Unexpected Story)
পর্ব- ১২


ছোট সাহেব গাড়ি থেকে বেড়িয়ে কিছু শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে, একটি বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলেন। আমরা তিনজনও লুকিয়ে লুকিয়ে উনার পিছন পিছন চলে গেলাম। বাড়ির সামনে আসতেই বাড়ির নাম ‘মায়া কুঞ্জ’ দেখে আমার মনে এক অদ্ভুদ ভালোলাগার সৃষ্টি হলো।
বাড়িটার আশেপাশে গাছপালা দিয়ে পরিপুর্ন। বেশ সুন্দর ভাবে পরিপাটিভাবে এই বাড়িটি সাজানো হয়েছে তা দেখে-ই’ বুঝা যাচ্ছে। সাদি ভাইয়া অবাকের সুরে-ই’ বললেন,
“এই বাড়িতে রুদ্রিক এসেছে কেন? এই বাড়িতে রুদ্রিক আসে তা তো আমরা কেউ জানিনা। ”

—“আমিও তাই ভাবছি সাদি ভাইয়া। ভাইয়ু হঠাৎ এখানে এলো কেন? “,

সিথির কথার মাঝেই আমি বলে উঠলাম,

“এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে-ই’ কী আমরা উত্তর পাবো? আমাদের ভিতরে যেতে হবে এবং দেখতে হবে। আসল ব্যাপারটা।”

আমার কথায় সিথি ও সাদি ভাইয়া দুজনেই মাথা নাড়ালো। তখনি আমাদের কানে বাচ্ছাদের হৈ-হল্লড়ের শব্দ ভেসে উঠলো। আমি তিনজন সজ্ঞে সজ্ঞে সদর দরজা দিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকতেই যেনো তিনজন স্তব্ধ হয়ে গেলাম। বাড়ির দক্ষিন দিকে একটি ছোট্ট বাগানে ছোট সাহেব কিছু ছোট্ট ছোট্ট বাচ্ছাদের সঙ্গে তালমিলিয়ে খেলাধুলো করছেন। শপিং ব্যাগ থেকে নানারকম চকলেট আইস্ক্রিম এনে বাচ্ছাদের মাঝে তিনি বিলিয়ে দিচ্ছেন। বাচ্ছারাও পরম আনন্দে চকলেট আইস্ক্রিম খেয়ে নিচ্ছে।

আমরা তিনজন ঠিক কি রিয়েক্ট করবো তা বুঝতে পারছি নাহ।

আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একজন বয়স্ক করে মহিলা এগিয়ে এসে বলেন,

” তোমরা কে বাবা? ”

সাদি ভাইয়া কিছুটা চমকে বলেন,
“নাহ মানে আসলে আমি রুদ্রিকের বন্ধু.। আপনি কে?”

বৃদ্ধ মহিলাটি থমথমে গলায় বললেন,
“আমি এখানে বাচ্ছাদের দেখাশুনা করি। তোমরা এখানে এসেছো কেন বাবা? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যাও এখান থেকে।

——-” কিন্তু কেন? ”

সিথির প্রশ্নে উনি বললেন,
“রুদ্রিক বাবা চায়না। কেউ এই বাড়ি সম্পর্কে কিচ্ছু জানুক। রুদ্রিক বাবা বড় ভালোবাসা নিয়ে ছোট ছোট বাচ্ছাদের জন্যে এই বাড়িটি তৈরি করেছে। রুদ্রিক বাবা যদি জানে তোমরা এখানে এসেছো, তাহলে সত্যি খুব রাগ করবে। তাই বলছি চলে যাও।”,

——-” রুদ্রিক এই বাড়ি তৈরি করেছে মানে? এই বাড়ি রুদ্রিকের? ”

—-“হুম বাবা! রুদ্রিক বাবা খুব ভালোবেসে এই বাড়ি তৈরি করেছে। ”

—-“আপনি আমাদের আরো কিছু বলবেন এই বাড়ি সম্পর্কে প্লিয দিদুন। আমাদের জানাটা খুব জরুরী।”

বৃদ্ধ দিদুন হয়তো আমার কথা ফেলতে পারেননি। তাই বললেন,

“কিন্তু আমাকে আগে রুদ্রিক দাদুভাইয়ের কাছে গিয়ে অনুমতিতে নিতে হবে। কিন্তু তোমরা যখন বলছো তাহলে ভিতরে চলো। আশা করি রুদ্রিক বাবাকে তোমরা সামলিয়ে নিবে। ”

