13/05/2026
সিলেটে এই ছবি এত বিতর্কিত কেন? এত ক্ষোভ কেন এই ছবির উপর? সামাজিক মাধ্যম এতো উত্তপ্ত কেনো?
এই ছবিতে যদি হুসাম উদ্দীন চৌধুরী না হয়ে ছাহেবজাদায়ে বরুনা হতেন, আল্লামা গহরপুরী বা কাতিয়ার সাহেবজাদা হতেন, আল্লামা সাঈদী বা তার কোন সন্তান হতেন একই রকমে ক্ষোভ ও তোপের মুখে তারাও পড়তেন।কিন্তু কেনো?
শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ জিম্মি হয়ে পড়েছিলো,২০১৪ ও ১৮ সালের জবর দখলমূলক নির্বাচনে পর মানুষ চাইছিল ২৪ এর একতরফা নির্বাচনে দেশপ্রেমিক-ইসলামী দল বা ব্যাক্তি শরিক না হোক। বিএনপি জামায়াত, চরমোনাই, খেলাফত মজলিস সহ বেশীরভাগ দল নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু শেখ হাসিনার তার জবর দখলকে বৈধ করার জন্য কিছু দোসর খুজতে থাকে।
ডান-বাম সবাই তাকে প্রত্যাখ্যান করলেও চট্রগ্রামের মাজার ভিত্তিক কিছু দল কওমী অঙ্গনের কিছু উপ-গ্রুপ ও সিলেটের হোসাম উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোন ধর্মীয় ফিগার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।
ভোটের মাঠে কি আছে না আছে সেটা বিবেচিত না হলেও সিলেটের কিছু উপজেলায় মরহুম ফুলতলী (রহ.) পরিবারের একটা ইমেজ আছে শেখ হাসিনা সুকৌশলে সেই ইমেজকে ব্যবহার করেছেন তার কনিষ্ঠ সন্তান হুছাম উদ্দিন চৌধুরীকে ব্যবহার করে। মানুষের ক্ষোভের প্রধান কারণ এটিই।
মানুষ মনে করে তিনি মাত্র একটা সিটের লোভে শেখ হাসিনার অপশাসনকে বৈধতা দিয়েছেন। শাপলা চত্তরের শহীদদের রক্তের সাথে গাদ্দারী করেছেন, দূর্নীতি লোটপাটকে জায়েজ করেছেন, খুন, গুম আয়না ঘরকে হালাল করেছেন। হয়েছেন শেখ হাসিনার সকল পাপের ভাগিদার।
মানুষের ক্ষোভ কত গভীর নিশ্চয়ই তিনি কিছুটা হলেও অনুমান করেছেন। দোসর হওয়ার অপরাধে জাতীয় পার্টির মত দল আজ ইতিহাস হয়ে গেছে। কুলাউড়া, বড়লেখার মত জায়গায় ফুলতলী সাহেবের দলের ভয়াবহ বিপর্যয় হয়েছে। তিনি যেদিন শেখ হাসিনার সাথে বসেন সেদিন তার পিতার বহু মুরিদ চিৎকার করে কেদছেন। বলেছেন একি করলেন ছোট সাহেব।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শেখ মুজিবের ভাবমর্যাদা দিয়ে হাসিনার রক্ষা হয়নি, বাংলাদেশে কোন রতি-মহারতি রক্ষা পাননি, পিতৃপরিচয় মাতৃপরিচয় কাউকে রক্ষা করতে পারেনি।
সোবহানীঘাটের দিকে সেদিন বিক্ষোব্ধ জনরোষে বানের পানির মত ছুটে যাচ্ছিলো। তখন কিছু মানুষ মানুষ ঢাল হয়ে দাড়িয়েছিলো, আজ তিনি তাদেরকেই দাজ্জাল বলছেন।
১২ ফেব্রুয়ারির পর তিনি আবার নতুন খোলস গায়ে পরে লাহাসিনার হাতে নির্যাতিত মজলুমদের নিয়ে বিষোগার করছেন। তাই সিলেটের মানুষ আবারও ক্ষোব্ধ, বিরক্ত। মানুষ চায় তিনি তার মতো করে কাজ করুন, দল করুন, রাজনীতি করুন, কিন্তু আবারো খোঁচাখুঁচি করুন, অমুক কাফির তমুক কাফির ফতোয়ার ঝুড়িটা বন্ধ রাখুন।
আশা করি তার বোধের উদয় হবে।