সাদি ভাইয়া নিজের চশমাটা ঠিক করতে করতে বলেন,
—-“দিদুন আপনি একদম চিন্তা করবেন নাহ। কাজল এসেছে শুনে রুদ্রিক মানা করতে পারবে নাহ। আপনি আমাদের নিয়ে চলুন। ”
—–“ঠিক আছে,তাহলে ভিতরে চলো।”
। সিথি কিছুটা নিচুস্বরে বলল,

“আমি যেতে পারবো নাহ। তুই তো জানিস কাজল ভাইয়ু আমাকে দেখলে-ই’ রেগে যাবে। ”

——“তাহলে এখন কী হবে? ”

আমার কথা শুনে সাদি ভাইয়া কিছুক্ষন ভেবে চট করে বললেন,

“কাজল তুমি বরং দিদুনের সাথে যাও। জেনে নাও এই বাড়ির ঠিক রহস্য। আমরা দুজন বরং বাইরে গাড়িতে-ই’ অপেক্ষা করবো।

আমি সম্মতি দিয়ে বললাম,

“হুম তাহলে ঠিক আছে।”

—-“তাহলে দিদুন আপনি কাজলকে নিয়ে ভিতরে যান আমরা এখানেই অপেক্ষা করবো। “(সাদি ভাইয়া বললেন)

—-“ঠিক আছে,তাহলে দিদিভাই (কাজলকে উদ্দেশ্য কর) ভিতরে চলো।”

কথাটা বলে’ই উনি বাগানের দিকে চলে গেলেন। কিন্তু আমাদের মাথায় ঘুড়ছে বিভিন্ন প্রশ্নে।

এদিকে,

রুদ্রিককে দেখে ছোট্ট মুসকান দৌড়ে এসে রুদ্রিকের কোলে বসে পড়লো। মুসকান আদো আদো গলায় বলল,

” বফেন্ড তুমি এসেছো? আমাল চকলেত কই?”,

রুদ্রিক ছোট্ট মুসকানের গালে চুমু খেয়ে, একটা বড় চকলেটের বক্স দিয়ে বলল,
“,আমি আমার ছোট্ট গার্লফ্রেন্ডের জন্যে চকলেট না এনে কী আমি পারি? ”
মুসকান খিলখিল করে হেঁসে উঠলো। রুদ্রিক মুসকানকে ভালোবেসে ‘ছোট্টগার্লফ্রেন্ড’ মুসকান এই বাড়ির সবথেকে ছোট্ট সদস্য। এখানে সব বাচ্ছাদের বয়স ৫-৮ বছরের মতো হলেও, মুসকানের বয়স ৪ বছর। রুদ্রিকের সব থেকে আদরের মুসকান।

তখনি তিয়াশা (এই বাড়ির সার্ভেন্ট) এসে বলল,

“ভালো হয়েছে স্যার। আপনি এসে পড়েছেন। ওরা তো আপনাকে ছাড়া খাচ্ছিলো-ই’ নাহ। ”

রুদ্রিক হেঁসে বলল,

“তুমি গিয়ে সব খাবার রেডি করো। আমরা একসাথে খাবো কি বলো ছোট্ট
গার্লফ্রেন্ড? ”

মুসকানসহ সকল বাচ্ছারা ‘ইয়াহুু ‘বলে উঠে।

রুদ্রিক মুসকানকে কোলে নিয়ে বলল,

“তো আমরা সবাই এখন খেয়ে তারপর অনেক খেলবো ঠিক আছে? ”

পলটু রুদ্রিকের হাতের আঙ্গুল ধরে বলল,

“ভাইয়া আমাদের সাথে থাকবে তো? ”

রুদ্রিক হেঁসে বলল,।

“অবশ্যই আমার পলটু বাবু যখন বলেছে তখন তো থাকতেই হবে। তার তার আগে সবাই লক্ষি মতো খেয়ে নিবে ওকে?”

সবাই একসাথে ‘ওকে বলে’।

আমি ও দিদুন দূর থেকেই ছোট সাহেব ও বাচ্ছাদের দেখে যাচ্ছি। কত্ত খুশি ছোট সাহেব। এই ছোট সাহেবকে আজকে সত্যি আমার অচেনা লাগছে। রাগি অহংকারী ছোট সাহেব কিনা এই অনাথ বাচ্ছাদের এত্তো ভালেবাসেন। ওদের সাথে এত্তোটা আনন্দ করেন। এ যেনো আমি এক অন্য ‘ছোট সাহেবকে’ আবিষ্কার করলাম। আমি প্রাপ্তির এক হাঁসি হাঁসলাম।

——‘মায়া কুঞ্জ ‘ বাড়িটি একপ্রকার অনাথ আশ্রম ও বলা চলে,কিন্তু এই বাড়ির প্রত্যেকটি শিশুকে রুদ্রিকের পরম আপনজন। নিজের পরিবারের সদস্যর মতো আগলে রাখে রুদ্রিক বাবা। ”

—-“হুম তা তো বুঝতে-ই’ পারছি। ”

দিদুন আবারো বললেন,

“বাচ্ছারা তো রুদ্রিক বাবা বলতে পাগল। মাঝে মাঝে তো এদের জন্যে রুদ্রিক বাবাকে এইখানেই থেকে যেতে হয়। আচ্ছা সেসব বাদ দাও চলো যাবে নাহ রুদ্রিক বাবার কাছে। ”

আমি চটজলদি দিদুনকে থামিয়ে বলি,

“নাহ নাহ দিদুন আজ আমি যাবো নাহ। দূর থেকে দেখলাম এইটাই অনেক। উনি বরং বাচ্ছাদের আনন্দ করুক। উনি যখন চাইছেন নাহ উনার এই আশ্রমের ব্যাপারে কেউ না জানুক। তাহলে তা না জানা-ই’ থাকুক। আরেকটা কথা আপনিও উনাকে বলিয়েন নাহ। আমরা এখানে এসেছিলাম। আমি বরং যাই। ”

দিদুন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

“,তোমার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগলো। তা তোমার নাম কী? ”

—–“কাজলরেখা আফরিন। ”

—-“বাহ খুব সুন্দর নাম। তুমি আর আসবে নাহ এখানে? ”

আমি হাল্কা হেঁসে বললাম,

“আসবো তো। কিন্তু উনি যেদিন নিজের ইচ্ছে আমাকে এই বাড়িতে নিয়ে আসবেন,সেদিন-ই’ আসবো। ”

কথাটি বলে উনার দিকে একপলক তাঁকিয়ে ‘আসছি’ বলে বিদায় নিয়ে চলে এলাম।

গাড়িতে,,

সিথি ও সাদি ভাইয়া সব ঘটনা শুনে কিছুক্ষন যেনো থম মেরে আছেন। সিথি বলল,

“তার মানে ভাইয়া মাঝে মাঝে রাতে বাড়িতে ফিরতো নাহ। বাচ্ছাদের সাথে থাকতো বলে? আমরা তো ভাবতাম ভাইয়ু নাইট ক্লাবে থাকতো। ”

সাদি ভাইয়া ড্রাইভ করতে করতে বললেন,

“রুদ্রিকের ‘মায়া কুঞ্জ ‘নামে একটা আশ্রম আছে। আমরা কেউ জানিনা কেন? ”

সিথিও তাল মিলিয়ে বলল,

“আমারো সেই একি প্রশ্ন ‘ভাইয়োর আশ্রম সম্পর্কে আমরা কেনো জানিনা? ”

——“আশ্রম করার জন্যে রুদ্রিক টাকা কোথায় পেলো?” ( সাদি ভাইয়া বলল)

—–“নিশ্চই ভাইয়া বাপির কাছ থেকে টাকা নেয়নি। তাহলে কী বড় পিপি দিয়েছে। ”

“তোমার ইশানী পিপি টাকা দিলে, এই খবর তিনি সারাদেশ ব্যাপি ছড়িয়ে দিতেন। একটাকা দান করলেও মানুষকে মা দেখিয়ে উনি দেননা।”

কথাটি বলেই সাদি ভাইয়া হু হা করে হেঁসে উঠলেন।

অপরদিকে, আমি নিজের মনে আনমনে কিছু ভেবে চলেছি। ছোট সাহেব নিজেকে সকলের সামনে যেভাবে প্রেজেন্ট করেন আসলে উনি তেমন নাহ। উনার আজকের এই ঘটনা জানার পরে, আমার মনে ‘উনার প্রতি অজস্র সম্মান জন্ম নিলো। মনে বয়ে গেলো ভালোলাগার এক সুপ্ত অনুভুতি।’

সিথি অদ্ভুদ গলায় বললো,

“তাহলে ভাইয়ু এতোগুলো টাকা পেলো কোথায়? ”

—–“সেইটাই তো রহস্য, আচ্ছা কাজল তোমার কী মনে হয়? ”

সাদি প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে পিছনে ঘুড়ে দেখে, কাজল আনমনে কি যেনো ভেবে চলেছে। কাজল নিজের আনমনে হেঁসে চলেছে। সিথি কিছুটা চেচিয়ে বলে উঠলো,

“কাজল তুই শুনতে পারছিস? “,

আমি ঘাবড়ে গিয়ে বললাম,

” হুম শুনতে পারছি নাহ। ”

—–“কি এতো ভাবছিস তুই কাজল? ”

—-“না মানে..

আমার কথার মাঝেই সাদি ভাইয়া কিছুটা মজার ছলে বললেন,

“কাজল মনে হয় রুদ্রিকের কথা ভাবছিলো তাইনা? ”

সিথিও হেঁসে বলে,

“আমারো তাই মনে হচ্ছে আচ্ছা কাজল তুই আমার ভাইয়ার ভাবনায় ডুবে ছিলি তার মানে সামথিং…।”

আমি মাথা নিচু করে মিইয়ে যাওয়া কন্ঠে বলি,

“নাথিং নাথিং..”

—-“ইউ আর ব্লাশিং…”( সিথি বলল)

—-“আম নট ব্লাশিং ”
কথাটি বলে আমি জানালার দিকে দৃষ্টি ঘুড়িয়ে নিলাম। ছোট সাহেবের হাঁসিমাখা মুখ ভেসে উঠলো।
আমি মুচকি হেঁসে চোখ বন্ধ করে নিলাম।

সাদি ও সিথি একে অপরের দিকে তাঁকিয়ে মিটিমিটি হাঁসলো। যা বুঝার তারা বুঝে গিয়েছে। সাদি কিছুটা আস্তে বলে উঠলো,

—“এইদিক থেকেও সিগনাল পেয়ে গেলাম। এখন দুজনকে এক করাটা বাঁকি। ”

সিথি মারা নাড়ায়।

___________________

অন্যদিকে দিয়া শপিং মলে একটার পর একটা সেলফি তুলে যাচ্ছে। লাজুক পড়েছে মহা জ্বালায়। দিয়া সব শপিং ব্যাগ লাজুকের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। এত্তোগুলো শপিং ব্যাগ হ্যান্ডেল করা লাজুকের পক্ষে মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কী আর করার? তাকে’ই দিয়ার এইসব অত্যাচার সহ্য করতে হয়। তখনি দিয়া বলে উঠে-
“নাকবোচা হ্যান্ডসাম এ্যাসিস্টেন্ট শুনুন?”
লাজুক ক্লান্ত হয়ে বলে,

“জ্বী ম্যাম বলুন ”

দিয়া নিজের গাঁয়ে একটা শাড়ি জড়িয়ে বলে,
“এই শাড়িতে আমাকে কেমন লাগবে?”

লাজুক মুগ্ধ হয়ে বলে,

“অনেক সুন্দর লাগবে। ”

____________

ভার্সিটির গেটে ঢুকতেই সিথি আমার কাছে এসে বলল,
“কাজল কনগ্রেস! কালকে তুই গানের অডিশন দিয়েছিলি নাহ? তুই গানের জন্যে সিলেক্ট হয়ে গিয়েছিস।”

সিথির কথা শুনে আমি খুশি হয়ে বলি,

“সত্যি? ”

—“হুম…”

রুদ্রিক দূর থেকে কাজলের হাঁসিমাখা মুখ দেখে বাঁকা হাঁসছে। তখনি রুদ্রিকের বন্ধুরা এসে বলে,

“কিরে রুদ্রিক ডান্স প্যাক্টিস রুমে যাবি না? ”

আমার দৃষ্টি ছোট সাহেবের দিকে যেতেই আমি মুঁচকি হাঁসি দিলাম।

কাজলের মুচকি হাঁসি-ই’ যেনো রুদ্রিকের বুকের স্পন্দন বাড়ানো জন্যে যথেষ্ট।

রুদ্রিক এক পলক কাজলের দিকে তাঁকিয়ে ডান্স প্যাক্টিস রুমে চলে যায়।

আমাদের কথার মাঝে-ই’ সাদি ভাইয়া এসে বলল,

“তোমরা এখানে কী করছো? ডান্স প্যাক্টিস রুমে চলো। ”

—–“কিন্তু সেখানে গিয়ে কী করবো? ”

আমার প্রশ্নে সিথি বিরক্ত হয়ে বলে,

“এতো প্রশ্ন না করে আমাদের সাথে চল। ”

______
ড্যান্স প্যাক্টিস রুমে রুদ্রিক পড়েছে মহা মস্কিলে। ফাংশনে রুদ্রিক ও জেনির কাপল ডান্স পারফর্মেন্স করতে হবে। কিন্তু জেনি গত তিনদিন ধরে আসেনি।

রুদ্রিক ঝাঝালো কন্ঠে বলে,

“জেনি এতোটা দায়িত্বহীন কীভাবে হতে পারে? জেনি জানে আজকে আমাদের প্যাক্টিস তবুও কেনো আসেনি? ”

তন্ময় বলল,।
“তুই অন্তত এই কথা বলিস নাহ রুদ্রিক৷ তুই ওর যা অবস্হা করেছিলি আমরা সবাই দেখেছি। তাছাড়া ওর মন-মেজাজ ভালো না। ”

—-“কার মন-মেজাজ ভালো নাহ? “( সাদি বলল)

কথাটা বলে-ই’ সাদি, কাজল ও সিথি প্রবেশ করলো।

সাদিকে দেখে রুদ্রিক ভ্রু কুচকে বলল,।

” তোরা এখানে কেনো এসেছিস? ”

সাদি দাঁত বের করে হেঁসে বলল,

“আসলে আমি ভেবেছিলাম আমি আর কাজল ও একটা কাপল ডান্স দিবো কেমন হয়। ”

রুদ্রিক দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“খুব বাজে হয়। “,

সাদি ভাইয়ার কথায় আমি চমকে গেলাম। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই সিথি আমাকে চোখ দিয়ে ইশারা করে চুপ করার জন্যে।

সাদি ভাইয়া আবারো হেঁসে বলল,

” সত্যি রুদ্রিক! তুই ও খুব ভালো মজা করতে পারিস। ”

“মিউজিক অন কর…”
কথাটি বলে সাদি ভাইয়া আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন,

“লেট’স স্টার্ট কাজল। ”

রুদ্রিক রক্তচক্ষু নিয়ে একবার কাজলের দিকে তাঁকালো আরেকবার সাদির দিকে।

আমি কী করবো বুঝতে পারছি নাহ। তবুও হাত বাড়িয়ে দিতে নিলে পিছন থেকে উনি আমার কোমড় টেনে ধরে আমাকে নিজের মধ্যে নিয়ে নেন। উনি আমার হাতজোড়া নিজের হাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেললেন।

উনি সাদি ভাইয়ের দিকে তাঁকিয়ে বাঁকা হেঁসে বললেন,

“সাদি তুই পড়ুয়া ছেলে। লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়। এইসব ডান্স তোর কাজ নয়।”

কথাটা বলে উনি আমার কোমড় নিজের দিকে আরেকটু টেনে নেন। আমি উনার বুকে গিয়ে পড়ি…।

উনি জোড়ে বল উঠলেন,

“মিউজিক স্টার্ট কর।”

সঙ্গে সঙ্গে গান ভেসে উঠলো কিন্তু তখনি…..

চলবে….কী.?

(অনেক বড় পার্ট দিয়েছি হুহ 🥺সবাই ঘটনমুলক কমেন্ত না করলে কান্না করমু।)

অবশেষে ভালোবাসি (সিজন-২)❤part: 43 : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤🍁বউ সাজে সজ্জিত হচ্ছে অদিতি।গায়ে লাল বেনারসী… গা ভর্তি গয়না…ভারি ...
08/05/2024

অবশেষে ভালোবাসি (সিজন-২)❤
part: 43
: নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤

🍁
বউ সাজে সজ্জিত হচ্ছে অদিতি।গায়ে লাল বেনারসী… গা ভর্তি গয়না…ভারি সাজ সব মিলিয়ে যেনো এক মহারানী।।চারপাশে সমবয়সী মেয়েদের ফিসফিসানির শব্দ।হবু দুলাভাইয়ের সাথে অদিতির বাসর নিয়ে থার্ডক্লাস কিছু কৌতূকের মেলা …মাঝে মাঝেই সমস্বরে হাসির রেশ…কিন্তু যাকে নিয়ে এতোকিছু সেই যেনো সব থেকে বাইরের কেউ।এই আনন্দ,, ঠাট্টায় তার যোগসূত্র নেই বললেই চলে।।এমন সময় দরজা ঠেলে ভেতরে এলেন মামনি।।তারসাথে রয়েছেন অদিতির মা। মামনি ভেতরে ঢুকতেই ইশারায় সব মেয়েকে বেরিয়ে যেতে বললো অদিতির মা।।সবাই বেরিয়ে গেলে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে আবারও অদিতির মায়ের হাতদুটো নিজের হাতে নিলেন উনি।।
আপা? আমার কথা শুনে এইটুকু প্রাইভেসি দিয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ।আসলে খুবই ইম্পোর্টেন্ট কথা বলার ছিলো আপনাকে।।আপা বলুন তো?ভালোবাসা ছাড়া কি জীবন চলে?
অদিতির মা মামনির কোনো কথার অর্থই ধরতে পারছেন না।।মামনি যে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না উনার।।হঠাৎ করে ভালোবাসার কথা আসলো কোথা থেকে?? আর এসব কথার সাথে অদিতির বিয়ের কি সম্পর্ক?? মামনি এবার উনার হাত ছেড়ে অদিতির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।অদিতির চোখের দিকে স্থিরদৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই অদিতি চোখ নামিয়ে নিয়ে নিলো ঝটপট।।মামনি শীতল কন্ঠে বলে উঠলেন-
তুমি যদি আমায় মায়ের চোখে দেখো…আমাকে একজন মা হিসেবে এতটুকুও সম্মান করে থাকো…আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে অদিতি?জাস্ট একটা প্রশ্ন!!মিথ্যা বলবে না প্লিজ…কি দেবে?
অদিতি অবাক হয়ে উনার চোখের দিকে তাকিয়ে আবারও চোখ নামিয়ে নিলো।।তারপর মাথা নেড়ে জানালো হ্যা সে উত্তর দেবে।।মামনি মুচকি হেসে সরাসরিই বলে উঠলেন –
আয়ানকে ভালোবাসো?
মামনির প্রশ্নে চমকে উঠলো অদিতি।।মামনি এমন কিছু জিজ্ঞেস করবে ভাবতেই পারে নি সে।।অদিতির চোখদুটো ভরে এলো জলে।অদিতির মা ও অবাক চোখে তাকিয়ে আছে..কি বলছে ফাহিমের মা?ভালোবাসা আর আয়ানকে??মামনি আবারও একই প্রশ্ন করায় অদিতি মাথা নাড়লো…ধীর কন্ঠে বললো-
হ্যা বাসি।
বাসো!! তাহলে আমার ছেলেটাকে কেন এতো কষ্ট দিচ্ছো অদিতি?জীবনে কম কষ্ট তো পায়নি সে….আমার ছেলের কথা না হয় বাদই দিলাম।তুমি নিজের কথাও ভাবছো না।।আর আদনান?সে ছেলেটা কি দোষ করেছে অদিতি?তুমি নিজের জেদের জন্য তিনটি জীবন শেষ করে দিচ্ছো।।আয়ান তোমাকে না পেলে মরে যাবে অদিতি।আর তুমি হয়ে যাবে মরা লাশ।।জীবনের সবকিছুকে সমঝোতা করে চলে অদিতি?এভাবে রোবটের মতো বেঁচে থেকে কি আদনামকে খুশি করতে পারবে তুমি?বিয়ে মানে শুধু শারীরিক চাহিদা নয় অদিতি….দুটো আত্মার মিলন……সুখ-দুঃখ,,হাসি-কান্নার, রাগ-অভিমানের ভাগাভাগি।। তুমি কি পারবে আদনানের সাথে অভিমানে মন ভাসাতে??মন খোলে আদনানের সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে পারবে তো?তোমার নিস্তব্ধতা ধীরে ধীরে কি আদনানকেও নিস্তেজ করে দিবে না?মানুষ বিয়ে মানুষিক শান্তির জন্য করে কিন্তু তুমি তো আদনানকে অশান্তি ভরা জীবন উপহার দিতে যাচ্ছো।।এটা কি তার প্রাপ্য??
অদিতি চুপচাপ শুনে যাচ্ছে।কোনো কথা নেই তার মুখে।। সত্যিই কি আদনানের মানসিক শান্তি ছিনিয়ে নিচ্ছে সে??অদিতির মা এতোক্ষণ চুপচাপ থাকলেও এখন নড়েচড়ে উঠলো।।বিস্ময় আর রাগ নিয়ে বলে উঠলেন –
আপা?কি বলছেন এসব??আজ অদিতির বিয়ে আর আপনি ওকে এসব বুঝাচ্ছেন?প্লিজ চলে যান এখান থেকে।।
মামনি এবার ওঠে দাঁড়িয়ে অদিতির মার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।। হাসিমাখা মুখে বলে উঠলো –
আপা?আপনি যেমন আপনার মেয়ের সুখ চান আমিও আমার ছেলের সুখ চাই।।আজ যদি শুধু আয়ান অদিতিকে ভালোবাসতো তাহলে আপনার সামনে এভাবে এসে দাঁড়াতাম না আমি।।নিজের মেয়ের দিকে একবার তাকান।।আমি জানি মেয়ের জন্য সর্বোচ্চ ভালো ছেলে খুঁজে বের করেছেন আপনি।।আদনান নিঃসন্দেহে ভালো ছেলে কিন্তু মনের শান্তি বলেও তো একটা কথা আছে আপা।।আপনি বলবেন বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে….আপনিও এভাবেই বিয়ে করেছেন।।আমিও আপনার সাথে একমত এরেঞ্জ ম্যারেজ এই দেশে অহরহ হচ্ছে…..অদিতিও মানিয়ে নিতে পারবে….কিন্তু আপনি ভুল…অদিতির মন যদি খালি থাকতো….ওর মনে যদি আয়ান না থাকতে তাহলে সে পারতো।।কিন্তু যেখানে অলরেডি অন্যকাউকে বসিয়ে রেখেছে সেখানে কিভাবে পারবে বলুন?কিভাবে?আর যদি বিয়েটা হয়েই যায়।। আপনাদের মানসম্মান আর নিজের জেদের তাড়নায় অদিতি যদি বিয়েটা করেই নেয়….তাহলেও কি সুখী হতে পারবেন আপনারা??মেয়ের মলিন মুখ দিন দিন আরো মলিন হয়ে যাওয়াটা সহ্য করতে পারবেন আপনারা??
মামনিকে থামিয়ে দিয়ে আবারও বলে উঠলো অদিতি-
বাবা-মার কোনো দোষ নেই আন্টি।।উনাদের ব্লেম করা বন্ধ করুন।। আমি আমার নিজের ইচ্ছেই বিয়ে করছি। নিজের সুখের জন্য স্বার্থপর হয়ে যাওয়ার মতো মেয়ে নই আমি।।কয়টা বছর বাঁচবো আর?সে দিনগুলো নাহয় মানিয়ে নিয়েই বেঁচে যাবো।।
বাহ…সমাজদরদী।।সবার কথা ভাবছো…সবাইকে সুখী করতে চাইছো…কিন্তু তোমার চোখেই পড়ছে না।।সবার ভালো করতে গিয়ে সবাইকে এক নরকীয় যন্ত্রনার মাঝে ঠেলে দিচ্ছো তুমি।।আজকের বিয়েটা হয়ে গেলে সে যন্ত্রণায় পুড়বে প্রতিটি মানুষ।।আমার ছেলে তোমাকে না পাওয়ার জ্বালায় মরবে…. আর তার মরনে আমি মরবো প্রতিটি মুহূর্তে …মরবে ফাহিম,,রিয়া।।তোমার নিস্তেজতায় মরবে আদনান।।তার অশান্তিতে মরবে তার বাবা মা….আর তোমার বাবা মা মরবে তোমার মুখের মলিনতায় মলিন হয়ে।।এতোকিছুর পরও তোমার মনে হয় তারা ভালো থাকবে??আর সবচেয়ে বড় কথা…কাল যদি খবর পাও আয়ান আর নেই….আদনানের প্রশান্তিও আর নেই তাহলে কি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে তুমি??
মামনির কথায় ডুকরে কেঁদে উঠলো অদিতি।তার সবকিছু উলোটপালোট লাগছে….সত্যিই কি এমনটা হবে??ওর জন্য সবাই কি এতোটা কষ্ট পাবে??অদিতির মা এবার এগিয়ে এলেন…অদিতির কাঁধে হাত রেখে বলে উঠলেন –
চলে যা অদিতি!!আপা হয়তো ঠিকই বলছেন।।তুই চলে যা।এই মুহূর্তে বিয়েটা ভাঙা যেমন সম্ভব নয় মা…তেমনি তোর খুশিকে জলাঞ্জলি দেওয়াও সম্ভব নয়।। তাই একটা পথই আছে…চলে যা।আয়ানের কাছে চলে যা।
মা!!কি বলছো তুমি?(অবাক হয়ে) বাবার মানসম্মানকে জলাঞ্জলি দিয়ে আমি নিজের সুখ খুঁজতে পারি না মা।
তোকে পারতে হবে অদিতি। পারতেই হবে।নিজের সাথে সাথে এতোগুলো জীবন নষ্ট করিস না মা।।চলে যা..
মামনিও অদিতির মাথায় হাত রেখে বলে উঠলেন –
তোমার বারান্দার ওপারেই আয়ান দাঁড়িয়ে আছে…..যাও অদিতি।নিজেকে এবং ছেলেটাকে বাঁচার আর একটা সুযোগ করে দাও মা।।যাও…
অদিতি হুট করেই মামনিকে জড়িয়ে ধরলো।।তারপর দৌড়ে গিয়ে পেছনের দরজাটা খুলে ফেললো সে।।বারান্দার দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আয়ান গায়ে সবুজ পাঞ্জাবি…. ফর্সা গায়ে কি সুন্দর মানিয়েছে রঙটা।।আয়ানকে দেখেই নিশ্বাস ভারি হয়ে এলো অদিতির।।চোখ থেকে নেমে এলো দু’ফোটা জলের রেখা।।আয়ানও টলমলে চোখে তাকিয়ে আছে…. এই বুঝি ঝরে পড়বে তার নিস্তব্ধ কান্না!!
🍁
গায়ে বোরকা জড়িয়ে আয়ানের হাত ধরে গেইট দিয়েই বেরিয়ে এসেছে অদিতি।।গেইটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ফাহিম আর রিয়া।।গেইটের বাইরে গাড়ি রাখা নেই…কেউ সন্দেহ করতে পারে তাই এখান থেকে দশ মিনিট হাঁটার পর যে মোড়টা সেখানে গাড়ি রেখে এসেছে ফাহিম।।অদিতিকে আসতে দেখেই দৌঁড়ে গিয়ে তাকে জাপটে ধরলো রিয়া।।রিয়ার বাচ্চামোতে হেসে উঠলো ফাহিম।।
হয়েছে ম্যাডাম। এবার ওকে ছাড়ুন।যেভাবে দৌড় দিয়েছো…তাতে তো নিজেই উল্টে পড়তে।।আয়ান?তাড়াতাড়ি চল….একটু পরই মেয়ের খোঁজ পড়বে….তখন আবার ঝামেলা বেঁধে যাবে….চল জলদি।।
আয়ানও মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে অদিতির হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে হাঁটা দিলো সে….রিয়াও ওদের পেছনে হাঁটতে নিলে একটানে তাকে কোলে উঠিয়ে হাঁটা দিলো ফাহিম।রিয়া অবাক চোখে তাকিয়ে আছে….ফাহিম সামনের দিকে তাকিয়েই মিষ্টি হেসে বলে উঠলো –
আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকি তা কি আপনার মনে আছে টুনটুনির মা? বিয়ের দিন কথা দিয়েছিলাম এইদিনে তোমায় নিয়ে পালাবো….এই দেখো পালাচ্ছি।শুধু বউ নয় এবার তো ভবিষ্যৎ বাচ্চাকে সহ নিয়ে পালাচ্ছি আমি।।
রিয়া ফাহিমের মুখের দিকে কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকিয়ে থেকে মুচকি হেসে তার গলা জড়িয়ে নিলো।।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফাহিমের বুকে মুখ লুকালো।।কিছুক্ষণ হাঁটার পরই হঠাৎ থেমে গেলো অদিতি।।আয়ান প্রশ্নবোধক চোখে অদিতির দিকে তাকাতেই অদিতি করুণ স্বরে বলে উঠলো –
আমি পারবো না ডক্টর আয়ান!!আমি রিয়াদের মতো স্বার্থপর হয়ে নিজের ঘর সাজাতে পারবো না।।আদনানকে ধোঁকা দিতে পারবো না আমি।।আমায় ক্ষমা করবেন প্লিজ।।
কথাটা বলে আয়ানের হাতটা ছুটিয়ে উল্টো পথে দৌঁড় লাগালো অদিতি।। তাকে পৌঁছোতে হবে।।সঠিক সময়ে পৌঁছোতে হবে।।হবেই হবে….আয়ান পুরো ব্যাপারটা যতক্ষণে বুঝতে পারলো ততক্ষণে অদিতি দৃষ্টির বাইরে।।ফাহিমও আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে আছে।।এমন কিছু হবে ভাবতেই পারে নি সে।।রিয়াও অবাক….আয়ান ধপ করে রাস্তার মাঝেই বসে পড়লো….চোখ দুটো জ্বলছে খুব।।শেষের কাব্যগুলো বুঝি এমনই জ্বালাময় হয়??আশার আলো মেলার পর ধমকা হাওয়ায় সব বাতিগুলো বুঝি এভাবেই নিভে যায়??
#চলবে🍁

Address

Keane Bridge
Sylhet
3100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Writer-AKM posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share